হোম / কুরবানী/জবেহ/আকীকা / স্বামী স্ত্রী উভয়ে বিত্তশালী হলে উভয়ের উপর আলাদা কুরবানী আবশ্যক?

স্বামী স্ত্রী উভয়ে বিত্তশালী হলে উভয়ের উপর আলাদা কুরবানী আবশ্যক?

প্রশ্ন

আমি ও আমার স্বামী দুজনই চাকুরীজিবী। সে প্রেক্ষিতে প্রতি বছরই আমরা দুই ভাগ কোরবানী দিয়ে থাকি। গ্রামে আমার শ্বশুড়বাড়ীতে এক ভাগ। ঢাকায় আমরা যেখানে থাকি সেখানে এক ভাগ। আমার স্বামী ও আমার টাকা সব একসাথেই খরচ করি। কখনও আলাদা আলাদা করে হিসাব করা হয় না। তাই কোরবানীর টাকা ও আলাদা আলাদা করে দেয়া হয়না। আমার স্বামীর বেতন ও আমার বেতন একসাথেই রেখে সেখান থেকে আমি সংসারের খরচ ও সঞ্চয় করি। কোরবানীর ক্ষেত্রে কি আমার বেতনের টাকা থেকে আলাদা করে এক ভাগ কোরবানী দেয়া উচিৎ? নাকি দুই ভাগ কোরবানী যে দিচ্ছি সেটাই হবে। ইসলামের বিধান অনুযায়ী ফয়সালা কি?

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

টাকা এক সাথে রাখলেও আপনাদের উভয়ের মালিকানা ভিন্ন। তাই আপনাদের পরস্পরের সম্পদ যদি আলাদাভাবে নেসাব পরিমাণ হয়,তাহলে আপনাদের উভয়ের উপর আলাদা কুরবানী করা আবশ্যক হবে।

যেহেতু দু’টি কুরবানী আপনারা দিয়ে থাকেন,তাহলে এক্ষেত্রে একটি কুরবানী নিজের নামে,অপরটি আপনার স্বামীর নামে প্রদান করুন। তাহলে উভয়ের ওয়াজিব কুরবানীই আদায় হয়ে যাবে।

নিজের নামে দেয়া কুরবানী নিজের স্থানেই দিতে হবে এমনটি শর্ত নয়। তাই ঢাকায় থেকে গ্রামেও নিজের নামে কুরবানী দেয়া যাবে।

وإنما تجب على حر مسلم مقيم موسر عن نفسه، لأنه أصل فى الوجوب عليه (مجمع الأنهر-2/516، هداية-4/443-444)

وإن شرط الوجوب منها وهو ما يتعلق به وجوب صدقة الفطر (الفتاوى الهندية-5/292)

 (وَأَمَّا) (شَرَائِطُ الْوُجُوبِ) : مِنْهَا الْيَسَارُ وَهُوَ مَا يَتَعَلَّقُ بِهِ وُجُوبِ صَدَقَةِ الْفِطْرِ دُونَ مَا يَتَعَلَّقُ بِهِ وُجُوبُ الزَّكَاةِ،………. وَالْمُوسِرُ فِي ظَاهِرِ الرِّوَايَةِ مَنْ لَهُ مِائَتَا دِرْهَمٍ أَوْ عِشْرُونَ دِينَارًا أَوْ شَيْءٌ يَبْلُغُ ذَلِكَ سِوَى مَسْكَنِهِ وَمَتَاعِ مَسْكَنِهِ وَمَرْكُوبِهِ وَخَادِمِهِ فِي حَاجَتِهِ الَّتِي لَا يَسْتَغْنِي عَنْهَا، فَأَمَّا مَا عَدَا ذَلِكَ مِنْ سَائِمَةٍ أَوْ رَقِيقٍ أَوْ خَيْلٍ أَوْ مَتَاعٍ لِتِجَارَةِ أَوْ غَيْرِهَا فَإِنَّهُ يُعْتَدُّ بِهِ مِنْ يَسَارِهِ، (الى قوله) وملك نصابا تجب عليه الاضحية، (إلى قوله) وجميع ما ذكرنا من الشرائط يستوى فيه الرجل والمرأة (الفتاوى الهندية، كتاب الأضحية، فصل شرائط الوجوب-5/292، رد المحتار، كتاب الاضحية-9/452-453، مجمع الانهر-4/167

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

তারাবীহ সালাতের চার রাকাত পর বসে প্রচলিত “সুবহানা জিলমুলুকি ওয়ালমালাকুতু” যে দুআ পড়া হয় এর কোন ভিত্তি আছে কি?

প্রশ্ন আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহ। ১) তারাবীহ নামাজের চার রাকাত পর পর কোন দোয়া পড়া …