হোম / আজান ও ইকামত / আজানের সময় কুকুরের ক্রন্দন কী ভয়ার্ত কিছুর ইংগিত করে?
Call : 01922 319 514 বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

আজানের সময় কুকুরের ক্রন্দন কী ভয়ার্ত কিছুর ইংগিত করে?

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম।

আমি পেশায় ডাক্তার। পাশ করেছি মাত্র ৪ মাস হল। হোস্টেলে ছয় বছর ছিলাম।  খেয়াল করতাম প্রতিদিন মাইকে ফজরের আজানের সময় এলাকার কুকুরগুলো কাঁদতে শুরু করে। আজান শেষ ওদের কান্না বন্ধ হয়ে যায়। সেটা কেবলমাত্র একদিন নয়, প্রতিদিন। এখন ঢাকায় এসে একই ঘটনা দেখছি। ফজরের সময় মাইকে আজান দিলেই কুকুরগুলো কাঁদতে শুরু করে। অথচ আমরা যে হাদিস জানি কুকুরের কান্না মানে বড় কোন বিপদের আলামত।

এই বেপারে আমি ইন্টারনেটে ঘেঁটে দেখলাম। সেখানে কেবল একটায় উত্তর পাওয়া যায়, আজানের সময় শয়তান পালিয়ে যায়,যা দেখে কুকুর কাঁদতে থাকে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল শয়তান দেখলে তো কুকুর ঘেউ ঘেউ করবে। আর কুকুরের কান্না রমজান মাসেও শুনেছি। সুতারাং এই যুক্তিটি মানতে পারছি না। কারন আল্লাহ তায়ালা রমজান মাসে শয়তানকে বন্দি করে রাখে। এছাড়া আজান তো ৫ বার দেয়া হয়, তাহলে কুকুরদেরও ৫ বার কান্না করা উচিত।

তাহলে কি আমি/আমরা ধরে নিব, আল্লাহ কুকুরদের এই কান্নার মাধ্যমে আমাদের একটা ক্লু দিচ্ছে যা আমরা কেউ বুঝতে পারছি না।

তাহলে কি আমি ধরে নিব আজানের মাঝে কোন সমস্যা হচ্ছে যা কুকুরগুলো আমাদের সেই ক্লু দিচ্ছে!!!!!!!!  আল্লাহ যদি সেটা হয়ে থাকে! তাহলে আপনারা এই বেপারে মানুষকে বলুন। আপনারা এই বেপারে চিন্তা করুন।

আজানের মাঝে প্রব্লেম হলে আমি বিশ্লেষণ করে দেখলাম মাইকে আজান দিচ্ছে! তাহলে প্রব্লেমটা কি মাইক? এছাড়া আমি যতটুকু জানি কিংবা হাদিস পড়েছি আজান মসজিদের বাইরে দিতে হয়! কিন্তু এখন মসজিদের ভিতরে দিচ্ছে! আপ্নারা  এত ভাল ভাল আলেম থাকতে এই বেপারগুলো ভেবে দেখেন। আল্লাহ আমাদের মাফ করে দিবেন। আমিন।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

কুকুরের কান্না বিষয়ক আপনার ধারণাগুলো অমূলক। আজান শুনে শয়তান পালাতে থাকে। শয়তানের সেই ভয়ার্ত পলায়ন অনেক সময় কতিপয় কুকুর দেখতে পায়, আবার কখনো দেখতে পায় না।

যখন শয়তানের সেই ভীত সন্ত্রস্ত পলায়ন দেখে কুকুর অনেক সময় ঘেউ ঘেউ করে আবার অনেক সময় কাঁদতে থাকে।

আর রমজান মাসে বড় শয়তানকে বেঁধে রাখা হয়, সকল শয়তানকে নয়।

তাই রমজান মাসেও শয়তানের পলায়ন দেখে কুকুর কাঁদতে বা ঘেউ ঘেউ করতে পারে।

সুতরাং এ বিষয়টি নিয়ে অহেতুক চিন্তিত হবার কিছু নেই।

আজান দেবার উত্তম পদ্ধতি বাইরে দেয়া। এখন মসজিদের ভিতরে মাইক দিয়ে দেয়া হয়। এতে কোন সমস্যা নেই। এ কারণে কুকুর ঘেউ ঘেউ বা ক্রন্দন করে মনে করার কোন সুযোগ নেই।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الشَّيْطَانَ إِذَا سَمِعَ النِّدَاءَ بِالصَّلَاةِ أَحَالَ لَهُ ضُرَاطٌ حَتَّى لَا يَسْمَعَ صَوْتَهُ. فَإِذَا سَكَتَ رَجَعَ فَوَسْوَسَ فَإِذَا سَمِعَ الْإِقَامَةَ ذَهَبَ حَتَّى لَا يَسْمَعَ صَوْتَهُ فَإِذَا سَكَتَ رَجَعَ فَوَسْوَسَ»

হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, শয়তান যখন নামাযের আযান শুনতে পায় তখন বাতকর্ম করতে করতে পলায়ন করে যেন আযানের শব্দ তার কানে পৌঁছতে না পারে। মুয়াজ্জিন যখন আযান শেষ করে তখন সে ফিরে এসে (নামাযীর মনে) সংশয়-সন্দেহ সৃষ্টি করতে থাকে। সে পুনরায় যখন ইকামত শুনতে পায় আবার পলায়ন করে যেন এর শব্দ তার কানে না যেতে পারে। যখন ইকামত শেষ হয় তখন সে ফিরে এসে (নামাযীদের মনে) সংশয় সন্দেহ সৃষ্টি করতে থাকে। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৩৮৯]

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com 

Print Friendly, PDF & Email
Call : 01922 319 514 বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

ইসলামের উপকার করার মানসে নির্বাচনে প্রার্থী হবার হুকুম কী?

প্রশ্ন বাংলাদেশের প্রচলিত গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অথবা প্রবাসে সেই দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ইসলাম ধর্মের খেদমত …