হোম / তালাক/ডিভোর্স / তালাকের বিবরণ পড়ার সময় তালাকের কথা বললে কী স্ত্রী তালাক হয়ে যায়?

তালাকের বিবরণ পড়ার সময় তালাকের কথা বললে কী স্ত্রী তালাক হয়ে যায়?

প্রশ্ন

আস সালামু আলাইকুম।

মুফতি সাহেব। আমি যখন কুদুরী পড়ি তখন কুদুরীতে এমন একটি মাসআলা আসে যে” কোন ব্যাক্তি যদি বলে আমি যে মহিলাকে বিবাহ  করব সে তালাক বলার দ্বারা তালাক হয়ে যায় ” এখন কথা হল সে মাসআলা পড়ে আমার মনে তালাকের খেয়াল আসে, আর একথাও মনে আসে যে আমি এ বাক্যটি বলছি,  বাস্তবে আমি বলি নি (মুখস্ত করতে হলে অবশ্যই মুখ দিয়ে উচ্চারণ করতে হবে  সে থেকেই আমার ওয়াওসা শুরু হয়ে যায়) দিন দিন ওয়াসওসা আরো বৃদ্বি পেতে লাগলো, (একসময় সে ধান্দা ছেড়ে দেই, যে কোন মুফতিকে জিগ্গাস করে সময় মত সমাধান করে নিব)  বর্তমানে সেই পুরনো ওয়াসওসা আসে এখন সেই  বাক্য মুখ দিয়ে উচ্চারণের বেলায় সন্দেহ,  নামাজে ও এ ওয়াসওসা আসে, এমন কি নামাজের মধ্যে এ বাক্য মুখে উচ্চারণ করে ফলেছি এমন ওয়াসওসা ও আসে  ।  ফিকির করলে একবার মনে হয় নিশ্চয় বলি নি,  কখনো কখনো মনে হয় বলেছি। নিশ্চিত ভাবে কোন একটির নিশ্চয়তা দেয়া যাবে না।  যেহেন দুদিকেই যায়।  সব কটি মিলে এক ধুলাময় অবস্হা সৃস্টি হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো এমতাবস্হায় তাজদিদে নিকাহ, বা নিকাহে ফুজুলীর প্রয়োজন ?   শরিয়ত   কি বলে?

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

“আমি যে মহিলাকে বিবাহ করবো, সেই তালাক” বলার দ্বারা তালাকের সংকল্প বিশুদ্ধ হয়ে যায় ঐ সময় যখন এর দ্বারা তালাকের নিয়তে এটি বলা হয়ে থাকে। কিন্তু মাসআলা শিখার জন্য সুরতে মাসআলা হিসেবে এসব বলার দ্বারা তালাকের সংকল্পটি বিশুদ্ধ হয় না।

যেহেতু আপনার কোন দিকটাই নিশ্চিত হতে পারছেন না। তাই উক্ত কথাটি তালাকের নিয়তেই বলেছেন বলে ধর্তব্য হবে না।

তাই এ নিয়ে অহেতুক পেরেশান হবার কিছু নেই।

ওয়াসওয়াসা একটি মারাত্মক রোগ। যা মনে যায়গা দিলে তা ধীরে ধীরে ভয়াবহ রূপ পরিগ্রহ করে। কোন বিষয় মনে আসলে তা নিয়ে দীর্ঘ ভাবনা থেকে মুক্ত থাকতে হবে। নতুবা তা রোগে পরিণত হয়ে যাবে।

তাই আপনার উচিত এসব ভাবনা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা।

يشترط بالاتفاق القصد فى الطلاق، وهو إرادة التلفظ به ولو لم ينو فلا يقع طلاق فقيه يكره ولا طلاق حاك عن نفسه أو غيره لأنه لام يقصد معناه، بل قصد التعليم والحكاية، (الفقه الاسلام وادلته، كتاب الطلاق، باب شروط الطلاق-7/368)

لو كرر مسائل الطلاق بحضرة زوجته ويقول: أنت طالق ولا ينوى طلاقا لا تطلق، (فتح القدير، كتاب الطلاق، باب ايقاع الطلاق-4/4)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

         

Print Friendly, PDF & Email

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

নিজের উপর কুরবানী ওয়াজিব কিন্তু দিতে পারেনি এখন তার করণীয় কী?

প্রশ্ন ধনী ব্যক্তি কোন কারণবশতঃ কুরবানী দিতে পারেনি। তাহলে কুরবানীর দিনসমূহ শেষ হবার পর উক্ত …