হোম / জায়েজ নাজায়েজ / হালাল ও হারাম মিশ্রিত সম্পদের মালিকের কাছ থেকে হাদিয়া গ্রহণের বিধান

হালাল ও হারাম মিশ্রিত সম্পদের মালিকের কাছ থেকে হাদিয়া গ্রহণের বিধান

প্রশ্ন

মুফতী সাহেব, আসসালামু আলাইকুম। আমি একজন ইন্টার্নী ডাক্তার, ঢাকা মেডিকেল কলেজে কর্মরত আছি।  আমার কিছু প্রশ্ন ছিল, আশা করি উত্তর প্রদান করে বাধিত করবেন।

নামঃ সালেহ মোহাম্মদ শোয়াইব

দেশঃ বাংলাদেশ

বিষয়ঃ ব্যাঙ্ক লোন নিয়ে বাড়ি বানিয়ে ভাড়া পাওয়া, হারাম উপার্জন

পরিবার থেকে একটা মেয়ের সাথে আমার বিয়ের কথা চলছে। মেয়ের বাবা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা।

তাদের পরিবারে এই একজনই আয় করেন।  মেয়ের বাবা আর একই ব্যাঙ্কের আরও চারজন ব্যাঙ্কার, এই পাঁচজন অংশীদার মিলে একটা বাড়ি নির্মাণ করেন।  বাড়ি তৈরির সময় মেয়েরবাবা পৈত্রিক জমি বিক্রির হালাল ১৪ লাখ আর ঐ ব্যাঙ্ক থেকে সুদে লোন নিয়ে ২৬ লাখ, মোট ৪০ লাখ টাকা প্রদান করেন। তার ভাগের তিনটা ফ্ল্যাটথেকে মাসিক আয় আসে ৫৬০০০ টাকা। আর প্রতি মাসে লোন কেটে রাখার পর তিনি ব্যাঙ্ক থেকে বেতন পান ৪২০০০ টাকা।

এখন আমার প্রশ্ন –

ক/ মেয়েটাকে বিয়ে করলে বিয়ের সময় অনুষ্ঠান করতে গিয়ে বা বিয়ের পর তিনি মেয়ে বা আমাকে ব্যবহারের জন্য উপহারস্বরূপ কিছু দিতে চাইলেসেটা আমাদের জন্য নেয়া হালাল হবে কি?

খ/ যদি হালাল হয় তবে কি পুরোটাই হালাল হবে নাকি কিছু অংশ হালাল হবে?

গ/ কোন অংশ/কত টাকা হালাল হবে?

ঘ/ কিছু অংশ হালাল হলে কি মেয়ের বাবাকে সেই অংশ আগে থেকেই আলাদা করে রাখতে হবে নাকি হালাল হারাম টাকা মিশিয়ে ফেলার পরেও“মনে করি হালাল টাকা থেকেই দিচ্ছি এই নিয়তে” দিয়ে দিলেও হবে?

ঙ/ আমি বর্তমান থাকতে আমার স্ত্রীকে কি তার পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত হারাম টাকা/এই টাকায় কেনা আসবাব ব্যবহার করতে দিতে পারি?

আশা করি উত্তর প্রদান করে বাধিত করবেন। অবশ্যই ইমেইলে উত্তরের এক কপি পাঠাবেন।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

উক্ত ব্যক্তি বাড়ি ভাড়ার টাকা পাচ্ছেন ৫৬০০০/= [ছাপ্পান্ন হাজার টাকা] আর ব্যাংক থেকে বেতন পাচ্ছেন ৪২০০০/= [বিয়াল্লিশ হাজার]।

কৃষি ব্যাংক সরাকারী ব্যাংক। আর সরকারী ব্যাংকের সব ডিপার্টমেন্টের চাকুরী হারাম নয়। বরং যেসব ডিপার্টমেন্ট সরাসরি সুদী লেনদেনে জড়িত, সেসব ডিপার্টমেন্টে চাকুরী হারাম।

সেই হিসেবে যদি ধরা হয়, উক্ত ব্যক্তি সুদী ডিপার্টমেন্টেই চাকুরী করছেন, তবু তার হারাম উপার্জনের চেয়ে হালাল উপার্জন বেশি। যেহেতু তার বাড়ি ভাড়ার টাকাটা হালাল।

আর সুদী ঋণ নেয়া হারাম। একথা সত্য। কিন্তু এর দ্বারা নির্মিত বস্তুটি হারাম হয় না। হারাম ঋণ নেবার কারণে ব্যক্তি গোনাহগার হয়। কিন্তু এর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সামগ্রীকে হারাম বলা হয় না। সেই হিসেবে হারাম ঋণ নিয়ে বাড়ি নির্মাণ করলেও বাড়ির বর্তমান কামাইকে হারাম বলার সুযোগ নেই।

এবার আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর বুঝে নিন।

যে ব্যক্তির হারাম উপার্জনের তুলনায় হালাল উপার্জন বেশি হয়, তার থেকে হাদিয়া গ্রহণে কোন বিধিনিষেধ নেই।

এ কারণে তাদের সাথে আত্মীয়তা করতে, তাদের থেকে আপনার ও আপনার স্ত্রীর হাদিয়া গ্রহণ করতে কোন সমস্যা নেই বলেই মনে হয়।

ولا يجوز قبول هدية أمراء الجور لأن الغالب في مالهم الحرمة إلا إذا علم أن أكثر ماله حلال بأن كان صاحب تجارة أو زرع فلا بأس به لأن أموال الناس لا تخلو عن قليل حرام فالمعتبر الغالب (الفتاوى الهندية، كتاب الكراهية، الثاني عشر في الهدايا والضيافات-5/342(

অনুবাদ-জালেম বাদশাহর হাদিয়া গ্রহণ জায়েজ নয়। কেননা তার অধিকাংশ মাল হয় হারাম। তবে যদি জানা যায় যে, তার অধিকাংশ মাল হালাল, এ হিসেবে যে সে ব্যাবসায়ী বা জমিদার,তাহলে তার থেকে হাদিয়া গ্রহণ করাতে সমস্যা নেই। কেননা সাধারণত মানুষের মাল অল্প হারাম থেকে মুক্ত নয়। তাই এতে আধিক্যের বিষয়টি বিবেচিত হবে। { ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া-৫/৩৪২}

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

দুইবার বিয়ে হওয়া স্ত্রী আখেরাতে কোন স্বামীর কাছে থাকবে?

প্রশ্ন আসসালামু আলাইকুম। আপনার কাছে একটা প্রশ্ন হুজুর। আমরা দেখতে পাই যে বিভিন্ন সাহাবায়ে একরাম …