প্রচ্ছদ / আদব ও আখলাক / নামাযের সময় ছাড়া অন্য সময় মসজিদের ফ্যান লাইট ব্যবহার এবং ঘুমানোর হুকুম কি?

নামাযের সময় ছাড়া অন্য সময় মসজিদের ফ্যান লাইট ব্যবহার এবং ঘুমানোর হুকুম কি?

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ

আমি অনেক সময় নামাজের বেশ কিছু সময় আগে আমাদের মসজিদে গিয়ে ফ্যান,লাইট জ্বালিয়ে কখনও কোরআন তেলাওয়াত, কখনো নামাজ, কখনো জিকির আবার কখনো বা শুয়ে থাকি। এবং কখনো নামাজের পরেও এরকম করে থাকি। বিশেষ করে নামাজের পরে তেলাওয়াতের আমল করি।

আবার অনেক সময় আমার সাথে কেউ দেখা করতে এলে মাঝে মাঝে মসজিতে বসেই আলাপ করি (আজেবাজে কোন আলাপ হয় না কারণ যারা দ্বীনদার তাদের নিয়েই মসজিদে বসি) এ সময়ও ফ্যান ইত্যাদি চালিয়ে থাকি।

আমার প্রশ্ন হলো উপরে উল্লেখিত সময় মসজিদের ফ্যান,লাইট তথা মসজিদের জিনিস ব্যবহার করা কি জায়েজ? মেহেরবানী করে উত্তরটা জানালে অনেক উপকৃত হব।

জাযাকাল্লাহ।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

যেহেতু মসজিদে আসবাব দান করা হয়ে থাকে,নামায ও ইবাদত করার জন্য। সেই হিসেবে যদি মসজিদ কর্তৃপক্ষ নামায ছাড়া অন্য সময়ের জন্য ইবাদত করার আম অনুমতি দিয়ে রাখে এবং যারা মসজিদে দান করে থাকেন, তারাও যেকোন সময় ইবাদত করার জন্য আম অনুমতি প্রদান করে থাকে, তাহলে নামাযের সময় ছাড়াও অন্য সময়ও মসজিদে প্রবেশ করে ফ্যান লাইট জ্বালিয়ে ইবাদত করা জায়েজ আছে।

কিন্তু যদি শুধু নামায পড়ার সময় ছাড়া অন্য সময় মসজিদের আসবাব ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কর্তৃপক্ষ বা যিনি দান করেছন তিনি। তাহলে নামাযের সময় ছাড়া অন্য সময় মসজিদের আসবাব ব্যবহার করা যাবে না। ব্যবহার করলে এর সমমূল্য মসজিদে দান করে দেয়া আবশ্যক।

মসজিদের আসবাব ব্যবহার করা ছাড়া এমনিতে মসজিদে গিয়ে বসে থাকাতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু ঘুমানোর স্থান বানানো উচিত নয়। মসজিদ ইবাদতের স্থান, শুধু ঘুমানোর স্থান নয়।

হ্যাঁ, যদি নফল ইতিকাফের নিয়তে মসজিদে প্রবেশ করে ঘুমায় তাহলে গোনাহ হবে না।

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ مَنَعَ مَسَاجِدَ اللَّهِ أَنْ يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ وَسَعَى فِي خَرَابِهَا أُولَئِكَ مَا كَانَ لَهُمْ أَنْ يَدْخُلُوهَا إِلَّا خَائِفِينَ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ (سورة البقرة-114)

وَلَوْ وَقَفَ عَلَى دُهْنِ السِّرَاجِ لِلْمَسْجِدِ لَا يَجُوزُ وَضْعُهُ جَمِيعَ اللَّيْلِ بَلْ بِقَدْرِ حَاجَةِ الْمُصَلِّينَ وَيَجُوزُ إلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ أَوْ نِصْفِهِ إذَا اُحْتِيجَ إلَيْهِ لِلصَّلَاةِ فِيهِ، كَذَا فِي السِّرَاجِ الْوَهَّاجِ وَلَا يَجُوزُ أَنْ يُتْرَكَ فِيهِ كُلَّ اللَّيْلِ إلَّا فِي مَوْضِعٍ جَرَتْ الْعَادَةُ فِيهِ بِذَلِكَ كَمَسْجِدِ بَيْتِ الْمَقْدِسِ وَمَسْجِدِ النَّبِيِّ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ، أَوْ شَرَطَ الْوَاقِفُ تَرْكَهُ فِيهِ كُلَّ اللَّيْلِ كَمَا جَرَتْ الْعَادَةُ بِهِ فِي زَمَانِنَا، كَذَا فِي الْبَحْرِ الرَّائِقِ. (الفتاوى الهندية، كتاب الوقف، الفصل الاول من الباب الحادى عشر فى المسجد-2/459، مطبوعة مصر، وكذا فى البحر الرائق، كتاب الوقف، فصل احكام المسجد-5/250، خانية على هامش الهندية، كتاب الوقف، باب الرجل يجعل داره مسجدا-3/299

والله اعلم بالصواب

উত্তর লিখনে

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল- ahlehaqmedia2014@gmail.com

lutforfarazi@yahoo.com

আরও জানুন

মরণোত্তর চক্ষুদান করার হুকুম কী?

প্রশ্ন মুফতী সাহেবের কাছে আমার প্রশ্ন হল, মরণোত্তর চক্ষুদান করার হুকুম কী? দয়া করে জানালে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *