প্রচ্ছদ / আকিদা-বিশ্বাস / গুনাহের ইচ্ছা করলেই কি গুনাহ লিখা হয়? কোন হাদীসে গুনাহ হয় না বলা হলেও কোন হাদীসে গুনাহ হয় বলা হয়েছে। পার্থক্যটা বুঝিয়ে দিলে ভালো হয়।

গুনাহের ইচ্ছা করলেই কি গুনাহ লিখা হয়? কোন হাদীসে গুনাহ হয় না বলা হলেও কোন হাদীসে গুনাহ হয় বলা হয়েছে। পার্থক্যটা বুঝিয়ে দিলে ভালো হয়।

প্রশ্নঃ

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
আমার জানার বিষয় হচ্ছে, যদি বান্দা কোন গুনাহের নিয়ত করে কিন্তু গুনাহ করলো না এরপরও কি তার তার গুনাহ লেখা হবে?

 ‎أَبُو مَعْمَرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا جَعْدُ بْنُ دِينَارٍ أَبُو عُثْمَانَ حَدَّثَنَا أَبُو رَجَاءٍ الْعُطَارِدِيُّ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِيمَا يَرْوِي عَنْ رَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ قَالَ إِنَّ اللهَ كَتَبَ الْحَسَنَاتِ وَالسَّيِّئَاتِ ثُمَّ بَيَّنَ ذَلِكَ فَمَنْ هَمَّ بِحَسَنَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا كَتَبَهَا اللهُ لَهُ عِنْدَهُ حَسَنَةً كَامِلَةً فَإِنْ هُوَ هَمَّ بِهَا فَعَمِلَهَا كَتَبَهَا اللهُ لَهُ عِنْدَهُ عَشْرَ حَسَنَاتٍ إِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ إِلَى أَضْعَافٍ كَثِيرَةٍ وَمَنْ هَمَّ بِسَيِّئَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا كَتَبَهَا اللهُ لَهُ عِنْدَهُ حَسَنَةً كَامِلَةً فَإِنْ هُوَ هَمَّ بِهَا فَعَمِلَهَا كَتَبَهَا اللهُ لَهُ سَيِّئَةً وَاحِدَةً

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (হাদীসে কুদ্‌সী স্বরূপ) তাঁর প্রতিপালক হতে বর্ণনা করে বলেন যে, আল্লাহ্ ভাল-মন্দ লিখে দিয়েছেন। এরপর সেগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি কোন সৎ কাজের ইচ্ছা করল, কিন্তু তা বাস্তবে করল না, আল্লাহ্ তাঁর কাছে এর জন্য পূর্ণ সওয়াব লিখবেন। আর সে ভাল কাজের ইচ্ছা করল এবং তা বাস্তবেও করল তবে আল্লাহ্ তাঁর কাছে তার জন্য দশ গুণ থেকে সাতশ’ গুণ পর্যন্ত এমন কি এর চেয়েও অধিক সওয়াব লিখে দেন। আর যে কোন মন্দ কাজের ইচ্ছা করল, কিন্তু তা বাস্তবে পরিণত করল না, আল্লাহ্ তাঁর কাছে তার জন্য পূর্ণ সওয়াব লিখবেন। আর যদি সে মন্দ কাজের ইচ্ছা করার পর বাস্তবেও তা করে, তবে তার জন্য আল্লাহ্ মাত্র একটা গুনাহ লিখেন।[মুসলিম ১/৫৯, হাঃ ১৩১, আহমাদ ৩৪০২] সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৬৪৯১

 ‎حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا عُبَادَةُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ خَبَّابٍ، عَنْ سَعِيدٍ الطَّائِيِّ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ، أَنَّهُ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو كَبْشَةَ الأَنْمَارِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏”‏ ثَلاَثَةٌ أُقْسِمُ عَلَيْهِنَّ وَأُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا فَاحْفَظُوهُ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ مَا نَقَصَ مَالُ عَبْدٍ مِنْ صَدَقَةٍ وَلاَ ظُلِمَ عَبْدٌ مَظْلِمَةً فَصَبَرَ عَلَيْهَا إِلاَّ زَادَهُ اللَّهُ عِزًّا وَلاَ فَتَحَ عَبْدٌ بَابَ مَسْأَلَةٍ إِلاَّ فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ بَابَ فَقْرٍ أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا وَأُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا فَاحْفَظُوهُ قَالَ ‏”‏ إِنَّمَا الدُّنْيَا لأَرْبَعَةِ نَفَرٍ عَبْدٍ رَزَقَهُ اللَّهُ مَالاً وَعِلْمًا فَهُوَ يَتَّقِي فِيهِ رَبَّهُ وَيَصِلُ فِيهِ رَحِمَهُ وَيَعْلَمُ لِلَّهِ فِيهِ حَقًّا فَهَذَا بِأَفْضَلِ الْمَنَازِلِ وَعَبْدٍ رَزَقَهُ اللَّهُ عِلْمًا وَلَمْ يَرْزُقْهُ مَالاً فَهُوَ صَادِقُ النِّيَّةِ يَقُولُ لَوْ أَنَّ لِي مَالاً لَعَمِلْتُ بِعَمَلِ فُلاَنٍ فَهُوَ بِنِيَّتِهِ فَأَجْرُهُمَا سَوَاءٌ وَعَبْدٍ رَزَقَهُ اللَّهُ مَالاً وَلَمْ يَرْزُقْهُ عِلْمًا فَهُوَ يَخْبِطُ فِي مَالِهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ لاَ يَتَّقِي فِيهِ رَبَّهُ وَلاَ يَصِلُ فِيهِ رَحِمَهُ وَلاَ يَعْلَمُ لِلَّهِ فِيهِ حَقًّا فَهَذَا بِأَخْبَثِ الْمَنَازِلِ وَعَبْدٍ لَمْ يَرْزُقْهُ اللَّهُ مَالاً وَلاَ عِلْمًا فَهُوَ يَقُولُ لَوْ أَنَّ لِي مَالاً لَعَمِلْتُ فِيهِ بِعَمَلِ فُلاَنٍ فَهُوَ بِنِيَّتِهِ فَوِزْرُهُمَا سَوَاءٌ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

আবূ কাবশা আল-আনমারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন : আমি তিনটি বিষয়ে শপথ করছি এবং সেগুলোর ব্যাপারে তোমাদেরকে বলছি। তোমরা এগুলো মনে রাখবে। তিনি বলেন, দান-খাইরাত করলে কোন বান্দার সম্পদ হ্রাস পায় না। কোন বান্দার উপর যুলুম করা হলে এবং সে তাতে ধৈর্য ধারণ করলে আল্লাহ্‌ তা’আলা অবশ্যই তার সম্মান বাড়িয়ে দেন। কোন বান্দাহ ভিক্ষার দরজা খুললে অবশ্যই আল্লাহ্‌ তা’আলাও তার অভাবের দরজা খুলে দেন অথবা তিনি অনুরূপ কথা বলেছেন। আমি তোমাদেরকে একটি কথা বলছি, তোমরা তা মুখস্থ রাখবে। তারপর তিনি বলেনঃ চার প্রকার মানুষের জন্য এই পৃথিবী। আল্লাহ্‌ তা’আলা যে বান্দাহকে ধন-সম্পদ ও ইল্‌ম (জ্ঞান) দিয়েছেন, আর সে এই ক্ষেত্রে তার প্রভুকে ভয় করে, এর সাহায্যে আত্মীয়দের সাথে সৌজন্যমূলক ব্যবহার করে এবং এতে আল্লাহ্‌ তা’আলারও হক আছে বলে সে জানে, সেই বান্দার মর্যাদা সর্ব্বোচ্চ। আরেক বান্দাহ, যাকে আল্লাহ্‌ তা’আলা ইল্‌ম দিয়েছেন কিন্তু ধন-সম্পদ দেননি সে সৎ নিয়্যাতের (সংকল্পের) অধিকারী। সে বলে, আমার ধন-সম্পদ থাকলে আমি অমুক অমুক ভালো কাজ করতাম। এই ধরনের লোকের মর্যাদা তার নিয়্যাত মুতাবিক নির্ধারিত হবে। এ দুজনেরই সাওয়াব সমান সমান হবে। আরেক বান্দাহ, আল্লাহ্‌ তা’আলা তাকে ধন-সম্পদ প্রদান করেছেন কিন্তু ইল্‌ম দান করেননি। আর সে ইল্‌মহীন (জ্ঞানহীন) হওয়ার কারণে তার সম্পদ স্বীয় প্রবৃত্তির চাহিদা মতো ব্যয় করে। সে ব্যক্তি এ বিষয়ে তার রবকেও ভয় করে না এবং আত্মীয়দের সাথে সৌজন্যমূলক ব্যবহারও করে না। আর এতে যে আল্লাহ্‌ তা’আলার হক রয়েছে তাও সে জানে না। এই লোক সর্বাধিক নিকৃষ্ট স্তরের লোক। অপর এক বান্দাহ, যাকে আল্লাহ্‌ তা’আলা ধন-সম্পদও দান করেননি, ইল্‌মও দান করেননি। সে বলে, আমার যদি ধন-সম্পদ থাকত তাহলে আমি অমুক অমুক ব্যক্তির ন্যায় (প্রবৃত্তির বাসনামতো) কাজ করতাম। তার নিয়্যাত মুতাবিক তার স্থান নির্ধারিত হবে। অতএব, এদের দুজনের পাপ হবে সমান সমান।

সহীহ্‌ , ইবনু মা-জাহ (৪২২৮)।
ফুটনোট: আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ্‌।
জামে’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৩২৫

উপরের হাদিস দ্বারা বুঝতে পারলাম গুনাহ হবে না, কিন্তু নিচের হাদিস দ্বারা বোঝা গেল যে চতুর্থ ব্যক্তি গুনাহের শুধু নিয়ত করেই  তৃতীয় ব্যক্তির ন্যায় সমান সমান গুনাহ হয়ে গেল।
যদি এ বিষয়টা একটু ক্লিয়ার করতেন তাহলে অনেক উপকৃত হতাম জাযাকাল্লাহ।
From: Abdullah al Mamun [email protected]

উত্তরঃ
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
حامدا ومصليا ومسلما

যে ব্যক্তি কোনো গোনাহের ইচ্ছা করে, তারপর মানুষের ভয়ে তা পরিত্যাগ করে, অথবা সে গোনাহের দিকে এগোয় কিন্তু তাকদীর (আল্লাহর নির্ধারণ) তার ও সেই গোনাহের মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়, তার জন্য একটি গোনাহ লিপিবদ্ধ করা হয়।
আর যে ব্যক্তি কোনো গোনাহ করার সংকল্প করে, অতঃপর তা করার আগে তার দৃঢ় ইচ্ছা ভেঙে যায়
তাহলে অবস্থাগুলো ভিন্ন ভিন্ন হবে,
• যদি তা কেবল হৃদয়ে উদিত একটি ক্ষণস্থায়ী ভাবনা (খাতিরা) মাত্র হয়, তবে এর জন্য তাকে পাকড়াও করা হবে না।
• কিন্তু যদি তা এমন অন্তরের কাজ হয়, যাতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কোনো ভূমিকা নেই (যেমন: হিংসা, বিদ্বেষ, দৃঢ় সংকল্প ইত্যাদি), তবে এর জন্য তাকে জবাবদিহি করতে হবে।
• আর যদি তা এমন কাজ হয়, যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা সংঘটিত হয়, এবং সে ব্যক্তি তাতে অটল থাকে, দৃঢ়ভাবে করার নিয়ত পোষণ করে তাহলে অধিকাংশ আলেমের মতে সে এর জন্য দায়ী গণ্য হবে।

ইমাম নববী রহিমাহুল্লাহ বাকিল্লানী রহিমাহুল্লাহর মত উদ্ধৃত করার পর বলেন:
“ক্বাযী ইযায রহিমাহুল্লাহ বলেন, সালাফে সালিহীন ও ফকীহ এবং মুহাদ্দিসগণের অধিকাংশই ক্বাযী আবু বকর (আল-বাকিল্লানী)-এর এই মতের ওপরই ছিলেন। কারণ অন্তরের কাজের ওপর জবাবদিহির কথা প্রমাণকারী বহু হাদীস বিদ্যমান।
তবে তাঁরা বলেন, এই দৃঢ় সংকল্প (عزم) একটি গোনাহ হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়, কিন্তু সেটি সেই গোনাহ নয়, যার ইচ্ছা সে করেছিল। কেননা সে তা বাস্তবে করেনি এবং আল্লাহভীতি ও তাওবার কারণে নয় বরং অন্য কোনো কারণে তা থেকে বিরত হয়েছে। কিন্তু এই অটলতা ও দৃঢ় সংকল্প নিজেই একটি গোনাহ, তাই সেটি গোনাহ হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়।
অতঃপর যদি সে গোনাহটি বাস্তবে করে, তবে তার জন্য আরেকটি গোনাহ লেখা হয়।
আর যদি সে আল্লাহ তা‘আলার ভয়ে গোনাহটি পরিত্যাগ করে, তবে তার জন্য একটি নেকি লেখা হয়, যেমন হাদীসে এসেছে ‘সে তা আমার কারণে পরিত্যাগ করেছে’। সুতরাং আল্লাহভীতি, নফসের সাথে সংগ্রাম এবং কুপ্রবৃত্তির বিরোধিতা করার কারণে গোনাহ ত্যাগ করাই তার জন্য নেকিতে পরিণত হয়।
আর যে ‘ইচ্ছা’ (همّ) লিপিবদ্ধ হয় না, তা হলো, সে সব ক্ষণস্থায়ী চিন্তা, যেগুলোর ওপর অন্তর স্থির হয় না, কোনো দৃঢ় সিদ্ধান্ত, নিয়ত বা সংকল্প যুক্ত হয় না।”
(শরহে মুসলিম, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৫১)

