প্রচ্ছদ / আদব ও আখলাক / প্রচলিত কারীদের মুখ বিকৃত করে অদ্ভুত সুরে কুরআন তিলাওয়াত করা কতটুকু শরীয়তসম্মত?

প্রচলিত কারীদের মুখ বিকৃত করে অদ্ভুত সুরে কুরআন তিলাওয়াত করা কতটুকু শরীয়তসম্মত?

প্রশ্ন

মুফতী সাহেবের কাছে আমার প্রশ্ন হল, বর্তমানে প্রচলিত কিছু কারী সাহেব আছেন, যারা কুরআনের তিলাওয়াত বড় আশ্চর্য তরীকায় করে থাকেন। তিলাওয়াত করতে গিয়ে অতি উচ্চস্বর ও নিম্নস্বর করতে গিয়ে  চেহারা বিকৃতি এবং বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে থাকেন।

এভাবে সুরের ব্যাঞ্জনা তৈরীতে চেষ্টা করে মানুষকে আকৃষ্ট করে থাকে।

আমার প্রশ্ন হল, এভাবে কৃত্রিম সূর ও আবহ তৈরী করে কুরআন তিলাওয়াত করার হুকুম কী? দয়া করে জানাবেন।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

নিঃসন্দেহে কুরআন আরবী নিয়ম কানুন ঠিক রেখে তিলাওয়াত করা জরুরী।  আর নিজের সাধ্যানুপাতে সুন্দর কণ্ঠে তিলাওয়াত করা উত্তম।

তবে মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য আহলে কিতাবীদের মত কুরআনের তিলাওয়াতে বিকৃত সুর তৈরী করা কিছুতেই জায়েজ নয়।

গানের সুরের মত, বিলাপকারীদের মত বিকৃত সুরে কুরআন তিলাওয়াত করতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিস্কারভাবেই নিষেধ করেছেন।  বরং আহলে আরবদের মত তিলাওয়াত করতে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করেছেন।

عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اقْرَءُوا الْقُرْآنَ بِلُحُونِ الْعَرَبِ وأَصْوَاتِها، وَإِيَّاكُمْ ولُحُونَ أَهْلِ الْكِتَابَيْنِ، وَأَهْلِ الْفسقِ، فَإِنَّهُ سَيَجِيءُ بَعْدِي قَوْمٌ يُرَجِّعُونَ بِالْقُرْآنِ تَرْجِيعَ الْغِنَاءِ وَالرَّهْبَانِيَّةِ وَالنَّوْحِ، لَا يُجَاوِزُ حَنَاجِرَهُمْ، مفتونةٌ قُلُوبُهُمْ، وقلوبُ مَنْ يُعْجِبُهُمْ شَأْنُهُمْ»

হযরত হুযায়ফা বিন ইয়ামান রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা কুরআন তিলাওয়াত কর আরবদের লিহান ও তাদের সুর পদ্ধতিতে।  আর খবরদার! আহলে কিতাব ও ফাসেকদের সুর পদ্ধতি থেকে বিরত থাকো।  কেননা, অচিরেই এমন এক জাতি আসবে, যারা কুরআন তিলাওয়াত করবে গানের সুরে, এবং বৈরাগী ও ভাড়াটে বিলাপকারীদের মত।  কুরআন যাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না।  তাদের অন্তর থাকবে ফিতনাযুক্ত এবং তাদের মুগ্ধ শ্রোতাদের অন্তরও হবে ফিতনাময়। [আলমু’জামুল আওসাত তাবারানীকৃত, হাদীস নং-৭২২৩, শুয়াবুল ঈমান লিলবায়হাকী, হাদীস নং-২৪০৬]

وَعَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – (اقْرَءُوا الْقُرْآنَ بِلُحُونِ الْعَرَبِ وَأَصْوَاتِهَا) عَطْفٌ تَفْسِيرِيٌّ، أَيْ: بِلَا تَكَلُّفِ النَّغَمَاتِ مِنَ الْمَدَّاتِ وَالسَّكَنَاتِ فِي الْحَرَكَاتِ وَالسَّكَنَاتِ بِحُكْمِ الطَّبِيعَةِ السَّاذَجَةِ عَنِ التَّكَلُّفَاتِ (وَإِيَّاكُمْ وَلُحُونَ أَهْلِ الْعِشْقِ) : أَيْ: أَصْحَابُ الْفِسْقِ (وَلُحُونَ أَهْلِ الْكِتَابَيْنِ) ، أَيْ: أَرْبَابُ الْكُفْرِ مِنَ الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى فَإِنَّ مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ، قَالَ الطِّيبِيُّ: اللُّحُونُ جَمْعُ لَحْنٍ وَهُوَ التَّطْرِيبُ وَتَرْجِيعُ الصَّوْتِ، قَالَ صَاحِبُ جَامِعِ الْأُصُولِ: وَيُشْبِهُ أَنْ يَكُونَ مَا يَفْعَلُهُ الْقُرَّاءُ فِي زَمَانِنَا بَيْنَ يَدَيِ الْوُعَّاظِ مِنَ اللُّحُونِ الْعَجَمِيَّةِ فِي الْقُرْآنِ مَا نَهَى عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – (وَسَيَجِيءُ) : أَيْ سَيَأْتِي كَمَا فِي نُسْخَةٍ (بَعْدِي قَوْمٌ يُرَجِّعُونَ) بِالتَّشْدِيدِ، أَيْ يُرَدِّدُونَ (بِالْقُرْآنِ) : أَيْ يُحَرِّفُونَهُ (تَرْجِيعَ الْغَنَاءِ) بِالْكَسْرِ وَالْمَدِّ بِمَعْنَى النَّغْمَةِ (وَالنَّوْحِ) بِفَتْحِ النُّونِ مِنَ النِّيَاحَةِ، وَالْمُرَادُ تَرْدِيدًا مُخْرِجًا لَهَا عَنْ مَوْضِعِهَا إِذَا لَمْ يَأْتِ تَلْحِينُهُمْ عَلَى أُصُولِ النَّغَمَاتِ إِلَّا بِذَلِكَ، قَالَ الطِّيبِيُّ: التَّرْجِيعُ فِي الْقُرْآنِ تَرْدِيدُ الْحُرُوفِ كَقِرَاءَةِ النَّصَارَى (لَا يُجَاوِزُ) : أَيْ قِرَاءَتُهُمْ (حَنَاجِرَهُمْ) : أَيْ طَوْقُهُمْ، وَهُوَ كِنَايَةٌ عَنْ عَدَمِ الْقَبُولِ وَالرَّدِّ عَنْ مَقَامِ الْوُصُولِ، وَالتَّجَاوُزُ يَحْتَمِلُ الصُّعُودَ وَالْحُدُورَ، قَالَ الطِّيبِيُّ: أَيْ لَا يَصْعَدُ عَنْهَا إِلَى السَّمَاءِ، وَلَا يَقْبَلُهُ اللَّهُ مِنْهُمْ، وَلَا يَتَحَدَّرُ عَنْهَا إِلَى قُلُوبِهِمْ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَيَعْمَلُوا بِمُقْتَضَاهُ (مَفْتُونَةً) بِالنَّصْبِ عَلَى الْحَالِيَّةِ، وَيُرْفَعُ عَلَى أَنَّهُ صِفَةٌ أُخْرَى لِقَوْمٍ، وَاقْتَصَرَ عَلَيْهِ الطِّيبِيُّ: أَيْ مُبْتَلَى بِحُبِّ الدُّنْيَا وَتَحْسِينِ النَّاسِ لَهُمْ (قُلُوبُهُمْ) بِالرَّفْعِ عَلَى الْفَاعِلِيَّةِ، وَعُطِفَ عَلَيْهِ قَوْلُهُ (وَقُلُوبُ الَّذِينَ يُعْجِبُهُمْ شَأْنُهُمْ) بِالْهَمْزِ وَيَعْدِلُ: أَيْ يَسْتَحْسِنُونَ قِرَاءَتَهُمْ، وَيَسْتَمِعُونَ تِلَاوَتَهُمْ  (مرقاة المفاتيح، کتاب فضائل القرآن، باب آداب التلاوۃ ودروس القرآن، رقم الحدیث:2207، ج:4، ص:1505، ط:دارالفكر)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক ও প্রধান মুফতী-তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

লেজ কাটা পশু কুরবানীর মান্নত করা ও তার গোশত খাওয়ার হুকুম কী?

প্রশ্ন পুরা লেজ কাটা গরু আল্লাহর ওয়াস্তে কোরবানী করার মান্নত করেছে। এখন আমার প্রশ্ন হলো …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস