হোম / ঈমান ও আমল / দ্বীনরক্ষা ও প্রতিষ্ঠার জন্য শক্তি ব্যয় করা
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

দ্বীনরক্ষা ও প্রতিষ্ঠার জন্য শক্তি ব্যয় করা

আল্লামা মনজূর নূমানী রহঃ

আমরা যে সত্য ধর্ম গ্রহণ করেছি এবং যে পরকালমুখী সার্বজনীন জীবন ব্যবস্থা অনুসরণ করছি, তা যেন সর্বাস্থায় সুরক্ষিত থাকে এবং ক্রমেই যেন পৃথিবীময় বিস্তৃতি ও প্রতিষ্ঠা লাভ করে এজন্য সর্ব শক্তি নিয়োগ করা আমাদের একান্ত কর্তব্য । দ্বীনী পরিভাষায় একে ‘জিহাদ’ বলে। মুমিনদের প্রতি জিহাদ আল্লাহ তাআলার বিশেষ একটি হুকুম।

সাধারণ পরিভাষায় জিহাদের অর্থ ‘সশস্ত্র প্রচেষ্টা’ হলেও পরিস্থিতিভেদে এর রূপবদল হয়। স্ব-স্ব ক্ষেত্রে সবগুলিই গুরুত্বপূর্ণ। স্তরভেদে সবগুলিই জিহাদের আওতাভূক্ত। যেমন কোনো অঞ্চলে কুফুরী শক্তি প্রবল হওয়ার কারণে যদি খোদ মুসলমানদেরই দ্বীনের উপর কায়েম থাকা কঠিন হয়ে পড়ে, বরং কখনো কখনো বিপদ-আপদের শিকারও হতে হয়, তখন শান্তিপূর্ণ উপায়ে সেখানে নিজের সমাজ ও পরিবারপরিজন নিয়ে দ্বীনের উপর মজবুতভাবে জমে থাকাই বড় জিহাদ। এমনিভাবে কোনো অঞ্চলের মুসলমানরা যদি অজ্ঞতা ও উদাসীনতার কারনে দ্বীন ও শরীয়ত থেকে দূরে সরে যায়, তাহলে তাদের এসলাহ ও সংশোধনের জন্য জানমাল ব্যায় করাটা জিহাদ। জালিম ও স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে হক কথা বলা এবং জনমত গড়ে তোলাও এক প্রকার জিহাদ। হাদীসে এসেছে,

أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَقَدْ وَضَعَ رِجْلَهُ فِي الْغَرْزِ: أَيُّ الْجِهَادِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: كَلِمَةُ حَقٍّ عِنْدَ سُلْطَانٍ جَائِر
এক ব্যাক্তি ঘোড়ার পিঠে থাকা অবস্থায় নবীজীকে জিজ্ঞেস করলো, কোন জিহাদ সর্বোত্তম? নবীজী ইরশাদ করলেন, জালিম শাসকের সামনে হক বিষয়টি বলে দেওয়া উত্তম জিহাদ। মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ১৮৮৩০

তেমনি আল্লাহ পাকের দ্বীন সম্পর্কে যারা সম্পূর্ণ বেখবর, তাদেরকে দাওয়াত দেওয়া এবং ইসলামে দীক্ষিত করার জন্য দৌড়ঝাপ করাটা জিাহদ।

