প্রচ্ছদ / কুরআন ও হাদীসের ব্যাখ্যা / হাদীসে কি মেয়েদের গাধার সাথে তুলনা করা হয়েছে?

হাদীসে কি মেয়েদের গাধার সাথে তুলনা করা হয়েছে?

প্রশ্ন:

From: নাজিয়া নওরিন খান
Country : Singapore
Mobile :
Message Body:
আসসালামু আলাইকুম। আমি নিয়মিত কুরআন শরীফ ও বিভিন্ন হাদীস শরীফের বই (আরবি/বাংলা/ইংরেজি) নিয়মিত পড়ে থাকি। কিছুদিন আগে কিছু হাদীস পড়ে আমিখুবই মনোকষ্টে আছি। দয়া করে উপযুক্ত ব্যাখ্যা দ্বারা আমার কষ্ট দূর করবেন।

আয়শা থেকে বর্নিত, আমাকে বলা হয়েছিল কি কি জিনিস নামাজকে নষ্ট করে। সেগুলো হলো –
কুকুর, গাধা ও নারী। —সহী বুখারী, বই-৯, হাদিস-৪৯৩

আমার প্রশ্ন হচ্ছে,এখানে নারীকে কেন উল্লেখ করা হলো? এটা কি অস্মমান জনক নয়?

 

জবাব:

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

 

এই হাদিসের ব্যাখ্যা বুঝার আগে আমরা দু’টি হাদিসের উপর নজর বুলিয়ে নেই।

 

338 – حدثنا أحمد بن منيع حدثنا هشيم أخبرنا يونس [ بن عبيد ] ومنصور [ بن زدان ] عن حميد بن هلال عن عبد الله بن لاصامت قال سمعت أبا ذر يقول : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم إذا صلى الرجل وليس بين يديه كآخرة الرحل أو كواسطة الرحل قطع صلاته الكلب الأسود والمرأة والحمار فقلت لأبي ذر ما بال الأسود من الأحمر من الأبيض ؟ فقال يا ابن أخي ! سألتني كما سألت رسول الله صلى الله عليه و سلم ؟ فقال الكلب الأسود شيطان (سنن الترذى، ابواب الصلاة، باب ما جاء : أنه لا يقطع الصلاة إلا الكلب والحمار والمرأة، رقم الحديث-338، 347،

অনুবাদ- আব্দুল্লাহ বিন সামেত বলেন-আমি আবু জর রা. কে বলতে শুনেছি যে, রাসূল সা. বলেছেন, “যখন ব্যক্তি নামায পড়ে, আর তার সামনে হাওদার পিছনের লাকড়ির মত বা হাওদার মাঝের লাকড়ির মত কোন কিছু না হয়, তখন  কালো কুকুর, গাধা, বা মহিলা তার নামায ভেঙ্গে দেয়”। তখন আমি বললাম-“কালো কুকুর কি দোষ করল সাদা বা লাল কুকুর ভিন্ন?”তিনি বলেন-“একথা আমি নবীজী সা. কেও জিজ্ঞেস করেছিলাম। তখন তিনি বলেছেন যে, ‘কালো কুকুর হল শয়তান’” (তিরমিযী শরীফ, হাদিস নং-৩৩৮, ৩৪৭)

 

492 – حدثنا عمر بن حفص قال حدثنا أبي قال حدثنا الأعمش قال حدثنا إبراهيم عن الأسود عن عائشة . قال الأعمش وحدثني مسلم عن مسروق عن عائشة  : ذكر عندها ما يقطع الصلاة الكلب والحمار والمرأة فقالت شبهتمونا بالحمر والكلاب والله لقد رأيت النبي صلى الله عليه و سلم يصلي وإني على السرير بينه وبين القبلة مضطجعة فتبدو لي الحاجة فأكره أن أجلس فأوذي النبي صلى الله عليه و سلم فأنسل من عند رجليه

 [ ر 486 ] (صحيح البخارى-كتاب الصلاة، أبواب سترة المصلي،باب من قال لا يقطع الصلاة شيء، رقم الحيديث-493، 514)

