প্রচ্ছদ / কুরবানী/জবেহ/আকীকা / বাংলাদেশে চলে আসা ব্যক্তির ওয়াজিব কুরবানী সৌদী আরব অনুপাতে দশে জিলহজ্ব আর বাংলাদেশ হিসেবে নয়ই জিলহজ্ব তারিখে সৌদীতে আদায় করলে হবে কি?

বাংলাদেশে চলে আসা ব্যক্তির ওয়াজিব কুরবানী সৌদী আরব অনুপাতে দশে জিলহজ্ব আর বাংলাদেশ হিসেবে নয়ই জিলহজ্ব তারিখে সৌদীতে আদায় করলে হবে কি?

প্রশ্ন

যদি কোন ব্যাক্তি সৌদি আরব প্রবাসি হয় এবং সেখানে একটি কুরবানির পশু ক্রয় করে কাউকে উকিল বানিয়ে সে বাংলাদেশে চলে আসে, এবং তার উকিল বাংলাদেশের ৯জিলহজ্জ (সৌদির ১০জিলহজ্জ) কুরবানি করে, তাহলে কি ঐ প্রবাসি ব্যাক্তির কুরবানি সহিহ হবে??
অনুগ্রহপূর্বক জানিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

এ মাসআলাটি নিয়ে মতভেদ আছে। যথা-

১ম অভিমত

কিছু উলামায়ে কেরামের মতে যেখানে কুরবানী দেয়া হচ্ছে, সেখানের নির্ধারিত কুরবানীর দিনে কুরবানী করলে কুরবানী আদায় হয়ে যাবে।

এ মতানুসারে সৌদি অনুপাতে কুরবানীর দিনে কুরবানী করলেই কুরবানী আদায় হয়ে যাবে।

২য় অভিমত

আরেক দল উলামায়ে কেরামের মতে যেখানে কুরবানী দেয়া হচ্ছে, এবং কুরবানীদাতা যেখানে আছেন, উভয়ের অনুপাতে যেদিন কুরবানীর দিন, সেদিন কুরবানী দিলে কুরবানী আদায় হবে।

যেমন সৌদীতে যেদিন জিলহজ্বের এগার তারিখ, বাংলাদেশে সেদিন জিলহজ্ব মাসের দশ তারিখ।

যেহেতু জিলহজ্বের দশ, এগারো ও বার তারিখ এ তিন দিনই কুরবানী করা যায়। সেই হিসেবে সৌদির এগার তারিখ আর বাংলাদেশের দশ তারিখ দেশ ভিন্ন হলেও কুরবানীর দিন থাকছে। তাই সৌদির হিসেবে এগারই জিলহজ্ব পশুটি কুরবানী দিতে হবে। সেদেশের হিসেবে তথা বাংলাদেশের হিসেবে নয় তারিখ ও সৌদীর হিসেবে দশ তারিখে দিলে বাংলাদেশে বসবাসকারীর কুরবানী আদায় হবে না।

প্রথম মতটি গ্রহন করে ফাতওয়া প্রদান করেছেনঃ

মুফতী আব্দুর রহীম লাজপুরী রহঃ। [ফাতাওয়া রহীমিয়া-১০/৪০}

মুফতী মাহমূদ হাসান গঙ্গুহী রহঃ [ফাতাওয়া মাহমূদিয়া-২৬/৩৪৩]

জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া বিন্নুরী টাউনের ফাতাওয়া বিভাগ। [ফাতাওয়া বাইয়্যিনাত-৪/৫৫৯]

মুফতী খালিদ সাইফুল্লাহ রহমানী দা.বা.। [কিতাবুল ফাতাওয়া-৪/১৬২]

২য় মতটি গ্রহণ করেছেন, দারুল উলুম দেওবন্দের বর্তমান মুফতীয়ানে কেরাম।

দেখুন দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে প্রকাশিত-চান্দ আহাম আছরী মাসায়েল-১/২২৪]

উভয়ের মতের পক্ষেই দলীল রয়েছে।

যেহেতু কুরবানী ওয়াজিব হয় ব্যক্তির উপর। আর আদায় ওয়াজিব হয়ে থাকে জিলহজ্ব মাসের দশ তারিখের ঈদের নামাযের পর।

এখন যার উপর কুরবানী ওয়াজিব, সে যেখানে আছে, সেখানে সময় না আসা, মানে হল, তার উপর কুরবানী আদায়ের সময়ই আসেনি। এখন তার কুরবানী করে দেয়া মানে হল, সময় হবার আগেই কুরবানী করে দেয়া।

আর সময়ের সাথে নির্ধারিত ইবাদতসমূহ সময় আসার আগেই আদায় করলে তা আদায় হয় না।

إن سبب وجوب الأضحية الوقت، وهو أيام النحر (فتح القدير-9/519)

وفى البدائع: وأما وقت الوجوب فأيام النحر، فلا تجب قبل دخول الوقت كالصلاة والصوم ونحوهما، وأيام النحر ثلاثة، (بدائع الصنائع-4/198)

সে হিসেবে বাংলাদেশে দশই জিলহজ্ব হবার আগেই অন্যত্র কুরবানী করলে তা উপরোক্ত ব্যক্তির পক্ষ থেকে আদায় হবে না।

কিন্তু যারা বলে থাকেন, হয়ে যাবে, তাদের বক্তব্য হল, ফিক্বহের কিতাবসমূহে কুরবানী যেখানে করা হচ্ছে, সেখানে কুরবানীর সময় হল কি না? সেটি ধর্তব্য হবে। যার পক্ষ থেকে কুরবানী করা হচ্ছে, সে যেখানে আছে, সেখানকার সময় ধর্তব্য নয়।

যেমন-

والمعتبر مكان الأضحية لا مكان من عليه

وقال ابن عابدين الشامى: (قَوْلُهُ وَالْمُعْتَبَرُ مَكَانُ الْأُضْحِيَّةَ إلَخْ) فَلَوْ كَانَتْ فِي السَّوَادِ وَالْمُضَحِّي فِي الْمِصْرِ جَازَتْ قَبْلَ الصَّلَاةِ، وَفِي الْعَكْسِ لَمْ تَجُزْ قُهُسْتَانِيٌ (رد المحتار، كتاب الاضحية، -9/461)

المعتبر في ذلك مكان الأضحية، حتى لو كانت في السواد والمضحي في المصر يجوز كما انشق الفجر، ولو كان على العكس لا يجوز إلا بعد الصلاة (هداية أخرين-430)

আমাদের বক্তব্য!

উপরোক্ত মতভেদের আলোকে একদল মুফতীর মতানুসারে প্রশ্নোক্ত ব্যক্তির কুরবানী আদায় হয়ে যাবে। তা’ই বাংলাদেশে আসার পর তার আর দ্বিতীয় কুরবানী দিতে হবে না।

কিন্তু আরেকদল মুফতীয়ানে কেরামের মতানুসারে সৌদী অনুপাতে দশে জিলহজ্বের তারিখে কুরবানী করে ফেললে উক্ত ব্যক্তির কুরবানী আদায় হবে না। হ্যাঁ, যদি সৌদীর হিসেবে এগারই জিলহজ্ব, যা বাংলাদেশের হিসেবে দশে জিলহজ্ব হয়, এ তারীখে কুরবানী করলে কুরবানী আদায় হয়ে যাবে।

সহজ হল, প্রথম বক্তব্য অনুপাতে আমল করা। আর সতর্কতা হল, দ্বিতীয় মতটির উপর আমল করা।

আমরাও মনে করি যে, উক্ত ব্যক্তির সামর্থ থাকলে বাংলাদেশে আসার পর আরেকটি কুরবানী করাই উচিত। যেহেতু মতভেদ হয়ে গেছে। তাই প্রকৃত মুমিন ব্যক্তি ইবাদত বিষয়ে অধিকতর সতর্কতা পরিচয় দিবে এটাই ঈমানের দাবী।

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

মুহাদ্দিস-জামিয়া উবাদা ইবনুল জাররাহ, ভাটারা ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

কবরবাসী জিয়ারতকারীর সালাম শুনতে পায় এবং পরিচিতজনকে চিনতে পারে?

প্রশ্ন প্রশ্নকারীর নাম: —————- ফয়সাল আহমাদ ঠিকানা: —————- গুনবতী,কুমিল্লা জেলা/শহর: —————- কুমিল্লা দেশ: —————- বাংলাদেশ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস