প্রচ্ছদ / অপরাধ ও গোনাহ / জার্মানীর সিটিজেনশীপের জন্য মুখে মুখে খৃষ্ট ধর্ম গ্রহণ করার হুকুম কী?

জার্মানীর সিটিজেনশীপের জন্য মুখে মুখে খৃষ্ট ধর্ম গ্রহণ করার হুকুম কী?

প্রশ্ন

From: মোঃ ওবায়দুল হক
বিষয়ঃ মুখে অন্য ধর্ম গ্রহণ

প্রশ্নঃ
অাস্সালামুঅালাইকুম।
প্রিয় মুফতি সাহেব। আমা র এক ভাই দীর্ঘ দিন স্থলপথে বিভিন্ন তরাই উৎরাই পেরিয়ে জার্মানি পর্যন্ত গিয়ে পৌছেছেন। কিন্তু তিনি লিগ্যাল হওয়ার কোন পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। শুধু মাত্র একটি পথ খোলা সেটি হলো মুখে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করা। যদি তিনি মুখে তাদের ধর্ম গ্রহণ করেন এবং ২-৩ বছর তাঁদের গির্জায় যাওয়া আসা করেন তাহলে তাকে লিগ্যালিটি দিয়ে দেবে।এখন তিনি আপনার কাছে জানতে চাচ্ছেন যে যদি তিনি মুখে ( অন্তর দিয়ে মনে প্রানে নয়) তাদের খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। এবং লুকিয়ে নিজ ধর্ম পালন করেন তাহলে শরিয়ত তাকে অনুমতি দিবে কি? যেহেতু তিনি অপারগ। তিনি আমাকে বলেছেন তার কাছে মনে হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেন। এখন তিনি কি করতে পারেন?

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

শুধুমাত্র প্রাণনাশের আশংকা হলে অন্তরে বিশ্বাস ঠিক রেখে মুখে মুখে কুফরী কথা বলা জায়েজ আছে।

শুধুমাত্র কোন উন্নত রাষ্ট্রের সিটিজেনশীপ পাবার জন্য এভাবে কুফরী কথা বলা এবং কুফরী ধর্ম পালন করা কিছুতেই জায়েজ হবে না।

এটা কোন অপরাগতা নয়। এটা নিজের কল্পিত অপারগতা এবং নিজের উপার্জিত বিপদ। যা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।

আর আত্মহত্যা করলে আরো মারাত্মক গোনাহের কাজ করবেন। সুতরাং তার উচিত নিজের ধর্ম ঠিক রেখে সিটিজেনশীপ পাবার চেষ্টা করা, নতুবা নিজ দেশে ফিরে আসা।

(وَ) إنْ أُكْرِهَ (عَلَى الْكُفْرِ) بِاَللَّهِ تَعَالَى أَوْ سَبِّ النَّبِيِّ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – مَجْمَعٌ، وَقُدُورِيٌّ (بِقَطْعٍ أَوْ قَتْلٍ رُخِّصَ لَهُ أَنْ يُظْهِرَ مَا أُمِرَ بِهِ) عَلَى لِسَانِهِ، وَيُوَرِّي (وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالْإِيمَانِ) (رد المحتار، كتاب الإكراه-9/185)

وَإِنْ أُكْرِهَ عَلَى الْكُفْرِ بِاَللَّهِ تَعَالَى أَوْ سَبِّ النَّبِيِّ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – بِقَتْلٍ أَوْ قَطْعٍ رُخِّصَ لَهُ إظْهَارُ كَلِمَةِ الْكُفْرِ وَالسَّبِّ، فَإِنْ أَظْهَرَ ذَلِكَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالْإِيمَانِ فَلَا يَأْثَمُ، وَإِنْ صَبَرَ حَتَّى قُتِلَ كَانَ مُثَابًا، وَإِنْ أُكْرِهَ عَلَى الْكُفْرِ وَالسَّبِّ بِقَيْدٍ أَوْ حَبْسٍ أَوْ ضَرْبٍ لَمْ يَكُنْ ذَلِكَ إكْرَاهًا حَتَّى يُكْرَهُ بِأَمْرٍ يَخَافُ بِهِ عَلَى نَفْسِهِ أَوْ عَلَى عُضْوٍ مِنْ أَعْضَائِهِ، (الفتاوى الهندية، كتاب الإكراه، الْبَابُ الثَّانِي فِيمَا يَحِلُّ لِلْمُكْرَهِ أَنْ يَفْعَلَ وَمَا لَا يَحِلُّ-5/38-39)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

أَنَا بَرِيءٌ مِنْ كُلِّ مُسْلِمٍ يُقِيمُ بَيْنَ أَظْهُرِ الْمُشْرِكِينَ. قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، وَلِمَ؟ قَالَ: لاَ تَرَاءَى نَارَاهُمَا

মুশরিকদের সাথে যে সকল মুসলমান বসবাস করে আমি তাদের দায়িত্ব হতে মুক্ত। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তা কেন? তিনি বললেনঃ এইটুকু দূরে থাকবে যেন উভয়ের আগুন না দেখা যায়। [সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১৬০৪]

عَنْ أبي هريرة , عَن النبي – صلى الله عليه وسلم – قال : من تردى من جبل , فقتل نفسه , فهو في نار جهنم يتردى فيها خالدا مخلدا فيها أبدا , ومن تحسى سما , فقتل نفسه , فسمه في يده يتحساه في نار جهنم خالدا مخلدا فيها أبدا , ومن قتل نفسه بحديدة , ثم انقطع علي شيء , يعني خالدا , كانت حديدته في يده يجأ بها في بطنه في نار جهنم خالدا مخلدا فيها أبدا

হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি পাহাড়ের উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের আগুনে পুড়বে, চিরদিন সে জাহান্নামের মধ্যে অনুরূপভাবে লাফিয়ে পড়তে থাকবে। যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করবে, তার বিষ জাহান্নামের আগুনের মধ্যে তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে জাহান্নামের মধ্যে তা পান করতে থাকবে, যে ব্যক্তি লোহার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামের মধ্যে লোহা তার হাতে থাকবে, চিরকাল [দীর্ঘদিন] সে তার দ্বারা নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৪৪২, সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-১৯৬৪}

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক ও প্রধান মুফতী-তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

কাছাকাছি মসজিদ নির্মাণ ও জুমআ পড়ার হুকুম

প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম, প্রথমেই আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই ‘আহলে হক বাংলা মিডিয়া সার্ভিস’-এর সাথে জড়িত সকলকে, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *