হোম / তালাক/ডিভোর্স/হুরমত / জোরপূর্বক তালাকের কাগজে সাইন করালেই কি তালাক হয়ে যায়?
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

জোরপূর্বক তালাকের কাগজে সাইন করালেই কি তালাক হয়ে যায়?

প্রশ্ন

বিষয় : স্বামী এক উপস্থিত হয়ে তালাকনামায় সই করলে কি তালাক হয়

আসসালামু আলাইকুম হুজুর ,

আমার বোনের স্বামী আমার বোনকে তালাক দেয় কিছু বিষয়ে মনোমালিন্যের কারণে। বর্তমানে তারা দুজন একসঙ্গে থেকে সংসার করছে। কিন্তু বোনের শশুর বাড়ি থেকে বিষয় তা মেনে নিতে পারছে না এবং বাড়ি থেকে বার করে দিয়েছে দুজনকে। এক্ষেত্রে একটি নতুন সংশয় এসে পড়েছে কারণ তালাকটা দেবার পদ্ধতিটা জটিল। তালাকটা দেয়া হয় দুইবার (?) –

১) কাজী সাহেবের কাছে গিয়ে বোনের শশুর বাড়ির লোকেরা একপক্ষ ভাবে একটা কাগজে জোর করে সই করিয়ে নেয় জামাইবাবুকে দিয়ে এবং মুখে দুতালাক দিতে বলে (শোনা যাচ্ছে দুতালাকে বাইন বলতে বলে) এবং জামাইবাবু সে ভাবেই তালাক দেয়। এক্ষত্রে বলে নেয়া ভালো বোনের শুধু মাত্র ইসলামিক মতে বিয়ে হয়েছে, সরকারি ভাবে এখনো রেজিস্টার হয়নি। তাই এই তালাকের কাগজটা ভারতবর্ষের আইন অনুযায়ী বেআইনি ভাবে তৈরী করা। টাকা দিয়ে নকল ডিভোর্সের কাগজ তৈরি করা হয় এক্ষত্রে, কিন্তু যেহেতু মুখে তালাক বলেছে তাই এখানে কোনো সংশয় আর থাকতে পারে না।

২) পরে আরো একবার জামাইবাবুর বাড়ির লোকেরা ১৫-২০ জন আত্মীয় কে ডেকে এনে একটা তালাকনামা লিখে নিজেরা সই করে এবং জামাইবাবু কে মানসিক ভাবে নিগ্রহ করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাগজে সই করিয়ে নেয়। ধমকি দেয় যে তালাক না দিলে বাড়ি থেকে বার করে দেয়া হবে, জামাইবাবুর আব্বার শরীরের দোহাই ও দেয়। এক্ষত্রে মুখে আর জামাইবাবু তালাক দেয়নি বা কাগজে কি লেখা আছে পড়েনি। তবে কাগজটা যে তালাকনামা হতে পারে এটা কিছুটা জানতো। গোলমাল তা হচ্ছে এই শেষবারে তালাক নিয়ে। এটাকে কি তালাক হিসাবে বৈধ ধরা হবে? জামাইবাবু নিজে থেকে যখন ভালো মনে বোনের নিয়ে চলতে চাইছে আমরা আর কোনো আপত্তি করিনি কিন্তু এই শেষের তালাক নিয়ে অনেকের মনে এখনো সংশয় রয়ে গিয়েছে।

আপনি এর আগে একজনের প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন যে “যদি মুখে তালাক শব্দ উচ্চারণ করা ছাড়া উভয়ে উপস্থিত হয়ে শুধু তালাকনামায় সাইন করে থাকে, তাহলে এর মাধ্যমে তালাক হয়নি। স্বামী স্ত্রী হিসেবে এখনো বাকি আছে।” বলে রাখা ভালো দুই ক্ষেত্রে আমার বোন বা আমাদের বাড়ির কেউ উপস্থিত ছিল না।

সূত্র : https://ahlehaqmedia.com/6690/

দোয়া করে হাদিস বা ফতোয়া উল্লেখ করে উত্তর দিলে ভালো হয় (বিশেষ করে বাংলাতে) কারণ অনেক কে প্রমান হিসাবে দেখতে হবে।

পুনশ্চ ১: কোনো ক্ষেত্রে যদি তিন তালাক হয়ে গিয়েছে জেনেও কোনো স্বামী সংসার করে যায় তাহলে পাপটা কার উপর বর্তায়? শুধু স্বামীর উপর না স্ত্রীরও উপর? হতে পারে স্ত্রী বা স্ত্রীর পরিবার জানে তিন তালাকের বিষয় কিন্তু স্বামী সংসার করতে চাই বলে সব জেনেও চুপ থাকলো তাহলে কি দুই পরিবারের উপর পাপ বর্তাবে না?

পুনশ্চ ২: এক তালাক বা দুই তালাক দেবার পর নতুন করে বিয়ে করলে স্বামী কি নতুন করে তিন তালাকে মালিক হবে না তিন তালাক থেকে যত তালাক আগে দিয়েছে ততো তালাক বাদ দিয়ে যত তালাক পড়ে থাকবে ততো তালাকের মালিক হবে?

পুনশ্চ ৩: আমাদের দেশে এক নতুন ধরণের বিয়ে দেখা যাচ্ছে আজ কাল। যেখানে স্বামী বন্ধুদের বা আত্মীয়দের সাক্ষী হিসাবে উপস্থিত করে নিজের স্ত্রী কে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছে আর স্ত্রী কবুল করে নিচ্ছে। এভাবে কি বিয়ে হয়?

– রাফিকুল

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

বিবরণ মুতাবিক যদি মুখে কোন কিছু না বলে জোরপূর্বক দ্বিতীয়বার শুধু লিখিত সাইন নেয়া হয়, কিন্তু স্বামী মুখে কোন তালাক না বলে, তাহলে তৃতীয় তালাক পতিত হয়নি।

কিন্তু প্রথমবারে দুই তালাকে বাইন হবার কারণে এখন আবার স্বামী স্ত্রী একসাথে থাকতে হলে নতুন করে বিয়ে করে নিতে হবে। তবে পরবর্তীতে স্বামী আর এক তালাকের মালিক থাকবে।

رجل اكره بالضرب والحبس ان يكتب طلاق امرأته فلانة بنت فلان طالق لا تطلق امرأته لان الكتابة اقيمت مقام العبارة باعتبار الحاجة ولا حاجة ههنا (فتاوى قاضيخان على هامش الهندية، كتاب الطلاق، فصل فى الطلاق بالكتابة-1/472، الفتاوى الهندية-1/379، التاتارخانية-3/380

وفى الفتاوى الهنديةإذا كان الطلاق بائنا دون الثلاث فله أن يتزوجها في العدة وبعد انقضائها وإن كان الطلاق ثلاثا في الحرة وثنتين في الأمة لم تحل له حتى تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا (الفتاوى الهندية-1/472-473)

তিন তালাক হয়ে গেছে জানার পরও যদি একসাথে থাকে, তাহলে এর জন্য যারা সহযোগিতা করেছেন তারা সবাই সমান গোনাহগার হবেন। যেমন স্ত্রী পাপী হবেন, তেমনি পরিবারের যে সদস্য এতে রাজী ও সহযোগিতা করবেন তারাও গোনাহগার হবেন।

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ [٥:٢

সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা কঠোর শাস্তিদাতা। {সূরা মায়িদা-২}

مَنْ سَنَّ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةً حَسَنَةً، فَعُمِلَ بِهَا بَعْدَهُ، كُتِبَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِ مَنْ عَمِلَ بِهَا، وَلَا يَنْقُصُ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْءٌ، وَمَنْ سَنَّ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةً سَيِّئَةً، فَعُمِلَ بِهَا بَعْدَهُ، كُتِبَ عَلَيْهِ مِثْلُ وِزْرِ مَنْ عَمِلَ بِهَا، وَلَا يَنْقُصُ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَيْءٌ

যে ব্যক্তি ইসলামে কোন ভাল রীতির প্রচলন করবে এবং পরবর্তীকালে সে অনুযায়ী আমল করা হয় তাহলে আমলকারীর সাওয়াবের সমপরিমাণ সাওয়াব তার জন্য লিপিবদ্ধ করা হবে। এতে তাদের সাওয়াবের কোন রূপ ঘাটতি হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোন কুরীতির (মন্দ কাজের) প্রচলন করবে এবং তারপরে সে অনুযায়ী আমল করা হয় তাহলে ঐ আমলকারীর মন্দ ফলের সমপরিমাণ গুনাহ তার জন্য লিপিবদ্ধ করা হবে। এতে তাদের গুনাহ কিছুমাত্র হ্রাস হবে না।[সহীহ মুসলি, হাদীস নং-৬৭৪১, ইফা, হাদীস নং-৬৫৫৬]

এক বা দুই তালাক দেবার পর স্ত্রীকে গ্রহণ করে নিলে বা নতুন করে বিয়ে করে নিলে পরবর্তীতে বাকি তালাকের মালিক থাকবেন। অর্থাৎ যদি এক তালাক আগে দিয়ে থাকেন, তাহলে দুই তালাকের মালিক থাকবেন, আর যদি দুই তালাক আগে দিয়ে থাকেন, তাহলে আর এক তালাকের মালিক থাকবেন।

لَوْ تَزَوَّجَهَا قَبْلَ التَّزَوُّجِ أَوْ قَبْلَ إصَابَةِ الزَّوْجِ الثَّانِي حَيْثُ تَعُودُ بِمَا بَقِيَ مِنْ التَّطْلِيقَاتِ (فتح القدير، كتاب الطلاق، باب الرجعة، فصل بيما تحل به المطلقة-4/164 زكريا، 4/184 دار الفكر بيروت، النهر الفائق، كتاب الطالق، باب الرجعة، فصل فيما تحل به المطلقة-2/424)

হ্যাঁ, এভাবে বিয়ে করলেও বিয়ে হয়ে যাবে। কারণ, দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিম পুরুষ সাক্ষী বা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষীর সামনে বর ও কনে একজন প্রস্তাব দিলে এবং অন্যজন কবুল করলে তা সাক্ষীগণ স্বকর্ণে একই মজলিসে বসে শুনলে বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যায়।

فى الدر المختار- ( و ) شرط ( حضور ) شاهدين ( حرين ) أو حر وحرتين ( مكلفين سامعين قولهما معا ) (الدر المختار ، كتاب النكاح،-3/9)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক ও প্রধান মুফতী – মা’হাদুত তালীম ওয়াল  বুহুসিল ইসলামিয়া ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

دوسرے کی طرف سے بلا اجازت قرباني كا حكم অন্যের পক্ষ থেকে অনুমতি ছাড়া কুরবানীর হুকুম কী?

প্রশ্ন নাম-Habibulla Mandal বিষয়- কুরবানী ایک شخص پر قربانی واجب ہے دوسرے شخص نے اس …