হোম / আধুনিক মাসায়েল / লিভার কিডনী ইত্যাদি ট্রান্সপ্লান্ট করার হুকুম কী?
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

লিভার কিডনী ইত্যাদি ট্রান্সপ্লান্ট করার হুকুম কী?

প্রশ্ন

মুফতী সাহেবের কাছে আমার প্রশ্ন হল, অঙ্গ ট্রান্সপ্লান্টেশন বা অঙ্গ প্রতিস্থাপন করার হুকুম কী?

বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বেই এর ব্যবহার করা হচ্ছে। কারো লিভার, কিডনী ইত্যাদি নষ্ট হয়ে গেলে অন্য কারো লিভার, কিডনী ইত্যাদি এনে ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়।

আমার প্রশ্ন হল, এভাবে অঙ্গ ট্রান্সপ্লান্ট করা শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে জায়েজ হবে কি না? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হবো।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

বর্তমান সময়ে অঙ্গ ট্রান্সপ্লান্টেশনের একাধিক সূরত রয়েছে। যেমন-

1

মানুষের অঙ্গ ব্যতীত জড় পদার্থ যেমন লোহা পিতলের অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা।

মানুষের অঙ্গ ব্যতীত হালাল প্রাণী যেমন বকরী ইত্যাদির অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা।

মানুষের অঙ্গের বদলে কোন হারাম প্রাণী যেমন কুকুর, শুকরের অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা।

মানুষের এক অঙ্গ কর্তন করে তার অন্য অঙ্গে প্রতিস্থাপন করা।

কোন সুস্থ্য মানুষের কোন অঙ্গ কর্তন করে আরেক অসুস্থ্য ব্যক্তির শরীরে প্রতিস্থাপন করা।

উপরোক্ত ৫ সূরতের মাঝে ১ম, ২য় এবং ৪র্থ সূরত জায়েজ।

তৃতীয় সূরতের ক্ষেত্রে বিবরণ হল,

যদি অনোন্যাপায় অবস্থায় হয়, তাহলে শুকর ছাড়া অন্য কোন হারাম প্রাণীর অঙ্গ প্রতিস্থাপন করতে পারে।

শুকর নিষিদ্ধ কারণ, এটি পুরোটাই নাপাক। তাছাড়া এর বিকল্প প্রাণী পাওয়া যায়। তাই শুকরের অঙ্গ প্রতিস্থাপন জায়েজ হবে না।

৫ম পদ্ধতির মাঝে মতভেদ আছে।

উপমহাদেশের অধিকাংশ উলামায়ে কেরাম এটাকে নাজায়েজ বলে থাকেন।

তবে ভারতের কতিপয় উলামা এবং আরবের উলামাগণ কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে এ সূরতটিকেও জায়েজ বলে থাকেন।

মানুষের জীবন রক্ষার্থে কতিপয় উলামাগণের নিকট কতিপয় শর্তের সাথে এ পদ্ধতি জায়েজ হবার সুযোগ রয়েছে।

কিন্তু এরপরও অঙ্গ ক্রয় বিক্রয় থেকে বেঁচে থাকা জরুরী। কারণ, মানুষের অঙ্গ ক্রয় বিক্রয় করা বৈধ নয়।

যদি কতিপয় উলামাগণের বক্তব্য অনুপাতে জায়েজ হিসেবে আমলও করেন, তবু এর উপর তওবা ইস্তিগফার করা, সদকা খয়রাত করা আবশ্যক।

যেসব শর্তে ৫ম সূরতে ট্রান্সপ্লান্ট জায়েজঃ

যথাসাধ্য চেষ্টা করবে,যেন মুসলমানের অঙ্গ মুসলমানদের শরীরে প্রতিস্থাপিত হয়।

কোন মানুষের এমন অঙ্গ কর্তন করা যাবে না যার উপর উক্ত ব্যক্তির প্রাণ নির্ভরশীল হয়। যেমন হার্ট ইত্যাদি।

কোন মানুষের এমন অঙ্গ আলাদা করা জায়েজ নয়, যার দ্বারা ব্যক্তি মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। যেমন চোখ ইত্যাদি স্থানান্তর করা।

অভিজ্ঞ এবং নির্ভরযোগ্য ডাক্তার একথা বলেন যে, এছাড়া আর কোন গত্যান্তর নেই।

যার অঙ্গ আলাদা করা হচ্ছে, তার অনুমতি থাকা বা মৃত্যুপথযাত্রী হলে তার ওয়ারিসদের পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থন থাকতে হবে।

জীবিত ব্যক্তির শরীর থেকে এমন অঙ্গই কেবল নেয়া যাবে, যার ব্যাপারে ডাক্তারগণ বলেন যে, এর কোন বিশেষ প্রয়োজন উক্ত ব্যক্তির নেই।

অঙ্গ ট্রান্সপ্লান্ট করার দ্বারা শরীরে কোন বিকৃত পরিবর্তন হতে পারবে না। যা অঙ্গ বিকৃতি ঘটায়।

কোন মুসলমানের অঙ্গ কোন কাফেরকে কিছুতেই দেয়া যাবে না।

যদি কোন মৃত লাওয়ারিস হয়, তাহলে তার অঙ্গ কিছুতেই ট্রান্সপ্লান্ট করা যাবে না।

১০

যার জন্য অঙ্গটি ট্রান্সপ্লান্ট করা হচ্ছে, তার ক্ষেত্রে নিশ্চিত হতে হবে যে, এর দ্বারা লোকটি সুস্থ্য হয়ে যাবে। [ফাতাওয়া উসমানী-৪/২২৩-২২৬]

إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنزِيرِ وَمَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ ۖ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ [٢:١٧٣]

তিনি তোমাদের উপর হারাম করেছেন, মৃত জীব, রক্ত, শুকর মাংস এবং সেসব জীব-জন্তু যা আল্লাহ ব্যাতীত অপর কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং নাফরমানী ও সীমালঙ্ঘনকারী না হয়, তার জন্য কোন পাপ নেই। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মহান ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু। [সূরা বাকারা-১৭৩]

عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ طَرَفَةَ، أَنَّ جَدَّهُ عَرْفَجَةَ بْنَ أَسْعَدَ، «قُطِعَ أَنْفُهُ يَوْمَ الْكُلَابِ، فَاتَّخَذَ أَنْفًا مِنْ وَرِقٍ، فَأَنْتَنَ عَلَيْهِ، فَأَمَرَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَاتَّخَذَ أَنْفًا مِنْ ذَهَبٍ»

আব্দুর রাহমান ইবনু তারাফাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। ‘কুলাব’ যুদ্ধের দিন তার দাদা আর-ফাজাহ ইবনু আস’আদের নাক কেটে গেলে তিনি রূপার নাক বানিয়ে নিলেন। তা দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশে তিনি স্বর্ণের নাক তৈরী করে নেন। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪২৩২, সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-৫১৬১, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৯০০৬]

وَلَا بَأْسَ بِالتَّدَاوِي بِالْعَظْمِ إذَا كَانَ عَظْمُ شَاةٍ أَوْ بَقَرَةٍ أَوْ بَعِيرٍ أَوْ فَرَسٍ أَوْ غَيْرِهِ مِنْ الدَّوَابِّ إلَّا عَظْمَ الْخِنْزِيرِ وَالْآدَمِيِّ فَإِنَّهُ يُكْرَهُ التَّدَاوِي بِهِمَا فَقَدْ جَوَّزَ التَّدَاوِي بِعَظْمِ مَا سِوَى الْخِنْزِيرِ وَالْآدَمِيِّ مِنْ الْحَيَوَانَاتِ مُطْلَقًا مِنْ غَيْرِ فَصْلٍ بَيْنَمَا إذَا كَانَ الْحَيَوَانُ ذَكِيًّا أَوْ مَيِّتًا وَبَيْنَمَا إذَا كَانَ الْعَظْمُ رَطْبًا أَوْ يَابِسًا (الفتاوى الهندية، كتاب الكراهية، الْبَابُ الثَّامِنَ عَشَرَ فِي التَّدَاوِي وَالْمُعَالَجَاتِ وَفِيهِ الْعَزْلُ وَإِسْقَاطُ الْوَلَدِ -5/354)

وَإِنَّمَا الرُّخْصَةُ فِي غَيْرِ شَعْرِ بَنِي آدَمَ تَتَّخِذُهُ الْمَرْأَةُ لِتَزِيدَ فِي قُرُونِهَا، وَهُوَ مَرْوِيٌّ عَنْ أَبِي يُوسُفَ، وَفِي الْخَانِيَّةِ وَلَا بَأْسَ لِلْمَرْأَةِ أَنْ تَجْعَلَ فِي قُرُونِهَا وَذَوَائِبهَا شَيْئًا مِنْ الْوَبَرِ (رد المحتار، كتاب الحظر والإباحة، فصل فى النظر والمس-9/535-534

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক ও প্রধান মুফতী – মা’হাদুত তালীম ওয়াল  বুহুসিল ইসলামিয়া ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম আমীনবাজার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া ফারূকিয়া দক্ষিণ বনশ্রী ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

তালাক ও বিয়ে সম্পর্কিত কয়েকটি জরুরী প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্ন আসসালামু আলাইকুম। আমার নাম রাহনুমা ফারহা। আমি ঢাকায় থাকি এবং এখানে একটি মেডিকেল কলেজের …