হোম / কিতাব/বই ও লেখক পরিচিতি / বেহেশতী জেওর কিতাবের সংকলক কি মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহঃ?

বেহেশতী জেওর কিতাবের সংকলক কি মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহঃ?

প্রশ্ন

বেহেশতী জেওর আমাদের উপমহাদেশ্ একটি বহুল পরিচিত কিতাব। ঘরে ঘরে এ কিতাব বিদ্যমান। এ কিতাবের শেষে কিছু তাবিজ ও বিভিন্ন চিকিৎসার কথা লিখা আছে। এসব বিষয়ে কিছুটা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

উপরোক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি কি হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবী রহঃ নিজেই লিখেছেন?

দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হবো।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

অনেকে হাকীমুল উম্মত বলতে বুঝে থাকেন যে, উম্মতের হেকিমী ডাক্তার। আসলে বিষয়টি তা নয়। আশরাফ আলী থানবী রহঃ এ উপমহাদেশের আল্লাহ ভোলা মানুষদের জন্য অন্তরের চিকিৎসক ছিলেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নতের পাবন্দ এক সাচ্চা আল্লাহর ওলী ছিলেন। তিনি কুরআন ও হাদীসের নূর দিয়ে গোনাহে জর্জরিত অন্তরকে আল্লাহ অভিমুখী করার চিকিৎসক ছিলেন। হেকিমী চিকিৎসক নন।

বেহেশতী জেওরের শেষাংশে যেসব চিকিৎসা পদ্ধতি লিপিবদ্ধ করা আছে, এর অধিকাংশের নজীর সালাফের কিতাবে বিদ্যমান রয়েছে।

দেখুনঃ

১ আত্তিব্বুন নববী, ইবনুল কাইয়্যিমকৃত।

২ আত্তিব্বুন নববী, আবু নাঈম আলইস্ফাহানীকৃত।

৩ আলআমরাজ। ইমাম যিয়া আলমাকদিসীকৃত। ইত্যাদি।

এছাড়া লা-মাযহাবী আলেম নওয়াব সিদ্দীক হাসান খানের সংকলিত “আদদাউ ওয়াদ দাওয়া” গ্রন্থটিতে প্রায় একই টাইপের চিকিৎসা পদ্ধতি বিধৃত হয়েছে।

সুতরাং বেহেশতী জেওরের চিকিৎসা পদ্ধতির উপর অভিযোগ উত্থাপন করার আগে সালাফের উপর অভিযোগ উত্থাপন করতে হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বেহেশতী জেওর হানাফী ফিক্বহের একটি গ্রহণযোগ্য কিতাব একথা সত্য। একটি ব্যাপক সমাদৃত গ্রন্থ তা’ও সত্য।

কিন্তু এর সংকলক হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবী রহঃ কে নিশ্চিতভাবে বলা ঠিক নয়।

কারণ, হযরত থানবী রহঃ এর নিজের লেখা ও তার ভাগিনা হযরতুল আল্লাম মুফতী যফর আহমাদ উসমানী রহঃ এর লিখনী ভিন্ন কথাই প্রমাণ করে।

মাকতাবাতুল বুশরা প্রকাশনী করাচি পাকিস্তান থেকে প্রকাশিত বেহেশতী গাওহারের রোযা অধ্যায় এর ১৬৭ পৃষ্ঠার নিচে লিখিত একটি টিকায় হযরত যফর আহমাদ উসমানী রহঃ পরিস্কার লিখেছেনঃ

مولوى احمد على صاحب مؤلف بہشتی زیور অর্থাৎ মৌলভী আহমাদ আলী সাহেব বেহেশতী জেওরের সংকলক। [বেহেশতী গাওহার, রোযা অধ্যায়, ১৬৭ পৃষ্ঠা, প্রকাশনী, মাকতাবাতুল বুশরা, করাচি, পাকিস্তান]

দেখুন কিতাবের স্ক্রীণ শর্ট

ঠিক একই টিকা সংযোজিত হয়েছে আশরাফ আলী থানবী রহঃ এর ফাতওয়া গ্রন্থ “ইমদাদুল ফাতাওয়া” যাকারিয়া বুক ডিপো দেওবন্দ ছাপায় ২য় খন্ডের ১৩৫ নং পৃষ্ঠায় এবং দারুল উলুম করাচি প্রকাশনায় ২য় খন্ডের ১৬৬ পৃষ্ঠায়। কিতাবটি পাকিস্তানের মুফতীয়ে আজম মুফতী শফী রহঃ এর তারতীবক্রমে ছেপেছে।

যা পরিস্কার প্রমাণ করে বেহেশতী জেওরের মূল সংকলক হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবী রহঃ নন। বরং “আহমদ আলী” নামের একজন মাওলানা সাহেব।

এবার আরো স্পষ্ট বক্তব্য দেখুন খোদ মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহঃ থেকে।

ইমদাদুল ফাতাওয়ার দ্বিতীয় খন্ডের রোযা অধ্যায়ে বেহেশতী জেওরে উদ্ধৃত রোযার কাফফারা সংক্রান্ত একটি মাসআলা বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।

সে প্রশ্নের জবাবে থানবী রহঃ লিখেনঃ

بہشتی زیور کی سند میں تو اس وقت کوئ روایت نہیں ملی مولوی احمد علی صاحب مرحوم نے معلوم نہیں وہ مسئلہ کہا سے لکها

বেহেশতী জেওরে উল্লেখিত মাসআলার পক্ষে এখন পর্যন্ত কোন বর্ণনা পাইনি। জানা নেই এ মাসআলা মাওলানা আহমাদ আলী কোত্থেকে লিখেছেন! [ইমদাদুল ফাতওয়া, যাকারিয়া বুক ডিপো দেওবন্দ, দ্বিতীয় খন্ড, ১৩৬ পৃষ্ঠা, মাকতাবা দারুল উলুম করাচি, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ১৬৬]

ইমদাদুল ফাতাওয়ার স্ক্রীণ শর্ট

হযরত আশরাফ আলী থানবী রহঃ এর নিজের বক্তব্য এবং হযরত যফর আহমাদ উসমানী রহঃ এর বক্তব্য অনুপাতে একথা পরিস্কারভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, বেহেশতী জেওরের সংকলক আশরাফ আলী থানবী রহঃ নয়। বরং “আহমদ আলী” নামে একজন মাওলানা এ কিতাবের আসল সংকলক।

কিন্তু সংকলক হিসেবে আশরাফ আলী থানবী রহঃ এর নাম গলদ মশহুর হয়ে গেছে।

সুতরাং এ কিতাবে বর্ণিত কোন ভুল তথ্যের জন্য আশরাফ আলী থানবী রহঃ কে দোষারোপ করা অন্যায় অপবাদ ছাড়া আর কী’ হতে পারে?

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

তারাবীহ সালাতের চার রাকাত পর বসে প্রচলিত “সুবহানা জিলমুলুকি ওয়ালমালাকুতু” যে দুআ পড়া হয় এর কোন ভিত্তি আছে কি?

প্রশ্ন আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহ। ১) তারাবীহ নামাজের চার রাকাত পর পর কোন দোয়া পড়া …