প্রচ্ছদ / দিফায়ে ফিক্বহে হানাফী / ইকামত শুরু হলে কখন দাঁড়ানো সুন্নাহ সম্মত?

ইকামত শুরু হলে কখন দাঁড়ানো সুন্নাহ সম্মত?

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম।

মুফতী সাহেবের কাছে আমার প্রশ্ন হল, চট্টগ্রামসহ বেশ কিছু এলাকায় আমি দেখেছি যে, ইকামত দেবার সময় মুসল্লিগণ বসে থাকে। কেউ দাঁড়াতে চাইলে তাকে বসে থাকতে বলাও অনেক স্থানে।

যখন মুয়াজ্জিন হাইয়া আলাল ফালাহ বলার পর বসা থেকে উঠে কাতার সোজা করা হয়।

আমি এক ইমামকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, এমন কেন করা হয়? তখন তিনি জবাবে বলেন যে, এটাই হানাফী মাযহাবের মাসআলা।

কিন্তু আমি আবার বেশিরভাগ মসজিদেই দেখেছি যে, ইকামত শুরু করতেই সকলে দাঁড়িয়ে কাতার সোজা করতে শুরু করেন।

এখন আমার প্রশ্ন হল, কোন সুরতটি সঠিক? দয়া করে দলীল প্রমাণাদীর আলোকে জানালে কৃতজ্ঞ হতাম। একটি পেরেশানী থেকে মুক্ত হতাম।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

এ বিষয়টি পরিপূর্ণভাবে বুঝার জন্য উক্ত বিষয় সম্পর্কিত নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম রাঃ এর আমল আমরা দেখে নেইঃ-

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখার সাথে সাথেই হযরত বেলাল রাঃ ইকামত বলা শুরু করতেন। দেখার আগেই ইকামত বলতে শুরু করতেন না।

ইকামত শুরু হতেই মুসল্লিগণ সকলে দাঁড়িয়ে কাতার সোজা করতে শুরু করতেন।

عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ: «كَانَ بِلَالٌ يُؤَذِّنُ إِذَا دَحَضَتْ، فَلَا يُقِيمُ حَتَّى يَخْرُجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَإِذَا خَرَجَ أَقَامَ الصَّلَاةَ حِينَ يَرَاهُ»

জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ে, তখন বিলাল (রাঃ) আযান দিতেন এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের না হওয়া পর্যন্ত ইকামাত দিতেন না। তিনি বের হলে তাকে দেখে ইকামাত দিতেন। [সহীহ মুসলিম-১/২২১, হাদীস নং-৬০৬, ইফাবা-১২৪৭]

بِأَنَّ بِلَالًا كَانَ يُرَاقِبُ خُرُوجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأول مايراه يَشْرَعُ فِي الْإِقَامَةِ قَبْلَ أَنْ يَرَاهُ غَالِبُ النَّاسِ ثُمَّ إِذَا رَأَوْهُ قَامُوا فَلَا يَقُومُ فِي مَقَامِهِ حَتَّى تَعْتَدِلَ صُفُوفُهُمْ

হযরত বেলাল রাঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বের হবার জন্য অপেক্ষা করতেন। তিনি অধিকাংশ লোকদের দেখার পূর্বে প্রথমে দেখেই ইকামত শুরু করে দিতেন। তারপর যখন সকলে নবীকে দেখতে পেতেন, তখন তারাও দাঁড়িয়ে যেতেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাতার সোজা হবার আগে স্বীয় স্থানে দাঁড়াতেন না। [ফাতহুল বারী, দারুল ফিকির  বাইরূত-৩/১৪১, আশরাফিয়া দেওবন্দ-২/১৫৩, নং-৬৩৭, উমদাতুল কারী, বাইরূত-৫/১৫৩, যাকারিয়া-৪/২১৫,  যুরকানী আলাল মুয়াত্তা-১/১৩৪]

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জমানায় এটাই নিয়ম ও আমল ছিল যে, ইকামত শুরু হতেই সকলে দাঁড়িয়ে কাতার ঠিক করতে শুরু করতেন। ইকামত শেষ হবার জন্য বা হাইয়া আলাল ফালাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করে বসে থাকতেন না।

ক)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: «أَنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ تُقَامُ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَيَأْخُذُ النَّاسُ مَصَافَّهُمْ، قَبْلَ أَنَّ يَقُومَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَقَامَهُ»

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য সালাতের ইকামাত বলা হতো। তিনি আপন জায়গায় দাঁড়াবার পূর্বেই লোকেরা নিজ নিজ কাতারে দাঁড়িয়ে যেত। [সহীহ মুসলিম-১/২২০, হাদীস নং-৬০৫, ইফাবা-১২৪৬]

খ)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: «أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ، وَصَفَّ النَّاسُ صُفُوفَهُمْ، وَخَرَجَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَامَ مَقَامَهُ،

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার সালাতের ইকামাত হলো। লোকেরা তাদের কাতার করে দাঁড়ালেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-বের হয়ে এসে তাঁর স্থানে গিয়ে দাঁড়ালেন। [সহীহ মুসলিম-১/২২০, হাদীস নং-৬০৫, ইফাবা-১২৪৫]

গ)

أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ، فَقُمْنَا، فَعَدَّلْنَا الصُّفُوفَ، قَبْلَ أَنْ يَخْرُجَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ” فَأَتَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى إِذَا قَامَ فِي مُصَلَّاهُ،

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সালাতের ইকামাত দেওয়া হয়। তখন আমরা দাঁড়িয়ে গেলাম এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে বের হয়ে আসার আগে আমরা কাতার গুলো সোজা করে নিলাম। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে তাঁর মূসাল্লায় গিয়ে দাঁড়ালেন। [সহীহ মুসলিম-১/২২০,হাদীস নং-৬০৫, ইফাবা-১২৪৪]

ঘ)

وَعَن سعيد بن الْمسيب وَعمر بن عبد الْعَزِيز: إِذا قَالَ الْمُؤَذّن: الله إكبر، وَجب الْقيام، وَإِذا قَالَ: حَيّ على الصَّلَاة، اعتدلت الصُّفُوف، وَإِذا قَالَ: لَا إِلَه إِلَّا الله، كبر الإِمَام. وَذَهَبت عَامَّة الْعلمَاء إِلَى أَنه: لَا يكبر حَتَّى يفرغ الْمُؤَذّن من الْإِقَامَة

হযরত সাঈদ বিন মুসাইয়্যিব এবং উমর বিন আব্দুল আজীজ রহঃ থেকে বর্ণিত। যখন মুয়াজ্জিন আল্লাহু আকবার বলে, তখন নামাযের জন্য দাঁড়িয়ে যাওয়া আবশ্যক। আর যখন ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’ বলে ততক্ষণে কাতার সোজা হয়ে যাবে। আর যখন বলবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ তখন ইমাম সাহেব তাকবীরে তাহরীমা বলবে। জমহুর উলামাগণ বলেন যে, তাকবীরে তাহরীমা ততক্ষণ বলবে না, যতক্ষণ না মুয়াজ্জিন ইকামত শেষ করে। [উমদাতুল কারী, বাইরূত-৫/১৫৩, যাকারিয়া-৪/২১৫, ফাতহুল বারী, দারুল ফিকির  বাইরূত-৩/১৪১, আশরাফিয়া দেওবন্দ-২/১৫৩, নং-৬৩৭]

ঘটনাক্রমে কখনো এমনো হয়েছে যে, হযরত বেলাল রাঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের পূর্বেই ইকামত দিয়ে দিয়েছেন। আর সাহাবাগণও ইকামত শুনে দাঁড়িয়ে নবীজীর জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।

তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দয়ার্দ্রতার কারণে বলে দেন যে, আমি বের হবার আগে ইকামত হয়ে গেলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করবে না। বরং যখনি আমাকে দেখতে পাবে তখন নামাযের জন্য দাঁড়াবে।

عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَلَا تَقُومُوا حَتَّى تَرَوْنِي»

আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন সালাতের ইকামাত দেওয়া হয় আমাকে না দেখা পর্যন্ত তোমরা দাঁড়াবে না। [সহীহ মুসলিম-১/২২০, হাদীস নং-৬০৪, ইফাবা-১২৪২]

এ হাদীস দ্বারা কখনোই এ উদ্দেশ্য নয় যে, হাইয়া আলাস সালাহ বলার আগ পর্যন্ত না দাঁড়িয়ে বসে থাকবে।

কাতার সোজা হবার আগে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীরে তাহরীমা শুরু করতেন না।  ‘ক্বাদ কামাতিস সালাহ’ বলার পর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো তাকবীরে তাহরীমা বলে নামায শুরু করেছেন মর্মে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না।

বরং তাকবীরে তাহরীমার পূর্বে গুরুত্বের সাথে কাতার সোজা করা হতো।

عن نعمان بن بشير رضى الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يستوى صفوفنا إذا قمنا للصلاة، فإذا استوينا فكبر (ابو داود، باب تسوية الصفوف-1/97، رقم-665، المعجم الكبير للطبرانى-21/107، رقم-118)

হযরত নুমান বিন বশীর রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাতার সোজা করাতেন যখন আমরা নামাযের জন্য দাঁড়াতাম। যখন আমরা কাতার সোজা করে ফেলতাম, তখন তিনি তাকবীরে তাহরীমা বলতেন। [আবূ দাউদ-১/৯৭, হাদীস নং-৬৬৫, আলমু’জামুল কাবীর লিততাবারানী-২১/১০৭, হাদীস নং-১১৮]

عن أنس بن مالك رضى الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: سووا صفوفكم، فإن تسوية الصفوف من تمام الصلاة (سنن ابن ماجه، كتاب الصلاة، باب إقامة الصفوف-1/71، رقم-993، مسند الدارمى-2/803، رقم-1298، مسند احمد-3/177، رقم-12844)

হযরত আনাস বিন মালেক রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা কাতার সোজা কর। কারণ কাতার সোজা করা নামাযের পূর্ণতার শর্ত। [সুনানে ইবনে মাজাহ-১/৭১, হাদীস নং-৯৯৩, মুসনাদে দারামী-২/৮০৩, হাদীস নং-১২৯৮, মুসনাদে আহমাদ-৩/১৭৭, হাদীস নং-১২৮৪৪]

খোলাফায়ে রাশেদীনের মাঝে হযরত উমর রাঃ কাতার সোজা করার জন্য আলাদাভাবে লোক নিযুক্ত করেছিলেন। কাতার সোজা হবার ঘোষণা শোনার আগ পর্যন্ত নামায শুরু করতেন না।

হযরত উসমান রাঃ এবং হযরত আলী রাঃ নিজেরাই কাতার সোজা করার দায়িত্ব আঞ্জাম দিতেন।

عن عمر رضى الله عنه، أنه كان يؤكل رجالا بإقامة الصفوف، ولا يكبر حتى يخبر أن الصفوف قد استوت (ترمذى، كتاب الصلاة، باب ماجاء فى إقامة الصفوف-1/31، رقم-227)

হযরত উমর রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি কতিপয় লোককে কাতার সোজা করার জন্য নিয়োগ করেছিলেন। কাতার সোজা হবার সংবাদ পাওয়ার আগ পর্যন্ত তাকবীরে তাহরীমা বলতেন না। [তিরমিজী-১/৩১ হাদীস নং-২২৭]

روى عن على وعثمان رضى الله عنهما، أنهما كانا يتعاهدان ذلك، وقولان: استووا (ترمذى، باب ماجاء فى إقامة الصفوف-1/31، رقم-227)

হযরত আলী রাঃ এবং হযরত উসমান রাঃ নিজেরাই কাতার সোজা করাতেন। সেই সাথে বলতেন যে, কাতার সোজা কর। [সুনানে তিরমিজী-১/৩১, হাদীস নং-২২৭]

এছাড়া সমস্ত সাহাবাগণ ও মুজতাহিদ ইমামগণ একমত যে, কাতার সোজা করা নামাযের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

উপরোক্ত আলোচনা ও দলীল প্রমাণাদী দ্বারা একথা দীবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় থেকে ইকামত শুরু হতেই মুসল্লিগণ দাড়িয়ে যেতেন।

হাইয়া আলাল ফালাহ বলার জন্য কেউ অপেক্ষা করতেন না।

সেই সাথে কাদ কামাতিস সালাহ বলার সাথে নামায শুরু করার কোন প্রমাণও নবীজী ও সাহাবাগণ থেকে পাওয়া যায় না।

বরং কাতার সোজা করার জন্য ইকামত শুরু হতেই প্রস্তুতি নেয়া নবীজী ও সাহাবাগণের আমল।

সুতরাং ইকামত শুরু হতে সকলকে বসতে বলা, বা জরুরী মনে করে বসে থাকাকে সুন্নত বলা পুরোপুরি মনগড়া ও বেহুদা কথা ছাড়া কিছু নয়।

একটি প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন হল, তাহলে ফিক্বহের কিতাবে হাইয়া আলাল ফালাহ বলার পর দাঁড়াতে এবং কাদ কামাতিস সালাহ বলার পর বসতে কেন বলা হয়েছে?

