হোম / আহলে হাদীস / তাওহীদ পাবলিকেশন্সের বুখারী অনুবাদে চরম ধৃষ্টতাঃ ইবনে মাসঊদ রাঃ এর স্মৃতি ভ্রম হয়েছিল? নাউজুবিল্লাহ!

তাওহীদ পাবলিকেশন্সের বুখারী অনুবাদে চরম ধৃষ্টতাঃ ইবনে মাসঊদ রাঃ এর স্মৃতি ভ্রম হয়েছিল? নাউজুবিল্লাহ!

  প্রশ্ন:

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. কি একজন ‘আত্মভোলা’ মানুষ ছিলেন? ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে অনূদিত মুসনাদে আহমদের ১/৫০২ নং পৃষ্ঠায় রফয়ে ইদাইনের আলোচনায় বলা হয়েছে যে, মুহাদ্দিসগণের মতে, ইবনে মাসউদ ছিলেন  একজন ‘আতœভোলা’ মানুষ। এর প্রমাণ শরীয়াতের অনেক মাসআলার ক্ষেত্রেই রয়েছে। তাই তাঁর বর্ণিত হাদীস শরীয়াতের অকাট্য দলীল হতে পারে না।

প্রশ্নে বর্ণিত উক্ত কথাটুকু কতটুকু সঠিক ?

উত্তর:

بسم الله الرحمن الرحيم

শুধু তাকবীরে তাহরীমার সময় রফয়ে ইয়াদাইন করা সুন্নাত। এটি শুধু হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.এরই একার আমল নয়। বরং একাধিক হাদীস ও অধিকাংশ সাহাবী ও তাবেয়ীর আমল একথা প্রমাণ করে। এ বিষয়ের বিস্তারিত দলীলের দিকে যাওয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়। এখানে আমাদের আলোচ্য বিষয় হলো রফয়ে ইদাইনের এ মাসআলাকে কেন্দ্র করে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এর মত এক জন জলীলুল কদর প্রথম সারির বর্ষীয়ান বদরী সাহাবীর ব্যক্তিত্বকে আহত ও প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। দ্বীনের প্রতি দরদ রাখেন এমন যে কেউ এ জাতীয় অভিযোগ শুনে আঁতকে উঠবেন এটাই স্বাভাবিক।

যারা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. সম্পর্কে এ জাতীয় মন্তব্য করেন তাদের কাছে কিছু জিজ্ঞাসা

১.

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. সম্পর্কে  যারা এ জাতীয় কথা লিখছেন বা বক্তব্য দিচ্ছেন তাদের এসব বক্তব্যের সারকথা হলো, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত কোন হাদীস দ্বরাই দলীল পেশ করা যাবে না। (নাউযু বিল্লাহ)

সালাফী ভাইদের দাবী অনুযায়ী  রফয়ে ইদাইনের মাসআলায় (নাউযু বিল্লাহ) হযরত আব্দুল্লাহ              ইবনে মাসউদ রা. যদি ভুলের শিকার হয়ে থাকেন তাহলে তাদের কাছে প্রশ্ন হলো-

(ক)

হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা., হযরত আলী রা., হযরত ইবনে ওমর রা. ও ইমাম মালেক রহ. সহ অসংখ্য ফকীহগণ ও  কি (নাউযুবিল্লাহ) ভূলের শিকার ছিলেন ? কারণ তাঁরাও তো কেবল নামাযের শুরুতেই রফয়ে ইদাইন করতেন।

(খ)

কুফা নগরীতে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী পাঁচশ সাহাবী সহ পনেরশ সাহাবী অবস্থান করতেন। তাঁদের মধ্যে তিনশত সাহাবী ছিলেন, যারা বাইআতে রেযওয়ানে শরীক ছিলেন এবং সত্তর সাহাবী  এমন ছিলেন, যারা বদর যুদ্ধে শরীক ছিলেন। [মুকাদ্দামা নাসবুর রয়িাহ ]

কুফা নগরীর এত বিশাল সংখ্যক সাহাবীও কী ভূলের শিকার ছিলেন?

২.

