প্রচ্ছদ / প্রশ্নোত্তর / ব্যাংক ঋণ স্বর্ণ রূপা ও নাবালেগের উপর যাকাতের বিধান কী?

ব্যাংক ঋণ স্বর্ণ রূপা ও নাবালেগের উপর যাকাতের বিধান কী?

প্রশ্ন

আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতু,

শ্রদ্ধেয় মুফতি সাহেব,

দয়া করে নিম্নবর্ণিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দানে বাধিত করবেন।

১.

আমার ব্যাংক লোন আছে ১৮,২১,১২০.৯৩ টাকা। এ লোন থেকে ১০ লক্ষ টাকা একজন এ মর্মে নিয়েছে যে, এর দায়বার সেই বহন করবে (অর্থাৎ লোন + ব্যাংকের অতিরিক্ত মুনাফা সেই পরিশোধ করবে)। তবে সে কখন এ টাকা পরিশোধ করবে তার কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ নেই। বিষয়টা Justএ রকম যে তার এখন টাকার প্রয়োজন হয়েছে আমি তাকে লোন নিয়ে দিয়েছি এবং এ লোনের সমস্ত ব্যয়ভার সে নিজেই বহন করবে। আমার যখন টাকার প্রয়োজন হবে সে দিয়ে দিবে। সেই সূত্রে আমার নিজের লোনের পরিমাণ দাঁড়ালো ,২১,১২০.৯৩ টাকা। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে লোনের পুরো টাকার মাসিক কিস্তি আমি নিজেই পরিশোধ করিতেছি। কিন্তু বর্তমানে আমার কাছে যাকাতের নেসাব পরিমাণ কোন নগদ টাকা নেই। সুতরাং এখানে যাকাতের কোন বিষয় আছে কিনা?

২.

আমার স্ত্রীর ৬.১০ তোলা সোনা ও 6 তোলা রুপা আছে।

৩.

আমার বড় মেয়ের ৪.১১ তোলা সোনা ও 5 তোলা রুপা আছে।

আমার ছোট মেয়ের ৪.০৩ তোলা সোনা ও ৪ তোলা রুপা আছে।

৪.

শরীয়তের দৃষ্টিতে সোনা-রুপা ও টাকা-পয়সার মালিকানা স্বত্ত্ব হস্তান্তরের নিয়ম কি?? যেমন, মায়ের কাছে ৮ তোলা সোনা বা রুপা আছে সে এখান থেকে তার মেয়েদের নামে ২/৩ তোলা হস্তান্তর করতে চায় বা দিতে চায় যাতে তার সোনা-রুপার মূল্য নেসাব পরিমাণ না হয়। সেক্ষেত্রে শরীয়তের নিয়ম কি? আর হস্তান্তরের এ নিয়ম নাবালিকা ও সাবালিকা উভয়ের জন্য কি একই নাকি আলাদা-আলাদা??

উপরের বর্ণনা মতে কার কত টাকা যাকাত আসবে এবং কিভাবে বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

আপনি ব্যাংক থেকে যে ঋণ নিয়েছেন, এর বছরান্তের আদায়যোগ্য কিস্তি ছাড়া যদি আপনার কাছে সাড়ে বায়ান্ন তোলার রূপার সমমূল্য টাকা বাকি থাকে, তাহলে আপনার উপর যাকাত আদায় করা আবশ্যক।

যেমন আপনি ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছেন আট লাখ টাকা। প্রতি মাসে যে টাকা লাভসহ ব্যাংকে পরিশোধ করেন, তার পরিমাণ হল, ৫০ হাজার টাকা।

তাহলে বছর শেষে আপনার হাতে যে পরিমাণ টাকা বাকি থাকছে, তথা ৯,৫০,০০০/= এর উপর যাকাত আদায় করতে হবে।

বিষয়টি পরিস্কার বুঝতে পেরেছেন। আপনার বাৎসরিক লোন বাবদ পরিশোধ কৃত টাকা ব্যতিত যত টাকা আপনার হাতে ঋণ নেয়া বাবদ অবশিষ্ট আছে, এর উপর আপনার যাকাত আদায় করতে হবে। কারণ দীর্ঘমেয়াদী ঋণ থাকা যাকাত আবশ্যক হবার জন্য প্রতিবন্ধক নয়।

وفي رد المحتار- ( قوله أو مؤجلا إلخ ) عزاه في المعراج إلى شرح الطحاوي ، وقال : وعن أبي حنيفة لا يمنع وقال الصدر الشهيد : لا رواية فيه ، ولكل من المنع وعدمه وجه، زاد القهستاني عن الجواهر : والصحيح أنه غير مانع (رد المحتار-كتاب الزكاة، مطلب الفرق بين السبب والشرط والعلة-3/177، بدائع الصنائع-2/86

প্রশ্নে যাদের নাম বলা হয়েছে, তারাই কি উক্ত স্বর্ণ রূপার মালিক নাকি আপনি?

যদি আপনি মালিক হন, তাহলে প্রথম জবাবের সাথে এসব মিলিয়ে এসবের মূল্য হিসেব করেও যাকাত আদায় করা আপনার উপর আবশ্যক হবে।

হ্যাঁ, যাদের নাম বলা হয়েছে, যদি স্বর্ণ রূপাগুলো তাদের মালিকানায় হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে যাকাতের হুকুম আরোপিত হবে।

সেই হিসেবেঃ

ক) আপনার স্ত্রীর উপরোক্ত স্বর্ণ ও রূপার মূল্য হিসেব করে, এবং তার কাছে থাকা অর্থ যদি থাকে, পুরোটা হিসেবে করে এর চল্লিশ ভাগ হিসেব করে যাকাত আদায় করতে হবে।

উদাহরণতঃ

৬.১০ তোলা স্বর্ণের মূল্য কথার কথা ২ লাখ ৫ হাজার টাকা।

আর ৬ তোলা রূপার মূল্য কথার কথা সাড়ে ৬ হাজার টাকা।

হাতে আছে আরো ১০ হাজার টাকা।

তাহলে আপনার স্ত্রীর মোট সম্পদ মূল্য ২,২১,০০০/= তথা দুই লাখ একুশ হাজার টাকা।

উক্ত টাকার উপর যাকাত আসবে চল্লিশ ভাগ হিসেবে ৫ হাজার ৫ শত ২৫ টাকা।

উপরোক্ত উদাহরণ অনুপাতে আপনার স্ত্রীর কাছে থাকা স্বর্ণ ও রৌপ্য মূল্য জুয়েলারী দোকান থেকে যাচাই করে, এর থেকে চল্লিশ ভাগ হিসেবে যাকাত আদায় করতে হবে।

فى الدر المختار- وَلَوْ بَلَغَ بِأَحَدِهِمَا نِصَابًا دُونَ الْآخَرِ تَعَيَّنَ مَا يَبْلُغُ بِهِ، وَلَوْ بَلَغَ بِأَحَدِهِمَا نِصَابًا وَخُمُسًا وَبِالْآخَرِ أَقَلَّ قَوَّمَهُ بِالْأَنْفَعِ لِلْفَقِيرِ (رد المحتار، كتاب الزكاة، باب زكاة المال-3/229، وكذا فى الهداية-1/196، وكذا فى الهندية-1/179، وكذا فى التاتارخانية-2/237، وكذا فى المبسوط للسرخسى-2/191)

আপনার মেয়েরা যদি প্রাপ্তবয়স্কা হয়, তাহলে তাদের সম্পদেরও যাকাত ২ নং উত্তরের অনূরূপ হিসেব করে আদায় করতে হবে।

আর যদি প্রাপ্ত বয়স্কা না হয়, তাহলে তাদের সম্পদের উপর যাকাত আদায় হবে না।

ومن جملة الموانع الصبي والجنون، حتى لا تجب الزكاة في مال الصبي والمجنون عندنا (المحيط البرهانى، كتاب الزكاة، لفصل العاشر في بيان ما يمنع وجوب الزكاة-3/233، 2/297، طحطاوى على مراقى الفلاح-587، النهر الفائق-2/202)

মালিকানা হস্তান্তরের জন্য আলাদা কোন বিধান ইসলামে নেই। কাউকে হাদিয়া হিসেবে প্রদান করে হস্তান্তর করে দিলেই হস্তান্তর পূর্ণ হয়ে যায়। বালেগ নাবালেগ আলাদা কোন বিধান নেই।

রমযানে বিশেষ দুআর আবেদন

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল- ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

বাবা এক ছেলেকে জমি লিখে দেবার পর আবার তা ফিরিয়ে নিতে পারবে কি?

প্রশ্ন আমার প্রশ্ন হল, আমার বাবা আমাকে তার একটি জমি লিখে দিয়েছেন। এখন সেই জমিন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস