প্রচ্ছদ / কুরআন ও হাদীসের ব্যাখ্যা / আদাব ও মাসায়েল / কুরআন মাজিদ না বুঝার কারণে পরকালে শাস্তি হবে?

কুরআন মাজিদ না বুঝার কারণে পরকালে শাস্তি হবে?

প্রশ্নঃ

কোরআন মাজীদ জীবনে না বোঝার কারণে বা না বুঝে আমলও না করার কারণে শুধু সোয়াব পাওয়ার উদ্দেশ্যে এবং খতম দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে কুরআন পাঠ করা হয়। এক্ষেত্রে কি কুরআন মাজীদ না বুঝার কারণে পরকালের শাস্তি আছে?
From: Suraiya Suborna [email protected]

উত্তরঃ
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
حامدا ومصليا ومسلما

কুরআন আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে মুমিনের জন্য এক অপার নে‘আমত। এর তিলাওয়াত শুধু নেকি অর্জনের মাধ্যমই নয়, বরং বান্দাহকে আল্লাহর নিকটে মর্যাদাবান ও দামী করে তোলে। বান্দার আমলসমূহকে উৎকৃষ্ট ও মূল্যবান করে দেয় কুরআনের সঙ্গে তার সংযোগ ও তিলাওয়াত।

কুরআন মাজীদ কেবল সওয়াবের উদ্দেশ্যে বা খতম দেওয়ার নিয়তে অর্থ না বুঝে তিলাওয়াত করলেও এটি অত্যন্ত মূল্যবান ইবাদত, এবং এর জন্য বিশেষ সওয়াব প্রদান করা হয়। এ কারণে অর্থ না বোঝার জন্য কোনো শাস্তি নেই। কারণ কুরআন অনুবাদসহ পড়া বাধ্যতামূলক নয়; তিলাওয়াতই স্বতন্ত্র ইবাদত। হাদীসে এসেছে—কুরআনের প্রতিটি অক্ষর পাঠে দশটি নেকি লেখা হয়। উদাহরণ হিসেবে “অলিফ-লাম-মীম” এটি একটি অক্ষর নয়; বরং তিনটি পৃথক অক্ষর, এবং প্রত্যেকটির জন্য দশ নেকি। এ অক্ষরগুলোর অর্থ মানুষের অজানা হলেও এর তিলাওয়াতে সওয়াব নিশ্চিত। এতে প্রমাণিত হয়, কুরআনের আরবি তিলাওয়াত নিজের মধ্যেই উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ইবাদত।

যে ব্যক্তি আরবি তিলাওয়াত না করে কেবল অনুবাদ পড়ে বা অর্থ নিয়ে চিন্তা করে, সে অবশ্যই কুরআনের মর্মার্থ বোঝার সওয়াব পাবে; তবে আরবি তিলাওয়াতের নির্দিষ্ট সওয়াব লাভ করবে না। আর যে আরবি তিলাওয়াত করে, সে প্রতিটি অক্ষরে দশ নেকির অধিকারী হয়। অতএব, কুরআনের আরবি তিলাওয়াত সওয়াবের মূল উৎস, আর তিলাওয়াতকে বুঝে করা, অনুবাদ পড়া বা গভীরভাবে চিন্তা করা, এসবের দ্বারা সওয়াবে আরও বৃদ্ধি পায়।

তবে মনে রাখতে হবে, কুরআনের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো বুঝে আমল করা। তাই যার শেখার সুযোগ রয়েছে, তবুও যদি সে ইচ্ছাকৃতভাবে কুরআনের অর্থ বুঝতে চেষ্টা না করে, তাহলে এটি গাফিলতি হিসেবে গণ্য হয়। কিন্তু সাধারণ পাঠক, যিনি নিয়মানুবর্তিতার সঙ্গে তিলাওয়াত করেন, তিনি সওয়াবের অধিকারী, শাস্তির নয়। বরং তার উচিত ধীরে ধীরে কোনো বিশ্বস্ত আলেমের তত্ত্বাবধানে কুরআনের অর্থ শেখার চেষ্টা করা, যেন সঠিকভাবে কুরআন বোঝা ও আমল করা সম্ভব হয়।

শরঈ দলীলঃ

سنن الترمذي – (5 / 175):
“…عبد الله بن مسعود يقول: قال رسول الله صلى الله عليه و سلم: من قرأ حرفًا من كتاب الله فله به حسنة والحسنة بعشر أمثالها، لا أقول: آلم حرف، ولكن ألف حرف ولام حرف وميم حرف.”

سنن ابن ماجه (1/ 79):
” عن أبي ذر، قال: قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يا أبا ذر، لأن تغدو فتعلم آيةً من كتاب الله، خير لك من أن تصلي مائة ركعة، ولأن تغدو فتعلم باباً من العلم، عمل به أو لم يعمل، خير من أن تصلي ألف ركعة»”.

الموسوعہ الفقہیہ الکویتیۃ:
“العبادة إذا كانت غير ملتبسة بالعادة ولا بغيرها من العبادات، كالإيمان بالله تعالى والمعرفة والخوف والرجاء وقراءة القرآن وسائر الأذكار وأمثال ذلك، فإنها لا تفتقر إلى النية، لأنها متميزة لله تعالى بصورتها، ولا تلتبس بغيرها وإن كانت العبادة تلتبس بالعادة أو بغيرها من العبادات، كالغسل والصلاة والصيام والضحايا والصدقة والنذور والكفارات والجهاد والعتق؛ فإنها تفتقر إلى النية.”

(‌‌مادة: ‌‌نية، الأحكام الشرعية المتعلقة بالنية، افتقار العبادات إلى النية، 42/ 61، ط: طبع الوزارة)

والله أعلم بالصواب
উত্তর লিখনে,
মুহা. শাহাদাত হুসাইন , ছাগলনাইয়া, ফেনী।
সাবেক শিক্ষার্থী: ইফতা বিভাগ
তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।
সত্যায়নে
মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী দা.বা.
পরিচালক– তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা
উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া ইসলামিয়া দারুল হক লালবাগ ঢাকা।
উস্তাজুল ইফতা: জামিয়াতুস সুন্নাহ কামরাঙ্গিরচর, ঢাকা।
উস্তাজুল ইফতা: কাসিমুল উলুম আলইসলামিয়া, সালেহপুর আমীনবাজার ঢাকা।
পরিচালক: শুকুন্দী ঝালখালী তা’লীমুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসা, মনোহরদী নরসিংদী।
শাইখুল হাদীস: জামিয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া, সনমানিয়া, কাপাসিয়া, গাজীপুর।

0Shares

আরও জানুন

অশান্তিময় পরিবারে শান্তি আসবে যেভাবে

প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম। হুজুর আমার স্বামী আমাকে অনেক সন্দেহ করে। ছোট ছোট বিষয়ে আমাদের মাঝে …

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস