হোম / মুফতি লুতফুর রহমান ফরায়েজীর কলাম / আবারো লা মাজহাবি শায়েখের মিথ্যাচার অবশেষে পলায়ন!
Call : 01922 319 514 বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

আবারো লা মাজহাবি শায়েখের মিথ্যাচার অবশেষে পলায়ন!

গতকাল ১৬/০১/২০১৮ রোজ মঙ্গলবার- প্রথম মাহফিল ছিল নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার মানিকনগরে। দ্বিতীয়টা পাঁচদোনা বাজারের দক্ষিণ পার্শে।

প্রথম মাহফিলে কয়েকজন লা মাযহাবীর মোহাব্বতে বক্তা ছিল জনৈক লা মাযহাবী শায়েখ।
আমার তাড়া ছিল। তাই সোয়া আটটায় মঞ্চে উঠি। সোয়া নয়টার দিকে উপস্থিত সবাইকে আহবান করিঃ আমাদের নরসিংদীতে শতবর্ষ যাবত সংখ্যালঘু আহলে হাদীস সম্প্রদায়ের বসবাস। তাদের সাথে আমাদের কোন ঝগড়া ছিল না। তাদের ঘরে হানাফীদের কন্যাকে বিয়ে দেয়া হতো, হানাফীদের ঘরে আহলে হাদীসদের কন্যা বধু হয়ে আসতো। এক মসজিদে কাতারে কাতার নামায পড়তাম। কোন বিভেদ ছিল না। আমলের খানিক ভিন্নতা থাকলেও মানসিকতায় কোন ফারাক ছিল না। বিদ্বেষ ছিল না।
কিন্তু ইদানিং হানাফী-আহলে হাদীস সেই সম্প্রীতিতে ভাটা পড়েছে। আলাদা মসজিদ হচ্ছে। আলাদা ঈদ হচ্ছে। মসজিদে মসজিদে বিবাদ ছড়িয়ে পড়ছে।
প্রশ্ন হলঃ কারা আমাদের সম্প্রীতি ভেঙ্গে বিদ্বেষের আগুন জ্বালাচ্ছে? ওরা কারা? তাদের চিহ্নিত করা আজ সময়ের দাবী।
ওরা কেউ আমাদের নরসিংদীর নয়। সবই বহিরাগত। সেই রাজশাহী, চাঁপাই থেকে এসে আমাদের ভ্রাতৃত্ব সোহাব্বতকে ঝগড়া বিবাদে পাল্টে দিচ্ছে। সুতরাং আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। যদি কোন বহিরাগত এসে বিতর্কিত মাসআলা বলে ফিতনা সৃষ্টি করে, তাহলে তাকে আটকে রাখবেন। তারপর আমাদের উলামাদের ডাকবেন। পরিস্কার বলে দিবেনঃ আমরা সাধারণ মানুষ কুরআন হাদীস বুঝি না, পড়তে পারি না। আমাদের আলেমদের সাথে আলোচনা করে সমাধান করুন। সাধারণ মুসল্লিদের সামনে হুংকার, আর উলামা দেখলে খাটের নিচে পলায়ন এ প্রতারণা আর সহ্য করা হবে না।
প্রচণ্ড চাহিদা থাকা সত্বেও মুহুর্মুহু স্লোগানের মাঝে মঞ্চ থেকে নেমেই রওয়ানা হলাম পাঁচদোনার দিকে।
প্রচণ্ড কুয়াশার কারণে পাঁচদোনা মাহফিল স্থলে আসতে পৌনে এগার বেজে যায়। পাঁচদোনা মাহফিল কমিটির কাছে এ কারণে আমি লজ্জিত।

যাইহোক। আজ শুনলাম মানিকনগরের কারগুজারী। আমি চলে আসার পর মঞ্চে উঠে লা মাযহাবী শায়েখ। ভেবেছিল ফরায়েজী নাই, যাচ্ছেতাই বলতে পারবে। “কুরআন পড়ে ঈসালে সওয়াব করা যাবে না” মর্মের উদ্ভট ফাতওয়া দিয়ে বসে। ক্ষীপ্ত হয়ে উঠে উপস্থিতরা। পরবর্তীতে আমাদের এক আলেম মঞ্চে উঠলে একজন প্রশ্ন করে বসেন, “হুজুর আগের বক্তা বললেন, কুরআন পড়ে মৃতকে ঈসালে সওয়াব করতে পারবো না, আপনি কী বলেন?”
আমাদের আলেম বললেন, অবশ্যই পারবে। আমি কুরআন ও হাদীসের দলীল দিয়ে প্রমাণ করবো, নিয়ে আসেন লা মাযহাবী আলেমকে।
বিশ পঁচিশজন ছুটলো সেই লা মাযহাবী শায়েখকে আনতে। শায়েখ দ্রুত গাড়িতে পালাতে চাইলে গাড়ি আটকানো হয়। লা মাযহাবী ভক্তদের সহায়তায় কোনমতে উক্ত লা মাযহাবী মোল্লা পালিয়ে যায়।
এরপর এলাকায় দীপ্ত ঘোষণা আসেঃ এই সকল ফেতনাবাজ লা মাযহাবী শায়েখদের আর কোন মাহফিলে বয়ান করতে দেয়া হবে না। সাধারণের সামনে বকওয়াজ, আর আলেম দেখলে পলায়ন, এমন ধুর্তামী আর রায়পুরাবাসী মেনে নিবে না ইনশাআল্লাহ।

এভাবেই পদে পদে এসব বেআদবেরা লাঞ্ছিত হবে। জেগে উঠ জনতা। আমাদের একতা বিনষ্টকারী কোন প্রতারকের ঠাঁই হবে না ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের বাংলায় ইনশাআল্লাহ।

মুফতি লুতফুর রহমান ফরায়েজীর ওয়াল থেকে

মৃতের জন্য ঈসালে সওয়াব করা কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত –

http://ahlehaqmedia.com/5127/

 

 

Print Friendly, PDF & Email
Call : 01922 319 514 বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন