হোম / ইসলাহী/আত্মশুদ্ধি / সবার জন্য পীরের কাছে বাইয়াত হওয়া কী জরুরী?
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

সবার জন্য পীরের কাছে বাইয়াত হওয়া কী জরুরী?

প্রশ্ন

From: মোঃ তৌহিদুল  ইসলাম
বিষয়ঃ বায়াত

প্রশ্নঃ
আমি একজন তিন চিল্লার সাথী। আমার জন্য কি কোন এক জন পীর বা আলেমের কাছে বায়াত হওয়া জরুরি? না হলে এতে কোন লোকসান আছে কি? আর হলে কোন লাভ আছে কি?

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

হক্কানী পীর বা আলেমের কাছে বাইয়াত মানে হল, তাক্বওয়া পরহেযগারীর বাইয়াত।

এটি মূলত একটি প্রতিজ্ঞার নাম। যা বড় কোন বুযুর্গ ব্যক্তির হাত ধরে করা হয়ে থাকে।

এমন বাইয়াত করা জরুরী নয়। তবে কেউ যদি নিজে নিজে আত্মশুদ্ধি না হতে পারে, তাহলে তার উচিত কোন হক্কানী আল্লাহর ওলীর হাত ধরে বাইয়াত হয়ে নিজের জীবনকে পাল্টে নেয়া। খোদাভীতি জাগরুক করা।

গোনাহ ছেড়ে দিয়ে সওয়াবের কাজ করার এমন বাইয়াত নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত।

তাই এটি মুস্তাহাব আমল। উত্তম আমল। তবে জরুরী নয়।

عَوْفُ بْنُ مَالِكٍ الْأَشْجَعِيُّ، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، تِسْعَةً أَوْ ثَمَانِيَةً أَوْ سَبْعَةً، فَقَالَ: «أَلَا تُبَايِعُونَ رَسُولَ اللهِ؟» وَكُنَّا حَدِيثَ عَهْدٍ بِبَيْعَةٍ، فَقُلْنَا: قَدْ بَايَعْنَاكَ يَا رَسُولَ اللهِ، ثُمَّ قَالَ: «أَلَا تُبَايِعُونَ رَسُولَ اللهِ؟» فَقُلْنَا: قَدْ بَايَعْنَاكَ يَا رَسُولَ اللهِ، ثُمَّ قَالَ: «أَلَا تُبَايِعُونَ رَسُولَ اللهِ؟» قَالَ: فَبَسَطْنَاأَيْدِيَنَا وَقُلْنَا: قَدْ بَايَعْنَاكَ يَا رَسُولَ اللهِ، فَعَلَامَ نُبَايِعُكَ؟ قَالَ: «عَلَى أَنْ تَعْبُدُوا اللهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَالصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ، وَتُطِيعُوا – وَأَسَرَّ كَلِمَةً خَفِيَّةً – وَلَا تَسْأَلُوا النَّاسَ شَيْئًا» فَلَقَدْ رَأَيْتُ بَعْضَ أُولَئِكَ النَّفَرِ يَسْقُطُ سَوْطُ أَحَدِهِمْ، فَمَا يَسْأَلُ أَحَدًا يُنَاوِلُهُ إِيَّاهُ

আউফ ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নয় বা আট কিংবা সাতজন লোক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেন, তোমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বায়আত গ্রহণ করবে কি? অথচ আমরা কিছু দিন আগে তার হাতে বায়আত গ্রহণ করেছিলাম। তাই আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা তো আপনার নিকট বায়আত গ্রহণ করেছি। তিনি আবার বললেন, তোমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বায়আত গ্রহণ করবে কি? আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা তো বায়আত গ্রহণ করেছি। তিনি আবার বললেন, তোমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বায়আত গ্রহণ করবে কি?

তখন আমরা আমাদের হাত প্রসারিত করে দিলাম এবং বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা তো আপনার নিকট বায়আত গ্রহণ করেছি। এখনি আবার কিসের উপর বায়অোত গ্রহণ করবো? বললেন, (এ কথার উপর বায়আত গ্রহণ করবে যে,) তোমরা আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সঙ্গে অন্য কাউকে শরীক করবে না। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করবে। আল্লাহর আনুগত্য করবে। তারপর তিনি ফিসফিস করে একটি কথা বললেন, মানুষের নিকট কোন কিছু সাওয়াল করবে না। আমি দেখেছি, এই কাফিলার কারো পশুর পৃষ্ট থেকে চাবুক পড়ে যাওয়ার পর সে কাউকে তা তুলে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানায়নি। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১০৪৩, ইফাবা-২২৩৫}

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

সময় হবার আগেই আসর নামায পড়লে আদায় হবে কি?

প্রশ্ন From: হাসান আব্দুল মতিন বিষয়ঃ আসরের নামাজের ওয়াক্ত প্রশ্নঃ আসসালামুয়ালাইকুম, আমি একটি সরকারি অফিস …