হোম / জুমআ ও ঈদের নামায / মিনা মুযদালিফায় কর্মরত কর্মচারীদের জন্য ঈদ ও জুমআর নামায সাকিত হয়ে যায়?

মিনা মুযদালিফায় কর্মরত কর্মচারীদের জন্য ঈদ ও জুমআর নামায সাকিত হয়ে যায়?

প্রশ্ন

নামঃ Md Rasedul Islam
Makkah, Saudi Arabia

আসসালামু আলাইকুম,
সৌদি থাকি ক্লিনার কম্পানীতে কাজ করি, মক্কায় হজ্বের সময় মিনা, মুজদালিফা আরাফাত, এই সমস্ত জায়গায় ।

প্রশ্ন# হজ্বের সময় ঐ তিনটি স্থানে ঈদুল আজহার নামাজ হয় না অর্থাৎ হাজিরা পরেন না। আর আমাদের ডিউটি হাজিদের সাথেই আমাদেরও নামাজ পড়তে পাড়ি না! কি করব? আমার দুই বার ওয়াজিব নামাজ অর্থাৎ ঈদুল আজহার নামাজ ছুটে গেছে এখন কি করব?

প্রশ্ন # জুমার নামাজের ক্ষত্রেও ঐ একই অবস্থা হয় এ অবস্থায় কি করণীয়?
তবে জুমার দিন এই বছর খাইর আল মসজিদে গিয়েছিলাম, আমি ভাবছি জুমার নামাজ জামায়াত হবে নামাজটা পড়ে আসি বড় জামায়াতে অনেক কস্ট করে গিয়ে দেখি আজান দেওয়ার অল্প সময় পড়েই নামাজ শুরু হয়ে গেল কোনো খুতবা হলো না । আমি ভাবলাম খুতবাহ যখন হলো না তাহলে মনে হয় যোহর পরবে আমি সেই মোতাবেক চার রাকাত যোহরের নিয়ত করে দাড়িয়ে গেলাম, কিন্তু নামাজ পড়লেন দুই রাকাত । আমি জানতে চাই হজের সময় কি আমাদের (লেবার) জন্যও জুমা ও আজহার নামাজ শিথিল যোগ্য না অন্য কোনো নিয়ম আছে?

সর্বশেষ জানতে চাই সর্বনিম্ন কতজন মুসল্লিদের নিয়ে জুমার নামাজ আদায় করা যায়? ।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

ঈদের নামায ওয়াজিব এবং জুমআর নামায ফরজ। শরয়ী কোন উজর ছাড়া তা তরক করা মারাত্মক গোনাহের কাজ।

জুমআ ও ঈদের নামাযের কোন কাযা নেই।

ইমাম ছাড়া তিনজন থাকা জুমআ আদায়ের অন্যতম শর্ত।

খুতবা পড়া জুমআ সহীহ হবার অন্যতম শর্ত।

হজ্বের সময় কর্মচারী কর্মকর্তাদের উপর থেকে জুমআ ও ঈদ আদায়ের দায়িত্ব রহিত হয় না। তাই তা আদায়ে যত্নবান হওয়া উচিত।

কোন কারণে জুমআ আদায় করতে না পারলে যোহর আদায় করে নিতে হবে।

فَالْجُمُعَةُ فَرْضٌ لَا يَسَعُ تَرْكُهَا وَيُكَفَّرُ جَاحِدُهَا وَالدَّلِيلُ عَلَى فَرْضِيَّةِ الْجُمُعَةِ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ وَإِجْمَاعُ الْأُمَّةِ، أَمَّا الْكِتَابُ فَقَوْلُهُ تَعَالَى {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ} [الجمعة: 9] قِيلَ ذِكْرُ اللَّهِ هُوَ صَلَاةُ الْجُمُعَةِ، وَقِيلَ هُوَ الْخُطْبَةُ وَكُلُّ ذَلِكَ حُجَّةٌ؛ لِأَنَّ السَّعْيَ إلَى الْخُطْبَةِ إنَّمَا يَجِبُ لِأَجْلِ الصَّلَاةِ بِدَلِيلِ أَنَّ مَنْ سَقَطَتْ عَنْهُ الصَّلَاةُ لَا يَجِبُ عَلَيْهِ السَّعْيُ إلَى الْخُطْبَةِ فَكَانَ فَرْضُ السَّعْيِ إلَى الْخُطْبَةِ فَرْضًا لِلصَّلَاةِ، وَلِأَنَّ ذِكْرَ اللَّهِ يَتَنَاوَلُ الصَّلَاةَ وَيَتَنَاوَلُ الْخُطْبَةَ مِنْ حَيْثُ إنَّ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا ذِكْرُ اللَّهِ تَعَالَى.

وَأَمَّا السُّنَّةُ فَالْحَدِيثُ الْمَشْهُورُ وَهُوَ مَا رُوِيَ عَنْ النَّبِيِّ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – أَنَّهُ قَالَ «إنَّ اللَّهَ تَعَالَى فَرَضَ عَلَيْكُمْ الْجُمُعَةَ فِي مَقَامِي هَذَا، فِي يَوْمِي هَذَا، فِي شَهْرِي هَذَا، فِي سَنَتِي هَذِهِ فَمَنْ تَرَكَهَا فِي حَيَاتِي أَوْ بَعْدَ مَمَاتِي اسْتِخْفَافًا بِهَا وَجُحُودًا عَلَيْهَا وَتَهَاوُنًا بِحَقِّهَا وَلَهُ إمَامٌ عَادِلٌ أَوْ جَائِرٌ فَلَا جَمَعَ اللَّهُ شَمْلَهُ وَلَا بَارَكَ لَهُ فِي أَمْرِهِ، أَلَا لَا صَلَاةَ لَهُ، أَلَا لَا زَكَاةَ لَهُ، أَلَا لَا حَجَّ لَهُ، أَلَا لَا صَوْمَ لَهُ إلَّا أَنْ يَتُوبَ فَمَنْ تَابَ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ» .

وَرُوِيَ عَنْ ابْنِ عُمَرَ – رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا – عَنْ رَسُولِ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – أَنَّهُ قَالَ: «مَنْ تَرَكَ ثَلَاثَ جُمَعٍ تَهَاوُنًا طَبَعَ اللَّهُ عَلَى قَلْبِهِ» ، وَمِثْلُ هَذَا الْوَعِيدِ لَا يَلْحَقُ إلَّا بِتَرْكِ الْفَرْضِ وَعَلَيْهِ إجْمَاعُ الْأُمَّةِ. (بدائع الصنائع، كتاب الصلاة، صلاة الجمعة৫৭৭-৫৭৮(

(وَ) الرَّابِعُ: (الْخُطْبَةُ فِيهِ) فَلَوْ خَطَبَ قَبْلَهُ وَصَلَّى فِيهِ لَمْ تَصِحّ الخ

السادس الجماعة واقلها ثلاثة رجال، ولو غير الثلاثة الذين حضروا الخطبة سوى الإمام بالنص، لأنه لا بد من الذكر وهو الخطيب وثلاثة سواه بنص فاسعوا إلى ذكر الله (رد المحتار-3\23-24)


يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَىٰ ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ [٦٢:٩

মুমিনগণ,জুমআর দিনে যখন নামাযের আযান দেয়া হয়, তখন তোমরা যিকরুল্লাহ তথা আল্লাহর স্মরণের পানে ত্বরা কর এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ। ( সুরা জুমা আয়াত ৯ )
আই আয়াতের মধ্যকার যিকরুল্লাহ দ্বারা প্রায় সকল মুফাসসিরদের মতে খুতবা উদ্দেশ্য । (তাফসিরে রাযি ১/৪৪৬, তাফসিরে রুহুল মাআনি ২৮/১০২, তাফসিরে ইবনে আব্বাস রাঃ)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ , قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:  «مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الْجُمُعَةِ فَلْيُصَلِّ إِلَيْهَا أُخْرَى , وَمَنْ فَاتَتْهُ الرَّكْعَتَانِ فَلْيُصَلِّ أَرْبَعًا» , أَوْ قَالَ: «الظُّهْرَ» (سنن الدار قطنى، رقم-1601)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

হায়েজা বা নিফাসগ্রস্থ মহিলাদের জন্য সাজগোজ করার হুকুম কী?

প্রশ্ন হায়েজা বা নিফাসগ্রস্থ মহিলাদের জন্য সাজগোজ করার হুকুম কী? উত্তর بسم الله الرحمن الرحيم …