হোম / ইতিহাস ও ঐতিহ্য / হযরত হাসান রাঃ এর ইন্তেকাল কিভাবে হয়েছিল? বিশুদ্ধ ইতিহাসের আলোকে জানতে চাই!
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

হযরত হাসান রাঃ এর ইন্তেকাল কিভাবে হয়েছিল? বিশুদ্ধ ইতিহাসের আলোকে জানতে চাই!

প্রশ্ন

আসসালামুয়ালাইকুম

প্রিয়  মুফতি সাহেব

আপনার দালিলীক উপস্থাপন আমাকে মুগ্ধ করে, বেশ আস্থা পাই, তাই ছোট্ট একটা জিজ্ঞাসা, আশাকরি নিরাশ হব না।

ইমাম হুসাইন রদীইয়াল্লাহু আনহু এর শাহাদাতের ইতিহাস  অতি আশেকে রসুলদের কল্যাণে মোটামুটি জেনে ঐতিহাসিক হয়ে গেছি, এখন হাদিসের আলোকে নবী মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম এর প্রিয় অপর দৌহিদ্র  ইমাম হাসান রদীইয়াল্লাহু আনহু এর  জীবনাবাসনের ঘটনা জানতে চাই। যা নিয়ে না কোন আশেকে রছুল রাজনীতি করে না, আবার মাতমও করে না।

আল্লাহ তায়ালা আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন

মোঃ কবির উদ্দিন

রামপুরা, ঢাকা।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

হযরত হাসান রাঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় নাতি ছিলেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ও তার ভাই হুসাইন রাঃ কে জান্নাতের যুবকদের সর্দার হবার সুসংবাদ দিয়েছেন।

সংক্ষেপে হযরত হুসাইন রাঃ এর মৃত্যুর ইতিহাস তুলে ধরছি।

হযরত হাসান রাঃ হযরত মুয়াবিয়া রাঃ এর সাথে সন্ধি চুক্তি সম্পাদন করে মদীনায় স্থায়ী বসবাস শুরু করেন।

ঐতিহাসিকরা লিখেনঃ হযরত হাসান রাঃ একটি স্বপ্ন দেখেন। যাতে তিনি তার কপালে “কুল হুয়াল্লাহু আহাদ” লেখা দেখতে পান।

এ স্বপ্ন দেখে তিনি খুব খুশি হন। এটিকে সুসংবাদ মনে করেন। তখন উক্ত বিষয়টি সে সময়কার এক প্রসিদ্ধ বুযুর্গ সাঈদ বিন মুসাইয়্যিব রহঃ শুনতে পেলে বলেন, যদি এ স্বপ্ন হযরত হাসান রাঃ দেখে থাকেন, তাহলে এর তাবীর হল, হযরতের হায়াত খুব কম বাকি আছে। অচিরেই তিনি আল্লাহর ডাকে সাড়া দিবেন।

বর্ণনাকারী বলেন, হযরত হাসান রাঃ এর কিছুদিন পরেই ইন্তেকাল করেন।

ঘটনাটি ইবনে কাসীর রহঃ তার বিখ্যাত গ্রন্থ “আলবিদায়া ওয়াননিহায়া” গ্রন্থের ৮ নং খন্ডের ৪২ নং পৃষ্ঠায় নিম্ন শব্দে এনেছেনঃ

وَقَالَ الْأَصْمَعِيُّ عَنْ سَلَّامِ بْنِ مِسْكِينٍ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ.

قَالَ: رَأَى الْحَسَنَ بْنَ عَلِيٍّ فِي مَنَامِهِ أَنَّهُ مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ، * (قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ) * فَفَرَحِ بِذَلِكَ فَبَلَغَ ذَلِكَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ فَقَالَ: إِنْ كَانَ رَأَى هَذِهِ الرُّؤْيَا فَقَلَّ مَا بَقِيَ مِنْ أَجْلِهِ.

قَالَ: فَلَمْ يَلْبَثِ الحسن بن علي بَعْدَ ذَلِكَ إِلَّا أَيَّامًا حتَّى مَاتَ.

