হোম / দুআ-দরূদ ও অজীফা / তারাবীহ সালাতের চার রাকাত পর বসে প্রচলিত “সুবহানা জিলমুলুকি ওয়ালমালাকুতু” যে দুআ পড়া হয় এর কোন ভিত্তি আছে কি?

তারাবীহ সালাতের চার রাকাত পর বসে প্রচলিত “সুবহানা জিলমুলুকি ওয়ালমালাকুতু” যে দুআ পড়া হয় এর কোন ভিত্তি আছে কি?

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহ।

১) তারাবীহ নামাজের চার রাকাত পর পর কোন দোয়া পড়া সুন্নাত?
((সুবাহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি সুবাহানা জিল ইজ্জাতি ওয়াল আজমতি ওয়াল হাইবাতি ওয়াল কুদরতি ওয়াল কিবরিয়ায়ি ওয়াল জাবরুতি
সুবহানাল মালিকিল হায়্যিল লাজি লা ইয়ানামু ওয়াল ইয়ামুতু চুব্বুহুন কুদ্দুসুন রব্বুনা ওয়ারাব্বুল মালাইকাতি ওয়াররুহ।))আমাদের দেশে এই দোয়া টি পড়া হয়, এটা কি হাদিসে আছে?  নাকি কোন বুজুর্গের বানানো ?
এটা পড়া যাবে কি?

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

তারাবীহ নামাযের প্রতি চার রাকাত পর নির্দিষ্ট কোন দুআ দরূদ পড়ার কথা বিশুদ্ধ সূত্রে হাদীসে বর্ণিত হয়নি।

বাকি চার রাকাত পর এতটুকু সময় বসা মুস্তাহাব,যতক্ষণ সময় চার রাকাত নামায পড়তে সময় লেগেছে। সেই সময় নফল নামায পড়া,তাসবীহ পড়া, দরূদ পড়া,জিকির করা,কুরআন তিলাওয়ত করা,কিংবা চুপ করে বসে থাকা,মক্কায় হলে তওয়াফ করা সবই জায়েজ।

নির্দিষ্ট কোন একটি কাজকে আবশ্যকীয় মনে করার কোন সুযোগ নেই। সুযোগ নেই নির্দিষ্ট কোন দুআকে জরুরী মনে করা।

যেহেতু যেকোন দুআ ও দরূদ এ সময়ে পড়া যায়। সেই হিসেবে কিছু কিছু ফুক্বাহায়ে কেরাম এ সময়

سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ، سُبْحَانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظَمَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوتِ، سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ، سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ، لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ نَسْتَغْفِرُ اللَّهَ، نَسْأَلُك الْجَنَّةَ وَنَعُوذُ بِك مِنْ النَّارِ

হামদ ও দুআটি পড়তে বলেছেন।

এটা জরুরী,বা সুন্নত-মুস্তাহাব হিসেবে পড়তে বলেননি। বরং এসময় চুপ করে থাকার চেয়ে দুআ দরূদ, জিকির আজকার করা উচিত। সেই হিসেবে তারা একটি চমৎকার আল্লাহর হামদ এবং দুআর শব্দময় উক্ত বাক্যগুলো পড়তে বলেছেন।

এটি পড়া যায়। কিন্তু সুন্নত-মুস্তাহাব বা জরুরী মনে করা যাবে না। না পড়লেও কোন সমস্যা নেই।

واما سننها: وَمِنْهَا أَنَّ الْإِمَامَ كُلَّمَا صَلَّى تَرْوِيحَةً قَعَدَ بَيْنَ التَّرْوِيحَتَيْنِ قَدْرَ تَرْوِيحَةٍ يُسَبِّحُ، وَيُهَلِّلُ وَيُكَبِّرُ، وَيُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – وَيَدْعُو وَيَنْتَظِرُ أَيْضًا بَعْدَ الْخَامِسَةِ قَدْرَ تَرْوِيحَةٍ؛ لِأَنَّهُ مُتَوَارَثٌ مِنْ السَّلَفِ (بدائع الصنائع، كتاب الصلاة،  فصل فى سننها والتراويح-1/648(

وهذا الانتظار مستحب لعادة اهل الحرمين، فان عادة اهل مكة ان يطوفوا بعد كل اربع اسبوعا ويصلون ركعتى الطواف، وعادة اهل المدينة ان يصلوا اربع ركعات، وقد روى البيهقى باسناد صحيح انهم كانو يقومون على عهد عمر يعنى بين كل ترويحتين، فثبت من عادة اهل الحرمين الفصل بين كل تريحتين، ومقدار ذلك الفصل وهو مقدار ترويحة فكان مستحبا لان ما رآه المؤمنون حسنا فهو عند الله حسن، (حلبى كبير، كتاب الصلاة، صلاة التراويح-350، 404(

(يَجْلِسُ) نَدْبًا (بَيْنَ كُلِّ أَرْبَعَةٍ بِقَدْرِهَا وَكَذَا بَيْنَ الْخَامِسَةِ وَالْوِتْرِ) وَيُخَيَّرُونَ بَيْنَ تَسْبِيحٍ وَقِرَاءَةٍ وَسُكُوتٍ وَصَلَاةٍ فُرَادَى،

قَالَ الْقُهُسْتَانِيُّ: فَيُقَالُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ «سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ، سُبْحَانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظَمَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوتِ، سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ، سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ، لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ نَسْتَغْفِرُ اللَّهَ، نَسْأَلُك الْجَنَّةَ وَنَعُوذُ بِك مِنْ النَّارِ» كَمَا فِي مَنْهَجِ الْعِبَادِ. (رد المحتار، كتاب الصلاة، باب الوتر والنوافل، مبحث صلاة التراويح-2/496-497، زكريا

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

মৃত স্ত্রীকে স্বামী বা মৃত স্বামীকে স্ত্রী গোসল দিতে পারবে কি?

প্রশ্ন স্বামী মারা গেলে স্ত্রী তাকে গোসল দিতে পারবে? স্ত্রী মারা গেলে স্ত্রী তার স্বামীকে …