হোম / অপরাধ ও গোনাহ / মতপার্থক্য হলে তার সাথে কেমন আচরণ করা উচিত?
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

মতপার্থক্য হলে তার সাথে কেমন আচরণ করা উচিত?

প্রশ্ন

From: abu imad mohid bin meghu molla

বিষয়ঃ ভাষার প্রয়োগ রীতি

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

মুহতারাম , যদি কারো সাথে মতের অমিল হয় বা কোন বিষয়ে মত পার্থক্য তাকে তবে তার সাথে কেমন ব্যবহার করতে হবে? তাকে কি আক্রমনাত্মক ভাষা ব্যাবহার করা যাবে ? শরীয়তের বিধান কি সকল মানুষের জন্য সমান , নাকি আলেমদের এক বিধান আর সাধারন মানুষের আরেক বিধান ?

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

মতের অমিল বা মত পার্থক্যের ধরণের উপর এর হুকুম নির্ভরশীল। যদি মত পার্থক্য হয় ধর্মীয় বিষয় নিয়ে। তাহলে যদি হক বাতিলের প্রসঙ্গ হয়, তাহলে বাতিলকে উম্মাহের কাছে পরিস্কারভাবে বাতিল হিসেবে জানিয়ে দেয়া উলামায়ে কেরামের দায়িত্ব। সেই হিসেবে শরয়ী সীমার মধ্যে থেকে কঠোরতার সাথে তা মুকাবিলা প্রতিটি দায়িত্বশীল উলামাগণের দায়িত্ব। সেই সাথে সচেতন প্রতিটি মুসলিমেরও এ বিষয়ে সতর্কতা জরুরী।

বাতিলকে কঠোরভাবে বিরোধীতা না করলে, এতে করে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে যেতে পারে। তাই কঠোরতার সাথেই এর বিরোধীতা করতে হবে। বাতিলের দোষত্রুটিগুলো জাতির সামনে পেশ করতে হবে।

এর নাম গীবত নয়। উম্মতকে ভ্রান্তিতা থেকে রক্ষার নিমিত্তে ভ্রান্ত ব্যক্তির গলদ আকীদা, ভুল বক্তব্য তুলে ধরা গীবত নয়। নয় গোনাহের কাজও। বরং এটি সওয়াবের কাজ। আর একাজ করা উলামাগণের দায়িত্ব।

আর সাধারণ মুসলমানদের উচিত গ্রহণযোগ্য মুত্তাকী উলামাগণের বক্তব্য অনুপাতে আমল করা।

তবে বিরোধীতা করতে গিয়ে গালাগাল করা বৈধ নয়। প্রয়োজনে কঠোর শব্দ ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু গালাগাল করা যাবে না।

কিন্তু ধর্মীয় বিষয় ছাড়া দুনিয়াবী কোন বিষয়ে মতভেদ হলে বেশি কঠোরতা কাম্য নয়। বরং ধৈর্যধারণ করা, আল্লাহর কাছে এর বিনিময়ে উত্তম বদলার জন্য আবেদন করা উচিত। সেই সাথে হিকমতের সাথে ভুলগুলো তুলে ধরে তাকে সতর্ক করা উচিত।

وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا كَمَا آمَنَ النَّاسُ قَالُوا أَنُؤْمِنُ كَمَا آمَنَ السُّفَهَاءُ ۗ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهَاءُ وَلَٰكِن لَّا يَعْلَمُونَ [٢:١٣]

আর যখন তাদেরকে বলা হয়, অন্যান্যরা যেভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আন, তখন তারা বলে, আমরাও কি ঈমান আনব বোকাদেরই মত! মনে রেখো, প্রকৃতপক্ষে তারাই বোকা, কিন্তু তারা তা বোঝে না।  [সূরা বাকারা-১৩]

উল্লেখ্য, এ আয়াতে খেয়াল করুন, এ আয়াতে মক্কার মুশরিকরা সাহাবায়ে কেরামগণকে বোকা বলে ভর্ৎসনা করেছে, এর বদলে আল্লাহ তাআলাও কঠোরভাষায় উক্ত ব্যক্তিদের তাকিদের সাথে বোকা বলে সম্বোধন করেছেন। যা প্রমাণ করে, ধর্মীয় বিষয়ে বাতিল ব্যক্তিদের কঠোর সমালোচনা করা জায়েজ আছে। যা উক্ত আয়াত থেকে পরিস্কারভাবেই প্রমাণিত।

بأن تذموهم وتسبوهم إذا لم يؤد ذلك إلى سب الله سبحانه (حاشية مشكاة-2\332)

جاهدوهم بها بأن تذموهم، وتعيبوهم، وتسبوا أصنامهم، ودينهم الباطل وبأن تخوفوهم بالقتل والأخذ وما أشبه ذلك الخ (مرقاة المفاتيح، كتاب الجهاد-7\288، بذل المجهود، كتاب الجهاد، باب كراهية ترك الغزو، قديم-3\411، جديد-9\53، رقم الحديث-2504)

أُمَّ الدَّرْدَاءِ، تَقُولُ: ” مَنْ وَعَظَ أَخَاهُ سِرًّا فَقَدْ زَانَهُ، وَمَنْ وَعَظَهُ عَلَانِيَةً فَقَدْ شَانَهُ “ (شعب الإيمان للبيهقى، باب فى التعاون على البر والتقوى-6\112، رقم-7641)

عَنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ حَنْطَبٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” الْمُؤْمِنُ أَخُو الْمُؤْمِنِ حَيْثُ يَغِيبُ يَحْفَظُهُ مِنْ وَرَائِهِ، وَيَكُفُّ عَنْهُ ضَيْعَتَهُ، وَالْمُؤْمِنُ مِرْآةُ الْمُؤْمِنِ ” (شعب الإيمان للبيهقى، رقم-7238

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক ও প্রধান মুফতী – মা’হাদুত তালীম ওয়াল  বুহুসিল ইসলামিয়া ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

বিয়ে করলে আমার স্ত্রী তিন তালাক বলার হুকুম কী?

প্রশ্ন আমাদের এলাকার একজন ব্যাক্তি ছাত্র থাকাবস্থায় তালাকের মাসআলা আলোচনার এক পর্যায়ে বলে, আমি বিয়ে …