এ ছাড়া স্বপ্নের এ ঘটনাটি এসেছেঃ মুখতাছার তারীকে ইবনে আসাকীর-৭/৩৮।

বিষপান

হযরত হাসান রাঃ এর অসুস্থ্যতা ও ইন্তিকাল বিষয়ে ঐতিহাসিকগণ বিভিন্ন বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন।

এর মাঝে প্রসিদ্ধ হল, হযরতের একজন স্ত্রীর নাম ছিল মুসাম্মাত যা’দাহ বিনতে আশআছ বিন কায়েশ কুন্দী। এ মহিলা হযরত হাসান রাঃ কে বিষ পান করায়। যার কারণে হযরত প্রচন্ড অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। বারবার টয়লেটে যাবার প্রয়োজন হতো। এ করূণ অসুস্থ্যতা প্রায় চল্লিশ দিন স্থায়ী ছিল।

ইমাম যাহাবী রহঃ সীয়ারু আলামিন নুবালা গ্রন্থে নি¤œ শব্দে ঘটনাটি উদ্ধৃত করেছেনঃ

أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ مُغِيْرَةَ، عَنْ أُمِّ مُوْسَى, أنَّ جَعْدَةَ بِنْتَ الأَشْعَثِ بنِ قَيْسٍ سَقَتِ الحَسَنَ السمَّ، فَاشْتَكَى، فَكَانَ تُوضَعُ تَحْتَهُ طِشْتٌ، وَتُرفَعُ أُخْرَى نَحْواً مِنْ أَرْبَعِيْنَ يَوْماً.

সীয়ারু আলামিন নুবালা লিজযাহাবী-৩/১৮৪, ভিন্ন মাকতাবা-৩/২৭৫, ভিন্ন মাকতাবা-৪/৩৪৪।

মুখতাছার তারীখে ইবনে আসাকীর লিইবনে মানজূর-৭/৩৯।

আরেকটি বর্ণনা

এ বিষয়ে ঐতিহাসিকগণ আরেকটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। যদ্বারা এ ঘটনার সংশ্লিষ্ট আরো কিছু বিষয় পরিস্কার হয়।

সেই সময়কার এক ব্যক্তি ছিল। যার নাম ছিল আমর বিন ইসহাক। তিনি বলেন, আমি হযরত হাসান রাঃ অসুস্থ্য থাকাকালে তাকে দেখতে গেলাম। আমরা তার অবস্থা জিজ্ঞাসা করাকালীন সময়ে তিনি বারবার টয়লেটে যেতেছিলেন। হযরত হাসান রাঃ তখন তার শারিরীক অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ আল্লাহর কসম! আমাকে কয়েকবার বিষ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এবার যতটা কঠিন বিষ দেয়া হয়েছে, আগে কখনো এতটা মারাত্মক বিষ দেয়া হয়নি। মনে হচ্ছে আমার কলিজা আলাদা হয়ে বের হয়ে যাচ্ছে।

আমর বললেন, আমি দ্বিতীয় দিন আবার হযরতের খিদমাতে উপস্থিত হলাম। দেখি হযরতের অবস্থা খুবই খারাপ।

সেই সময় হযরত হুসাইন রাঃ উপস্থিত হলেন। তিনি হযরত হাসান রাঃ কে বললেনঃ ভাই! তুমি আমাকে বল কে তোমাকে বিষ খাইয়েছে?

হযরত হাসান বললেনঃ তুমি কেন জিজ্ঞাসা করছেন? তুমি কি তাকে হত্যা করবেন?

হযরত হুসাইন রাঃ বললেনঃ হ্যাঁ।

তখন হযরত হাসান রাঃ বললেনঃ আমি তোমাকে এ বিষয়ে কিছুই বলবো না। যদি যার ব্যাপারে আমার ধারণা, সেই যদি হয়, তাহলে আল্লাহ তাআলাই কঠিন শাস্তি প্রদান করবেন। আর যদি আমার ধারণা ভুল হয়, তাহলে আমি এটা  চাই না যে, আমার কারণে কোন নিরাপরাধ মানুষ নিহত হোক।

এরপর হযরত হাসান রাঃ এ ইন্তেকাল হয়ে গেল। সেদিন ছিল ৫ই রবিউল আওয়াল ৪৯ বা ৫০ হিজরী। ইংরেজী মাসের ফেব্রুয়ারী ৬৬৯ ঈসাব্দ।

উক্ত বিষয়টি সিয়ারু আলামিন নুবালায় নিম্ন শব্দে উদ্ধৃত হয়েছেঃ

ابْنُ عُلَيَّةَ: عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ عُمَيْرِ بنِ إِسْحَاقَ، قَالَ:

دَخَلْنَا عَلَى الحَسَنِ بنِ عَلِيٍّ نَعُوْدُهُ، فَقَالَ لِصَاحِبِي: يَا فُلاَنُ! سَلْنِي.

ثُمَّ قَامَ مِنْ عِنْدِنَا، فَدَخَلَ كَنِيْفاً، ثُمَّ خَرَجَ، فَقَالَ: إِنِّيْ -وَاللهِ – قَدْ لَفظْتُ طَائِفَةً مِنْ كَبِدِي قَلَبْتُهَا بِعُوْدٍ، وَإِنِّي قَدْ سُقِيْتُ السُّمَّ مِرَاراً، فَلَمْ أُسْقَ مِثْلَ هَذَا.

فَلَمَّا كَانَ الغَدُ، أَتيتُهُ وَهُوَ يَسُوْقُ، فَجَاءَ الحُسَيْنُ، فَقَالَ: أَيْ أَخِي! أَنْبِئنِي مَنْ سَقَاكَ؟

قَالَ: لِمَ! لِتَقْتُلَهُ؟

قَالَ: نَعَمْ.

قَالَ: مَا أَنَا مُحدِّثُكَ شَيْئاً، إِنْ يَكُنْ صَاحِبِي الَّذِي أَظُنُّ، فَاللهُ أَشَدُّ نِقْمَةً، وَإِلاَّ – فَوَاللهِ – لاَ يُقتلُ بِي بَرِيْءٌ

সিয়ারু আলামিন নুবালা-৩/২৭৩, ভিন্ন মাকতাবা-৪/৩৪৩, ভিন্ন মাকতাবা-৩/১৮৩, হিলয়াতুল আওলিয়া-২/৩৮, আলবিদায়া ওয়াননিহায়া-৮/৪২।

উপরোক্ত বর্ণনা দ্বারা বুঝা গেলঃ

হযরত হাসান রাঃ এর মৃত্যুর বাহ্যিক কারণ ছিল বিষ পান।

কে বিষ পান করিয়েছিল হযরত তার নাম বলেননি। গোপন রেখেছেন।

মুমুর্ষ অবস্থায়ও ধৈর্য্য ও সবরের চূড়ান্ত পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছেন।

জীবনভর অন্যের ক্ষতি সাধন থেকে নিজেকে মুক্ত রেখেছেন।

আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের হাকীকী অবস্থা হযরত হাসান রাঃ এর এ প্রশংসনীয় আখলাক দ্বারা পরিস্ফুটিত হয়ে উঠে।

অনেক ঐতিহাসিক বিষ পান করানোর বিষয়টি উল্লেখ করেননি। অনেকেই উল্লেখ করেছেন। যারা উল্লেখ করেছেন, তাদের অনেকেই বিষ পান করিয়েছিল তার নাম উল্লেখ করেননি। অনেকেই হযরতের স্ত্রীর নাম উল্লেখ করেছেন।

প্রশ্ন হল, উক্ত স্ত্রী কেন স্বামীকে বিষ পানে হত্যা করল?

এ বিষয়টি যদিও পরিস্কার নয়। তবে একটি ইংগিত পাওয়া যায়। আল্লাহ মাফ করুন। হযরতের শানের খিলাফ শব্দে বিষয়টি উল্লেখ করা থেকে আল্লাহ তাআলা আমাদের হিফাযত করুন।

ইমাম হাসান রাঃ অধিক বিয়ে করতেন। সেই সাথে আবার তালাক প্রদান করতেন। বিষয়টি তার পিতা হযরত আলী মুরতাজা রাঃ এর বক্তব্য দ্বারা পরিস্কার। হাদীসে এসেছেঃ

قَالَ عَلِيٌّ: «يَا أَهْلَ الْعِرَاقِ، أَوْ يَا أَهْلَ الْكُوفَةِ، لَا تُزَوِّجُوا حَسَنًا، فَإِنَّهُ رَجُلٌ مِطْلَاقٌ

হযরত আলী রাঃ বলেন, হে ইরাকবাসী! হে কুফাবাসী! তোমরা হাসানের কাছে কন্যা বিয়ে দিও না, কেননা অনেক তালাক দেয়। [মুসন্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-১৯১৯৫]

قَالَ عَلِيٌّ: «مَازَالَ الْحَسَنُ يَتَزَوَّجُ وَيُطَلِّقُ، حَتَّى حَسِبْتُ أَنْ يَكُونَ عَدَاوَةً فِي الْقَبَائِلِ

হযরত আলী রাঃ বলেন, হাসান রাঃ বিয়ে করে, আবার তালাক দেয়। এভাবে চলছে। আমার শংকা হচ্ছে গোত্রে গোত্রে এ নিয়ে শত্রুতা না তৈরী হয়। [মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-১৯১৯৬]

মহিলারা স্বাভাবিকভাবে প্রচন্ড আক্রোশপ্রবণ হয়। আর স্বামীর বিষয়ে থাকে অনেক বেশি আত্মকেন্দ্রিক। এ বিষয়ে ছাড় দিতে মোটেও রাজি হয় না। মাথায় বুদ্ধিও অনেক মহিলার কম থাকে। ইল্লামাশাআল্লাহ।

এ হিসেবে স্ত্রীদের মাঝে কোন প্রকার আক্রোশ জমে থাকতে পারে। আক্রোশবশতঃ কোন স্ত্রীলোক একাজ করে বসতে পারে বলে মনে হয়। বাকি নিশ্চিতভাবে কিছুই বলা যায় না। আল্লাহ তাআলাই ভাল জানেন।

যাইহোক, হযরত হাসান রাঃ এর ইন্তেকালের পর আমীরে মুয়াবিয়া রাঃ এর নিযুক্ত মদীনার গভর্নর সাঈদ বিন আছ রাঃ জানাযারা ইমামতী করেন।

হযরত হুসাইন রাঃ হযরত সাঈদ বিন আস রাঃ কে নামায পড়ানোর জন্য আগে পাঠান। আর বললেনঃ যদি এ পদ্ধতি সুন্নত না হতো, তাহলে আমি আপনাকে আগে পাঠাতাম না। [উসদুল গাবাহ-২/১৫, মাকাতিলুত তালেবীন-১/৫১, আলমারিফা ওয়াত তারীখ-১/২১৬}

উক্ত ঘটনার আরবী পাঠ!

حدثنا سعيد عن سفيان عن سالم بن ابى حفصة عن ابى حازم الاشجعى ان حسين بن على قال لسعيد بن العاص: اقدم يعنى على الحسن، فلولا انها سنة ما قدمت

কিতাবুল মারেফা ওয়াততারীখ-১/২১৬]

হযরত আমীরে মুয়াবিয়া রাঃ এর নিযুক্ত গভর্ণর সাঈদ বিন আস রাঃ জানাযা পড়ালেন। অতঃপর তাকে স্বীয় দাদী হযরত ফাতিমা বিনতে আসাদের কবরের পাশে জান্নাতুল বাকীতে দাফন করা হয়। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৪৭ বছর।

ইবনে হাজার মক্কী রহঃ লিখেছেনঃ হযরত হাসান রাঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় ছিলেন সাত বছর। তারপর স্বীয় পিতা হযরত আলী রাঃ এর সাথে ছিলেন ৩০ বছর। তারপর ছয় মাস খলীফাতুল মুসলিমীন ছিলেন। তারপর সাড়ে নয় বছর মদীনায় বসবাস করে ইন্তেকাল করেন। [আসসাওয়ায়েকুল মুহাররামাহ-১৪১]

বক্তব্যটির আরবী পাঠ

وصلى عليه سعيد بن العاص، لأنه كان واليا على المدينة من قبل معاوية، ودفن عند جدته بنت اسد بقبة المشهورة، وعمره سبع واربعون سنة، كان منها مع رسول الله صلى الله عليه وسلم سبع سنين ثم مع ابيه ثلاثون سنة، ثم خليفة ستة اشهر ثم تسع سنين ونصف سنة بالمدينة (الصواعق المحرمة لابن حجر المكى-141)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

স্ত্রী স্বামীকে বলল ‘তুমি তিন তালাক’ এভাবে বললে তালাক হয়?

প্রশ্ন From: তারেক হুসাঈন বিষয়ঃ স্ত্রী স্বামীকে তিন তালাক বলা প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। …