এখানে একটি বিষয় খুবই লক্ষ্যণীয়। সেটি হল, যারা ফুক্বহায়ে কেরামের উক্ত কথার উপর ভিত্তি করে হাইয়া আলাল ফালাহ পর্যন্ত বসে থাকেন, তারা কিন্তু কাদ কামাতিস সালাহ বলার সময় নামায শুরু করেন না। বরং ইকামত শেষ হলে নামায শুরু করেন। এর মানে যারা এটি নিয়ে বাড়াবাড়ি করেন, তারাও ফুক্বাহাগণের কথাকে পুরোপুরি মানেন না।

এখন প্রশ্ন হল, ফুক্বহায়ে কেরামগণ একথা কেন বললেন?

এর উত্তর হল, ফুক্বাহায়ে কেরামগণ কোথাও একথা বলেননি যে, এ সময় পর্যন্ত বসে থাকা জরুরী বা সুন্নত। বরং তাদের বলার দ্বারা উদ্দেশ্য হল, কেউ যদি ইকামতের শুরুতে না দাড়িয়ে বসে থাকে, তাহলে তার বসে থাকার সর্বোচ্চ সীমা হল, হাইয়া আলাল ফালাহ পর্যন্ত। এরপর আর বসে থাকতে পারবে না। দাঁড়িয়ে পড়তেই হবে।

আর মুয়াজ্জিন কাদ কামাতিস সালাহ বলার পর থেকে নামায শুরু করতে পারবেন। এর মানে নামায শুরু করার সময় নির্ধারণ করা মাকসাদ।

এ সময়ই দাঁড়াতে হবে এবং এ সময়ই নামায শুরু করতে হবে অন্যথায় সুন্নতের খেলাফ হবে এ কারণে তারা তা বলেননি। ফুক্বাহায়ে কেরামের কথা না বুঝার কারণে অবুঝ ভাইয়েরা এ মাসআলা নিয়ে ফিতনা সৃষ্টি করছেন।

والظاهر أنه احتراز عن التاخير لا التقديم حتى لو قام أول الإقامة لا بأس (طحطاوى على الدر المختار-1/189)

সারাংশ

১- ইকামতের শুরুতেই মুসল্লিগণ নামাযের জন্য দাঁড়িয়ে যাবে। এটাই নবীজী ও সাহাবাগণের আমলের অনূকুল।

২- শুরুতেই দাড়ানো উচিত। কারণ এতে কাতার সোজা করা সহজ হয়। আর কাতার সোজা করার নামায পূর্ণতার শর্ত।

৩- তবে যদি কেউ বসে থাকে, তাহলে হাইয়া আলাল ফালাহ পর্যন্ত বসে থাকার অনুমতি আছে। এরপর নয়।

৪- ইকামত শুরু হলে দাঁড়ানো থেকে বসে যাওয়া, এটাকে সুন্নাত মনে করা বিদআতি কর্ম।

কারণ সাহাবাগণ ইকামত শুরু হলে দাঁড়াতেন।

সুতরাং ইকামত শুরু হলে বসাকে জরুরী মনে করা বা সুন্নত মনে করা বিদআত হবে।

এমনিতে বসাতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু সুন্নত মনে করলে বিদআত হবে।

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক ও প্রধান মুফতী-তা’লীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

আরও জানুন

বজ্রপাতে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি কি আল্লাহর গজবপ্রাপ্ত?

প্রশ্ন From: সাদী  ‍মাহমুদ বিষয়ঃ মৃত্যু প্রশ্নঃ হযরত, কোন মানুষ যদি বজ্রপাতে মারা যায়, তাহলে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আহলে হক্ব বাংলা মিডিয়া সার্ভিস