হোম / আদব ও আখলাক / হানাফী মাযহাবে পেশাব দিয়ে কুরআন লেখা জায়েজ?
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

হানাফী মাযহাবে পেশাব দিয়ে কুরআন লেখা জায়েজ?

প্রশ্ন

From: Asrafil
বিষয়ঃ Pesab daya fateha lakha ki ?

প্রশ্নঃ

আসসলামু আলাইকুম।

গায়রে মুকাল্লিদরা বলছে “হানাফীরা পেশাবের দ্বারা ফাতিহা লেখে শেফার জন্য।“

তারা বলছে তোমরা এতো খারাপ কাজ করছ।

তাই এ বিষয়েটা জানতে চাই বিস্তারিত।

পেশাব নাপাক বস্তু। তা দ্বারা কি কুরআনের আয়াত লেখা যাবে?

গায়রে মুকাল্লিদরা বলছে আমরা নাকি বলি লেখা যাবে। আমাকে আপনারা একটু হেল্প করুন। যেন তাদেরকে জবাব দিতে পারি।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

গায়রে মুকাল্লিদ বা যে কেউ হানাফীদের উপর ঢালাও এ অভিযোগ উত্থাপন করেন, তিনি মিথ্যাচার করছেন।

হানাফী মাযহাবে পেশাব দিয়ে কুরআন লেখা বৈধ হবেতো দূরে থাক অজু না থাকলে কুরআন স্পর্শ করাও বৈধ নয়।

অজু ভেঙ্গে গেলে ব্যক্তির শরীরে নাপাকী থাকে না। তারপরও এ অবস্থায় কুরআন ধরা হানাফী মাযহাব মতে নিষিদ্ধ।

সেখানে পেশাবের মত নিকৃষ্ট নাপাক বস্তু দিয়ে কুরআন লেখার বৈধতা কিভাবে দেয়া হতে পারে হানাফী মাযহাবে?

সুতরাং বুঝা যায়, এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার।

এ কাজ গায়রে মুকাল্লিদরা করতে পারে। কারণ, তাদের মতে অজু ছাড়াও কুরআন স্পর্শ করা যায়। এমন কী? গোসল ফরজ থাকা অবস্থায়ও কুরআন স্পর্শ করা যায়।

তাহলে তাদের দ্বারা এ ঘৃণ্য কাজ করার সুযোগ হতে পারে। কিন্তু আমাদের মতানুসারে যেখানে অজু না থাকলেই কুরআন ধরা যাবে না, সেখানে নাপাক বস্তু দিয়ে তা স্পর্শ করা লেখা কিভাবে বৈধ হবে?

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى أَنْ يُسَافَرَ بِالقُرْآنِ إِلَى أَرْضِ العَدُوِّ

হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শত্রুদেশে কুরআন নিয়ে সফর করতে নিষেধ করেছেন। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-২৯৯০, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৮৬৯]

শত্রুদেশ বলতে কাফির রাষ্ট্র উদ্দেশ্য। নিষেধ কেন? কারণ, কুরআনের মত পবিত্র গ্রন্থ কাফেরদের স্পর্শ করার দুঃসাহস হতে পারে। এ কারণে এ নিষেধাজ্ঞা করা হয়েছে।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ أَنَّ فِي الْكِتَابِ الَّذِي كَتَبَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعَمْرِو بْنِ حَزْمٍ أَنْ لَا يَمَسَّ الْقُرْآنَ إِلَّا طَاهِرٌ

হযরত আব্দুল্লাহ বিন আবু বকর বিন হাযম বলেনঃ রাসূল সাঃ আমর বিন হাযম এর কাছে এই মর্মে চিঠি লিখেছিলেন যে, পবিত্র হওয়া ছাড়া কুরআন কেউ স্পর্শ করবে না”। {মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং-৬৮০, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-২৮৩০, মারেফাতুস সুনান ওয়াল আসার, হাদীস নং-২০৯, আল মুজামুল কাবীর, হাদীস নং-১৩২১৭, আল মুজামুস সাগীর, হাদীস নং-১১৬২, মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং-৪৬৫, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-২২৬৬}

عن عبد الله بن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:”لا يمس القرآن إلا طاهر“.

رواه الطبراني في الكبير والصغير ورجاله موثقون.

হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ কুরআন স্পর্শ করবে না। {মাযমাউজ যাওয়ায়েদ, হাদীস নং-১৫১২}

 قال ابن عبد البر في الاستذكار (8/10): ((أجمع فقهاء الأمصار الذين تدور عليهم الفتوى وعلى أصحابهم بأن المصحف لا يمسه إلا طاهر

আল্লামা ইবনে আব্দিল বার রহঃ বলেনঃ সমগ্র পৃথিবীর সকল ফক্বীহগণ ও তাদের অনুসারীগণ একমত এবং এর উপরই সকলে ফাতওয়া প্রদান করে থাকেন যে, কুরআনে কারীম পবিত্র হওয়া ছাড়া স্পর্শ করা জায়েজ নেই। {আল ইসতিজকার-১০/৮}

فإن أصابه بول فيبس لم يجز حتى يغتسل (هداية-1/73، البحر الرائق-1/388)

 “إنه قول علي وسعد بن أبي وقاص وابن عمر رضي الله عنهم، ولم يعرف لهم مخالف من الصحابة،

ইমাম নববী রহঃ বলেনঃ পবিত্র হওয়া ছাড়া কুরআন স্পর্শ করা নিষেধ বক্তব্যটি হযরত আলী রাঃ এবং সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস রাঃ এবং হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ দের। এ মতের উল্টো কোন মত সাহাবাগণ থেকে বর্ণিত নয়। {শরহুল মুহাজ্জাব-২/৮০}

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

মসজিদ মাদরাসার কমিটি কেমন হওয়া উচিত?

প্রশ্ন আস্ সালামো আলাইকুম হজরত আমার একটি প্রশ্ন ছিল প্রশ্নটি হল আমাদের সমাজ যেমন চরিত্রহীন …