প্রচ্ছদ / অজু/গোসল/পবিত্রতা/হায়েজ/নেফাস / নেফাসওয়ালী মহিলাদের জন্য কদিন পর্যন্ত নামায পড়া মাফ?

নেফাসওয়ালী মহিলাদের জন্য কদিন পর্যন্ত নামায পড়া মাফ?

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম ।

আমার একটি সম্তান হয়েছে । আলহামদুলিল্লাহ । আমার স্ত্রী কত দিন পর থেকে নামাজ পড়তে পারবে ? অনেকে বলে থাকেন ৪০ দিন নামাজ পরা যাবে না । বিস্তারিত জানালে খুশি হব ।

আহালে হক মিডিয়ার প্রচার ও  প্রসার এর জন্য অনেক দুয়া ও শুভ কামনা রইল ।

মোহাম্মদ ফারুক
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ।
বাসা : খিলক্ষেত , তালের টেক,
ঢাকা – ১২২৯ ।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

সন্তান প্রসব হবার পর থেকে হায়েজের সময় যেভাবে রক্ত ঝরে সেভাবে কমবেশি মহিলাদের জরায়ু থেকে রক্ত ঝরে। এটাকে নেফাসের রক্ত ঝরে। এভাবে চল্লিশ দিনের মাঝে যতদিন রক্ত ঝরে ততদিন নামায পড়ার বিধান মাফ থাকে।

এর সর্বোচ্চ মেয়াদ হল চল্লিশ দিন। যদি চল্লিশ দিনের মধ্যে রক্ত বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে যেদিন বন্ধ হবে, সেদিন গোসল করে নামায পড়া শুরু করে দিতে হবে। কিন্তু বন্ধ না হয়, তাহলে এর সর্বোচ্চ মেয়াদ হল চল্লিশ দিন। যদি চল্লিশ দিনেও বন্ধ না হয়, তাহলে চল্লিশ দিন পর বন্ধ না হলেও নামায পড়তে হবে।

একটি ভুল ধারণা আছে যে, চল্লিশ পর্যন্ত নামায পড়া যায় না। কথাটি আমভাবে সঠিক নয়। যার রক্ত বন্ধ না হয়, তার জন্য সর্বোচ্চ মেয়াদ হল চল্লিশ দিন। অর্থাৎ যদি আগে বন্ধ না হয়, লাগাতার ঝরতে থাকে, তাহলে সর্বোচ্চ মেয়াদকাল চল্লিশ দিন পর্যন্ত। কিন্তু যদি এর আগেই বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে এর আগ থেকে নামায পড়া শুরু করতে হবে।

فى تنوير الابصار: والنفاس لغة : دمن ويخرج عقب ولد، لا حد لاقله، واكثره أربعين يوما (رد المحتار، كتاب الطهارة، باب الحيض-1/496-497)

عَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «وَقَّتَ لِلنُّفَسَاءِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا، إِلَّا أَنْ تَرَى الطُّهْرَ قَبْلَ ذَلِكَ

হযরত আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নেফাসওয়ালী মহিলাদের মেয়াদ সাব্যস্ত করেছেন চল্লিশ দিন। তবে যদি এর আগে পবিত্র হয়ে যায়, তাহলে ভিন্ন কথা। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৬৪৯, আলমুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৮৩১১, সুনানে দারাকুতনী, হাদীস নং-৮৫২, সুনানে কুবরালিলবায়হাকী, হাদীস নং-১৬১৯]

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

মুহাদ্দিস-জামিয়া উবাদা ইবনুল জাররাহ, ভাটারা ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

মরণোত্তর চক্ষুদান করার হুকুম কী?

প্রশ্ন মুফতী সাহেবের কাছে আমার প্রশ্ন হল, মরণোত্তর চক্ষুদান করার হুকুম কী? দয়া করে জানালে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *