হোম / পেশা/চাকরী / চাকুরীজীবীকে অফিস টাইমের বাইরে অন্য কাজ করা থেকে বিরত রাখার শর্ত করা যাবে কি?
Call : 01922 319 514 বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

চাকুরীজীবীকে অফিস টাইমের বাইরে অন্য কাজ করা থেকে বিরত রাখার শর্ত করা যাবে কি?

প্রশ্ন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক,
ঢাকা , বাংলাদেশ

( খুবই জরুরী, একটু দ্রুত উত্তর পেলে উপকার হয়। )

বিষয়: চাকরীর চুক্তি ভঙ্গ করে অন্য কাজ করলে চাকরী এবং অন্য কাজ এর মাধ্যমে আসা উপার্জন হারাম কিনা ?

আস সালামু আলাইকুম, মুফতি সাহেব,

আমি চেষ্টা করি হালাল ভাবে উপার্জনের জন্য, তাই আমার জন্য এই প্রশ্নটির উত্তর জানা খুবই জরুরী । আমি যে অফিসে চাকরী করি সেখানে কাজ করা শুরুর সময় একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করতে হয়। সেখানে লেখা ছিল যে আমার অফিসের সময় সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা, কিন্তু একই সাথে লেখা ছিল যে এর বাইরের কোন সময় এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে আমি অন্য কোন কাজ করতে পারবো না (অফিস সময়ের বাইরে অন্য কাউকে তার ব্যবসায়িক কাজে সাহায্য করতে পারবো না, নিজের আলাদা ব্যবসা থাকতে পারবে না, এমনকি নির্ধারিত সময়ের বাইরে আমি যা গবেষণা করবো এবং এর ফলাফলে পাওয়া আমার যেকোন কাজ কিংবা আইডিয়ার স্বত্বাধিকারী তারা হবে। আজকাল ইন্টার্নেট এ নানাভাবে কাজ করে অর্থ উপার্জন করা যায়, আমিও চাচ্ছিলাম অফিস সময়ের বাইরে এবং ছুটির দিনে এধরণের কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে। আমার অফিসের চুক্তিপত্রে আরো লিখা ছিল যদি কোন বাইরের কাজ করতেই হয় তাহলে অফিসের উচ্চ কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে ।  আমি তাদের সাথে এ ব্যাপারে কথা বললে তারা জানিয়ে দেয় তারা চায় না আমি  এ ধরণের কাজ করি ।

এখন আমি যদি ইন্টারনেটে বিভিন্ন আউটসোর্সিং কাজ করি আমার অফিস সময়ের বাইরে এবং ছুটির দিনে, তাতে অফিসের চুক্তি ভংগ হবে।

আমার প্রশ্ন হচ্ছে

১) এই চুক্তি ভঙ্গ করে আমি  যদি ইন্টারনেটে বিভিন্ন আউটসোর্সিং কাজ করি  তাহলে কি চুক্তিভঙ্গের কারণে আমার অফিসের চাকরীর টাকা আমার জন্য হালাল হবে ?
২) চুক্তিভঙ্গ করে যদি ইন্টারনেটে বিভিন্ন আউটসোর্সিং কাজ করি, সেখান থেকে উপার্জন করলে সে অর্থ কি আমার জন্য হালাল হবে ?
৩) এই চুক্তিভঙ্গের জন্য কি কাফফারা দিতে হবে ? দিতে হলে প্রথমবার চুক্তিভঙ্গের জন্য কি একবার কাফফারা দিতে হবে , নাকি প্রতিবার চুক্তিভঙ্গের জন্য বারবার কাফফারা দিতে হবে ?

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

একজন চাকুরীজীবী ফিক্বহে ইসলামীর পরিভাষায় “আজীরে খাছ”। আজীরে খাছ ব্যক্তি তার নির্ধারিত ডিউটির সময় অন্য কাজ করা তার জন্য বৈধ নয়। কিন্তু ডিউটির সময় শেষ হবার পর সে আর উক্ত প্রতিষ্ঠানের আজীর বাকি থাকে না। তাই অন্য সময় কোন কাজ করা থেকে বিরত রাখার অধিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেই।

তাই অন্য সময় ভিন্ন কোন কাজ করতে পারবে না মর্মের শর্তটিই বাতিল। এর উপর আমল করা জরুরী নয়।

তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন অন্য কাজ করার দ্বারা মূল চাকুরীর কাজের উপর কোন প্রভাব সৃষ্টি না হয়।

যদি চাকুরীর ডিউটি ঠিকমত পালন করা হয়, তাহলে এটির বেতন যেমন হারাম হবে না। তেমনি অফ টাইমে অন্য বৈধ কাজ করে যে উপার্জন করা হয়, সেই উপার্জনকেও হারাম বলার কোন সুযোগ নেই। [ফাতাওয়া উসমানী-৩/৩৬৭ থেকে অনুধাবনকৃত]

وأما الخاص (ويسمى أجير وحده – بسكون الحاء وفتحها – مأخوذة من الوحد بمعنى الوحيد) فهو الذي يجب عليه أن لا يعمل لغيره من استأجره وذلك كالأجير اليومي الذي له أدرة يومية فإنه لا يصح أن يشغل وفته بشيء غير العمل المستأجرة (الفقه على مذاهب الاربعة، مباحث الاجارة، مبحث ما يضمنه العامل إذا تلف وما لا يضمنه، دار الكتاب بيروت-3/131، دار الفكر-3/146)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

 

Print Friendly, PDF & Email
Call : 01922 319 514 বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

পাগড়ীর শিমলা কতটুকু হওয়া চাই?

প্রশ্ন আসসালামু আলাইকুম। হযরত পাগড়ির শিমলা কতটুকু হওয়া চাই? প্রশ্নকর্তা- আরেফিন আহমাদ। উত্তর وعليكم السلام …