হোম / আকিদা-বিশ্বাস / কুরআনে বর্ণিত ইঞ্জিল ও প্রচলিত ইঞ্জিল কী এক?
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

কুরআনে বর্ণিত ইঞ্জিল ও প্রচলিত ইঞ্জিল কী এক?

আলহামদু লিল্লাহ, মুসলিমসমাজে ইসলামী আকীদা-বিশ্বাসের শিক্ষা মকতব থেকে শুরু হয়ে যায়। মকতবেই আমাদেরকে ইসলামের মৌলিক আকীদাগুলো একটি সংক্ষিপ্ত বাক্যে শেখানো হয়েছে। আমাদেরকে পড়ানো হয়েছে-

آمنت بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، واليوم الآخر، والقدر خيره وشره من الله تعالى، والبعث بعد الموت.

আমি ঈমান এনেছি আল্লাহ তাআলার প্রতি। তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি। তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি। তাঁর রাসূলগণের প্রতি। আখেরাতের প্রতি। আর একথার প্রতি যে, সকল ভালো-মন্দ আল্লাহর তাআলার পক্ষ থেকে নির্ধারিত। এবং ঈমান এনেছি মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করার প্রতি।

ইসলামী আকীদার বৈশিষ্ট্য এই যে, উম্মতে মুসলিমা আল্লাহ তাআলার বাতলে দেওয়া সকল হককে হক মনে করে। এগুলোর মাঝে কোনোরূপ তারতম্য করে না। তারা বলে-

لا نفرق بين أحد من رسله.

আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করিনা। যে, কারও প্রতি ঈমান আনব আর কারও প্রতি ঈমান আনব না। তারা ইহুদী নাসারার মত কখনো এ কথা বলে না- نؤمن ببعض ونكفر ببعض.

আমরা কারো প্রতি ঈমান আনি আর কারো প্রতি আনি না।

বরং তারা আল্লাহ তাআলার সকল ফেরেশতার প্রতি ঈমান আনে। আল্লাহ তাআলার নাযিলকৃত সকল কিতাবের প্রতি ঈমান আনে। সেগুলোকে সত্য মনে করে। আল্লাহ তাআলার প্রেরিত সকল নবী ও রাসূলের প্রতি ঈমান আনে। তাদেরকে হক এবং সত্যবাদী ও সত্যায়িত মনে করে। নাযিলকৃত কিতাবের প্রতিটি আয়াত ও প্রতিটি কথা সত্য মনে করে। আল্লাহ তাআলার রাসূল থেকে প্রাপ্ত সকল কথা  হক ও সত্য মনে করে। ইরশাদ হয়েছে-

اٰمَنَ الرَّسُوْلُ بِمَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْهِ مِنْ رَّبِّهٖ وَ الْمُؤْمِنُوْنَ  كُلٌّ اٰمَنَ بِاللهِ وَ مَلٰٓىِٕكَتِهٖ وَ كُتُبِهٖ وَ رُسُلِهٖ  لَا نُفَرِّقُ بَیْنَ اَحَدٍ مِّنْ رُّسُلِهٖ  وَ قَالُوْا سَمِعْنَا وَ اَطَعْنَا ؗغُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَ اِلَیْكَ الْمَصِیْرُ.

রাসূল (হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাতে ঈমান এনেছে, যা তাঁর উপর তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ হতে নাযিল করা হয়েছে এবং (তাঁর সাথে) মুমিনগণও। তাঁরা সকলে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছে। (তারা বলে,) আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না  (যে, কারও প্রতি ঈমান আনব এবং কারও প্রতি আনব না)। এবং তাঁরা বলে, আমরা (আল্লাহ ও রাসূলের বিধানসমূহ মনোযোগ সহকারে) শুনেছি এবং তা (খুশীমনে) পালন করছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনার মাগফিরাতের ভিখারী, আর আপনারই কাছে আমাদের প্রত্যাবর্তন। -সূরা বাকারা (২) : ২৮৫

সূরা নিসায় এ ধরনের পার্থক্য ও তারতম্যের ব্যাপারে এই ধমকি শোনানো হয়েছে-

اِنَّ الَّذِیْنَ یَكْفُرُوْنَ بِاللهِ وَ رُسُلِهٖ وَ یُرِیْدُوْنَ اَنْ یُّفَرِّقُوْا بَیْنَ اللهِ وَ رُسُلِهٖ وَ یَقُوْلُوْنَ نُؤْمِنُ بِبَعْضٍ وَّ نَكْفُرُ بِبَعْضٍ  وَّ یُرِیْدُوْنَ اَنْ یَّتَّخِذُوْا بَیْنَ ذٰلِكَ سَبِیْلً اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْكٰفِرُوْنَ حَقًّا وَ اَعْتَدْنَا لِلْكٰفِرِیْنَ عَذَابًا مُّهِیْنًا وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا بِاللهِ وَ رُسُلِهٖ وَ لَمْ یُفَرِّقُوْا بَیْنَ اَحَدٍ مِّنْهُمْ اُولٰٓىِٕكَ سَوْفَ یُؤْتِیْهِمْ اُجُوْرَهُمْ  وَ كَانَ اللهُ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا.

যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের মধ্যে পার্থক্য করতে চায় ও বলে, আমরা কতক (রাসূল)-এর প্রতি তো ঈমান রাখি এবং কতককে অস্বীকার করি, আর (এভাবে) তারা (কুফর ও ঈমানের মাঝখানে) মাঝামাঝি একটি পথ অবলম্বন করতে চায়- এরূপ লোকই সত্যিকারের কাফির। আর আমি কাফিরদের জন্য লাঞ্ছনাকর শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁদের কারও মধ্যে কোনো পার্থক্য করবে না, আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মফল দান করবেন। আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। -সূরা নিসা (৪) : ১৫০-১৫২

সূরা বাকারায় ইহুদীদের এ ধরনের কুফরীসূলভ আচরণের ব্যাপারে সর্তক করে ইরশাদ হয়েছে-

اَفَتُؤْمِنُوْنَ بِبَعْضِ الْكِتٰبِ وَ تَكْفُرُوْنَ بِبَعْضٍ  فَمَا جَزَآءُ مَنْ یَّفْعَلُ ذٰلِكَ مِنْكُمْ اِلَّا خِزْیٌ فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا  وَ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ یُرَدُّوْنَ اِلٰۤی اَشَدِّ الْعَذَابِ  وَ مَا اللهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُوْنَ.

তবে কি তোমরা কিতাবের (তাওরাতের) কিছু অংশে ঈমান রাখ আর কিছু অংশ অস্বীকার কর? তাহলে বল, তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করে তোমাদের শাস্তি এ ছাড়া আর কী হতে পারে যে, পার্থিব জীবনে তাদের জন্য থাকবে লাঞ্ছনা আর কিয়ামতের দিন তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে কঠিনতর আযাবের দিকে? তোমরা যা-কিছু কর আল্লাহ সে সম্পর্কে উদাসীন নন। -সূরা বাকারা (২) : ৮৫

এদিকে অনেক সহজ-সরল মুসলমানকে খ্রিস্টান মিশনারীরা এই বলে ধোকা দেয় যে, মুসলমানরা তো ঈসা আলাইহিস সালামকে নবী মানে এবং ইঞ্জিলকে আসমানী কিতাব মনে করে তাই (নাউযুবিল্লাহ) তারা নাসারা হয়ে গেলে কোনো অসুবিধা নেই। এ ধরনের ধোঁকা ও প্রবঞ্চনা দিয়ে তাদেরকে খ্রিস্টান বানায়। আর তাদের নাম দেয় ‘ঈসায়ী মুসলমান’।

