হোম / ইলমে হাদীস / মাকামে ইমাম আযম আবু হানীফা রহঃ

মাকামে ইমাম আযম আবু হানীফা রহঃ

আল্লামা আবূ সাবের আব্দুল্লাহ দা.বা.

হিদায়েত লাভের জন্য কুরআন হাদীছ মানা যেমন জরুরী তেমনি কুরআন হাদীছের ব্যাখ্যা হিসাবে সাহাবীগণের মতামত ও কর্ম, তাবেঈ ও তাবে তাবেয়ীগণের মতামত এবং দ্বীনের ইমাম ও উলামায়ে কেরামের মতামত লক্ষ্য রাখাও জরুরী। দীনের সহীহ ব্যাখ্যা, সমজ, বুঝ এবং রুচি প্রকৃতি রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাহাবায়ে কেরাম তাবেয়ীন ও তাবে তাবেয়ীন হয়ে নিরবিচ্ছিন্ন সূত্র ও কর্মের শ্রোতধারার মাধ্যমে পরবর্তীদের নিকট পৌঁছেছে। কাজেই যারা সাহাবী, তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ী ও আয়েম্মায়ে দীন এবং প্রাজ্ঞ উলামায়ে কেরামের ব্যাখ্যাকে উপেক্ষা করে কুরআন হাদীস বোঝার চেষ্টা করে তাদের গোমরাহী অনিবার্য। এই মূলনীতি লংঘন করার কারণে ইসলামের ইতিহাসে খারিজী, শিয়া, বাতিনী  এবং কাদিয়ানী ইত্যাদি বাতিল ফেরকা জন্ম লাভ করে।

কুরআন কারীমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

فَإِنْ آمَنُوا بِمِثْلِ مَا آمَنْتُمْ بِهِ فَقَدِ اهْتَدَوْا وَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّمَا هُمْ فِي شِقَاقٍ

অতঃপর তারা যদি সে রকম ঈমান আনে যেমন তোমরা (সাহাবীরা) ঈমান এনেছ তবে তারা সঠিক পথ পেয়ে যাবে। আর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তারা মূলত শত্রুতায় লিপ্ত হয়ে পড়েছে। বাকারা:১৩৭

বুঝা গেল সাহাবায়ে কেরাম পরবর্তী সকলের ঈমান আমলের মাপকাঠি।

وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ

মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথমে ঈমান এনেছে এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আল্লাহ তাদের জন্য এমন উদ্যানরাজি তৈরী করে রেখেছেন যার তলদেশে নহর বহমান। তাতে তারা সর্বদা থাকবে। এটাই মহা সাফল্য। তাওবা :১০০

 يا ايها الذين امنوا اطيعوا الله واطيعوا الرسول واولى الامر منكم

হে মুমিনগণ, তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর, তাঁর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা ইখতেয়ারধারী (শাসক, আলেম, ফকীহ) তাদেরও। আলে ইমরান :৫৯

وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا

যে কেউ রাসূলের বিরুদ্ধাচারণ করে তাদের কাছে সরল পথ প্রকাশিত হওয়ার পর এবং সকল মু‘মিনের অনুসৃত পথের (আলেমদের ইজমার) বিরুদ্ধে চলে, আমি তাকে ওই দিকেই ফেরাব যেদিক সে অবলম্বন করেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। আর তা নিকৃষ্টতর গন্তব্যস্থান। সূরা নিসা:১১৫

হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে

إنه من يعش منكم فسيرى اختلافا كثيرا، فعليكم بسنتى وسنة الخلفاء الراشدين المهديين تمسكوا بها وعضوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومحدثات الامور فإن كل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة.

মনে  রেখো, আমার পরে তোমাদের যারা জীবিত থাকবে তারা বহু মতানৈক্য দেখতে পাবে। তখন আমার সুন্নত ও আমার হেদায়েতপ্রাপ্ত খলীফাগণের সুন্নতকে আকড়ে রাখবে। একে অবলম্বন করবে এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে প্রাণপণ করে কামড়ে রাখবে। এবং তোমরা (ধর্মীয় বিষয়ের) নব আবিস্কৃত বিষয়াদি থেকে খুব সতর্কতার সাথে বেঁচে থাকবে। কেননা প্রতিটি নব আবিস্কৃত বিষয় বেদআত।  আর প্রতিটি বেদআত হল গোমরাহী। সুনানে আবু দাউদ: ৪৬০৭ জামে তিরমিযী ২৬৭৬.

عن ابن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : (إن الله لا يجمع أمتى- أو قال أمة محمد – على ضلالة ، ويدالله على الجماعة ، ومن شذ شذ إلى النار) .

আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ আমার উম্মতকে কিংবা বলেছেন মুহাম্মদ (সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উম্মতকে গোমরাহীর উপর  ঐক্যবদ্ধ করবেন না। আল্লাহর হাত রয়েছে জামাআর উপর। যে বিচ্ছিন্ন হয় সে জাহান্নাম অভিমুখে বিচ্ছিন্ন হয়। জামে তিরমিযী:২৩০৫

হাদীছ শরীফে আরো বর্ণিত আছে-

تفترق أمتي على ثلاث وسبعين ملة كلهم في النار إلا ملة واحدة قالوا:  من هي يا رسول الله؟ قال ما أنا عليه وأصحابي

অর্থাৎ ইমাম খুরাইবী রহ.বলেন, অজ্ঞ বা হিংসুক ছাড়া আর কেউ ইমাম আবু হানীফা সম্পর্কে কটুক্তি করবে না। তিনি আরো বলেন, মুসলমানদের ওপর ওয়াজিব তাদের নামাযে ইমাম আবু হানীফার জন্য দুআ করা। (ইমাম বুখারীর খাস উস্তাদ, মুহাদ্দেছ) মক্কী ইবনে ইবরাহীম বলেন, ইমাম আবু হানীফা তার যুগের সবচে বড় আলেম ছিলেন। মানাকিবুল ইমাম আবু হানীফা: ২৭ পৃ.

قال الخريبى : ما يقع فى أبى حنيفة الا جاهل او حاسد- ابو مسلم الكجى عن محمد بن سعد الكاتب عن الخريبى أنه قال: يجب على اهل الاسلام ان يدعوا الله لأبى حنيفة فى صلاتهم- وعن مكى بن ابراهيم قال: كان ابو حنيفة أعلم أهل زمانه.

অর্থাৎ ইমাম খুরাইবী রহ.বলেন, অজ্ঞ বা হিংসুক ছাড়া আর কেউ ইমাম আবু হানীফা সম্পর্কে কটুক্তি করবে না। তিনি আরো বলেন, মুসলমানদের ওপর ওয়াজিব তাদের নামাযে ইমাম আবু হানীফার জন্য দুআ করা। (ইমাম বুখারীর খাস উস্তাদ, মুহাদ্দেছ) মক্কী ইবনে ইবরাহীম বলেন, ইমাম আবু হানীফা তার যুগের সবচে বড় আলেম ছিলেন। মানাকিবুল ইমাম আবু হানীফা: ২৭ পৃ.

Print Friendly, PDF & Email

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

আমরা যেভাবে বিতর সালাত আদায় করি হাদীসে এর কোন প্রমাণ নেই?

প্রশ্ন From: মো: আবু সালেহ্, লালমনিরহাট। বিষয়ঃ বিতর নামাজ আস‌্সালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহি ‌ওয়াবারকাতুহ্। মুফতি সাহেব …