হোম / অপরাধ ও গোনাহ / হারাম ভক্ষণ করলে চল্লিশ দিন পর্যন্ত ব্যক্তির ইবাদত কবুল হয় না?
Call : 01922 319 514 বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

হারাম ভক্ষণ করলে চল্লিশ দিন পর্যন্ত ব্যক্তির ইবাদত কবুল হয় না?

প্রশ্ন

একজন হুজুরের মুখে শুনেছি যে,এক লোকমা হারাম খাবার পেটে গেলে চল্লিশ দিন পর্যন্ত কোন আমল কবুল হয় না।

আমার প্রশ্ন হল, যদি কোন কারণে হারাম ভক্ষণ করা হয়, তাহলে চল্লিশ দিন পর্যন্ত যে নামায পড়া হবে, এসব কি কোনটিই কবুল হবে না? চল্লিশ দিন পর তা আবার আদায় করতে হবে?

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: تُلِيَتْ هَذِهِ الْآيَةُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا} [البقرة: 168] فَقَامَ سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مُسْتَجَابَ الدَّعْوَةِ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا سَعْدُ أَطِبْ مَطْعَمَكَ تَكُنْ مُسْتَجَابَ الدَّعْوَةِ، وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، إِنَّ الْعَبْدَ لَيَقْذِفُ اللُّقْمَةَ الْحَرَامَ فِي جَوْفِهِ مَا يُتَقَبَّلُ مِنْهُ عَمَلَ أَرْبَعِينَ يَوْمًا، وَأَيُّمَا عَبْدٍ نَبَتَ لَحْمُهُ مِنَ السُّحْتِ وَالرِّبَا فَالنَّارُ أَوْلَى بِهِ

হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এ আয়াত “হে মানব মন্ডলী, পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু-সামগ্রী ভক্ষন কর।” [সূরা বাকারা-১৬৮] আয়াতটি তিলাওয়াত করা হল। তখন সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস রাঃ দাঁড়ালেন এবং বললেনঃ হে আল্লাহ রাসূল!আপনি আমার জন্য দুআ করুন যেন আল্লাহ আমাকে মুস্তাজাবুদ দাওয়া [দুআ করলে সাথে সাথে কবুল হয় এমন] বানিয়ে দেন। তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে সাদ! তুমি তোমার খাবারকে পবিত্র রাখো,[হালাল ভক্ষণ কর] তুমি মুস্তাজাবুত দাওয়া হয়ে যাবে। যে সত্তার হাতে মুহাম্মদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর প্রাণ তার কসম! নিশ্চয় কোন বান্দার পেটে যদি হারাম এক লোকমরা খাবারও প্রবেশ করে, তাহলে চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার আমল কবুল হয় না। আর ব্যক্তির যে গোস্ত পিন্ড হারাম সম্পদ বা সুদের টাকায় বৃদ্ধি হয়েছে, তার জন্য জাহান্নামই উত্তম। [আলমুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৬৪৯৫, আততারগীব ওয়াত তারহীব, হাদীস নং-২৬৬০]

হাদীসটি নিতান্ত দুর্বল।

কিন্তু সতর্কতা হিসেবে উক্ত হাদীস অনুপাতে সদা সজাগ থাকা উচিত। যেন কোনমতেই কারো পেটে হারাম খাদ্য প্রবেশ না করে।

আমলের দুই অবস্থা। যথা-

১ আমলের দায়িত্বমুক্ত হওয়া।

২ আল্লাহর কাছে উক্ত আমল মকবুল হওয়া।

হারাম ভক্ষণকারীর চল্লিশ দিন পর্যন্ত আমল কবুল হয় না অর্থ হল, তার আমলটি আল্লাহর দরবারে সওয়াবের অধিকারী হয় না। কিন্তু আদায় করার দ্বারা উক্ত ব্যক্তি দায়িত্বমুক্ত ঠিকই হয়ে যাবে। তাই পরবর্তীতে আর উক্ত আমলকে পুনরায় আদায় করা লাগবে না।

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com 

Print Friendly, PDF & Email
Call : 01922 319 514 বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

নেশা হয় না এ পরিমাণ এ্যালকোহল গ্রহণ করার হুকুম কী?

প্রশ্ন শরীয়ত অনুযায়ী যে কোনো ধরনের নেশা জাতীয় দ্রব্যাদি (অ্যালকহল ইত্যাদি) পান করা অথবা গ্রহণ …