বুখারী শরীফের হাদীস এবং তিরমিজি শরীফের হাদীস দুটির মধ্যে আপাতদৃষ্টিতে যে বৈপরীত্য মনে হচ্ছে, মুহাদ্দিসগণ (হাদীস বিশারদগণ) এর খুব সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এই দুটি বিষয়ের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই, বরং দুটি ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপট ও অবস্থার কথা বলা হয়েছে।

১. কেন প্রথম হাদীসে গুনাহ লেখা হলো না?
সহীহ বুখারীর হাদীসটিতে বলা হয়েছে, কেউ মন্দ কাজের ইচ্ছা করল কিন্তু তা করল না, ফলে তার জন্য একটি সওয়াব লেখা হলো। এর কারণ হলো:

আল্লাহর ভয়ে বিরত থাকা: এখানে ব্যক্তিটি গুনাহ করার সামর্থ্য রাখা সত্ত্বেও শুধুমাত্র আল্লাহর ভয়ে বা আখেরাতের জবাবদিহিতার কথা চিন্তা করে নিজের কুপ্রবৃত্তিকে দমন করেছে। যেহেতু সে মন্দ কাজ থেকে নিজেকে ফিরিয়ে রাখার মাধ্যমে একটি ‘ইবাদত’ (নফস দমন) করেছে, তাই তাকে সওয়াব দেওয়া হয়।

অনিচ্ছাকৃত চিন্তা: মানুষের মনে হঠাৎ কোনো মন্দ চিন্তা আসলে বা শয়তান ওয়াসওয়াসা দিলে সেটা যতক্ষণ না দৃঢ় সংকল্পে রূপ নেয় বা কাজে পরিণত হয়, ততক্ষণ আল্লাহ তা মাফ করে দেন।

২. কেন দ্বিতীয় হাদীসে চতুর্থ ব্যক্তি সমান গুনাহ পেল?
তিরমিজি শরীফের হাদীসে যে চতুর্থ ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, তার বিষয়টি ভিন্ন। তাকে সমান গুনাহ দেওয়ার কারণগুলো হলো:

দৃঢ় সংকল্প (আযম): এই ব্যক্তি শুধু মনে মনে একটা চিন্তা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং সে অন্তরে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছে যে, সুযোগ পেলেই সে ওই মন্দ কাজটি করবে। সে যদি সুযোগ পেত, তবে অবশ্যই গুনাহটি করত।

অক্ষমতার কারণে করতে না পারা: চতুর্থ ব্যক্তিটি গুনাহ করেনি কারণ তার কাছে সম্পদ বা সুযোগ নেই। সে আল্লাহর ভয়ে থেমে থাকেনি, বরং সুযোগের অভাবে থেমে আছে। যদি সে সম্পদ পেত, তবে সে ওই পাপিষ্ঠ ব্যক্তির মতোই কাজ করত। তাই তার অন্তরের ওই পাপিষ্ঠ সংকল্পের কারণে তাকে সমান গুনাহ দেওয়া হয়েছে।

পাপের প্রতি সন্তুষ্টি: সে পাপিষ্ঠ ব্যক্তিকে আইডল (মডেল) হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং তার পাপের কাজকে মনে মনে সমর্থন ও কামনা করেছে।