(নাউযু বিল্লাহ) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. যদি ‘আতœভোলা’ হয়ে থাকেন তাহলে তো  তাঁর সূত্রে বর্ণিত সব হাদীসই হাদীসের কিতাবসমূহ থেকে বাদ দিয়ে দিতে হবে।

আল্লামা ইবনে হজম জাহেরী তাঁর ‘আসমাউস সাহাবাহ আর-রুআত’ গ্রন্থে মুসনাদে বাকিয়্যুবনু মাখলাদকে সামনে রেখে হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীদের একটি তালিকা উল্লেখ করেছেন। উক্ত তালিকায় তিনি  হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. কে ৮৪৮ টি হাদীসের বর্ণনাকারী গণ্য করে তাঁকে দ্বিতীয় তবকায় (তথা যারা ৫০০-১০০০পর্যন্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন)  শুমার করেছেন। তাহলে  হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত এত বিশাল ও বিপুল হাদীসের কি অবস্থা হবে?

বিশেষত বুখারী ও মুসলিম শরীফে তাঁর থেকে বর্ণিত হাদীসের কথাই চিন্তা করুন। কেননা তাঁর সূত্রে বর্ণিত মুত্তাফাক আলাইহি তথা ইমাম বুখারী ও মুসলিমের যৌথভাবে সংকলিত হাদীসের সংখ্যা ৬৪ টি। বুখারী স্বতÍন্ত্রভাবে তাঁর সূত্রে বর্ণিত হাদীস সংকলন  করেছেন ২১টি। আর ইমাম মুসলিম  ৩৫ টি। (সিয়ারু আলামিন নুবালা, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.এর জীবনী)

৩.

রিজালশাাস্ত্রের ইমামগণ তাকে হাফেজে হাদীসের কাতারে শামিল করেছেন। যেমন হাফেজ যাহাবী রহ. তাঁর তাযকিরাতুল হুফফাজ গ্রন্থে তাঁর জীবনী পঞ্চম নাম্বারে এনেছেন। বিষয়টি আরেকটু খোলাসা করে বলি।

মুহাদ্দিস আলেমগণ তথা হাদীস বিশারদগণ হাফেজে হাদীসদের জীবনচরিত- নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে অসংখ্য কিতাব রচনা করেছেন। সে সব গ্রন্থে কেবল ঐ সব বিদ্বান-বিদুষীদের নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যারা নিজ নিজ যুগে হাদীসের হাফেজ ছিলেন। এগুলোর মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ গ্রন্থ হলো ‘তাজকিরাতুল হুফফায’। এর রচয়িতা হাফেজ শামসুদ্দীন আয-যাহাবী রহ. (মৃ.৭২৮ হি.)। তিনি তাঁর এ আঁকর গ্রন্থে এমন কাউকে নিয়ে আলোচনা করেননি, যাকে হাফেজে হাদীসদের কাতারে গণ্য করা হয় না। এ কারণে তিনি আল্লামা কুতায়বা সম্পর্কে লিখেছেন-“ইবনে কুতায়বা ইলমের খনি বটে; কিন্তু হাদীসের খিদমতে তাঁর অবদান যেহেতু অপ্রতুল তাই এ গ্রন্থে তাকে নিয়ে আলোচনা করা হলো না ” (তাযকিরাতুল হুফফায, ২/৬৩৩)

খারেজা বিন যায়েদ রহ. যদিও ‘ফুকাহায়ে সাবআ’ তথা  মক্কার বিখ্যাত সাত ফক্বীহের একজন ছিলেন, কিন্তু আল্লামা যাহাবী রহ. তাঁর ব্যাপারে স্পষ্ট করেই বলেছেন যে, “তাঁর জ্ঞাত হাদীসের সংখা যেহেতু নিতান্ত কম তাই আমি হাফেজে হাদীসদের তালিকায় তাঁর নামটি উল্লেখ করিনি”। এমনিভাবে এ গ্রন্থে ঐ সকল মনীষীদের নামও আনা হয়নি, যারা হাফেজে-হাদীস বটে; কিন্তু হাদীস বিশারদগণের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ নন। ফলে আল্লামা যাহাবী রহ. ইমাম ওয়াক্বেদী ও হিশাম কালবীকে এ কারণেই হাফেজে-হাদীসদের কাতারে গণ্য করেননি।

হাফেজ শামসুদ্দীন আযযাহাবী (৭৪৮ হি.) রহ. তাঁর ‘তাযকিরাতুল হুফফাজ’ কিতাবের শুরুতে লিখেছেনÑ

هذه تذكرة بأسماء مُعَدلي حملة العلم النبوي، ومن يرجَع إلى اجتهادهم في التوثيق والتضعيف والتصحيح والتزييف.

