হোম / তালাক/ডিভোর্স / স্ত্রী কর্তৃক নিজের উপর তালাক প্রদান ও পুনরায় স্বামীর কাছে ফিরে আসা প্রসঙ্গে

স্ত্রী কর্তৃক নিজের উপর তালাক প্রদান ও পুনরায় স্বামীর কাছে ফিরে আসা প্রসঙ্গে

প্রশ্ন

আমার নাম আজিম…….
আমি মির্জাপুর থেকে……..
.
একটি জরুরি মাসয়ালা জানাতে চাই…..?
আমার এক বন্ধু বিবাহ করে ০৯/০৩/২০১৩ ইং তারিখে বাবা-মাকে না জানিয়ে ১লক্ষ টাকা দেনমহর ধার্য্য করে।সেখানে উপস্থিত ছিল বর- কনে ব্যাতিত ১জন ছেলে ১জন মেয়ে এবং যে কাজী বিবাহ পড়িয়াছে সে কাজী। ১০/০৩/২০১৩ ইং তারিখে এফিডেভিট করা হয় (লোক মাধ্যেমে তাদের অনুপস্থিতিতে)। যেহেতু ২জনই ছাত্র সে কারনে যে যার বাড়ী চলে যায়।
পরবর্তীতে
২০/০৩/২০১৩ ইং তারিখে ২ জন সহপাঠী স্বাক্ষী এবং ১ জন সহপাঠীকে উকিল বানিয়ে কাবিন নামা করা হয়(উল্লেখ্য যে কাবিন নামায় মেয়ের স্বাক্ষর ০৯/০৩/২০১৩ ইং তারিখেই নেওয়া হয়েছিল।
যেহেতু বিষয়টি গোপন ছিল তাই ১৮/০৭/২০১৪ ইং তারিখে ছেলে-মেয়ের পরিবার তা জেনে যায়। এ পর্যায়ে মেয়ের পরিবার বিষয়টি মিমাংসায় না এসে ছেলেটিকে তালাক দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। মেয়েটি ছেলেটিকে তালাক না দিয়ে গোপনে আত্বহত্তার জন্য বিষপান করে। হাসপাতালে চিকিৎসার মাধ্যেমে সুস্থ হওয়ার পর বাড়ী আসে।
এরপর পূর্নরায় মেয়ের বাবা আত্বহত্তার জন্য বিষ হাতে নিয়ে ছেলেটিকে তালাক দেওয়ার কথা বলে। এও বলে যে যদি সে ছেলেটিকে তালাক না দেয় তাহলে সে তার হাতের বিষ খেয়ে আত্বহত্তা করবে।এ পর্যায়ে মেয়ে রাজী হয়।
পরবর্তীতে ০২/০৯/২০১৪ ইং তারিখে স্বাক্ষর কৃত একটি তালাক নামা পাঠায় ০৯/০৯/২০১৪ ইং তারিখে ছেলেটিকে। যেখানে প্রাপ্তি স্বীকার পত্রের একটি কার্ড ছিল সেখানে তালাক নামা পাওয়ার পর স্বাক্ষর করার কথা ছিল কিন্তু অদ্যবদিও তা স্বাক্ষর করেনি।  তালাক নামায় লেখা ছিল :…..

বরাবর,
চেয়ারম্যান সাহেব,
শালিশী পরিষদ আইন বিভাগ
………….ইউপি/পৌর সভা (লেখা হয়নি)
ঠিকানা…………….. (লেখা হয়নি)

তালাত(তালাক) দাতা স্ত্রীর নাম ও ঠিকানা…….(লেখা হয়েছে)
তালাক প্রাপ্ত স্বামীর নাম ও ঠিকানা…………. (লেখা হয়েছে)
জনাব,
যথাবিহীত সম্মান প্রদর্শন পুর্বক আপনার সদয় অবগতি ও ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আবেদন করিতেছি যে, বিগত………..(লেখা হয়নি) ইং তারিখে আমাদের বিবাহ শরিয়ত মোতাবেক এবং কাবিন নামা মূলে সু-সম্পর্ন হয় কিন্তু প্রায় বহুদিন যাবৎ আমাদের পারিবারিক সুখ শান্তি ও বনিবনাট হইতেছে না এবং আমার স্বামী আমাকে মাসিক খড়পোষ দিতেছে না ও খবর গিরি করে না (অথচ ১৮/০৭/২০১৪ ইং তারিখ পর্যন্ত তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল) ইত্যাদি কারণে আমার জীবন যৌবন রক্ষা করিতে একান্ত অপারগ হইয়া আমার দেওয়া তারিখ………(লেখা হয়নি) স্মারক নং…………(লেখা হয়নি) এফিডেভিট এর ক্ষমতা বলে আমি স্বেচ্ছায় সুস্থ্য শরীরে কাহারো কোন প্রকার প্ররোচনা ব্যতিরেকে আমার নিজ নফসের প্রতি তালাকের তাফইজা গ্রহন করিলাম। এবং ১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইনে ৭ধারার ১নং উপধারা অনুসারে আপনাকে অবগত করাইলাম।
অতএব উক্ত তালাক কার্যকর করিবার জন্য জনাবের সু-আজ্ঞা হয়।
তারিখ…০২/০৯/২০১৪ইং
স্ত্রী ১ম পক্ষের স্বাক্ষর (স্বাক্ষর করেছে)।

কিন্তু বর্তমানে মেয়েটি ছেলেটির কাছে ফিরে আসতে চাচ্ছে।

এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছেঃ….

১/ এখানে বিবাহটি শুদ্ধ হয়েছে কিনা?

২/ তালাক পতিত হয়েছে কিনা? (এখানে একটি বিষয় বলতেই হয় যে কাবিন নামায় ১৮ নং কলামটিতে রয়েছে ছেলে-মেয়েকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা অর্পন করেছে কিনা সেটা ২জনের ১জনও অবগত নয়। পরে খুজ নিয়ে দেখা যায় কাজী তার ইচ্ছায় লিখে দিয়েছে)।

৩/ তারা কি পূর্ণরায় বসবাস(সংসার) করতে পারবে কিনা? (এক্ষেত্রে করনীয় কি?)।

জানালে খুব উপকৃত হব।
অনুরোধ ক্রমেঃ
মোঃ আজিম
মির্জাপুর, টাঙ্গাইল।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

আপনার উপরোক্ত বিবরণ যদি পূর্ণাঙ্গ সত্য হয়, তাহলে উপরোক্ত সূরতে বিবাহ শরীয়ত মুতাবিক শুদ্ধ হয়েছে।

আর স্ত্রীর নিজের উপর তালাক পতিত করার বিষয়টি নির্ভরশীল স্বামী তাকে তালাকের অধিকার দিয়েছে কি না? এ বিষয়টির উপর।

যদি স্বামীর জ্ঞাতসারে কাবিননামায় তালাকের অধিকার স্ত্রীকে দিয়ে থাকে, তাহলে স্ত্রীর নিজের উপর পতিত করা তালাকটি পতিত হয়েছে।

আর যদি স্বামীকে না জানিয়ে কাজী নিজের পক্ষ থেকে তালাকের অধিকার দিয়ে থাকে, তাহলে স্ত্রীর নিজের উপর পতিত করা তালাক হয়নি।

এখন অবস্থা কী? তা আপনারাই ভাল জানেন। সেই হিসেবে হুকুম বুঝে নিন।

যদি স্বামী কর্তৃক তালাকের অধিকার দেয়াও হয়ে থাকে, আর প্রশ্নোক্ত শব্দে স্ত্রী নিজের উপর তালাক পতিত করে থাকে, তাহলে স্ত্রী এক তালাকে বায়েনা হয়েছে। তাই তালাক হয়ে থাকলেও স্বামী স্ত্রী চাইলে নতুন মোহর ধার্য করে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে।

বাকি স্বামী পরবর্তীতে দুই তালাকের মালিক থাকবে।

فى الدر المختار- ( و ) شرط ( حضور ) شاهدين ( حرين ) أو حر وحرتين ( مكلفين سامعين قولهما معا ) (الدر المختار ، كتاب النكاح،-3/9)
كُلُّ كِتَابٍ لَمْ يَكْتُبْهُ بِخَطِّهِ وَلَمْ يُمِلَّهُ بِنَفْسِهِ لَا يَقَعُ بِهِ الطَّلَاقُ إذَا لَمْ يُقِرَّ أَنَّهُ كِتَابُهُ كَذَا فِي الْمُحِيطِ (الفتاوى الهندية، كتاب الطلاق، الفصل السادس فى الطلاق بالكتابة-1/379، المحيط البرهانى، كتاب الطلاق، الفصل السادس فى ايقاع الطلاق بالكتاب-4/486، تاتارخانية، كتاب الطلاق، الفصل السادس فى ايقاع الطلاق بالكتاب-3/380)

ومحله المنكوحة واهله زوج عاقل بالغ مستيقظ (الدر المختار مع رد المحتار-4/431، مجمع الانهر-2/4، النهر الفائق-2/310)

فى الفتاوى الهنديةإذا كان الطلاق بائنا دون الثلاث فله أن يتزوجها في العدة وبعد انقضائها وإن كان الطلاق ثلاثا في الحرة وثنتين في الأمة لم تحل له حتى تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا (الفتاوى الهندية-1/472-473

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

তালাকের আবেদনের প্রেক্ষিতে “আরেকবার বললে যা বলছো তা’ই হবে” বলার দ্বারা তালাক হয় কি?

প্রশ্ন বরাবর, মুহতামিম সাহেব, আসসালামু আলাইকুম। সম্মনিত মুফতি সাহেব। যদি স্বামী স্ত্রী ঝগড়ার এক পর্যায়ে …