শরঈ দলীলঃ

القسم الثاني : العزائم المصممة التي تقع في النفوس ، وتدوم ، ويساكنُها صاحبُها ، فهذا أيضاً نوعان :
أحدهما : ما كان عملاً مستقلاً بنفسه من أعمالِ القلوب ، كالشَّكِّ في الوحدانية ، أو النبوَّة ، أو البعث ، أو غير ذلك مِنَ الكفر والنفاق ، أو اعتقاد تكذيب ذلك ، فهذا كلّه يُعاقَبُ عليه العبدُ ، ويصيرُ بذلك كافراً ومنافقاً …
ويلحق بهذا القسم سائرُ المعاصي المتعلِّقة بالقلوب ، كمحبة ما يُبغضهُ الله ، وبغضِ ما يحبُّه الله ، والكبرِ ، والعُجبِ …
والنوع الثاني : ما لم يكن مِنْ أعمال القلوب ، بل كان من أعمالِ الجوارحِ ، كالزِّنى ، والسَّرقة ، وشُرب الخمرِ ، والقتلِ ، والقذفِ ، ونحو ذلك ، إذا أصرَّ العبدُ على إرادة ذلك ، والعزم عليه ، ولم يَظهرْ له أثرٌ في الخارج أصلاً . فهذا في المؤاخذة به قولان مشهوران للعلماء :
أحدهما : يؤاخذ به ، ” قال ابنُ المبارك : سألتُ سفيان الثوريَّ : أيؤاخذُ العبدُ بالهمَّةِ ؟ فقال : إذا كانت عزماً أُوخِذَ “. ورجَّح هذا القولَ كثيرٌ من الفُقهاء والمحدِّثين والمتكلِّمين من أصحابنا وغيرهم ، واستدلوا له بنحو قوله – عز وجل – :
وَاعْلَمُوا أَنَّ اللهَ يَعْلَمُ مَا فِي أَنْفُسِكُمْ فَاحْذَرُوهُ  ، وقوله :  وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا كَسَبَتْ قُلُوبُكُمْ  ، وبنحو قول النَّبيِّ – صلى الله عليه وسلم – : ( الإثمُ ما حاكَ في صدركَ ، وكرهتَ أنْ يطَّلع عليه النَّاسُ ) [ رواه مسلم 2553 ] ، وحملوا قوله – صلى الله عليه وسلم – : ( إن الله تجاوزَ لأُمَّتي عمَّا حدَّثت به أنفُسَها ، ما لم تكلَّم به أو تعمل ) على الخَطَراتِ ، وقالوا : ما ساكنه العبدُ ، وعقد قلبه عليه ، فهو مِنْ كسبه وعملِه ، فلا يكونُ معفوّاً عنه …
والقول الثاني : لا يُؤاخَذُ بمجرَّد النية مطلقاً ، ونُسِبَ ذلك إلى نصِّ الشافعيِّ ، وهو قولُ ابن حامدٍ من أصحابنا عملاً بالعمومات . وروى العَوْفيُّ عن ابنِ عباس ما يدلُّ على مثل هذا القول … ” انتهى ، من جامع العلوم والحكم : شرح الحديث السابع والثلاثين (2/343-353) باختصار، وتصرف يسير .

والله أعلم بالصواب
উত্তর লিখনে,
মুহা. শাহাদাত হুসাইন , ছাগলনাইয়া, ফেনী।

সাবেক শিক্ষার্থী: ইফতা বিভাগ
তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

সত্যায়নে
মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী দা.বা.

পরিচালক– তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা
উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া ইসলামিয়া দারুল হক লালবাগ ঢাকা।
উস্তাজুল ইফতা: জামিয়াতুস সুন্নাহ কামরাঙ্গিরচর, ঢাকা।
উস্তাজুল ইফতা: কাসিমুল উলুম আলইসলামিয়া, সালেহপুর আমীনবাজার ঢাকা।
পরিচালক: শুকুন্দী ঝালখালী তা’লীমুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসা, মনোহরদী নরসিংদী।
শাইখুল হাদীস: জামিয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া, সনমানিয়া, কাপাসিয়া, গাজীপুর।

0Shares

আরও জানুন

অশান্তিময় পরিবারে শান্তি আসবে যেভাবে

প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম। হুজুর আমার স্বামী আমাকে অনেক সন্দেহ করে। ছোট ছোট বিষয়ে আমাদের মাঝে …

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস