হোম / আহলে হাদীস / জলসায়ে ইস্তিরাহাত করা কী সুন্নাত?
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

জলসায়ে ইস্তিরাহাত করা কী সুন্নাত?

প্রশ্ন

From: মো :মিজানুর রহমান
বিষয়ঃ জলসয়ে ইস্তারাহাত

প্রশ্নঃ
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।    অসুস্থ অবস্থা ছারাও কি জলসায়ে ইস্তারাহাত জায়েজ আছে, আহ্লে ওয়াছ ওয়াছাকারিরা ফিত্না ছরায় এটি করা সুন্নত, আসা করি পাবো, আল্লাহ্‌ আপ্নাকে হায়াতে তাইয়্যেবাহ দান করুন।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

জলসায়ে ইস্তিরাহাত সুন্নত নয়। বরং অসুস্থ্য হলে উজরের কারণে হলে তা জায়েজ।

অন্যথায় স্বাভাবিক অবস্থায় দ্বিতীয় সেজদা থেকে উঠে সরাসরি দাঁড়িয়ে যাওয়াই বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

كان النبي صلى الله عليه وسلم ينهض في الصلاة على صدور قدميه. أخرجه الترمذي (٢٨٨)

وقال: حديث أبي هريرة عليه العمل عند أهل العلم يختارون أن ينهض الرجل في الصلاة على صدور قدميه.

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযে পায়ের উপর ভর দিয়েই উঠে পড়তেন। [তিরমিযী শরীফ, হাদীস নং ২৮৮; বায়হাকী, ২/১২৪]

তিরমিযী র. বলেন, এ হাদীস অনুযায়ীই আলেমগণের আমল। তারা নামাযে পায়ের উপর ভর দিয়ে দাঁড়ানোই পছন্দ করতেন।

عن النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال( في المسيئ في الصلاة): إِذَا قُمْتَ إِلَى الصَّلَاةِ فَأَسْبِغْ الْوُضُوءَ ثُمَّ اسْتَقْبِلْ الْقِبْلَةَ فَكَبِّرْ وَاقْرَأْ بِمَا تَيَسَّرَ مَعَكَ مِنْ الْقُرْآنِ ثُمَّ ارْكَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ رَاكِعًا ثُمَّ ارْفَعْ رَأْسَكَ حَتَّى تَعْتَدِلَ قَائِمًا ثُمَّ اسْجُدْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ سَاجِدًا ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَسْتَوِيَ وَتَطْمَئِنَّ جَالِسًا ثُمَّ اسْجُدْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ سَاجِدًا ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَسْتَوِيَ قَائِمًا ثُمَّ افْعَلْ ذَلِكَ فِي صَلَاتِكَ كُلِّهَا. أخرجه البخاري (٦٦٦٧)

আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (গলদ তরীকায় নামায আদায়কারী জনৈক ব্যক্তিকে) বলেছেন, তুমি যখন নামায পড়তে ইচ্ছা কর, তখন ভালভাবে ওযু করে নাও। অতঃপর কিবলামুখী হও। আল্লাহু আকবার বলো এবং কুরআনের যতটুকু তোমার জন্য সহজ হয় পাঠ কর। অতঃপর রুকু কর এবং স্থির হয়ে রুকু কর। এরপর মাথা তোল এবং স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাক। এরপর সেজদা কর এবং সেজদায় স্থির হয়ে থাক। অতঃপর ওঠো এবং স্থির ও শান্ত হয়ে বসে পড়। এরপর আবার সেজদা কর এবং সেজদায় স্থির হয়ে থাক। অতঃপর উঠে দাঁড়াও। পুরো নামাযে এভাবেই সব কাজ কর। [বুখারী শরীফ, হাদীস নং ৬৬৬৭]

হযরত আব্বাস ইবনে সাহল আস-সাইদীর বর্ণনা:

أَنَّهُ كَانَ فِى مَجْلِسٍ فِيهِ أَبُوهُ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- وَفِى الْمَجْلِسِ أَبُو هُرَيْرَةَ وَأَبُو حُمَيْدٍ السَّاعِدِىُّ وَأَبُو أُسَيْدٍ فذكر الحديث وفيه: ثُمَّ كَبَّرَ فَسَجَدَ ثُمَّ كَبَّرَ فَقَامَ وَلَمْ يَتَوَرَّكْ. أخرجه أبو داود (٩٦٦) وإسناده صحيح.

তিনি একটি মজলিসে ছিলেন যেখানে তার পিতাও ছিলেন। তার পিতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী ছিলেন। উক্ত মজলিসে আবূ হুরায়রা রা., আবূ হুমায়দ আসসাইদী রা. ও আবূ উসায়দ রা.ও উপস্থিত ছিলেন।

অতঃপর যে হাদীস উল্লেখ করেছেন, তাতে একথাও আছে- পরে তিনি তাকবীর বললেন এবং সেজদা করলেন। এরপর আবার তাকবীর বলে দাঁড়িয়ে গেলেন, বসেন নি। [আবূ দাউদ শরীফ, হাদীস নং ৭৩৩, ৯৬৬; মুসনাদে সাররাজ ১০০, ১৯২৬; তাহাবী মুশকিলুল আছার ৬০৭২; তাহাবী শরীফ ৭৩১০; ইবনে হিব্বান ১৮৬৬; বায়হাকী ২৬৪২]

এর সনদ সহীহ।

নুমান ইবনে আবূ আয়্যাশ র. বলেন,

أدركت غير واحد من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم فكان إذا رفع رأسه من السجدة في أول ركعة والثالثة قام كما هو ولم يجلس . أخرجه ابن أبي شيبة (٤٠١١) وإسناده حسن ، قاله النيموي رحمه الله.

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক সাহাবীকে দেখেছি, তারা ১ম ও ৩য় রাকাতে সেজদা থেকে উঠে সোজা দাঁড়িয়ে যেতেন, বসতেন না। [মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৪০১১]

নীমাবী র. বলেছেন, এটির সনদ হাসান।

আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ র. বলেন,

رمقت عبد الله بن مسعود رض في الصلاة فرأيته ينهض ولا يجلس قال : ينهض على صدور قدميه في الركعة الاولى والثالثة. أخرجه عبد الرزاق (٢٩٦٦-٢٩٦٧) وابن أبي شيبة (٣٣٩٩) والطبراني في الكبير والبيهقي في السنن الكبرى (٢/١٢٥) وصححه. وقال الهيثمي في مجمع الزوائد: رجاله رجال الصحيح. (آثار السنن صـ ١٥٢)

 

আমি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.কে নামাযে ভালভাবে লক্ষ্য করলাম, আমি লক্ষ্য করলাম , তিনি সোজা উঠে পড়লেন, বসলেন না। তিনি আরো বলেন, তিনি ১ম ও ৩য় রাকাতে পায়ের উপর ভর দিয়েই দাঁড়িয়ে যেতেন। [মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদীস নং ২৯৬৬,২৯৬৭। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৩৯৯,৪০০১]

তাবারানী র. আলকাবীর গ্রন্থে, বায়হাকী আস সুনানুল কুবরা গ্রন্থে (২/১২৫), তিনি এটিকে সহীহ বলেছেন।

হায়ছামী র. ‘মাজমাউয যাওয়াইদ’ গ্রন্থে বলেছেন, এর রাবীগণ সহীহ হাদীসের রাবী। (দ্র, আছারুস সুনান,পৃ ১৫২)।

এ মাসআলাটি বিস্তারিত জানতে হলে পড়ুন

সেজদা থেকে উঠে বসবে না সোজা দাড়িয়ে যাবে? দলীলভিত্তিক পর্যালোচনা

 

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

মসজিদ মাদরাসার কমিটি কেমন হওয়া উচিত?

প্রশ্ন আস্ সালামো আলাইকুম হজরত আমার একটি প্রশ্ন ছিল প্রশ্নটি হল আমাদের সমাজ যেমন চরিত্রহীন …