হোম / ইসলাহী/আত্মশুদ্ধি / উঁচু আওয়াজে জিকির করার হুকুম কী?
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

উঁচু আওয়াজে জিকির করার হুকুম কী?

প্রশ্ন

উঁচু আওয়াজে জিকির করার হুকুম কী? অনেক আলেমগণই এটাকে নাজায়েজ বলে থাকেন। এ ব্যাপারে আপনাদের মন্তব্য জানতে চাচ্ছি।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

নিম্ন স্বরে জিকির করা উত্তম। কিন্তু কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে উঁচু স্বরেও জিকির করাও জায়েজ আছে।

যেমন-

১- অন্য কারো ইবাদতে বিঘ্ন না হতে হবে।

২- অন্যের ঘুমের ক্ষতি না হতে হবে।

৩- লৌকিকতামুক্ত হতে হবে।

৪- জিকিরকারীর নফসের আত্মশুদ্ধির উন্নতির আশা থাকতে হবে।

ইত্যাদি শর্ত সাপেক্ষে জোরে জিকির করা জায়েজ আছে।

قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَٰنَ ۖ أَيًّا مَّا تَدْعُوا فَلَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ ۚ وَلَا تَجْهَرْ بِصَلَاتِكَ وَلَا تُخَافِتْ بِهَا وَابْتَغِ بَيْنَ ذَٰلِكَ سَبِيلًا [١٧:١١٠]

বলুনঃ আল্লাহ বলে আহবান কর কিংবা রহমান বলে, যে নামেই আহবান কর না কেন, সব সুন্দর নাম তাঁরই। আপনি নিজের নামায আদায়কালে স্বর উচ্চগ্রাসে নিয়ে গিয়ে পড়বেন না এবং নিঃশব্দেও পড়বেন না। এতদুভয়ের মধ্যমপন্থা অবলম্বন করুন। [সূরা বনী ইসরাঈল-১১০]

أَنَّ أَبَا مَعْبَدٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، أَخْبَرَهُ، أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ، أَخْبَرَهُ، «أَنَّ رَفْعَ الصَّوْتِ لِلذِّكْرِ حِينَ يَنْصَرِفُ النَّاسُ مِنَ الْمَكْتُوبَةِ، كَانَ ذَلِكَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ»، وَأَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ، قَالَ: «كُنْتُ أَعْلَمُ إِذَا انْصَرَفُوا بِذَلِكَ وَأَسْمَعُهُ»

ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে লোকেরা ফারয সলাত শেষে উচ্চস্বরে তাকবীর বলতো। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এভাবে উচ্চস্বরে তাকবীর বলা শুনে আমি বুঝতে পারতাম যে,লোকদের সলাত সমাপ্ত হয়েছে। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-১০০৩]

وأجمع العلماء سلفا وخلفا على استحباب ذكر الله تعالى جماعة في المساجد وغيرها من غير نكير إلا أن يشوش جهرهم بالذكر على نائم أو مصل أو قارىء قرآن كما هو مقرر في كتب الفقه وفي الحلبي الأفضل الجهر بالقراءة إن لم يكن عند قوم مشغولين ما لم يخالطه رياء اهـ (حاشية الطحطاوى على مراقى الفلاح-318)

وَقَدْ حَرَّرَ الْمَسْأَلَةَ فِي الْخَيْرِيَّةِ وَحَمَلَ مَا فِي فَتَاوَى الْقَاضِي عَلَى الْجَهْرِ الْمُضِرِّ وَقَالَ: إنَّ هُنَاكَ أَحَادِيثَ اقْتَضَتْ طَلَبَ الْجَهْرِ، وَأَحَادِيثَ طَلَبَ الْإِسْرَارِ وَالْجَمْعُ بَيْنَهُمَا بِأَنَّ ذَلِكَ يَخْتَلِفُ بِاخْتِلَافِ الْأَشْخَاصِ وَالْأَحْوَالِ، فَالْإِسْرَارُ أَفْضَلُ حَيْثُ خِيفَ الرِّيَاءُ أَوْ تَأَذِّي الْمُصَلِّينَ أَوْ النِّيَامِ وَالْجَهْرُ أَفْضَلُ حَيْثُ خَلَا مِمَّا ذُكِرَ، لِأَنَّهُ أَكْثَرُ عَمَلًا وَلِتَعَدِّي فَائِدَتِهِ إلَى السَّامِعِينَ، وَيُوقِظُ قَلْبَ الذَّاكِرِ فَيَجْمَعُ هَمَّهُ إلَى الْفِكْرِ، وَيَصْرِفُ سَمْعَهُ إلَيْهِ، وَيَطْرُدُ النَّوْمَ وَيَزِيدُ النَّشَاطَ اهـ (رد المحتار، كتاب الحظر والإباحة، فصل فى البيع-9/570)

وفصل آخرون فقالوا: الإخفاء أفضل عند خوف الرياء والإظهار أفضل عند عدم خوفه، وأولى منه القول بتقديم الإخفاء على الجهر فيما إذا خيف الرياء أو كان في الجهر تشويش على نحو مصل أو نائم أو قارئ أو مشتغل بعلم شرعي، وبتقديم الجهر على الإخفاء فيما إذا خلا عن ذلك وكان فيه قصد تعليم جاهل أو نحو إزالة وحشة عن مستوحش أو طرد نحو نعاس أو كسل عن الداعي نفسه أو إدخال سرور على قلب مؤمن أو تنفير مبتدع عن بدعة أو نحو ذلك، (تفسير روح المعانى-8/140

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক ও প্রধান মুফতী – মা’হাদুত তালীম ওয়াল  বুহুসিল ইসলামী ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম আমীনবাজার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া ফারূকিয়া দক্ষিণ বনশ্রী ঢাকা।

Print Friendly, PDF & Email
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

ডাক্তারের জন্য নির্দিষ্ট কোম্পানীর ওষুধ লিখা বাবদ ওষুধ কোম্পানী থেকে প্রাপ্ত অর্থ গ্রহণের হুকুম কী?

ফাতাওয়া নং-২৩৭০ প্রশ্ন আমি পেশায় একজন চিকিৎসক। রোগীর চিকিৎসার জন্য আমরা ডাক্তাররা বিভিন্ন কম্পানির ঔষধ …