 “এ গ্রন্থে ইলমে নবুওয়াতের ঐ বিশ্বস্ত ধারক-বাহকগণের আলোচনা রয়েছে, যাদের সিদ্ধান্ত ও গবেষণার শরণাপন্ন হতে হয় ছিকা ও যয়ীফ রাবী নির্ণয় এবং সহীহ ও যয়ীফ হাদীস চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে”। ‎

হাফেজ যাহাবী রহ. এর বক্তব্য থেকে সুস্পষ্ট যে, কোন ‘আত্মভোলা’ মানুষের জীবনী তিনি এ গ্রন্থে আনেননি।

নাসবুর রায়াহ ও ফিকহুস  সুন্নাহ এর নামে তথ্য জালিয়াতি:

তাওহীদ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত বুখারী শরীফের টীকায় ১/৩৫৭ এ নসবুর রায়াহ ও ফিকহুস সুন্নাহ এর উদ্ধৃতিতে  হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. সম্পর্কে বলা হয়েছে যে,

মুহাদ্দিসীনে কিরামের নিকট একথাটি প্রসিদ্ধ যে, তাঁর শেষ বয়সে বার্ধক্যজনিত কারণে স্মৃতি ভ্রম ঘটে, ফলে হতে পারে এ হাদীসটিও সে সবের অন্তর্ভুক্ত।  … (শেষ পর্যন্ত)

উপরের দাগ দেওয়া অংশটুকু লা-মাযহাবী ভায়েরা কোথা থেকে আবিস্কার করলেন ?

তাদের কাছে কি তথ্য আবিস্কার ও জালিয়াতির যন্ত্র আছে?

নাসবুর রায়াতে যে বিষয়টি বোঝানো হয়েছে

উল্লেখ্য যে, নাসবুর রায়াতে অনেক ইমামের কওল নিয়ে আসা হয় তা খন্ডন করার জন্য কিন্তু আমাদের লা-মাযহাবী ভায়েরা খন্ডন উল্লেখ করার দিকে মনোযোগী হন না । আমাদের কাছে এর অনেক প্রমাণ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ধোঁকায় পড়ে যান । তারা মনে করেন  ইমাম যায়লায়ী রহ. বুঝি এটার সাথে সহমত ব্যক্ত করেছেন। অথচ বাস্তবে বিষয়টি এর সম্পূর্ণ উল্টা।

তাহলে ইমাম যায়লায়ী রহঃ এর কিতাব নাসবুর রায়াহ গ্রন্থের উদ্ধৃতি দেয়া কত বড় জালিয়াতি ভাবা যায়?

সেই সাথে তাওহীদ পাবলিকেশন্সের টিকায় হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রাঃ এর নাম উল্লেখ করতে গিয়ে রাজিঃ শব্দটি পযন্ত লিখা হয়নি। কতবড় স্পর্ধা হলে, কত বড় সাহাবা বিদ্বেষী হলে এমন মানসিকতা প্রদর্শন করতে পারে তথাকথিত আহলে হাদীসরা?

 এ গলতের ভিত্তি কোথায় ? 

শাফেয়ী মাযহাবের ফকীহ আবু বকর বিন ইসহাক (আহমদ বিন ইসহাক বিন আইয়ুব আন নিশাপুরী) তিনি রফয়ে ইদাইনের আলোচনা করতে গিয়ে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এর তাকবীরে তাহরীমা ছাড়া অন্যত্র রফয়ে ইদাইন না করা সম্পর্কে  কল্পনাপ্রসূত একটি দূরবর্তী সম্ভাবনার কথা বলেছেন। সুনিশ্চিতভাবে ভুলে গেছেন এরূপ কথা তিনি বলেন নি। এবং তাঁর মতের স্বপক্ষে তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এর সাতটি মাসআলা ও বিষয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি রফয়ে ইদাইনের ব্যাপারে নিসয়ানের কাল্পনিক অভিযোগ করেছেন।