যদি কখনো এমন সুদিন আসে যে, কোনো ভূ-খডে মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায় এবং পরবর্তী পরিস্থিতি শামাল দেয়ার মতো শক্তি তাদের থাকে, আর জীবনের সর্বস্তরে দ্বীন রক্ষা কিংবা দ্বীনের শাসন-কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য সশস্ত্র প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়, তবে তখন অস্ত্রযুদ্ধই সবচে বড় জিহাদ। বলার অপেক্ষা রাখে না, জাতিগত হানাহানি, অর্থসম্পদ ও ক্ষমতার লড়াই ইত্যাদি কখনো ‘জিহাদ’ নামে অভিহিত হতে পারে না। এমনিভাবে শরীয়তের যুদ্ধনীতির বাইরে কোনো প্রকার বাহুশক্তির প্রয়োগ জিহাদ নয়, বরং ফেতনা ও সন্ত্র¿াস। অতএব যুদ্ধ তখনি জিহাদ ও ইবাদত, যখন তা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আল্লাহর দ্বীন রক্ষা ও প্রতিষ্ঠার অপরিহার্য প্রয়োজনে সংঘটিত হয়।

আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ ও মেহনতের ফযীলত

আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,

وَجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ هُوَ اجْتَبَاكُمْ
আল্লাহর দ্বীনের জন্য জিহাদ ও মেহনত করো যেমন করা উচিৎ। আল্লাহ তো তোমাদেরকে তার দ্বীনের খেদমতের জন্য নির্বাচন করেছেন। সূরা হজ্ব ২২/৭৮

অন্য আয়াতে বলেন,

يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى تِجَارَةٍ تُنْجِيكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ. تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ. يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
হে মুমিনগণ! আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি বিনিময়চুক্তির কথা বলে দিবো, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক অবস্থা থেকে মুক্তি দেবে? চুক্তিটি হলো, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আনবে এবং আল্লাহর রাস্তায় জান ও মাল দিয়ে জিহাদ করবে, যা হবে তোমাদের জন্য অতি উত্তম কাজ, যদি তোমরা তা উপলব্ধি করতে পারো। বিনিময়ে আল্লাহ তোমাদের গুনাহসমুহ ক্ষমা করবেন এবং তোমাদের এমন সব জান্নাতে দাখিল করবেন, যার পাদদেশে নহরমালা প্রবহমান থাকবে। আরও দান করবেন চিরস্থায়ী জান্নাতের উত্তম আবাসস্থল। আসলে এটাই বড় সফলতা। সূরা সফ্ ৬১/১০-১২

হাদীসে এসেছে, জনৈক ব্যক্তি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলো,

أَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: إِيمَانٌ بِاللهِ، قَالَ: ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ: الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ
কোন আমল সবচে বড়? নবীজী বললেন, খাঁটি দিলে আল্লাহর উপর ঈমান আনা। লোকটি আবার জিজ্ঞেস করলো, তারপর কোন আমল সর্বোত্তম? নবীজী বললেন, আল্লাহর দ্বীনের পথে জিহাদ ও মেহনত করা। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৮৩

অন্য একটি হাদীসে নবীজী বলেন,

مَا اغْبَرَّتْ قَدَمَا عَبْدٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَتَمَسَّهُ النَّارُ
আল্লাহর রাস্তায় চলতে গিয়ে যার দুটি পা ধূলিধুসরিত হয়েছে, এটা হতেই পারে না যে, জাহান্নামের আগুন সেই পা স্পর্শ করবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৮১১

একটি হাদীসে এসেছে,

فَإِنَّ مُقَامَ أَحَدِكُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَفْضَلُ مِنْ صَلَاتِهِ فِي بَيْتِهِ سَبْعِينَ عَامًا
আল্লাহর রাস্তায় এক মুহূর্ত দাঁড়ানো এবং সামান্য অংশ গ্রহণ ঘরের কোনো ৭০ বছর নামায পড়ার চেও উত্তম। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১৬৫০

আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে দ্বীনের পথে জিহাদ ও মেহনত করার তাওদীক দান করুন, আমীন ।

Print Friendly, PDF & Email
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

সন্তান গর্ভধারণের ফযীলত কী?

প্রশ্ন From: আলতাফ হোসাইন বিষয়ঃ সন্তান গর্ভেধারণের ফযীলত প্রশ্নঃ সন্তান ভুমিষ্ট হওয়ার সময় মায়েদের যে …