হোম / নফল ইবাদত / জামাতের সাথে সালাতুত তাসবীহ নামায পড়ার হুকুম কী?

জামাতের সাথে সালাতুত তাসবীহ নামায পড়ার হুকুম কী?

প্রশ্ন
নাম: নাজমুল হোসাইন
From: মো: নাজমুল হোসাইন
বিষয়ঃ সালাতুল তাসবীহ
সালাতুল তাসবীহ নামাজ কি জামাত এর সহিত পড়া যায়। আমি এক স্থানে দেখেছি ইমাম সাহেব এই নামাজের জামাতের জন্য ঘোষণা দিল ও রাতে জামাত পরাল। যদি জামাতে পরা যায় তবে রেফারেন্স সহ উত্তর দিলে উপকৃত হব।
উত্তর
بسم الله الرحمن الرحيم

ফুক্বহায়ে কেরামগণ বলেছেন রমজানের তারাবীহ ছাড়া অন্যান্য নফল জামাতে পড়া মাকরূহ।

তবে যদি ইমাম ছাড়া দুইজন হয়, তাহলে জায়েজ আছে। কিন্তু তিনজন হলে মতভেদ আছে। বাকি ইমাম ছাড়া তিন হয়ে গেলে তা সর্বসম্মত মতানুসারে মাকরূহ।

তাই তিনের অধিক ব্যক্তিসহ সালাতুত তাসবীহ নামাযের জামাত মাকরূহ। আর تداعى তথা ডেকে একত্র করে জামাতের সাথে পড়লেতো অবশ্যই মাকরূহ।

ডেকে একত্র করার অর্থ এও যে, তিনজনের বেশি মুসল্লি হয়ে যাওয়া।

সেই সাথে এভাবে জামাত পড়া বিদআতও হবে। যে কাজ রাসূল সাঃ ও সাহাবাগণ এবং তাবেয়ীগণ করেননি, সেটিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত মনে করে পড়া বিদআত।

এ বিষয়ে দালিলীক আলোচনা জানতে হলে পড়ুন- ফাতওয়া উসমানী-১/৪৪৪-৪৫৮।

সুতরাং এভাবে লোকজনকে একত্র করে জামাতের সাথে সালাতুত তাসবীহ নামাজ জামাতে পড়ার বিদআতি কর্ম অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

أما لو اقتدى واحد بواحد أو اثنان بواحد لا يكره وإذا اقتدى ثلاثة بواحد اختلف فيه وإذا اقتدى أربعة بواحد كره اتفاقا (طحطاوى على مراقى الفلاح، كتاب الصلاة، باب الوتر واحكامه-313، حلبى كبيرى-408)

(قَوْلُهُ عَلَى سَبِيلِ التَّدَاعِي) هُوَ أَنْ يَدْعُوَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا كَمَا فِي الْمُغْرِبِ، وَفَسَّرَهُ الْوَانِيُّ بِالْكَثْرَةِ وَهُوَ لَازِمُ مَعْنَاهُ.

(قَوْلُهُ أَرْبَعَةٌ بِوَاحِدٍ) أَمَّا اقْتِدَاءُ وَاحِدٍ بِوَاحِدٍ أَوْ اثْنَيْنِ بِوَاحِدٍ فَلَا يُكْرَهُ، وَثَلَاثَةٍ بِوَاحِدٍ فِيهِ خِلَافٌ بَحْرٌ عَنْ الْكَافِي وَهَلْ يَحْصُلُ بِهَذَا الِاقْتِدَاءِ فَضِيلَةُ الْجَمَاعَةِ؟ ظَاهِرُ مَا قَدَّمْنَاهُ مِنْ أَنَّ الْجَمَاعَةَ فِي التَّطَوُّعِ لَيْسَتْ بِسُنَّةٍ يُفِيدُ عَدَمَهُ تَأَمَّلْ. بَقِيَ لَوْ اقْتَدَى بِهِ وَاحِدٌ أَوْ اثْنَانِ ثُمَّ جَاءَتْ جَمَاعَةٌ اقْتَدَوْا بِهِ. قَالَ الرَّحْمَتِيُّ: يَنْبَغِي أَنْ تَكُونَ الْكَرَاهَةُ عَلَى الْمُتَأَخِّرِينَ. اهـ (رد المحتار، كتاب الصلاة، باب الوتر والنوافل، مطلب فى كراهية الإقتداء فى النفل على سبيل التداعى-2/500)

ثُمَّ إنْ كَانَ ذَلِكَ أَحْيَانًا كَمَا فَعَلَ عُمَرُ كَانَ مُبَاحًا غَيْرَ مَكْرُوهٍ، وَإِنْ كَانَ عَلَى سَبِيلِ الْمُوَاظَبَةِ كَانَ بِدْعَةً مَكْرُوهَةً لِأَنَّهُ خِلَافُ الْمُتَوَارَثِ، (رد المحتار، كتاب الصلاة، باب الوتر والنوافل-2/48)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

আরবী মাসগুলোর নামকরণের হিকমত কী?

প্রশ্ন আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ জনাব আমরা জানি ইংরেজী ও বাংলা বার মাস সহ সাপ্তাহিক সাত …