হোম / আকিদা-বিশ্বাস / সাহাবাগণের সমালোচনা করা জায়েজ আছে?

সাহাবাগণের সমালোচনা করা জায়েজ আছে?

প্রশ্ন

এক গবেষক আলেম বলেছেন যে, হাদীসে সাহাবায়ে কেরামকে গালি দিতে নিষেধ করা হয়েছে, কিন্তু তাদের গীবত ও সমালোচনা করতে আলাদাভাবে নিষেধ করা হয়নি।

এ ব্যাপারে আপনাদের মতামত জানতে চাচ্ছি।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

সত্যিকার কোন আলেম উপরোক্ত কথাটি বলতে পারে না। এটি আলেম নামে কোন শিয়াপন্থী ব্যক্তির উক্তি হতে পারে।

সাহাবায়ে কেরাম রাঃ কে গালি দিতে নিষেধ করার কী প্রয়োজন? গালিতো যে কোন সাধারণ মানুষকে দেয়াই হারাম। সেখানে সাহাবায়ে কেরামগণকে দেয়া যে হারাম হবে, সেটি বলার কি অপেক্ষা রাখে?

হাদীসে পরিস্কার শব্দে সাহাবায়ে কেরামকে মন্দ বলতে, তাদের সমালোচনা করতে নিষেধ করা হয়েছে।

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لاَ تَسُبُّوا أَصْحَابِي، فَلَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ، ذَهَبًا مَا بَلَغَ مُدَّ أَحَدِهِمْ، وَلاَ نَصِيفَهُ

হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা আমার সাহাবীকে ছাব্ব তথা মন্দ বলো না। যদি তোমাদের কেউ এক উহুদ পরিমাণ স্বর্ণও দান করে, তবু তাদের এক মুদ বা তার অর্ধেকের সমপরিমাণও হবে না। [বুখারী, হাদীস নং-৩৬৭৩]

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ سَبَّ أَصْحَابِي فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ وَالْمَلَائِكَةِ، وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ»

হযরত আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আমার সাহাবীকে মন্দ বলবে, তার উপর আল্লাহর, ফেরেশতা এবং সমস্ত মানুষের অভিশাপ। [আলমুজামুল কাবীর, হাদীস নং-১২৭০৯, ফাযায়েলে সাহাবা, আহমাদ বিন হাম্বলকৃত, হাদীস নং-৮]

عَن ابْنِ عُمَر؛ أَن النَّبِيّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيه وَسَلَّم قَالَ: مَنْ سَبَّ أَصْحَابِي فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ.

হযরত ইবনে উমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে  আমার সাহাবীকে মন্দ বলে, তার উপর আল্লাহর অভিশাপ। [মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৫৭৫৩, আলমুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৪৭৭১, ]

من سب نبيًّا فاقتلوه ومن سب أصحابى فاضربوه

হযরত আলী রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন- যে ব্যক্তি নবীকে [ছাব্ব] মন্দ বলে, তাকে হত্যা কর। আর যে সাহাবীকে [ছাব্ব] মন্দ বলে তাকে প্রহার কর। {জামেউল আহাদীস, হাদীস নং-২২৩৬৬, জমউল জাওয়ামে, হাদীস নং-৫০৯৭, দায়লামী, ৩/৫৪১, হাদীস নং-৫৬৮৮, আস সারেমুল মাসলূল-৯২}

অভিধানে ছব্ব এর অর্থ কি?

অভিধানে ছাব্ব সরাসরি গালিকে বলে না, বরং গালির দিকে ধাবমান নিন্দাবাদকে বলে। [মুজামুল ফারকুল লাগাবিয়্যাহ, নং-১১৭৪]

হাফেজ ইবনে তাইমিয়া রহঃ বলেন-যে কথা সমাজে খারাপ ও দোষ এবং ত্রুটি হিসেবে বলা হয় তা’ই ছব্ব {আস সারেমূল মাসলূল-৫৩৪}

আরবীতে গালি বুঝাতে ব্যবহৃত হয় شتم শব্দ। “শাতাম” অর্থ হল গালি। ছাব্ব অর্থ সরাসরি গালি নয়। বরং যথার্থ অর্থ হল, মন্দ বলা, খারাপ বলা ইত্যাদি।

হাদীসেতো সাহাবায়ে কেরামগণকে গালি দেয়া না দেয়া বিষয়ে বলাই হয়নি। বলার প্রয়োজনই নেই। কারণ, গালিতো কোন ব্যক্তিকেই দেয়া বৈধ নয়। হাদীসে সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে মন্দ বলা, তাদের কটুক্তি করা, তাদের সমালোচনা করতে পরিস্কার নিষেধাজ্ঞা করা হয়েছে। এ কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “শাতাম” তথা গালি শব্দ ব্যবহার না করে ব্যবহার করেছেন “ছাব্ব” তথা মন্দ বলা।

অর্থাৎ সাহাবাগণকে মন্দ বলা, তাদের নিন্দাবাদ করাই বৈধ নয়। গালি দেয়াতো বহু দূরের বিষয়।

আল্লাহ তাআলা সাহাবা বিদ্বেষী শিয়া রাফেজীদের থেকে উম্মতে মুসলিমার ঈমানকে হিফাযত করুন। আমীন।

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

         

Print Friendly, PDF & Email

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

অনির্ধারিত কাযা রোযার ফিদিয়া কিভাবে আদায় করবে?

প্রশ্ন আসসালামু আলাইকুম সম্মানিত শায়খ, আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন।আমার কিছু প্রশ্ন ছিলো। দয়া …