হোম / ওয়াকফ/মসজিদ/ঈদগাহ / মসজিদের যায়গায় গাছ লাগানো ও তার ফল খাওয়ার বিধান কী?
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

মসজিদের যায়গায় গাছ লাগানো ও তার ফল খাওয়ার বিধান কী?

প্রশ্ন

১.মসজিদের ইমাম সাহেবের জন্য মসজিদের জায়গায় ইমাম সাহেব বা অন্য কারো হাতে লাগানো গাছ থেকে ফল-ফলাদি ভোগ করা যাবে কি?
২.মসজিদের জায়গায় সাবেক ইমাম সাহেবের হাতে লাগানো গাছ থেকে বর্তমান ইমাম সাহেব ফল ইত্যাদি ভোগ করতে পারবেন কি?

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

যায়গাটি যেহেতু মসজিদের। তো সেখানে গাছ লাগানোর ৩ সুরত। যথা-

মসজিদের জন্য গাছ লাগানো।

নিজের উপকারের জন্য গাছ লাগানো।

মসজিদের জন্য গাছ আর ফল নিজের জন্য বা গাছ ও ফল উভয়ের জন্যই।

যেহেতু স্থানটি মসজিদের। তাই মসজিদের জন্য গাছ লাগানো হলে সেই গাছ ও ফল কেবলি মসজিদের জন্যই ব্যবহার করতে হবে। কেউ ফল খেতে চাইলে মূল্য পরিশোধ করে খেতে হবে।

আর মসজিদের জন্য নিজের ব্যক্তিগত গাছ লাগানো বৈধ নয়। সেই হিসেবে গাছ যে ব্যক্তিই রোপন করুক না কেন নিজের প্রয়োজনে লাগালে সেটি তার জন্য বৈধ হবে না।

وَفِي الْهِنْدِيَّةِ عَنْ الْغَرَائِبِ: إنْ كَانَ لِنَفْعِ النَّاسِ بِظِلِّهِ، وَلَا يُضَيِّقُ عَلَى النَّاسِ، وَلَا يُفَرِّقُ الصُّفُوفَ لَا بَأْسَ بِهِ، وَإِنْ كَانَ لِنَفْعِ نَفْسِهِ بِوَرَقِهِ أَوْ ثَمَرِهِ أَوْ يُفَرِّقُ الصُّفُوفَ، أَوْ كَانَ فِي مَوْضِعٍ تَقَعُ بِهِ الْمُشَابَهَةُ بَيْنَ الْبِيعَةِ وَالْمَسْجِدِ يُكْرَهُ. اهـ.

هَذَا، وَقَدْ رَأَيْت رِسَالَةً لِلْعَلَّامَةِ ابْنِ أَمِيرِ حَاجٍّ بِخَطِّهِ مُتَعَلِّقَةً بِغِرَاسِ الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى رَدَّ فِيهَا عَلَى مَنْ أَفْتَى بِجَوَازِهِ فِيهِ، أَخْذًا مِنْ قَوْلِهِمْ: لَوْ غَرَسَ شَجَرَةً لِلْمَسْجِدِ فَثَمَرَتُهَا لِلْمَسْجِدِ، فَرَدَّ عَلَيْهِ بِأَنَّهُ لَا يَلْزَمُ مِنْ ذَلِكَ حِلُّ الْغَرْسِ إلَّا لِلْعُذْرِ الْمَذْكُورِ لِأَنَّ فِيهِ شَغْلَ مَا أُعِدَّ لِلصَّلَاةِ وَنَحْوِهَا، وَإِنْ كَانَ الْمَسْجِدُ وَاسِعًا أَوْ كَانَ فِي الْغَرْسِ نَفْعٌ بِثَمَرَتِهِ، وَإِلَّا لَزِمَ إيجَارُ قِطْعَةٍ مِنْهُ، وَلَا يَجُوزُ إبْقَاؤُهُ أَيْضًا، لِقَوْلِهِ – عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ – «لَيْسَ لِعِرْقِ ظَالِمٍ حَقٌّ» لِأَنَّ الظُّلْمَ وَضْعُ الشَّيْءِ فِي غَيْرِ مَحَلِّهِ، وَهَذَا كَذَلِكَ إلَخْ مَا أَطَالَ بِهِ. (رد المحتار، كتاب الصلاة، مطلب فى الغرس فى المسجد-2/435)

سُئِلَ نَجْمُ الدِّينِ عَنْ رَجُلٍ غَرَسَ تَالَّةً فِي مَسْجِدٍ فَكَبُرَتْ بَعْدَ سِنِينَ فَأَرَادَ مُتَوَلِّي الْمَسْجِدِ أَنْ يَصْرِفَ هَذِهِ الشَّجَرَةَ إلَى عِمَارَةِ بِئْرٍ فِي هَذِهِ السِّكَّةِ وَالْغَارِسُ يَقُولُ: هِيَ لِي فَإِنِّي مَا وَقَفْتهَا عَلَى الْمَسْجِدِ، قَالَ: الظَّاهِرُ أَنَّ الْغَارِسَ جَعَلَهَا لِلْمَسْجِدِ فَلَا يَجُوزُ صَرْفُهَا إلَى الْبِئْرِ وَلَا يَجُوزُ لِلْغَارِسِ صَرْفُهَا إلَى حَاجَةِ نَفْسِهِ، كَذَا فِي الْمُحِيطِ.

فِي فَتَاوَى أَهْلِ سَمَرْقَنْدَ مَسْجِدٌ فِيهِ شَجَرَةُ تُفَّاحٍ يُبَاحُ لِلْقَوْمِ أَنْ يُفْطِرُوا بِهَذَا التُّفَّاحِ قَالَ الصَّدْرُ الشَّهِيدُ – رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى -: الْمُخْتَارُ أَنَّهُ لَا يُبَاحُ، كَذَا فِي الذَّخِيرَةِ. (الفتاوى الهندية، كتاب الوقف، فصل فى الأشجار-2/477، المحيط البرهانى-9/149)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

মাটির ঢিলা শুকিয়ে যাবার পর দ্বিতীয়বার ইস্তিঞ্জা করা যাবে?

প্রশ্ন মাটির ঢিলা দিয়ে ইস্তিঞ্জা করার পর উক্ত ঢিলা যদি শুকিয়ে যায়। তাহলে উক্ত ঢিলা …