হোম / প্রশ্নোত্তর / ইচ্ছেকৃত রোযা ভঙ্গ করলে কাযা আবশ্যক না কাফফারা?

ইচ্ছেকৃত রোযা ভঙ্গ করলে কাযা আবশ্যক না কাফফারা?

প্রশ্ন

মুফতি সাহেব  আসসালামু আলাইকুম। নিশ্চয়  ভাল আছেন। আমি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। মাফ করবেন।

আমার  প্রশ্ন  হল। যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে পানাহার  করে রোযা ভংগ করি তাহলে কি কাফফারা আদায় করতে হবে? আর কাফফারার নিয়ম  কি? এবং স্ত্রী সহবাস করে যদি দুইটি রোজা  ভঙ্গ করা হয় তাহলে কি একটির কাফফারা  আদায় করলেইই চলবে না আলাদাভাবে  দুইটির কাফফারা আদায় করতে হবে।
প্রশ্ন ২:যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে পানাহার করে রোযা ভঙ্গ করলে কাফফারা না দিতে হয়,
এমন অবস্থায় আমি যদি সহবাস  করার ইচ্ছায় পানাহার  করে রোযা ভঙ্গ করি তার পর সহবাস  করি তাহলে কি কাফফারা  আদায় করতে হবে। না কাযা করলেই হবে।

উত্তরটা দয়া করে পাঠালে  আমরা অনেকেই উপকৃত  হতাম।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

রোযা রাখার পর পানাহার বা স্ত্রী সহবাসের মাধ্যমে ইচ্ছেকৃত রোযা ভঙ্গ করা মারাত্মক গোনাহের কাজ। এর দ্বারা রমজান পরবর্তী উক্ত রোজার কাযা আদায়ও আবশ্যক হয়, আবার কাফফারা আদায়ও আবশ্যক হয়।

রোযার কাফফারা হল, রমজান শেষ হবার পর লাগাতার ৬০দিন রোযা রাখতে হবে। শারিরীকভাবে অক্ষম হলে তাহলে ৬০ জন মিসকিনকে দুইবেলা খানা খাওয়াতে হবে। যার মূল্য হল সদকায়ে ফিতির পরিমাণ। অর্থাৎ একটি সদকায়ে ফিতির পরিমাণ টাকা ৬০জন মিসকিনকে দিতে হবে।

রোযা রাখতে সক্ষম থাকা অবস্থায় টাকা দিয়ে কাফফারা আদায় করলে আদায় হবে না।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ فَقَالَ: هَلَكْتُ، قَالَ: «وَمَا أَهْلَكَكَ؟» قَالَ: وَقَعْتُ عَلَى امْرَأَتِي فِي رَمَضَانَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَعْتِقْ رَقَبَةً» قَالَ: لَا أَجِدُ، قَالَ: «صُمْ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ» قَالَ: لَا أُطِيقُ، قَالَ: «أَطْعِمْ سِتِّينَ مِسْكِينًا»

অনুবাদ- হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। রাসূল সাঃ জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাকে কে ধ্বংস করেছে? সাহাবী বললেন, রমজানে আমি আমার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে ফেলেছি। রাসূল সাঃ তাকে বললেন, তাহলে এর বদলে একটি গোলাম আযাদ কর। সাহাবী বললেন, আমি এতে সক্ষম নই। নবীজী সাঃ বললেন, তাহলে লাগাতার দুই মাস রোযা রাখ। সাহাবী বললেন, আমি এতেও সক্ষম নই। তখন রাসূল সাঃ বললেন, তাহলে তুমি ৬০ জন মিসকিনকে খানা খাওয়াও। {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৬৭১, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৬৯৪৪, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-১১০৭, সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-১৯৪৯, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৩৫২৭}

এক রমজানে একাধিক রোযা ভঙ্গ করার দ্বারা একটি কাফফারা আদায় করলেই যথেষ্ট হবে। চাই পানাহারের মাধ্যমে ভঙ্গ করুক, বা সহবাস করার দ্বারা ভঙ্গ করুক। [ইমদাদুল ফাতাওয়া-২/১৩৪-১৩৬]


ولو تكرر فطره ولم يكفر للأول يكفيه واحدة ولو في رمضانين عند محمد وعليه الاعتماد بزازية ومجتبى وغيرهما واختار بعضهم للفتوى أن الفطر بغير الجماع تداخل وإلا لا (رد المحتار، كتاب الصوم، مطلب فى الكفارة-3/391، مراقى الفلاح، فصل فى الكفارة-552، البحر الرائق–2/277

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

তারাবীহ সালাতের চার রাকাত পর বসে প্রচলিত “সুবহানা জিলমুলুকি ওয়ালমালাকুতু” যে দুআ পড়া হয় এর কোন ভিত্তি আছে কি?

প্রশ্ন আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহ। ১) তারাবীহ নামাজের চার রাকাত পর পর কোন দোয়া পড়া …