প্রচ্ছদ / ইসলাহি/পরামর্শ / তালাকের চিন্তা আসলে তালাক হয়? তালাকের ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচার উপায় কি?

তালাকের চিন্তা আসলে তালাক হয়? তালাকের ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচার উপায় কি?

প্রশ্নঃ

আসসালামু আলাইকুম। হুজুর!
১/স্বামী স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে  তালাকের মাসালা জানার পরে ওসোওয়াসায় নানান চিন্তা মাথায় আসে। এর পরে, ভিতরে ভিতরে তালাকের শর্ত উদিত হয়। তারপর ঘুম ঘুম ভাব অবস্থায় এগুলো মাথায়  উদিত হয়। তখন ঘুম ঘুম ভাব এবং চোখ লাগানো অবস্থায় যদি এমন কিছু মুখ দিয়ে বের হয়ে যায় তা যদি একদম স্পষ্টভাবে বুঝা না যায় কি উচ্চারণ করেছে সেক্ষেত্রে তালাক পতিত
হবে কি?

২/ স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বামী যদি স্ত্রীকে উদ্দেশ্য না করে, এববং তালাকের নিয়ত না করে, তালাকের শর্ত( যা বললে তা পতিত হবে) নিজে নিজে চিন্তা করে এবং চিন্তার বিষয়টি মুখে উচ্চারণ করে  সেক্ষেত্রে তা পতিত হবে কি?

৩/ তালাক হয়েছি কি হয়নি পুরোপুরি নিশ্চিত না হলে তা পতিত হবে কি?

৪/ স্বামী যদি পুরোপুরি নিশ্চিত না হতে পারে সে তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে কি দেয়নি সেক্ষেত্রে ইসলামের বিধান কি?
এসব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে উপকৃত করবেন।
খুব পেরাশানিতে আছি।
From: Mahedi Ahmed [email protected]

উত্তরঃ
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
حامدا ومصليا ومسلما

প্রশ্নোক্ত কোন অবস্থায় তালাক পতিত হয়নি এবং হবেও না ইনশাআল্লাহ।
আপনি ওয়াসওয়াসায় ভুগছেন। ওয়াসওয়াসা দূর না করলে আরো কঠিন সমস্যায় পড়বেন। আপনার নিকটস্থ কোন বুজুর্গ আলেম থাকলে তার স্বরণাপন্ন হয়ে ওনার পরামর্শ মুতাবিক কাজ করুন। ইনশাআল্লাহ এই রোগ দূর হয়ে যাবে।

আমাদের পক্ষ হতে পরামর্শ হলো,
এই সকল কুমন্ত্রণা ও শয়তানি ওসওয়াসার চিকিৎসা একটাই,
এগুলোর প্রতি একেবারেই মনোযোগ না দেওয়া, অন্তরে কোনো স্থান না দেওয়া, এগুলোর দাবির উপর আমল না করা, জিহ্বায় উচ্চারণ না করা এবং মানুষের সামনে প্রকাশ না করা। বরং এসব চিন্তাকে দৃঢ়ভাবে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে আল্লাহর যিকিরের আধিক্য বজায় রাখা।

এর পাশাপাশি নিচে উল্লেখিত আমলসমূহ এসব ওসওয়াসা থেকে বাঁচতে সহায়ক হবে। ইনশাআল্লাহ।

(১) বারবার পাঠ করবে:
أَعُوذُ بِاللّٰهِ
(আমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি)
(২) অধিক পরিমাণে পাঠ করবে:
آمَنْتُ بِاللّٰهِ وَرَسُوْلِهِ
(আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনলাম)

(৩) নিম্নোক্ত আয়াতটি বারবার পাঠ করবে:
هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
(তিনি আদ্যন্ত, তিনিই প্রথম ও শেষ, তিনিই প্রকাশ্য ও গোপন, আর তিনি সব কিছুর ব্যাপারে সর্বজ্ঞ)

(৪) এছাড়াও নিচের দোয়াটি অধিক পরিমাণে পাঠ করা—
رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَنْ يَحْضُرُونِ
—সব ধরনের শয়তানি সন্দেহ, কুমন্ত্রণা ও ওসওয়াসা দূর করতে অত্যন্ত উপকারী।

শরঈ দলীল:

فتاوی شامی:
“«وركنه لفظ مخصوص». (قوله: وركنه لفظ مخصوص) هو ما جعل دلالة على معنى الطلاق من صريح أو كناية فخرج الفسوخ على ما مر، وأراد اللفظ ولو حكما ليدخل الكتابة المستبينة وإشارة الأخرس و الإشارة إلى العدد بالأصابع في قوله أنت طالق هكذا كما سيأتي.و به ظهر أن من تشاجر مع زوجته فأعطاها ثلاثة أحجار ينوي الطلاق و لم يذكر لفظا لا صريحًا و لا كنايةً لايقع عليه كما أفتى به الخير الرملي وغيره، و كذا ما يفعله بعض سكان البوادي من أمرها بحلق شعرها لايقع به طلاق و إن نواه.”
(کتاب الطلاق ج نمبر ۳ ص نمبر ۲۳۰،ایچ ایم سعید)

والله أعلم بالصواب
উত্তর লিখনে,
মুহা. শাহাদাত হুসাইন , ছাগলনাইয়া, ফেনী।
সাবেক শিক্ষার্থী: ইফতা বিভাগ
তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।
সত্যায়নে
মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী দা.বা.
পরিচালক– তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা
উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া ইসলামিয়া দারুল হক লালবাগ ঢাকা।
উস্তাজুল ইফতা: জামিয়াতুস সুন্নাহ কামরাঙ্গিরচর, ঢাকা।
উস্তাজুল ইফতা: কাসিমুল উলুম আলইসলামিয়া, সালেহপুর আমীনবাজার ঢাকা।
পরিচালক: শুকুন্দী ঝালখালী তা’লীমুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসা, মনোহরদী নরসিংদী।
শাইখুল হাদীস: জামিয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া, সনমানিয়া, কাপাসিয়া, গাজীপুর।

0Shares

আরও জানুন

অশান্তিময় পরিবারে শান্তি আসবে যেভাবে

প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম। হুজুর আমার স্বামী আমাকে অনেক সন্দেহ করে। ছোট ছোট বিষয়ে আমাদের মাঝে …

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস