হোম / অজু/গোসল/পবিত্রতা/হায়েজ/নেফাস / পেশাব ঝরতেই থাকে এমন ব্যক্তি নামায তিলাওয়াত ইত্যাদি করবে?

পেশাব ঝরতেই থাকে এমন ব্যক্তি নামায তিলাওয়াত ইত্যাদি করবে?

প্রশ্ন

আমার প্রস্রাবের সমস্যা আছে। প্রস্রাবের বেগ না থাকলেও মাঝে মাঝে  খুব অল্প পরিমাণ প্রস্রাব বের হয়, এক ফোঁটারও কম আবার সব সময়ও হয় না। । না দেখলে টের পাওয়া যায়না। নামাজের পরে প্রস্রাব বের হয়েছে কিনা এটা না দেখলে বুঝা যায় না। কখন বের হয়েছে আর কখন বের হয় নাই নামাজের মধ্যে ও নামাজের পরে এই চিন্তায় থাকি। প্রত্যেক নামাজের পরে বিশেষ করে যখন অফিসে বা সফরের মাঝে নামাজ পড়তে হয় বা ফজরের নামাজের পরে প্রস্রাব বের হয়েছে কিনা এটা দেখা কঠিন হয়ে যায়। আবার বের হলে পুনরায় নামাজ পড়া এবং পুনরায় নামাজ পড়ার পর বের হলে কী করণীয় জানালে উপকৃত হতাম। ওজূ নিয়ে সন্দিহান থাকার কারণে কুরআন তেলাওয়াত ও অন্যান্য আমলের মধ্যেও কমি চলে এসেছে। বিস্তারিত জানালে উপকৃত হতাম। আবু নাইম। গাজীপুর, বাংলাদেশ।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

যদি সব সময়ই এমন হয়, তাহলে আপনি মাজূর। এক্ষেত্রে মন ছোট করার কোন কারণ নেই। ভাল কোন ডাক্তার দেখান। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তাআলা আপনার রোগটি আল্লাহ তাআলা সুস্থ করে দিবেন।

মাজূর ব্যক্তির বিধান হল, প্রতি নামাযের সময় হবার পর একবার অজু করা আবশ্যক। পরের নামাযের সময় আসা পর্যন্ত অজু পেশাব ঝরা ছাড়া অজু ভঙ্গের আর কোন কারণ না হলে অজু ভঙ্গ হবে না। বরং উক্ত অজু দিয়ে যত ইচ্ছে নামায পড়া যাবে, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি সব ইবাদতই করা যাবে। মন ছোট করা বা নিজেকে নাপাক মনে করার কোন প্রয়োজন নেই।

উদাহরণতঃ

যোহর নামাযের সময় হয় কথার কথা ১২ টা সময়। আর আসর সময় হয় ৪ টা সময়।

আপনি ১২ টা সময় অজু করলেন। এখন এ অজু দিয়ে ৪টা পর্যন্ত ফরজ নামায এবং যত ইচ্ছে নফল নামায, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি সকল ইবাদত করতে পারবেন। পেশাব ঝরতে থাকায় নতুন করে অজু করার কোন প্রয়োজন নেই।

কিন্তু যদি এর মাঝে আপনার অন্য কোন কারণে অজু ভঙ্গ হয়, যেমন পায়খানা করলেন, তাহলে আবার নতুন করে অজু করতে হবে। এ অজুও আসর নামায পর্যন্ত বাকি থাকবে।

আবার আসর সময় হয়ে গেলে সেই অজু ভেঙ্গে যাবে। নতুন করে অজু করলে তা থাকবে মাগরিব পর্যন্ত। আবার মাগরিব সময় হয়ে গেলে নতুন করে অজু করতে হবে। এভাবে প্রতি নামাযের জন্য একবার করে অজু করতে হবে। এক অজু দিয়ে সেই নামাযের সময় থাকতে সর্ব প্রকার ইবাদত করা যাবে। নতুন করে অজু করার প্রয়োজন নেই।

وصاحب عذر من به سلس) بول لا يمكنه إمساكه (أو استطلاق بطن أو انفلات ريح أو استحاضة) أو بعينه رمد أو عمش أو غرب، وكذا كل ما يخرج بوجع ولو من أذن وثدي وسرة (إن استوعب عذره تمام وقت صلاة مفروضة

بأن لا يجد في جميع وقتها زمنا يتوضأ ويصلي فيه خاليا عن الحدث (ولو حكما) لأن الانقطاع اليسير ملحق بالعدم (وهذا شرط) العذر (في حق الابتداء، وفي) حق (البقاء كفى وجوده في جزء من الوقت) ولو مرة (وفي) حق الزوال يشترط (استيعاب الانقطاع) تمام الوقت (حقيقة) لأنه الانقطاع الكامل.

وحكمه الوضوء) لا غسل ثوبه ونحوه (لكل فرض) اللام للوقت كما في – {لدلوك الشمس} [الإسراء: 78]- (ثم يصلي) به (فيه فرضا ونفلا) فدخل الواجب بالأولى (فإذا خرج الوقت بطل) أي: ظهر حدثه السابق، (الدر المختار مع رد المحتار، كتاب الطهارة، مطلب فى احكام المعذور-1/504-505

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

         

Print Friendly, PDF & Email

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

অনির্ধারিত কাযা রোযার ফিদিয়া কিভাবে আদায় করবে?

প্রশ্ন আসসালামু আলাইকুম সম্মানিত শায়খ, আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন।আমার কিছু প্রশ্ন ছিলো। দয়া …