হোম / জুমআ ও ঈদের নামায / ঈদের নামাযে প্রথম ও দ্বিতীয় রাকাতের অতিরিক্ত তাকবীর না পড়লে বা আগে পিছে পড়লে বিধান কী?

ঈদের নামাযে প্রথম ও দ্বিতীয় রাকাতের অতিরিক্ত তাকবীর না পড়লে বা আগে পিছে পড়লে বিধান কী?

প্রশ্ন

আসসালামুয়ালাইকুম, মুফতি সাহেব!

নিশ্চয়ই আল্লাহ পাকের অশেষ রহমতে ভালই আছেন। আমাদের গ্রামে ঈদের নামাজ ভুল হওয়ায় ফেতনা সৃষ্টি হয়েছে তাই আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন হলো—-

ঈদের নামাজে ইমাম সাহেব প্রথম রাকাতে ছানা পড়ার পর তিন তাকবীর না দিয়ে সূরা মিলানো শেষে তাকবীর দেয়,তার পর ২য় রাকাতে তিন তাকবীর না দিয়ে নামাজ শেষ করে । এ বিষয়ে সঠিক মাসয়ালা কুরআন ও হাদীসের আলোকে জানতে চাই।

ফেতনা সৃষ্টি হওয়ার কারণে আমার চাচার কাছে এসে পড়ে যাতে এই সমস্যার সমাধান করা হয়। আগামী জুম্মার দিনে ফয়সালা দিতে হবে। তাই আপনার কাছে আকুল আবেদন আগামী শুক্রবারের আগেই উত্তর পেলে আমরা উপকৃত হতাম।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

কয়েকটি মাসআলা আগে ভাল করে বুঝে নিনঃ

ঈদের নামাযে অতিরিক্ত তাকবীর দেয়া ওয়াজিব। প্রথম রাকাতে সানার পর সূরা ফাতিহা শুরু করার আগে অতিরিক্ত তাকবীর দিতে হয়। আর দ্বিতীয় রাকাতে সূরা মিলানো শেষে রুকুতে যাবার আগে অতিরিক্ত তাকবীরগুলো দিতে হয়।

যদি ভুলে সানার পর তাকবীর না দিয়ে সূরা ফাতিহা শুরু করে, তাহলে সূরা ফাতিহা ও সূরা মিলানো শেষ করার আগেই স্মরণ হলে সূরা পড়া ছেড়ে দিয়ে প্রথমে তাকবীর বলে তারপর আবার সূরা ফাতিহা ও সূরা মিলাতে হবে।

এক্ষেত্রে তারতীবের উল্টো করার কারণে সেজদায়ে সাহু দিতে হবে।

যদি সূরা মিলানো শেষ করার পর তাকবীরের কথা স্মরণ হয়, তাহলে তখনি অতিরিক্ত তাকবীরগুলো দিবে। এক্ষেত্রে পুনরায় সূরা ফাতিহা ও সূরা মিলানোর প্রয়োজন নেই।

এক্ষেত্রেও তারতীবের উল্টো করার কারণে সেজদায়ে সাহু দিতে হবে।

ঈদের সালাতে অতিরিক্ত তাকবীর ভুলে না পড়লে তার উপর সেজদায়ে সাহু আবশ্যক হয়।

সেই হিসেবে দ্বিতীয় রাকাতের অতিরিক্ত তাকবীর না বলায় সেজদায়ে সাহু আবশ্যক হয়েছিল।

ঈদ ও জুমআর নামাযে জামাত বিশাল হয়। যে কারণে সেজদায়ে সাহু দিলে পিছনের মুসল্লিদের মাঝে বিশৃংখলা সৃষ্টির আশংকা হয়, তাহলে সাহু সেজদা দেয়ার প্রয়োজন থাকে না।

কিন্তু যদি জামাত ছোট হয়, বা বিশৃংখলার শংকা না থাকে, তাহলে সেজদায়ে সাহু জুমআ ও ঈদের নামাযেও দিতে হবে।

ويصلي الإمام بالناس ركعتين يكبر في الأولى للافتتاح وثلاثا بعدها ثم يقرأ الفاتحة وسورة ويكبر تكبيرة يركع بها ثم يبتدئ في الركعة الثانية بالقراءة ثم يكبر ثلاثا بعدها ويكبر رابعة يركع بها ” وهذا قول ابن مسعود رضي الله عنه وهو قولنا (هداية-1/174)

أو ترك قراءة الفاتحة ” لأنها واجبة ” أو القنوت أو التشهد أو تكبيرات العيدين ” لأنها واجبات فإنه عليه الصلاة والسلام واظب عليها من غير تركها مرة وهي أمارة الوجوب ولأنها تضاف إلى جميع الصلاة فدل على أنها من خصائصها وذلك بالوجوب …… وكل ذلك واجب وفيها سجدة السهو هو الصحيح ” (الهداية-1/157-158)

العاشر تكبيرات العيدين، قال فى البدائع: إذا تركها أو نقص منها أو زاد عليها أو أتى بها فى غير موضعها، فإنه يجب عليه السجود (البحر الرائق، كتاب الصلاة، باب سجود السهو-2/170)

اما ا لسهو فى تكبيرات العيد، فهو يتحصيلها فى غير محلها، او بالزيادة فيها، أو بالنقصان عنها، او بتركها، ففى كل ذلك يجب سجود السهو (المحيط البرهانى، كتاب الصلاة، الفصل السابع عشر، سجود السهو-2/313، رقم-1866، التاتارخانية-2/399، رقم-2787، الجوهرة النيرة، كتاب الصلاة، باب سجود السهو-1/92)

نسى التكبير فى الأولى حتى قرأ بعض الفاتحة أو كلها ثم تذكر، يكبر ويعيد الفاتحة وإذا كبر بعد ما قرأ الفاتحة والسورة يكبر ولا يعيد القراءة، لأنها تمت وصحت بالكتاب والسنة، (حلبى كبير-572، رد المحتار-3/55)

والسهو فى صلاة العيد والجمعة المكتوبة والتطوع سواء والمختار عند المتأخرين عدمه فى الأوليين لدفع الفتنة (رد المحتار-2/560)

ولا ياتى الإمام بسجود السهو فى الجمعة والعيدين دفعا للفتنة بكثرة الجماعة (حاشية الطحطاوى على مراقى الفلاح-465، الفتاوى الهندية-1/128)

প্রশ্নের সমাধান

উপরের মাসআলাগুলো ভাল করে বুঝতে পারলে আপনি নিজেই এর সমাধান বের করে নিতে পারবেন।

যদি ইমাম সাহেব ভুলে উপরোক্ত কাজগুলো করে থাকেন,আর সেজদায়ে সাহু দিলে বিশৃংখলার আশংকা সৃষ্টির শংকায় সাহু সেজদা না দিয়ে থাকেন,তাহলে উপরোক্ত ঈদের নামায হয়ে গেছে। এ নিয়ে অহেতুক বিতর্ক করা কিছুতেই সমীচিন হবে না।

আর যদি উপরোক্ত কাজগুলো ইচ্ছেকৃত করে থাকেন, তাহলে নামাযটি মাকরূহে তাহরীমি হয়েছে। এমন ইমামের পিছনে ভবিষ্যতে নামায পড়ার ক্ষেত্রে বিরত থাকা উচিত।

وإن كان تركه عمدا أثم ووجب إعادة الصلاة لجبر نقصها، ولا يسجد في العمد للسهو (نور الانوار مع حاشية الطحطاوى على مراقى الفلاح-462)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

মৃত স্ত্রীকে স্বামী বা মৃত স্বামীকে স্ত্রী গোসল দিতে পারবে কি?

প্রশ্ন স্বামী মারা গেলে স্ত্রী তাকে গোসল দিতে পারবে? স্ত্রী মারা গেলে স্ত্রী তার স্বামীকে …