হোম / অপরাধ ও গোনাহ / মাহরামের নগ্ন শরীর দেখার মত ঘৃণ্য পাপীর তওবা কি কবুল হবে না?

মাহরামের নগ্ন শরীর দেখার মত ঘৃণ্য পাপীর তওবা কি কবুল হবে না?

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম

আমার একটি খুব জরুরি প্রশ্ন :আমি খুবই লজ্জিত যে আপনার মতো একজন সম্মানিত
হুজুরের সাথে এরকম একটি আকাশছোঁয়া গোনাহের  কথা শেয়ার করতে হচ্ছে আমাকে।
আমার বন্ধু নাম সজীব। সে তার পাপের কথা শেয়ার করেছে আমার সাথে কারণ আমাকে তার খুবই কাছের মনে করে।

আসলে সে তার জন্মদাতা মায়ের সাথে এই আচরণ সে করেছে। তার মায়ের শরীর দেখতো খারাপ নজরে,  তার মায়ের কাপড় পাল্টানো দেখতো লুকিয়ে লুকিয়ে । কিন্তু এটা তার মা কোনো দিন জানতে বা বুঝতে পারেনি। পরিশেষে অনুশোচনা করতো ও আল্লাহর কাছে তওবা করতো নামাজ পড়ে অতপর আবার এই বিশাল পাপের সাথে শামিল হতো।

এখন সে তার ভুল বুজতে পেরেছে ভালভাবে। সে মনে করে তার এই গোনাহ কোনো দিন ক্ষমা হবে না। সে দিনে দিনে ভেংগে পড়ছে ও আল্লাহর কাছে তওবা করছে।
মূল কথা আমি মনে করি তার এই গোনাহ আল্লাহর কাছে ক্ষমার অযোগ্য।
আমার প্রশ্ন :এই বিষয়ে হাদীসে কি স্পষ্ট ভাবে কিছু বলা আছে? আর এই গোনাহ ক্ষমার যগ্য হলে কিভাবে তওবা করতে হবে মহান আল্লাহর দরবারে? আর যদি অযোগ্য হয় তাহলে কি ধরনের শাস্তি অপেক্ষা করছে তার জন্য?
আশা করি দয়া করে উত্তরটা পাঠাবেন প্রশ্ন দেখার পরে।
ধন্যবাদ

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

আসলেই এটি ঘৃণিত পাপ। মা বোনদের উচিত এমন স্থানে কাপড় পাল্টানো যেখানে কেউ দেখতে না পায়। এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত।

আল্লাহ হিফাযাত করুন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বড় দয়ালু। বড় করুণাময়। দুনিয়া ভর পাপ নিয়ে মহান রবের দরবারে দু’হাত তুলে চোখের পানি ফেলে তওবা করলে আল্লাহ তাআলা এত বড় দয়ালু যে, সাথে সাথেই উক্ত পাপীকে ক্ষমা করে দেন। তার রহমাতের চাদর দিয়ে উক্ত পাপীকে ঢেকে নেন। পবিত্র করে দেন।

আল্লাহর কাছে কোন গোনাহই ক্ষমার অযোগ্য নয়। সকল গোনাহই ক্ষমার যোগ্য। যদি কোন ব্যক্তি কৃত অপরাধের পর মহান রবের কাছে দু’চোখের পানি ফেলে সাচ্চা দিলে তওবা করে, তাহলে আল্লাহ তাআলা সকল গোনাহই ক্ষমা করে দেন।

এমন কি কুফর ও শিরকের গোনাহও।

তবে তওবা করতে হবে সাচ্চা দিলে।

তওবা করার পদ্ধতি হল,

গোনাহটি ছেড়ে দেয়া।

পূর্বের গোনাহের জন্য অনুতপ্ত হওয়া। আল্লাহর কাছে এজন্য ক্ষমাপ্রার্থী হওয়া। রবের দরবারে এজন্য রোনাজারী করা।

ভবিষ্যতে আর কখনো উক্ত গোনাহ করবে না বলে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হওয়া।

উপরোক্ত তিনটি শর্তে তওবা করলে তা কবুল হবেই ইনশাআল্লাহ।

إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ [٢:٢٢٢

নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন। [বাকারা-২২২]

إِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللَّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِنْ قَرِيبٍ فَأُولَٰئِكَ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ ۗ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا [٤:١٧] وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّىٰ إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْآنَ وَلَا الَّذِينَ يَمُوتُونَ وَهُمْ كُفَّارٌ ۚ أُولَٰئِكَ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا [٤:١٨

অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন,যারা ভূলবশতঃ মন্দ কাজ করে,অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে; এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী,রহস্যবিদ। আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে,এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়,তখন বলতে থাকেঃ আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। {সূরা নিসা-১৭-১৮}

وَإِنِّي لَغَفَّارٌ لِّمَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدَىٰ [٢٠:٨٢]

আর যে তওবা করে,ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎপথে অটল থাকে,আমি তার প্রতি অবশ্যই ক্ষমাশীল। [সূরা ত্বহা-৮২]

وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ [٢٤:٣١]

মুমিনগণ,তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর,যাতে তোমরা সফলকাম হও। [সূরা নূর-৩১]

হযরত উবাদা বিন আব্দুল্লাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ

التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ، كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ

গোনাহ থেকে তওবাকারী এমন,যেন সে গোনাহ করেইনি। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৪২৫০]

হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,

فَإِنَّ العَبْدَ إِذَا اعْتَرَفَ ثُمَّ تَابَ، تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ

বান্দা গোনাহ স্বীকার করে মাফ চাইলে আল্লাহ পাক তা কবুল করেন। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৪১৪১]

عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا أَصَرَّ مَنِ اسْتَغْفَرَ، وَإِنْ عَادَ فِي الْيَوْمِ سَبْعِينَ مَرَّةٍ

হযরত আবু বকর রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যদি কেউ ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে সে দৈনিক সত্তর বার গোনাহ করলেও সে যেন আসলে গোনাহই করেনি। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-১৫১৪]

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

তারাবীহ সালাতের চার রাকাত পর বসে প্রচলিত “সুবহানা জিলমুলুকি ওয়ালমালাকুতু” যে দুআ পড়া হয় এর কোন ভিত্তি আছে কি?

প্রশ্ন আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহ। ১) তারাবীহ নামাজের চার রাকাত পর পর কোন দোয়া পড়া …