হোম / ভ্রান্ত মতবাদ / হেযবুত তাওহীদের ভ্রান্ত মতবাদ (২৬)
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

হেযবুত তাওহীদের ভ্রান্ত মতবাদ (২৬)

খ্রিস্টানদের অপকর্মের জন্য ঈসা (আঃ) এর দায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে

হেযবুত তাওহীদের বক্তব্যঃ

এমন হোতে পারে যে, আসমানে উঠিয়ে নেবার পর আল্লাহ ঈসাকে (আঃ) ভবিষ্যতে তার উম্মহর কাজের ফলে যে দাজ্জালের জন্ম হবে তা দেখিয়ে দিলেন, যা দেখে ঈসা (আঃ) আল্লাহকে বোললেন- ইয়া আল্লাহ! আমার উম্মতের কাজের ফলের জন্য আমিও অন্তত আংশিকভাবে দায়ী।কাজেই আমার উম্মতের সৃষ্ট দানবকে ধ্বংস করার দায়িত্ব আমাকে দাও।অথবা এমনও হোতে পারে যে, আল্লাহই ঈসাকে বোললেন- ঈসা! দ্যাখো, তোমার উম্মতের ভুলের,বিপথগামীতার ফলে কেমন মহাশক্তিধর দানব সৃষ্টি হোয়েছে যে আমার সর্বভৌমত্বকে অস্বীকার কোরে নিজেকে রব,প্রভু বোলে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা কোরেছে এবং আমার শেষ নবীর উম্মতসহ মানবজাতি তাকে রব বোলে মেনে নিয়েছে ।যেহেতু তোমার উম্মত থেকেই এই কাফের দানবের জন্ম, কাজেই তোমাকেই আমি দায়িত্ব দিচ্ছি একে ধ্বংস করার জন্য।দাজ্জালকে হত্যা বা ধ্বংস করার জন্য আল্লাহর প্রচলিত নিয়ম ভেঙে আসামান থেকে হাজার হাজার বছরের অতীতের একজন নির্দিষ্ট নবীকে পৃথিবীতে পাঠাবার অন্য কোন কারণ আমি দেখি না।যদি কেউ অন্য কারণ বের কোরতে পারেন তবে তা প্রকাশ কোরলে আমার ভুল সংশোধন কোরবো।(দাজ্জাল? ইহুদি-খ্রিষ্টান সভ্যতা!-৫৫)

পর্যালোচনাঃ

নাউযুবিল্লাহ। ঈসা (আঃ) এর মত একজন জ্বলিলুল ক্বদর রাসূলের শানে এহেন বেয়াদবীমূলক অপবাদ দিতে পন্নী সাহেবের হাত কি একবারও কাঁপলো না? কুরআনুল কারীমের মধ্যে খ্রিস্টানদের যাবতীয় অপকর্মের সাথে ঈসা (আঃ) এর সংশ্লিষ্টতা সুষ্পষ্টভাবে নাকচ করে দেয়া হয়েছে ।

পবিত্র কুরআন মাজীদে আল্লহ ﷻ ইরশাদ করেনঃ

وَ اِذۡ قَالَ اللّٰہُ یٰعِیۡسَی ابۡنَ مَرۡیَمَ ءَاَنۡتَ قُلۡتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُوۡنِیۡ وَ اُمِّیَ اِلٰہَیۡنِ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ ؕ قَالَ سُبۡحٰنَکَ مَا یَکُوۡنُ لِیۡۤ اَنۡ اَقُوۡلَ مَا لَیۡسَ لِیۡ ٭ بِحَقٍّ ؕ؃ اِنۡ کُنۡتُ قُلۡتُہٗ فَقَدۡ عَلِمۡتَہٗ ؕ تَعۡلَمُ مَا فِیۡ نَفۡسِیۡ وَ لَاۤ اَعۡلَمُ مَا فِیۡ نَفۡسِکَ ؕ اِنَّکَ اَنۡتَ عَلَّامُ الۡغُیُوۡبِ

আরও স্মরণ করুন, আল্লাহ্‌ যখন বলবেন, ‘হে মারইয়াম –তনয় ‘ঈসা! আপনি কি লোকদেরকে বলেছিলেন যে, তোমরা আল্লাহ্‌ ছাড়া আমাকে আমার জননীকে দুই ইলাহরূপে গ্রহণ কর? ‘তিনি বলবেন, ‘আপনিই মহিমান্বিত! যা বলার অধিকার আমার নেই তা বলা আমার পক্ষে শোভন নয়। যদি আমি তা বলতাম তবে আপনি তো তা জানতেন।আমার অন্তরের কথাতো আপনি জানেন, কিন্তু আপনার অন্তরের কথা আমি জানি না ; নিশ্চয় আপনি অদৃশ্য সম্বদ্ধে সবচেয়ে ভালো জানেন।(সূরা মায়িদা-১১৬)

مَا قُلۡتُ لَہُمۡ اِلَّا مَاۤ اَمَرۡتَنِیۡ بِہٖۤ اَنِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ رَبِّیۡ وَ رَبَّکُمۡ ۚ وَ کُنۡتُ عَلَیۡہِمۡ شَہِیۡدًا مَّا دُمۡتُ فِیۡہِمۡ ۚ فَلَمَّا تَوَفَّیۡتَنِیۡ کُنۡتَ اَنۡتَ الرَّقِیۡبَ عَلَیۡہِمۡ ؕ وَ اَنۡتَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ شَہِیۡدٌ

আপনি আমাকে যে আদেশ করেছেন তা ছাড়া তাদেরকে আমি কিছুই বলিনি, তা এই যেঃ তোমরা আমার রব ও তোমাদের রব আল্লাহ্‌র ইবাদত কর এবং যতদিন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম ততদিন আমি ছিলাম তাদের কাজকর্মের সাক্ষী,কিন্তু যখন আপনি আমাকে তুলে নিলেন তখন আপনিইতো ছিলেন তাদের কাজকর্মের তত্ত্বাবধায়ক এবং আপনিই সব বিষয়ে সাক্ষী।(সূরা মায়িদা-১১৭)

اِنۡ تُعَذِّبۡہُمۡ فَاِنَّہُمۡ عِبَادُکَ ۚ وَ اِنۡ تَغۡفِرۡ لَہُمۡ فَاِنَّکَ اَنۡتَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ

আপনি যদি তাদেরকে শাস্তি দেন তবে তারাতো আপনারই বান্দা।আর যদি তাদেরকে ক্ষমা করেন তবে আপনি তো পরাক্রমশালী,প্রজ্ঞাময়।(সূরা মায়িদা-১১৮)

আয়াত থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, খ্রিস্টানদের অপকর্মের সাথে ঈসা (আঃ) এর কোন যোগসূত্র নেই।তিনি এ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ।

আল্লহ ﷻ ঈসা (আঃ) কেই কেন দাজ্জালকে হত্যা করার জন্য নির্বাচন করেছেন তার ইলম আল্লহ ﷻ এর কাছে।ওহী ব্যতীত ধারনার ভিত্তিতে এ ধরনের উদ্ভট কথোপকথন আবিষ্কারের অধিকার পন্নী সাহেব কোথায় পেলেন?

কুরআন-সুন্নাহর অতন্দ্র প্রহরী ফকিহ,মুহাদ্দীস ও উলামায়ে কেরামকে দ্বীন বিকৃতকারী ভিলেন সাব্যস্তকরণের জন্য যিনি তার লিখনীর বিভিন্ন স্থানে তাঁদেরকে ‘অতিবিশ্লেষণকারী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন, সেই পন্নী সাহেব এখানে এসে কি করলেন?

আল্লহ ﷻ যে বিষয় জানান নি তা নিয়ে এত ঘাটাঘাটির প্রয়োজন হল কেন? এটা কি অতিবিশ্লেষণ নয়? বরং আমি তো বলবো -ওহী ব্যতীত যে জিনিস জানা সম্ভব নয় সে বিষয়ে মন্তব্য পেশ করতে গিয়ে একজন সম্মানিত রাসূলের শানে অপবাদ দেয়াকে ‘অতিবিশ্লেষণ’ না বলে ‘অপবিশ্লেষণ’ বলাটা অধিক বাঞ্ছনীয় ।

Print Friendly, PDF & Email
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

হেযবুত তওহীদ সংগঠনটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য কেন হুমকি?

ডাউনলোড লিংক