প্রত্যেক নবীর প্রতি ঈমান আনার উদ্দেশ্য হচ্ছে, আল্লাহর প্রেরিত সকল নবী রাসূলকে হক মনে করা। এই বিশ্বাস রাখা যে, তাঁর শরীয়ত ও সুন্নাত তাঁর উম্মতের জন্য অবশ্যঅনুসরণীয় ছিল। এবং এ বিশ্বাসও রাখা যে, আল্লাহ তাআলার শেষ নবী ও শেষ রাসূল হলেন হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাঁর শরীয়ত ও সুন্নাত সকল সম্প্রদায়ের সকল এলাকার সকল যুগের সকল ভাষার মানুষের জন্য অবশ্যঅনুসরণীয়। এখন নাজাত ও মুক্তি শুধু তাঁরই অনুসরণ এবং তাঁর শরীয়ত ও সুন্নাতের অনুসরণে সীমাবদ্ধ।

তাঁর পরে অন্য কোনো ব্যক্তির নবুওতের দাবি করার একমাত্র অর্থ হচ্ছে ঐ ব্যক্তি দাজ্জাল ও মিথ্যাবাদী। আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপকারী। যারা তাকে নবী মানবে তারা সরাসরি কাফের ও ঈমানহারা হয়ে যাবে।

উম্মতে মুসলিমা আল্লাহর সকল ‘নবী’র প্রতি ঈমান রাখে, ‘মুতানাব্বির’ (নবুওতের মিথ্যা দাবিদার) প্রতি ঈমান রাখে না। তারা মুসায়লামা থেকে গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী পর্যন্ত সকল যুগের নবুওতের মিথ্যা দাবিদারকে মিথ্যাবাদী ও অভিশপ্ত মনে করে।

আল্লাহ তাআলার নাযিলকৃত সকল কিতাবের প্রতি ঈমান রাখার উদ্দেশ্য হচ্ছে, তারা সেগুলোকে সত্য ও হক মনে করে। পাশাপাশি এই বিশ্বাসও রাখে, যা আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলে দিয়েছেন, আহলে কিতাবগণ আল্লাহ তাআলার নাযিলকৃত কিতাবে বিকৃতি সাধন করেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বিকৃত অংশ আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাবের অংশ নয়। আর যতক্ষণ বিকৃত অংশ নির্দিষ্ট করা না হবে বিকৃতি মিশ্রিত কিতাবের উপর বিশ্বাস করা জায়েয হবে না।

এবং এ বিশ্বাসও রাখে যে, আল্লাহর নাযিলকৃত ঐ সকল কিতাব যেভাবে নাযিল হয়েছিল সেভাবে নিঃসন্দেহে হক ও সত্য। কিন্তু আল্লাহ তাআলা এখন কিয়ামত পর্যন্ত সকল মানুষের জন্য কুরআনে নাযিলকৃত শরীয়তকে অবশ্যঅনুসরণীয় বানিয়ে দিয়েছেন। পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের শরীয়তকে আল্লাহ তাআলার কুরআনের মাধ্যমে রহিত করেছেন। এখন পূর্ববর্তী শরীয়তের কোনো হুকুম কুরআন-সমর্থিত না হলে অনুসরণযোগ্য নয়।

মোটকথা, প্রত্যেক হককে হক মনে করা, হককে সত্যায়ন করার ক্ষেত্রে পার্থক্য ও তারতম্য না করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী আকীদা। কিন্তু অন্যান্য ইসলামী আকীদার মতই এ আকীদার বিস্তারিত ব্যাখ্যাও অনেকের জানা নেই। এই অজ্ঞতাকে পুঁজি করে অনেক খ্রিস্টান মুসলমানদেরকে ধোঁকা দিয়ে থাকে। তারা বলে, মুসলমানরা যদি (নাউযুবিল্লাহ) খ্রিস্টান হয়ে যায় এতে কোনো অসুবিধা নেই। এভাবে ধোঁকা দিয়ে তাদেরকে খ্রিস্টান বানিয়ে তাদের নাম দেয় ‘ঈসায়ী মুসলমান’। إنا لله وإنا إليه راجعون

অথচ আমরা হলাম মিল্লাতে হানীফিয়্যাহ (তাওহীদের অনুসারী) ‘মুসলিম’। আমরা মুশরিক নই, ইহুদী নই, খ্রিস্টান নই, না অন্য কোনো প্রকারের কাফের। ভালোভাবে স্বরণ রাখতে হবে, এ নাম কেবলই ধোঁকা। ‘ঈসায়ী মুসলমান’-এর অর্থ হচ্ছে গায়রে মুসলিম মুসলমান।

আরো স্মরণ রাখা দরকার, মুসলমান ঈসা আলাইহিস সালামের ব্যাপারে ঐ আকীদা-বিশ্বাসই পোষণ করে, যা কুরআনে কারীম ও হাদীসে ইরশাদ হয়েছে। যথা :

ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তাআলার বান্দা ও তাঁর রাসূল। ঈসা আলাইহিস সালাম মারইয়ামের পুত্র। আল্লাহ তাআলা তাঁকে পিতা ছাড়া নিজের বিশেষ কুদরতে সৃষ্টি করেছেন। ঈসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাঈলের নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। ঈসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তাআলা শেষ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যাঁর আরেক নাম আহমদ, ভবিষ্যদ্বাণী শোনানোর জন্য প্রেরণ করেছেন। এবং তিনি শেষ নবী আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী শুনিয়েছেন এবং জোরালোভাবে বলে গেছেন যে, তাঁর আগমনের পর তোমরা সকলে তাঁর প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁর অনুসরণ করবে। ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তাআলার বান্দা। নাউযুবিল্লাহ আল্লাহর পুত্র নন। তিনি আল্লাহ তাআলার ইবাদতগুযার বান্দা ছিলেন। মাআযাল্লাহ তিনি ইলাহ অথবা তিন খোদার এক খোদা ছিলেন না। খোদাবন্দ তাআলা তো কেবল আল্লাহই। তিনি একমাত্র মা‘বুদ। তিনি ছাড়া অন্য কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নয়। ঈসা আলাইহিস সালামকে জালেমরা না হত্যা করতে পেরেছে, না শুলে চড়াতে পেরেছে। বরং আল্লাহ তাআলা তাঁকে জালেমদের হাত থেকে রক্ষা করে আসমানে উঠিয়ে নিয়েছেন। তিনি এখনও আসমানে জীবিত আছেন। হাদীস শরীফের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী কিয়ামতের পূর্বে তিনি পৃথিবীতে অবতরণ করবেন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীয়ত অনুযায়ী ফায়সালা করবেন। দাজ্জালকে হত্যা করবেন। একটা সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তাঁর স্বাভাবিক মৃত্যু হবে।

একটু চিন্তা করুন! খ্রিস্টানরা হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের ব্যাপারে যেসব আকীদা পোষণ করে সেগুলোর সাথে মুসলমানদের এ সকল আকীদার কোনো মিল আছে কি?

আজকের খ্রিস্টানরা ঈসা আলাইহিস সালামের আনীত আকীদা-বিশ্বাস ও শরীয়তের উপর প্রতিষ্ঠিত নয়। তারা ঈসা আলাইহিস সালামের শিক্ষা ছেড়ে পৌলের মনগড়া বানানো কথার প্রচার করছে। আল্লাহর নাযিলকৃত ইঞ্জিল তো এখন তাদের কাছে অবিকৃত অবস্থায়ও নেই, বিকৃত অবস্থায়ও নেই। ইঞ্জিলের পরিবর্তে তারা হাওয়ারীনদের দিকে সম্বন্ধকৃত মানবরচিত কিছু গ্রন্থের প্রতি বিশ্বাসের দাবি করে। এ জন্য তারা তো নিজেদের ঈসায়ী বলারও হক রাখে না।

যদি মেনে নেওয়া হয় যে, তারা ঈসা আলাইহিস সালামের শরীয়তের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং নাযিলকৃত ইঞ্জিলের শরীয়তের অনুসারী তাহলেও তো খোদ ঈসা আলাইহিস সালামের হুকুম এবং নাযিলকৃত ইঞ্জিলের ফরমান অনুযায়ী তাদের জন্য আবশ্যক হল, সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁর শরীয়তের অনুসরণ করা। স্বয়ং ঈসা আলাইহিস সালাম যদি জীবিত থাকতেন তাহলে তাঁরই অনুসরণ করতেন। আর ঈসা আলাইহিস সালাম কিয়ামতের পূর্বে যখন আসমান থেকে অবতরণ করবেন তখন তাঁরই অনুসরণ করবেন।

খ্রিস্টানদের ভ্রষ্টতার অবস্থা দেখুন, যেখানে তাদের জন্য আবশ্যক ছিল হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান আনা, কুরআন ও কুরআনের শরীয়তের প্রতি ঈমান এনে সেগুলোর অনুসরণ করা, তা না করে তারা ঈমানদার মুসলমানদেরকে বিকৃত খ্রিস্টবাদের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত। তাছাড়া শেষ নবীর আগমনের পর তো সঠিক খ্রিস্টবাদও রহিত হয়ে গেছে। নাজাত ও মুক্তির জন্য এখন সেটাও যথেষ্ট নয়।

ইঞ্জিল সম্পর্কে ইসলামী আকীদার সারমর্ম হল :

ইঞ্জিল আল্লাহ তাআলার কালাম, যা তিনি তাঁর বান্দা ও রাসূল মারইয়াম তনয় ঈসা আলাইহিস সালামের উপর নাযিল করেছেন। আল্লাহ তাআলা যে ইঞ্জিল নাযিল করেছেন তা সবটুকুই হক এবং তা পুরোপুরি সত্য। ইঞ্জিলের শরীয়ত বনী ইসরাঈলের জন্য প্রযোজ্য ছিল। তাওরাত ও ইঞ্জিলে কিতাবীরা অনেক বিকৃতি সাধন করেছে। কুরআনে কারীমের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাওরাত ও ইঞ্জিলসহ পূর্বের সকল শরীয়ত রহিত করেছেন। এখন শেষ নবীর আগমনের পর হেদায়েত ও নাজাত কেবল শেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর প্রতি নাযিলকৃত কুরআনী শরীয়তের অনুসরণে নিহিত।

এখন আবার একটু চিন্তা করুন! এই ইসলামী আকীদাগুলোর সাথে খ্রিস্টানদের কাছে থাকা মানবরচিত গ্রন্থ ইঞ্জিল ও বাইবেলের কী সম্পর্ক? ইঞ্জিল তো আল্লাহ তাআলার নাযিলকৃত কালাম। আর প্রচলিত ইঞ্জিল ও বাইবেল মানবরচিত। যাতে স্বয়ং খ্রিস্টান পাদ্রী ও গবেষকদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী প্রচুর পরিমাণে অসঙ্গতি ও বৈপরীত্য বিদ্যমান। কুরআনে বর্ণিত ইঞ্জিলের সাথে যার কোনো মিল নেই।

তা সত্ত্বেও খ্রিস্টানরা প্রচলিত ইঞ্জিল ও বাইবেলকে আসল ইঞ্জিল হিসেবে প্রচার করার পেছনে লেগে আছে!!

বান্দা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক (গুফিরা লাহু)

মসজিদে হারাম

২০/১১/১৪৩৮ হি. শনিবার এশার পূর্বে

[মারকাযুদ দাওয়াহ আলইসলামিয়া ঢাকা-এর দারুত তাসনীফ থেকে প্রকাশিতব্য ইঞ্জিল শরীফ বিষয়ে গবেষণামূলক একটি পুস্তিকার ভূমিকা থেকে।]
Print Friendly, PDF & Email
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

নামাযের নিয়ত মুখে করা কী জরুরী?

প্রশ্ন From: মোঃআল আমিন হোসেন বিষয়ঃ নামায প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম জনাব হানাফি মাযহাব মতে নামাযে …