তবে তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. কে ‘আত্মভোলা’ বলেন নি।  ‘আত্মভোলা’ এক জিনিস। আর তাঁর দৃষ্টিতে গুটি কতেক মাসআলায় ভুলের শিকার হওয়া আরেক জিনিস। উভয়ের মাঝে রয়েছে আসমান-জমীনের ফারাক। তাছাড়া কোন সাহাবীর কোন কোন মাসআলার ব্যাপারে ভিন্ন মত থাকতে পারে। তাই বলে তা বর্ণনা বা আলোচনা করতে গিয়ে আদবের গন্ডি থেকে বের হয়ে আসতে হবে ? তাঁর মত মর্যাদাবান সাহাবীর নামের শেষে সম্মানসূচক রাঃ শব্দটুকুও ব্যবহার করা হবে না?

শাফেয়ী মাযহাবের ফকীহ আবু বকর বিন ইসহাক এর বিচ্যুত মত ও তার খণ্ডন!

আরবীতে একটি প্রবাদ আছে। প্রত্যক ভাল ঘোড়াই হুচট খায়, আবার ভাল তীরান্দাজের তীরও অনেক সময় নিশানা বিচ্যুত হয়। আলোচিত মাসআলায় আবু বকর বিন ইসহাক এর অবস্থা তেমনই। তিনি অনেক বড় ব্যক্তি হওয়া সত্বেও হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এর ব্যাপারে তিনি নিজেই ভূলের শিকার হয়েছেন।

আল্লামা আব্দুল আযীয পাঞ্জাবী রহ. নসবুর রায়াহ এর টীকাতে (১/৩৯৭-৪০১ পর্যন্ত) আবু বকর বিন ইসহাক এর প্রত্যেকটা কথার দালিলিক খন্ডন করেছেন। আগ্রহী পাঠকগণ তা দেখে নিতে পারেন। আলোচনার দীর্ঘ সূত্রতার আশংকায় আমরা আর সে দিকে গেলাম না। তাছাড়া উপরের আলোচনাতেও তাঁর কথার জওয়াব এসে গেছে।

হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এর সতর্কতা :

হাফেজ শামসুদ্দীন আযযাহাবী (৭৪৮ হি.) রহ. তাঁর ‘তাযকিরাতুল হুফফাজ’  গ্রন্থে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. সম্পর্কে বলেন-

كان ممن يتحرى في الاداء  ويشدد في الرواية ويزجر تلامذته عن التهاون في ضبط الالفاظ.

অর্থাৎ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. হাদীস গ্রহণ ও বর্ণনার ক্ষেত্রে অনেক সর্কতা অবলম্বন করতেন এবং কঠোরতাও করতেন।  যবতুল আলফায তথা হাদীসের শব্দ আতœস্থ করার ক্ষেত্রে অলসতার ব্যাপারে তিনি তাঁর শাগরেদবৃন্দকে ধমক দিতেন। (তাযকিরাতুল হুফফাজ, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এর জীবনী )

(তাঁর এরূপ সতর্ক নীতির কারণেই) তিনি তাঁর জ্ঞাত হাদীসের তুলনায় খুব কমই রেওয়ায়েত করতেন। এবং হাদীসের শব্দ র্বনার ক্ষেত্রে অনেক সতর্কতা অবলম্বন করতেন।

আবু আমর শায়বানী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,

  كنت اجلس إلى ابن مسعود [ حولا (1) ] لا يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وآله، فإذا قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم استقلته الرعدة وقال: هكذا، أو نحو ذا أو قريب من ذا أو أو.

অর্থাৎ আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এর মজলিসে এক বছর যাবৎ বসেছি। তিনি  (কোন কথা বর্ণনা করতে গিয়ে) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন এরূপ বলতেন না। আর যখন তিনি ‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন’ এরূপ বলতেন তখন তিনি প্রকম্পিত হতেন। এবং তিনি বলতেন- (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরূপ বলেছেন। অথবা অনুরূপ বা এর কাছাকাছি বলেছেন।(তাযকিরাতুল হুফফাজ ১/১৫)

তাওহীদ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত বুখারী শরীফের যারা টীকা লিখেছেন এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে যারা  মুসনাদে আহমদের টীকা লিখেছেন তারা কি এসব বিষয় জানেন না ? নাকি জানলেও  পক্ষপাতপ্রবণের শিকার হয়েছেন আল্লাহ তাআলাই ভাল জানেন। আমরা তাঁদের হিদায়েতের জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে দোআ করি।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মূল্যায়ন:

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এর মানাকিব  (বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী ) বিষয়ে প্রসিদ্ধ সব হাদীসের কিতাবেই আলোচনা রয়েছে। রয়েছে তাঁর অত্যুচ্চ মাকাম সম্পর্কে শীর্ষ সাহাবয়ে কেরামের প্রাজ্ঞচিত মন্তব্য। আমরা সে দীর্ঘ আলোচনার দিকে না গিয়ে কেবল হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কিছু মূল্যায়ন তুলে ধরছি।

১.

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

اقرءوا القرآن من أربعة نفر من ابن أم عبد – فبدأ به – ومن أبى بن كعب ومن سالم مولى أبى حذيفة ومن معاذ بن جبل

তোমরা চার ব্যক্তির কাছ থেকে কুরআন শেখ । ইবনে উম্মে আবদ (আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ) উবাই বিন কাব, আবু হুযাইফার আজাদকৃত গোলাম সালেম এবং মুয়ায ইবনে জাবাল (সহীহ বুখারী, হাদীস:৩৭৫৮ সহীহ মুসলিম হাদীস:২৪৬৪)

২.

আরেক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

اقتدوا باللذين من بعدي من أصحابي أبي بكر وعمر ، واهتدوا بهدي عمار ، وتمسكوا بعهد ابن مسعود.

আমার পর তোমরা আমার সাহাবীগণের মধ্যে দুই ব্যক্তিকে অনুসরণ করবে-আবু বকর এবং ওমর ;আম্মার-এর আদর্শে আদর্শবান হবে আর ধর্মীয় বিষয়ে ইবনে মাসউদকে মেনে চলবে। (তিরমিযী ৩৮০৫)

৩.

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. সম্পর্কে এও বলেছেন-

رضيت لأمتى ما رضى لها ابن ام عبد

আমার উম্মতের জন্য ইবনে মাসউদ যা পছন্দ করে আমিও তাই পছন্দ করি। (মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস:৫৩৭৮)

এত বড় একজন সাহাবী। হাফেজে হাদীস সাহাবী। রাসূল সাঃ এর প্রিয়ভাজন সাহাবী। উম্মতে মুসলিমার মাঝে স্বীকৃত একজন ফক্বীহ সাহাবীর বিষয়ে এমন জঘন্য অপবাদ!

কি শব্দে আমরা প্রতিবাদ করবো আমাদের ভাষা নেই।

তাওহীদ পাবলিকেশন্সের বুখারী অনুবাদকের তালিকায় প্রায় সতের জনের নাম রয়েছে। যাদের অধিকাংশই মাদানী স্কলার।

আমাদের প্রশ্ন হল, মদীনা ইউনিভার্সিটির কোন শিক্ষকও তাদের মত হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রাঃ এর উপর শিয়াদের এমন অভিযোগ উত্থাপন করেছেন? শুধু নিজের মতবাদের উল্টো হবার কারণে নবীজী সাঃ এর প্রিয় সাহাবীকে প্রতিপক্ষ বানানো কত বড় ধৃষ্টতা তা সহজেই অনুমেয়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের তথাকথিত আহলে হাদীস/লা-মাযহাবী শায়েখদের প্রতারণা ও ধোঁকাবাজী থেকে এদেশের সরলপ্রাণ মুসলমানদের হিফাযত করুন।

 والله اعلم بالصواب

উত্তর লিখনে

মাওলানা মুহসিনুদ্দীন খান

সহকারী গবেষক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

সত্যায়ন ও সংযোজন

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা-ইমাম আবূ হানীফা ইসলামী রিসার্চ সেন্টার পিরোজপুর।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

মৃত স্ত্রীকে স্বামী বা মৃত স্বামীকে স্ত্রী গোসল দিতে পারবে কি?

প্রশ্ন স্বামী মারা গেলে স্ত্রী তাকে গোসল দিতে পারবে? স্ত্রী মারা গেলে স্ত্রী তার স্বামীকে …