হোম / আধুনিক মাসায়েল / ডাক্তারের জন্য নির্দিষ্ট কোম্পানীর ওষুধ লিখা বাবদ ওষুধ কোম্পানী থেকে প্রাপ্ত অর্থ গ্রহণের হুকুম কী?
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

ডাক্তারের জন্য নির্দিষ্ট কোম্পানীর ওষুধ লিখা বাবদ ওষুধ কোম্পানী থেকে প্রাপ্ত অর্থ গ্রহণের হুকুম কী?

ফাতাওয়া নং-২৩৭০

প্রশ্ন

আমি পেশায় একজন চিকিৎসক।
রোগীর চিকিৎসার জন্য আমরা ডাক্তাররা বিভিন্ন কম্পানির ঔষধ প্রেসক্রিপশন করে থাকি। ঔষধ কম্পানি থেকে আমাদের অনেক হাদিয়া দিয়ে যায় যেমনঃ কলম,প্যাড,বিভিন্ন গিফট ইত্যাদি। এবং কিছু কিছু বা অধিকাংশ কম্পানি টাকা হাদিয়া দেয়। যাহাতে তাদের কম্পানির ঔষধ বেশী লেখা হয় এবং ভালো কম্পানি গুলো মার্কেটে টিকে থাকার জন্য দিয়া থাকে। আবার কিছু ভালো কম্পানি পারিশ্রমিকের কথা বলে দিয়ে যায়। অনেক সময় আমরাও বলে নেই ( আপনাদের দৈনিক ২০ টা প্রেসক্রিপশন দিবে মাসে ৫০০০ হাজার দিবেন) তারাও রাজি হয়।

আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই টাকা(লেন-দেন) বৈধ হবে কিনা?

(বিদ্রঃ এখনে রোগীকে খারাপ ঔষধ দেয়া হচ্ছে না। টপ ২০ কম্পানির মধ্যেই চিকিৎসা হচ্ছে, এবং ডাক্তার চাইলে টপ ১ থেকে যেকোন কম্পানির সাথে চুক্তি করে নিতে পারে।)

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

যদি হাদিয়া ও কমিশন পাবার আশায় অপ্রয়োজনীয় অষুধ লেখা না হয়, বা রোগীর জন্য উপকারী নয় এমন ওষুধ লেখা না হয়, তাহলে উক্ত হাদিয়া ও টাকা নেয়া জায়েজ আছে।

আর যদি হাদিয়া-গিফট বা টাকা পাবার আশায় রোগীর জন্য উপকারী নয় এমন ওষুধ লেখা হয়, বা অহেতুক বেশি বেশি ওষুধ লেখা হয়, তাহলে জায়েজ হবে না।

وَلَمْ يَرَ ابْنُ سِيرِينَ، وَعَطَاءٌ، وَإِبْرَاهِيمُ، وَالحَسَنُ بِأَجْرِ السِّمْسَارِ بَأْسًا وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: ” لاَ بَأْسَ أَنْ يَقُولَ: بِعْ هَذَا الثَّوْبَ، فَمَا زَادَ عَلَى كَذَا وَكَذَا، فَهُوَ لَكَ ” وَقَالَ ابْنُ سِيرِينَ: ” إِذَا قَالَ: بِعْهُ بِكَذَا، فَمَا كَانَ مِنْ رِبْحٍ فَهُوَ لَكَ، أَوْ بَيْنِي وَبَيْنَكَ، فَلاَ بَأْسَ بِهِ ” وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «المُسْلِمُونَ عِنْدَ شُرُوطِهِمْ»

ইবনু সীরীন, আতা, ইবরাহীম ও হাসান (রহ.) দালালীর মজুরীতে কোন দোষ মনে করেননি। ইবনু ‘আববাস (রাঃ) বলেন, যদি কেউ বলে যে, তুমি এ কাপড়টি বিক্রি করে দাও। এতো এতো এর উপর যা বেশী হয় তা তোমার, এতে কোন দোষ নেই। ইবনু সীরীন (রহ.) বলেন, যদি কেউ বলে যে, এটা এত এত দামে বিক্রি করে দাও, লাভ যা হবে, তা তোমার, অথবা তা তোমার ও আমার মধ্যে সমান হারে ভাগ হবে, তবে এতে কোন দোষ নেই। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিমগণ তাদের পরস্পরের শর্তানুযায়ী কাজ করবে। [সহীহ বুখারী-১/৩০৩]

سئل محمد بن مسلمة عن أجرة السمسار، فقال: أرجوا أنه لا بأس به،….. لكثرة التعامل (رد المحتار، كتاب الإجارة، مطلب فى اجرة الدلال-9/87، تاتارخانية-15/137، رقم-22462

وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقًا مِّنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ [٢:١٨٨

তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ করো না। এবং জনগণের সম্পদের কিয়দংশ জেনে-শুনে পাপ পন্থায় আত্নসাৎ করার উদ্দেশে শাসন কর্তৃপক্ষের হাতেও তুলে দিও না। [সূরা বাকারা-১৮৮]

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَن تَكُونَ تِجَارَةً عَن تَرَاضٍ مِّنكُمْ ۚ [٤:٢٩

হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। কেবলমাত্র তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয় তা বৈধ। [সূরা নিসা-২৯]

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক ও প্রধান মুফতী – মা’হাদুত তালীম ওয়াল  বুহুসিল ইসলামী ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম আমীনবাজার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া ফারূকিয়া দক্ষিণ বনশ্রী ঢাকা।

Print Friendly, PDF & Email
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

মাহরাম ছাড়া মহিলাদের একাকী তওয়াফ করার হুকুম কী?

প্রশ্ন Assalamu Alaikum Wr Dear Mufti Shaheb What is the rules for tawaf for female …