অনুবাদ-হযরত মাসরুক আয়শা রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, যখন তাকে এই হাদিস শুনানো হল যে, “গাধা ও কুকুর এবং মহিলাদের কারণে নামায ভেঙ্গে যায়” তখন তিনি বললেন যে, “তোমরা আমরা নারী জাতিকে গাধা ও কুকুরের সমতূল্য বানিয়ে দিলে? অথচ আমি নবীজী সা. এর সামনে কিবলার দিকে জানাযার মত শুয়ে থাকতাম। আর নবীজী নামায পড়তেন (তাহাজ্জুদ)। তখন আমার পা ছড়ানো দরকার হলে আমার পা নবীজী সাঃ এর সিজদার স্থানে চলে যেত। (ঘর অন্ধকার থাকার দরুন) যখন তিনি সিজদার জন্য বসতে চাইতেন, তখন আমার পায়ে খোঁচা দিতেন। তখন আমি পা গুটিয়ে নিতাম। (বুখারী শরীফ-হাদিস নং-৪৯২,৫১৪)

 

ব্যাখ্যা

 

মজার ব্যাপার হচ্ছে যে, আপনি যেই প্রশ্নটি করেছেন তা হযরত আয়েশা রা. নবীজী সা. এর মৃত্যুর পরই করে ফেলেছেন।

মৌলিকভাবে হাদিসে নারী জাতিকে খাটো করা হয়নি। বরং তাদের স্বাতন্ত্রতা এবং আকর্ষনীয়তার কথা ব্যক্ত করা হয়েছে। উক্ত হাদিসে মূলনীতি শিখানো হয়েছে যে, কি কি বিষয় নামায ব্যাঘাত ঘটাতে পারে? তিনটি বিষয় নামাযের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে বলে হাদিসে উদ্ধৃত হয়েছে। এই তিনটি বিষয় ভিন্ন তিনটি কারণে নামাযের ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। তিনটির কোনটিই একটি আরেকটির মত নয়। সম্পূর্ণই আলাদা।

যথা

১. কালো কুকুর। কালো কুকুর দেখতে ভয়ংকর। অর্থাৎ এটি দেখলে ভীতির সঞ্চার হয়। ভীত হয়ে গেলে মানুষ অস্বাভাবিক আচরণ করে। এ কারণে একে নামায ভঙ্গের কারণ হয়।

 

২. গাধা। গাধা হল ঘৃণার বস্তু। ঘৃণিত বস্তু দেখলেও মানুষের মাঝে মনযোগিতা হ্রাস পায়। তাই এটিই নামায বিনষ্টের কারণ হয়। ‘

 

৩. নারী। নারী হল আকর্ষনীয়। তারপ্রতি মানুষের স্বভাবজাত আকর্ষন থাকে। নারীর কোমনীয়তা, স্বাতন্ত্র সৌন্দর্য মানুষকে আকৃষ্ট করে। আর আকৃষ্ট করে এমন চমকপ্রদ বস্তুও মানুষকে গাফেল করে দেয়। এ কারণে নারীর সামনে আগমণকেও নামায ভঙ্গের কারণ হিসেবে উপস্থাপিত করা হয়েছে।

 

এখানে লক্ষণীয় হল-কুকুরকে ভয়ের কারণে আর গাধাকে ঘৃণার কারণে আর নারীকে সৌন্দর্য ও আকর্ষনীয়তার কারণে নামায ভঙ্গের কারণ বলা হয়েছে।

নারীকে আকর্ষনীয়, সৌন্দর্যমন্ডিত বলে উপস্থাপন করাটা কি নারীকে খাটো করা? অবশ্যই নয়। বরং এটা তাকে সম্মান জানানো। আর তার অনুপম বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা।

 

(বিষয়টি ভাল করে জানতে পড়ুন-তুহফাতুল আলমায়ী-১/১৬০-১৬২

والله اعلم بالصواب

উত্তর লিখনে

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল- ahlehaqmedia2014@gmail.com

lutforfarazi@yahoo.com

আরও জানুন

মরণোত্তর চক্ষুদান করার হুকুম কী?

প্রশ্ন মুফতী সাহেবের কাছে আমার প্রশ্ন হল, মরণোত্তর চক্ষুদান করার হুকুম কী? দয়া করে জানালে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *