হোম / কুরআন ও হাদীসের ব্যাখ্যা / সুবহে সাদিক ও ফজরের সময় কখন শুরু হয়? একটি তাহকীকী ফাতওয়া
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন


বিজ্ঞাপন বিভাগ : 02971547074038  01922319514
Hafiz Khasru  Din Islam বিস্তারিত»


বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

সুবহে সাদিক ও ফজরের সময় কখন শুরু হয়? একটি তাহকীকী ফাতওয়া

ভূমিকা

মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক

الحمد لله وسلام على عباده الذين اصطفى، أما بعد!

সময়মতো নামায আদায় করা প্রত্যেক মুকাল্লাফ ব্যক্তির উপর ফরয। এজন্য নামাযের সময়ের ব্যাপারে সাধারণ জ্ঞান রাখাও সকলের উপর ফরয। তবে প্রত্যেক নামাযের সময়সূচী বিস্তারিতভাবে জানা, এর শুরু-শেষ সম্পর্কে দালীলিকভাবে অবগত হওয়া এবং তার প্রচার-প্রসার করা যদিও প্রত্যেকের জন্য ফরয নয়; তথাপি তা অবশ্যই ফরযে কেফায়ার অন্তর্ভুক্ত। আলহামদু লিল্লাহ, প্রত্যেক যুগে উলামায়ে কেরাম এ ফরয দায়িত্ব আঞ্জামও দিয়ে আসছেন। শরীয়তে ইসলামীর এ এক সৌন্দর্য যে, তাতে নামাযের সময়গুলোকে ফিতরী আলামত তথা স্বভাবজাত ও প্রাকৃতিক নিদর্শনাবলীর সাথে সম্পৃক্ত রাখা হয়েছে। যাতে স্বাভাবিক পর্যবেক্ষণেই আওয়াম-খাওয়াছ, শিক্ষিত-নিরক্ষর সকলেই অতি সহজে নামাযের সময়সূচী বুঝে নিতে পারে।

শরীয়তে এ সময় সম্পর্কে অবগতি লাভ করার মূলভিত্তি হচ্ছে চোখে দেখা। জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব  নয়।[1] তবে যদি বার বার নিরীক্ষণের পর জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবের শুদ্ধাশুদ্ধির ব্যাপারে পরিপূর্ণ আস্থাশীল হওয়া যায়, তাহলে তা গ্রহণ করতে এবং তার আলোকে তৈরিকৃত ক্যালেন্ডারের সময়সূচী অনুযায়ী নামায আদায় করায় কোনো সমস্যা নেই। কেননা, শরীয়ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রতিদিন নামাযের সময়ের আলামতগুলোকে স্বচক্ষে দেখতে বাধ্য করে দেয়নি। ফজরের নামাযের ওয়াক্ত শুরু হয় ‘ফজরের’ সময় অর্থাৎ সুবহে সাদিক উদিত হওয়া থেকে এবং সূর্য উদিত হওয়ার সূচনামুহূর্তে তা শেষ হয়। এটা তো একটি স্বতঃসিদ্ধ মাসআলা- যা সকলেই জানেন।

‘সুবহে সাদিক’ আর ‘তুলুয়ে শামস’ (সূর্য উদয়) উভয়টিই হচ্ছে প্রকাশ্য আলামত। আর গোটা দুনিয়ার মুসলিমসমাজ এ আলামাতের ভিত্তিতেই বছরব্যাপী ফজর আদায় করেন এবং রমযানে সাহরী শেষ করেন।

মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণ (ঐ যুগে যাদের অধিকাংশই দ্বীনদার ছিলেন এবং যাদের অনেকেই জ্যোতির্বিজ্ঞানী হওয়ার সাথে সাথে আলেমেদ্বীনও ছিলেন) যখন সুবহে সাদিকের সময়কে শাস্ত্রীয় হিসাবের ভিত্তিতে বর্ণনা করার ইচ্ছা করলেন তখন তারা গুরুত্বের সাথে চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণও অব্যাহত রাখলেন। আর পূর্ববর্তী শতাব্দীগুলোতে যখন জ্যোতির্বিজ্ঞানের মূল কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ মুসলিম উম্মাহর হাতে ছিল তখন তো প্রজন্মের পর প্রজন্ম এ পর্যবেক্ষণের ধারা  অব্যাহত ছিল।

মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের অধিকাংশই নিজেদের পর্যবেক্ষণের যে ফলাফল উল্লেখ করেছেন, তা হল- সূর্য দিগন্তের ১৮ ডিগ্রি নিচে থাকতেই সুবহে সাদিক উদিত হয়ে যায়। তাদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ সূর্য ১৯ ডিগ্রি নিচে থাকতেই সুবহে সাদিক উদিত হয় বলে পর্যবেক্ষণে বলেছেন। এক-দুজন ২০ ডিগ্রির কথাও উল্লেখ করেছেন। তবে আহলে ফন তা গ্রহণ করেননি।

ইসলামী দুনিয়ার প্রাচীন ও ঐতিহাসিক মসজিদগুলোতে সাধারণত ১৮ ডিগ্রিতে সুবহে সাদিক ধরে আযান হয়ে আসছে। কোনো কোনো অঞ্চলে ১৯ ডিগ্রি হিসাবেও আযান হয়েছে। আমাদের এই উপমহাদেশের পুরাতন ক্যালেন্ডারগুলো ১৮ ডিগ্রি হিসাবে তৈরি হয়ে আসছিল  এবং সে অনুযায়ী আমল অব্যাহত ছিল, এখনো আছে। হযরত মাওলানা মুফতী আমীমুল ইহসান রাহ. ঢাকার জন্য  যে সময়সূচী তৈরি করেছেন তাতেও ১৮ ডিগ্রি হিসাবে সুবহে সাদিক নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তারই নকশার ভিত্তিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নকশা তৈরি করা হয়েছে। সে অনুযায়ী পুরো দেশে আমল চলছে, কোনো আপত্তি হয়নি।

এটা তো জানা কথা যে, শরীয়ত ফজর ও অন্যান্য এবাদতের সময়কে বিশেষ কোনো ডিগ্রির সাথে যুক্ত করে দেয়নি। যুক্ত করেছে প্রকাশ্য আলামতের সাথে। ডিগ্রির হিসবাটি এসেছে মূলত শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত আলামত পর্যবেক্ষণের পর। তাই এক্ষেত্রে মুশাহাদা বা পর্যবেক্ষণটাই মূল। আর তা ১৮/১৯ ডিগ্রির বক্তব্যকেই সমর্থন করে।

আজও যে কেউ বিষুবীয় অঞ্চলে এ বাস্তবতাটি পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পারেন। শর্ত হল, পর্যবেক্ষণের জন্য এমন এলাকা নির্বাচন করতে হবে যেখানে বৈদ্যুতিক আলো নেই এবং এমন সময় পর্যবেক্ষণ করতে হবে যখন দিগন্তে চাঁদের আলো থাকে না, সাথে সাথে দিগন্ত মেঘ, ধোঁয়া, জলীয়বাষ্প ও ধুলোবালি মুক্ত থাকে। এবং পর্যবেক্ষণকারী ও উদয়স্থলের মাঝে কোনো আড়াল থাকে না। আর পর্যবেক্ষণও করতে হবে ধারাবাহিকভাবে, অনেক দিন। কারণ, হঠাৎ করে দেখে সুবহে সাদিক উদয়ের সময়ের ক্ষীণ আলো ধরা যায় না। প্রখর দৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তিও তা বুঝতে পারে সুবহে সাদিকের উদয় বারবার দেখে অভ্যস্ত হলে।

আমাদের মনে রাখতে হবে শরীয়ত সাহরীর শেষ সময় এবং ফজর নামাযের শুরুর ক্ষেত্রে মাপকাঠি বানিয়েছে ‘তাবাইয়ুনুল ফাজর’ অর্থাৎ সুবহে সাদিক উদয় হওয়াকে। ‘ইসফারুল ফাজর’ তথা ভোরের আলো স্পষ্টভাবে ছড়িয়ে পরাকে নয়।

১৩৮৮ হিজরীর কোনো এক সময় হযরত মাওলানা মুফতী রশীদ আহমাদ  লুধিয়ানবী রাহ.-এর নিকট প্রথমবারের মত নামাযের সময়সূচীর প্রচলিত নকশাগুলোতে সুবহে সাদিকের  সময়ে -তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী- ভুল ধরা পড়ল। এ বিষয়ে তিনি ‘সুবহে সাদিক’ নামে একটি পুস্তিকাও প্রস্তুত করে ফেললেন। পরবর্তীতে যা হযরতের ফতোয়া সংকলন ‘আহসানুল ফতোয়া’-এর দ্বিতীয় খণ্ডে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

যেমনটি পূর্বে বলা হয়েছে যে, সূর্য দিগন্তের ১৮ ডিগ্রি নিচে থাকতেই সুবহে সাদিকের সময় আরম্ভ হয়ে যায়। ক্যালেন্ডারগুলোতে এভাবেই উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু হযরত মুফতী ছাহেবের বক্তব্য হল- এটা মূলত সুবহে কাযিবের সময়। সুবহে সাদিক শুরু হয় আরো পরে, সূর্য দিগন্তের ১৫ ডিগ্রি নিচে থাকতে! জুমহুর উলামায়ে কেরামের বিপরীতে নিজের ব্যক্তিগত এ মতের উপর মুফতী ছাহেব রাহ. এ পরিমাণ দৃঢ়তা দেখান যে, নিজের এই তাফাররুদকে (একান্ত ব্যক্তিগত মতকে) ইজমা বলে দাবি করেন এবং জুমহুরের বক্তব্য ও উম্মতের মুতাওয়ারাছ আমলকে বিচ্ছিন্নতা এবং ইজমার পরিপন্থী বলে আখ্যা দেন!!

হযরত মুফতী রশীদ আহমাদ ছাহেব রাহ.-এর  জন্ম ১৩৪১ হিজরীতে এবং ওফাত ১৪২২ হিজরী সনে। নিজ যমানায় তিনি আমাদের আকাবিরের মাঝে গণ্য হতেন। ইলম, তাকওয়া ও পরহেযগারীতে হযরত রাহ.-এর বড় উঁচু মাকাম ছিল। তিনি আমাদের উস্তাযুল আসাতিযা। এই বাস্তবতার চেয়ে আরো বড় বাস্তবতা হল- যে কোনো আহলে ইলম থেকে তাসামুহ (ভ্রম) হতে পারে এবং বড় বড় হযরতদেরও কখনো কখনো এমন তাফাররুদাত (একান্ত ব্যক্তিগত মতামত) থাকে, যা ফতোয়া ও আমলের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য মনে করা হয় না। আলোচ্য মাসআলাতেও হযরত রাহ. থেকে তাসামুহ হয়ে গেছে। যদি একে তাসামুহের পরিবর্তে হযরতের তাফাররুদও ধরে নেওয়া হয়, তবুও জুমহুর উলামায়ে কেরামের মোকাবেলায় হযরত রাহ.-এর এই তাফাররুদের ব্যাপক প্রচার মুনাসিব ছিল না।

আফসোস যে, আমাদের  এ দেশে এখন বিভিন্ন জায়গায় কেউ কেউ এর ব্যাপক প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। আর কেউ  তো এক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি এবং সীমালঙ্ঘনের পন্থা অবলম্বন করছেন। নিঃসন্দেহে এ অবস্থা ইছলাহযোগ্য।

বস্তুত ঐ বন্ধুদের একথা জানা নেই যে, ‘আহসানুল ফতোয়ার’ এ সিদ্ধান্ত তাসামুহের ভিত্তিতে সংঘটিত হয়েছে। প্রথম প্রথম পুরো হাকীকত সামনে আসার পূর্বে আকাবিরের এক-দুই হযরত তাঁর সঙ্গ দিয়েছিলেন বটে, কিন্তু পরবর্তীতে তারাও রুজু করে নিয়েছেন। আর মুফতী ছাহেব রাহ. নিজের সিদ্ধান্তে একাই রয়ে গেছেন।

মুফতী ছাহেব নিজ সিদ্ধান্তের ভিত্তি রেখেছেন দুটি বিষয়ের উপর। প্রথমত : তাঁর দাবি অনুযায়ী, জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণ নাকি এ বিষয়ে একমত যে, সূর্য দিগন্তের ১৮ ডিগ্রি নিচে থাকলে তা সুবহে কাযিবের সময় আর সুবহে সাদিকের সময় ১৫ ডিগ্রি থেকে শুরু হয়। দ্বিতীয়ত : মুশাহাদা বা নিজে চোখে দেখা।

মুশাহাদার বিষয়ে কথা হল, আহসানুল ফতোয়া-এর আলোচনা থেকে যা বুঝা যায় তা হল- মুফতী ছাহেব নিজে জীবনে মাত্র এক বার তিন দিনের জন্য মুশাহাদা করেছেন। অবশ্য তিনি এও বলেছেন যে, কয়েকবার তিনি লোক মারফতও মুশাহাদা করিয়েছেন। প্রতিবারই তারা ১৫ ডিগ্রিতে সুবহে সাদিক দেখতে পেয়েছে।

হযরত রাহ.-এর এই দলীল এজন্য দুর্বল যে, সুবহে সাদিক যেহেতু ১৮-১৯ ডিগ্রিতে শুরু হয়ে যায়, তাই তা ১৫ ডিগ্রিতে অবশ্যই দেখা যাবে। যদি দু-চারজন ব্যক্তি দু-চার বার ভিন্ন কোনো কারণে সুবহে সাদিকের সূচনায় তা দেখতে না পায়; বরং ভোর আরো ফর্সা হলে দেরিতে তা দেখতে পায়, তাহলে এর কারণে এত শত বছরের মুশাহাদা কীভাবে বাতিল হয়ে যাবে?

কেউ ১৫ ডিগ্রিতে সুবহে সাদিক দেখল এবং সে তার এ দেখার সাক্ষ্য দিল- তো এক্ষেত্রে তাকে অবিশ্বাস করার কিছু নেই। কিন্তু সে যদি এ দাবি করে যে, এর পূর্বে সুবহে সাদিক উদিত হয়নি বা হয় না, তবে এটা তার মুশাহাদার অতিরিক্ত একটি বিষয়- যা কখনও দলীল হতে পারে না। বিবেক ও শরীয়তের স্বতঃসিদ্ধ নীতি তো এই-

’ المثبت مقدم على النافي‘

এবং

’من رأى حجة على من لم ير‘

এই যে বলা হল- জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণ এ বিষয়ে একমত যে, সূর্য দিগন্তের ১৫ ডিগ্রি নিচে থাকলে তবেই সুবহে সাদিক উদিত হয়, এর আগে নয়- একথা শতভাগ বাস্তবতা পরিপন্থী। মুফতী ছাহেব রাহ.-এর নিকট আসলে ফালাকিয়্যাত- জ্যোতির্বিজ্ঞানের কিতাবাদি খুব কম ছিল। তার কাছে সবচে’ পুরাতন যে ছরীহ (স্পষ্ট) হাওয়ালা  তা হল আবদুল আলী বিরজান্দী রাহ.-এর বক্তব্য। বিরজান্দী ছিলেন দশম শতাব্দীর মানুষ। ইলমুল ফালাকের উপর তার কয়েকটি কিতাব রয়েছে। যেমন, শরহে চিগমেনীর হাশিয়া, শরহুত তাযকেরাহ, শরহে বিস্ত বাব ইত্যাদি। মুফতী ছাহেব রাহ. তো তাকে ইলমুল ফিকহ এবং ইলমুল ফালাক উভয়টির ইমাম বলেছেন। কিন্তু আমাদের জানা মতে কোনো আহলে ফন তাকে না ফিকহের ইমাম বলেছেন আর না ইলমুল ফালাকের ইমাম। ইলমুল ফিকহে তিনি শরহুন নুকায়া রচনা করেছেন- সন্দেহ নেই। ইলমুল ফালাকেও তার কয়েকটি কিতাব রয়েছে। তবে কোনো ফনে কারো রচনা থাকা আর ঐ ব্যক্তি সে ফনের ইমাম হওয়া এক কথা নয়। তার ‘শরহুন নুকায়ার’ বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় ভুলও রয়ে গেছে। কিছু ভুলের প্রতি মোল্লা আলী কারী রাহ. ‘শরহুল মানাসিক’-এ তাম্বীহও করেছেন। (পৃষ্ঠা. ২৪৩, ২৪৪, আল মাকতাবাতুল ইমদাদিয়া, মক্কা মুকাররমা, ১৪৩০ হিজরী)

মুফতী ছাহেব রাহ.-এর নিকট বিরজান্দীর শরহুন নুকায়াও ছিল না। আর ইলমুল ফালাকের উপর রচিত তার কোনো কিতাবও ছিল না। আলহামদু লিল্লাহ, বিরজান্দী রাহ.-এর শরহুন নুকায়াসহ উল্লিখিত কিতাবগুলো আমাদের সংগ্রহে রয়েছে।

আরো কথা হল- বিরজান্দী রাহ.-এর হাশিয়া শরহে চিগমেনীর যে ইবারতের উপর মুফতী ছাহেব রাহ. নিজ মতামতের পুরোটা ভিত রেখেছেন সেই কিতাবও হযরতের কাছে ছিল না। হযরত রাহ. মালাবুদ্দা মিনহু-এর কোনো হাশিয়া এবং শরহে চিগমেনী-এর উপর মাওলানা আবদুল হালীম লাখনবী রাহ.- এর হাশিয়া থেকে বিরজান্দী রাহ.-এর ঐ ইবারত নকল করেছেন।

মূলত কাযী যাদা রাহ.- এর শরহে চিগমেনী-এর ভুল শরাহ করেছেন বিরজান্দী রাহ.। কাযী যাদা লিখেছেন- সুবহের সূচনা সূর্য দিগন্তের ১৮ ডিগ্রি নিচে থাকতে হয়ে যায়। স্পষ্ট যে, এখানে ‘সুবহ’ বলতে সুবহে সাদিকই উদ্দেশ্য। পূর্ববর্তী জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এমনটিই লিখে আসছিলেন। কিন্তু বিরজান্দী রাহ. এই ‘সুবহকে’ সুবহে কাযিব ধরে লেখেন, দিগন্তের নিচে ১৮ ডিগ্রিতে সুবহে কাযিবের সময় হয়। তিনি যখন সুবহে সাদিকের সময় সুবহে কাযিবকে দিয়ে দিলেন, তো এখন ইলমুল ফালাকের কিতাবসমূহে সুবহে সাদিকের সময়ের উল্লেখ আর খুঁজে পাচ্ছেন না। এজন্য শরহে বিস্ত বাব-এ তাকে লিখতে হয়েছে-

واما درجات انحطاط در ابتداء طلوع صبح صادق بتحقيق معلوم نشود، در بعضے از مصنفات قديمہ واقع است كہ پانزده درجہ است۔

সুবহে সাদিক কত ডিগ্রিতে  উদিত হয়, তাহকীকের মাধ্যমে তা জানা যায়নি। তবে পুরাতন কোনো লেখায় পাওয়া যায় যে, তা ১৫ ডিগ্রিতে হয়। -শরহে বিস্ত বাব, বিরজান্দী, (মাখতূতাহ,  আয়াসুফিয়া, ইস্তাম্বুল, নম্বর ২৬৪৮, ওয়ারাক ৫৬)

তার কথা অনুযায়ী- সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার সময় সূর্য দিগন্তের কত ডিগ্রি নিচে থাকে এ তাহকীক তার হাছিল হয়নি?![2] অথচ ইলমুল ফালাকের নতুন পুরাতন প্রায় সকল কিতাবে সুবহে সাদিকের সময় উল্লেখ আছে। কিন্তু বিরজান্দী কোথাও এর উল্লেখ পান না! কারণ হল, তিনি সুবহে সাদিকের সময়টি সুবহে কাযিবকে দিয়ে দিয়েছেন। এজন্য সুবহে সাদিকের সময় জানতে তিনি ইলমুল ফালাকের কিতাবাদিতে কোনো ইবারত পাচ্ছেন না। অথচ ১৮ ডিগ্রিতে সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার কথাটি ছরীহ ইবারতে এবং মুতলাক ইবারতে মুতাকাদ্দিমীন এবং মুতাআখখিরীনের অসংখ্য কিতাবে উল্লেখিত হয়েছে। ফনের মা‘রূফ, মাশহুর ও মুতালাক্কা বিল কবুল- পরিচিত, প্রসিদ্ধ ও স্বীকৃত কিতাবগুলো বাদ দিয়ে এক মাজহুল-অজানা কিতাব, যার মুছান্নিফ-লেখকের নামও বিরজান্দী রাহ. বলতে পারেননি, এমন এক কিতাবের হাওয়ালায় লিখেছেন যে, দিগন্তের ১৫ ডিগ্রি নিচে সূর্য থাকতে সুবহে সাদিক উদিত হয়। শরহে চিগমেনীর হাশিয়ায় এ কথা তিনি ‘ قيل ’ বলে উল্লেখ  করেন। অর্থাৎ এই বক্তব্যের প্রবক্তা কে- তা-ই উল্লেখ নেই। আর বাস্তবতাও তাই যে, আজ পর্যন্ত আরব-আজমের কেউ সেই প্রবক্তা কে- উদ্ধার করতে পারেনি। বিরজান্দীর দেখাদেখি পরবর্তীতে কোনো কোনো মুছান্নিফ প্রবক্তা-অজানা এ বক্তব্যটি নকল করে বসেছেন। মুফতী ছাহেব রাহ.-এর পুরো বক্তব্যের আগাগোড়া ভিত্তিই হল দশম শতাব্দীর পরবর্তী এই কয়েকটি কিতাব। মুতাকাদ্দিমীনের কোনো হাওয়ালা তিনি উল্লেখ করেননি। শুধু আলবেরুনী-র একটি হাওয়ালা পেয়েছেন এবং মধ্যবর্তী সময়ের কেবল ত‚সীর হাওয়ালা পেয়েছেন। এই উভয় হাওয়ালাতেও সেই ১৮ ডিগ্রিতে সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার বক্তব্য রয়েছে। তবে দুর্ভাগ্যবশত তিনি এক্ষেত্রে বিরজান্দীর তাকলীদ করতে গিয়ে সুবহে সাদিকের সময়কে সুবহে কাযিবকে দিয়ে দিয়েছেন! আর সুবহে সাদিকের সময় নির্ধারণের জন্য এই অজানা প্রবক্তার অবাস্তব কথাটি গ্রহণ করে নিয়েছেন!!

আজ থেকে বিশ-বাইশ বছর পূর্বে আমাদের দেশের একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ‘আহসানুল ফতোয়ার’ এই তাফাররুদের উপর নযরে ছানী করার জন্য একটি মজলিসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ঐ মজলিসেও এই তাফাররুদকে গ্রহণ করা হয়নি। সে সময় শাইখুল ইসলাম হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম-এর নিকট বান্দা চিঠি লিখে দরখাস্ত করেছিলাম- এই বিষয়ে একটি প্রবন্ধ লিখতে। হযরত আশ্বাস দিয়েছিলেন এবং লিখেছিলেন-

“ ‘আহসানুল ফতোয়া’-এর আলোচনা থেকে যে ধারণা সৃষ্টি হয় বাস্তবতা এর চেয়ে অনেকটাই ভিন্ন। সত্য কথা হল, এখানে শায়খাইন (হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী রাহ. ও হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইউসুফ বিন্নুরী রাহ.)-এর প্রতি জুলুম হয়েছে। তখন আমি হযরত মুফতী ছাহেবকে এই বিষয়ে যে বিস্তারিত চিঠি লিখেছিলাম তার কপি আমার কাছে থাকলে তাও ছেপে দিলে ফায়দা হত।”

সম্প্রতি দু-তিন বছর যাবৎ যখন কোনো কোনো মহল থেকে ‘আহসানুল ফতোয়া’র এই তাফাররুদ, বরং তাসামুহকে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে, তখন হযরত শাইখুল ইসলামের নিকট বান্দা এই মর্মে দ্বিতীয়বার পত্র লিখি। হযরত এর জবাবে বান্দার জন্য ৩৯ পৃষ্ঠার সেই বিস্তারিত ফতোয়া পাঠিয়ে দিয়েছেন, যা দারুল উলূম করাচীর দারুল ইফতা থেকে ১০ রমযানুল মুবারক ১৪৩৮ হিজরীতে প্রকাশিত হয়েছিল। ফতোয়াটি লিখেছেন দারুল ইফতার সদস্য মাওলানা হুসাইন আহমাদ ছাহেব। তাতে দলীলের ভিত্তিতে প্রচলিত ক্যালেন্ডারে উল্লেখিত সময়সূচীর জোর সমর্থন করা হয়েছে এবং ‘আহসানুল ফতোয়া’-এর শুবুহাত-সংশয়গুলোর ইজমালী জবাব দেওয়া হয়েছে।

আপাত পরিস্থিতিতে যেহেতু আমাদের দারুল ইফতা এবং  আলকাউসারের ‘আপনি যা জানতে চেয়েছেন’ বিভাগে এ সংক্রান্ত বহু প্রশ্ন জমা হয়ে গেছে। তাই মুনাসিব মনে হচ্ছিল যে, এ ফতোয়ার খোলাসা বাংলা তরজমা করে আলকাউসারে প্রকাশ করা যেতে পারে। এরই মধ্যে জানতে পারলাম, আমাদের দারুল ইফতার সদস্য মাওলানা ফয়যুল্লাহ এ বিষয়ে  একটি বিস্তারিত মাকালা লিখছেন। মাকালাটি দেখে আমার বড় ভালো লাগল। মাশাআল্লাহ তিনি অত্যন্ত মেহনত করে ফনের পুরাতন ও মৌলিক কিতাবসমূহের বহু হাওয়ালার মাধ্যমে জুমহুর উলামায়ে কেরামের মাসলাকের উৎস স্পষ্ট করে দেখিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার এ মাকালা উপমহাদেশের অন্যান্য প্রবন্ধ-নিবন্ধের তুলনায় অধিক দলীলসমৃদ্ধ এবং মজবুত হয়েছে। তিনি এই মাকালার জন্য বিশে^র বহু কুতুবখানার অসংখ্য মাখতুতাত-পাণ্ডুলিপি মুতালাআ করেছেন। আল্লাহ তাআলা তার এই মেহনতকে কবুল করুন এবং আমাদের তরফ থেকে তাকে জাযায়ে খায়ের দান করুন।

বর্তমান সংখ্যায় মাকালার প্রথম অংশ প্রকাশিত হচ্ছে। দ্বিতীয় অংশে যুগে যুগে বিভিন্ন এলাকায় সুবহে সাদিক পর্যবেক্ষণের বিস্তারিত আলোচনা হবে- ইনশাআল্লাহ। আর তৃতীয় অংশে ‘আহসানুল ফতোয়া’য় উল্লেখিত হাওয়ালা ও তথ্য সম্পর্কে বিস্তারিত ইলমী পর্যালোচনা করা হবে- ইনশাআল্লাহ। মাকালার শেষোক্ত দুই অংশ আলকাউসারের আগামী সংখ্যায় নয়- পরবর্তীতে কোনো এক সময় প্রকাশিত হবে- ইনশাআল্লাহ।

আসলে মাকালার এ অংশটুকু মনোযোগ দিয়ে পড়লেও জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মুশাহাদা এবং ইসলামী দুনিয়ার পুরাতন ঐতিহাসিক মসজিদগুলোর ঐতিহ্যগত আমলের আলোচনাও পাওয়া যাবে। পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সেসব পরিষ্কার বক্তব্যও পাওয়া যাবে, যেগুলো পড়ার পর বিরজান্দী রাহ.-এর قيل ওয়ালা বক্তব্যের বিচ্ছিন্নতা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে যাবে।

যেসকল হযরত ‘আহসানুল ফতোয়া’র এ তাফাররুদ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন, তাদের খেদমতে দরখাস্ত- বরাহে করম আপনারা আহলে ফনের এ উদ্ধৃতিগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়বেন। ইনশাআল্লাহ, ইলমী সুকুন হাছিল হবে। তারপরও মুতাওয়ারাছ তরীকার ব্যাপারে যদি কারও এতমেনান না হয়, তাহলে তার নিকট আবেদন, আপনি আপনার আপত্তি-সংশয় অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। ইনশাআল্লাহ, মাকালার আগামী কিস্তিগুলোতে আমরা সে বিষয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করব।  وبالله تعالى التوفيق

 

আরযগুযার

বান্দা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক

১১ রজব ১৪৪০ হিজরী

প্রশ্ন :

আমাদের এলাকায় রমযান মাসে সাহরী ও ফজরের সময় নিয়ে প্রতি বছরই একটি হাঙ্গামা হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রচারিত ক্যালেন্ডার এবং এরকম প্রচলিত আরো যে ক্যালেন্ডার আছে, তাতে সাহরির শেষ এবং ফজরের ওয়াক্ত শুরুর যে সময় দেওয়া আছে আমরা তো সে অনুযায়ীই আমল করে থাকি। কিন্তু আমাদের এখানে কয়েকজন আলেম আছেন, তাদের দাবি হল, সাহরির সময় আরো ১২/১৩ মিনিট পরে শেষ হয়। অপরদিকে তাদের বক্তব্য হল, যারা প্রচলিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সময় হওয়ার পরপরই ফজরের নামায পড়ে ফেলে তাদের নামায হয় না। কেননা ফজরের সময় আরো পরে হয়। আমাদের এলাকায় কোনো কোনো গ্রামে এমনও দেখা যায় যে, এক মসজিদে মুআযযিন প্রচলিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী যখন সাহরির সময় শেষ হওয়ার ঘোষণা দেয় পাশের আরেক মসজিদ থেকে তখন ঘোষণা আসে যে, সাহরির সময় আরো ১২ মিনিট বাকি আছে। সাধারণ মানুষ এ নিয়ে অনেক বিভ্রান্তিতে পড়ে।

তারা বলে থাকে যে, মুফতী রশীদ আহমদ লুধিয়ানবী রাহ. এই বিষয়টি যথাযথ তাহকীক করে বের করেছেন যে, প্রচলিত ক্যালেন্ডারে ফজরের যে সময় দেওয়া আছে তা ভুল। সঠিক হল, এর আরো ১২/১৩ মিনিট পরে ফজরের সময় হয়। তার এই তাহকীক অনেক দলীল-প্রমাণসহ আহসানুল ফাতাওয়াতে তিনি উল্লেখ করেছেন। এটিই সঠিক।

তাদের কথা, মুফতী রশীদ আহমদ রাহ. একজন বিজ্ঞ মুফতী হওয়ার পাশাপাশি ইলমুল ফালাক তথা জ্যোতির্বিজ্ঞানেও তাঁর অনেক পাণ্ডিত্য ছিল। তাই এ ব্যাপারে তিনিই ভালো বুঝেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ক্যালেন্ডারসহ অন্যান্য যত ক্যালেন্ডার আছে সব ইহুদি-খ্রিস্টানদের বানানো। তারা সুবহে সাদিক আর সুবহে কাযিব কী জিনিস বুঝে না। তাই এই ক্যালেন্ডারগুলোতে সাহরির শেষ সময় ১৮ ডিগ্রিতে ধরা হয়েছে। মূলত এটি সুবহে কাযিবের সময়। সুবহে সাদিক হয় আরো তিন ডিগ্রি পরে ১৫ ডিগ্রিতে। তাই ক্যালেন্ডারগুলোতে ফজরের যে সময় উল্লেখ করেছে তা মূলত সুবহে কাযিবের সময়।

এ পরিস্থিতিতে আপনাদের কাছে প্রশ্ন, এক্ষেত্রে আহসানুল ফাতাওয়া কিতাবে যে কথা বলা হয়েছে তা কি বাস্তবেই সঠিক? আমরা যে ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আমল করে থাকি তাতে কি কোনো ভুল আছে? প্রচলিত ক্যালেন্ডার যদি সঠিক হয় তবে এর কী দলীল আছে? এবং আহসানুল ফাতাওয়াতে যে দলীল-প্রমাণ উল্লেখ করা হয়েছে এরই বা কী জবাব? মাসআলাটি শরীয়তের দলীল-প্রমাণসহ বিস্তারিত জানালে আমরা খুবই উপকৃত হতাম। আল্লাহ তাআলা আপনাদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

মুজাহিদ আহমাদ

হবিগঞ্জ, সিলেট

উত্তর :

মূল মাসআলাটি বোঝার সুবিধার্থে প্রথমে দুটি বিষয় জেনে নেওয়া ভালো। একটি হল, শরীয়তের দৃষ্টিতে সুবহে সাদিকের পরিচয়। দ্বিতীয়টি, এখানে ১৮º বা ১৫ ডিগ্রির কী অর্থ?

যখন এশার সময় শেষ হয় তখনই সাহরির সময় শেষ হয়ে যায় এবং এর পর থেকেই ফজরের সময় শুরু হয়। ফিকহের পরিভাষায় এই সময়টির নাম সুবহে সাদিক। এই সময়টির ব্যাপারেই আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেন-

وَ كُلُوْا وَ اشْرَبُوْا حَتّٰی یَتَبَیَّنَ لَكُمُ الْخَیْطُ الْاَبْیَضُ مِنَ الْخَیْطِ الْاَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ

আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ না রাতের কাল রেখা থেকে ভোরের সাদা  রেখা স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত হয়। -সূরা বাকারা (২) ১৮৭

এই আয়াতে ভোরের সাদা রেখার দ্বারা উদ্দেশ্য হল সুবহে সাদিকের আলো।

হাদীস শরীফে সুবহে সাদিকের পরিচয় এভাবে এসেছে- আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

لَا يَمْنَعَنّ أَحَدًا مِنْكُمْ أَذَانُ بِلَالٍ -أَوْ قَالَ نِدَاءُ بِلَالٍ- مِنْ سُحُورِهِ، فَإِنّهُ يُؤَذِّنُ -أَوْ قَالَ يُنَادِي- بِلَيْلٍ، لِيَرْجِعَ قَائِمَكُمْ وَيُوقِظَ نَائِمَكُمْ، وَقَالَ: لَيْسَ أَنْ يَقُولَ هَكَذَا وَهَكَذَا وَصَوّبَ يَدَهُ وَرَفَعَهَا، حَتّى يَقُولَ هَكَذَا وَفَرّجَ بَيْنَ إِصْبَعَيْهِ.

বিলালের আযান যেন তোমাদের কাউকে সাহরি থেকে বিরত না রাখে। কেননা সে তো আযান দেয়, যেন কিয়ামুল লাইলে যারা ছিল তারা বিশ্রামে যায় এবং ঘুমন্ত লোকেরা যেন জাগ্রত হয়। এরপর তিনি আঙ্গুলসমূহ মিলিত রেখে হাত উপরের দিকে উঠিয়ে বললেন, ফজরের সময় এরূপ (উপরের দিকে লম্বা) নয়। তারপর আঙ্গুলগুলো প্রশস্ত করে বললেন, যতক্ষণ না এরূপ (প্রশস্ত) হয়। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০৯৩

আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

لَا يَغُرّنّكُمْ مِنْ سُحُورِكُمْ أَذَانُ بِلَالٍ، وَلَا بَيَاضُ الْأُفُقِ الْمُسْتَطِيلُ هَكَذَا، حَتّى يَسْتَطِيرَ هَكَذَا وَحَكَاهُ حَمّادٌ بِيَدَيْهِ، قَالَ: يَعْنِي مُعْتَرِضًا.

বিলালের আযান এবং আকাশ প্রান্তের এ লম্বা শুভ্র আলো যেন তোমাদেরকে সাহরি খাওয়ার ব্যাপারে ধোকায় না ফেলে যতক্ষণ না এ শুভ্র আলো (পূর্ব দিগন্তে) এভাবে (অর্থাৎ উভয় দিকে) বিস্তৃত হয়। … -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০৯৪

আরেক হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

لاَ يَمْنَعَنّكُمْ مِنْ سُحُورِكُمْ أَذَانُ بِلاَلٍ، وَلاَ الفَجْرُ الْمُسْتَطِيلُ، وَلَكِنِ الفَجْرُ الْمُسْتَطِيرُ فِي الأُفُقِ.

বিলালের আযান এবং দিগন্তের দৈর্ঘ্যে প্রকাশিত আলো (সুবহে কাযিব) তোমাদের যেন সাহরী থেকে বাধা না দেয়; বরং (সাহরী থেকে বাধাদানকারী হল) দিগন্তের উভয়দিকে বিস্তৃত ফজরের আলো (অর্থাৎ সুবহে সাদিক)। -জামে তিরমিযী, হাদীস ৭০৬

সহীহ বুখারীসহ প্রায় সব হাদীসের কিতাবেই এ ব্যাপারে বহু হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এসব হাদীসে সুবহে সাদিক তথা ফজরের শুরু সময়ের যে পরিচয় বর্ণিত হয়েছে এর ব্যাখ্যা হল, রাতের শেষ দিকে পূর্ব দিগন্তে উভয় দিকে প্রশস্ত আকারে যে আলো প্রকাশ পায় তখন থেকে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়। এই প্রশস্ত আলো দেখা যাওয়ার আগে দিগন্তে আরেকটি আলো প্রকাশ হয়, যা প্রশস্ত না হয়ে উপরের দিকে লম্বা থাকে। তখন ফজরের সময় শুরু হয় না। ফিকহের পরিভাষায় এটিকে সুবহে কাযিব বলা হয়।

সুবহে সাদিকের আলো যখন শুরু হয় সেটি তখন অনেক হালকা ও ক্ষীণ থাকে। এজন্যই কুরআন মাজীদে এটিকে الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ সাদা সুতা দ্বারা ব্যক্ত করা হয়েছে। আল্লামা বদরুদ্দিন আইনী রাহ. বলেন-

والمراد بالخيط الأبيض أول ما يبدو من الفجر المعترض في الأفق كالخيط الممدود.

প্রসারিত সুতার মত দিগন্তে সর্বপ্রথম ফজরের প্রশস্ত যে আলো প্রকাশ হয় الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ দ্বারা সেটি উদ্দেশ্য। -উমদাতুল কারী ১০/২৯২

দ্বিতীয় বিষয়, এই মাসআলায় ১৮º বা ১৫ ডিগ্রির কী অর্থ? এর ব্যাখ্যা হল, দিগন্তে যখন সুবহে সাদিকের আলো প্রথম দেখা যায় তখন পর্যবেক্ষকের অবস্থানস্থলকে শূন্য ডিগ্রি ধরে (৩৬০ ডিগ্রি অনুপাতে) সূর্য দিগন্তের কত ডিগ্রি নিচে রয়েছে, সেটিই উদ্দেশ্য। উদাহরণস্বরূপ, আজকে আমি ঢাকাতে ৫ : ১৭ মিনিটে সুবহে সাদিকের আলো দেখতে পেলাম। তাহলে ৫ : ১৭ মিনিটে আমার অবস্থানস্থল বরাবর  দিগন্ত থেকে (৩৬০ ডিগ্রি অনুপাতে) সূর্য কতটুকু নিচে ছিল- ১৮º নাকি ১৫º?

প্রসঙ্গত এখানে আরেকটি বিষয় জেনে নেওয়া দরকার। সেটি হল, এশার ওয়াক্ত কখন শুরু হয়? বিষয়টি মৌলিকভাবে ফজরের ওয়াক্তের মতই। সূর্যাস্তের পর আকাশ প্রথমে লাল বর্ণ ধারণ করে। এটিকে ফিকহের পরিভাষায় শাফাকে আহমার বলে। এরপর ধীরে ধীরে তা লাল বর্ণ থেকে সাদা হতে থাকে।

একসময় তা সুবহে সাদিকের আলোর মতো শুভ্র প্রশস্ত আলোতে পরিণত হয়। ফিকহের পরিভাষায় এর নাম শাফাকে আবয়ায। অর্থাৎ সূর্যোদয়ের আগে যে আলোটিকে সুবহে সাদিক বলা হয় তাকেই সূর্যাস্তের পর শাফাকে আবয়ায বলা হয়। এই সাদা প্রশস্ত আলো তথা শাফাকে আবয়ায যখন শেষ হয়ে যায় তখনই এশার সময় শুরু হয়।

সহজ কথায়, সূর্যোদয়ের আগে পূর্ব দিগন্তে যখন সাদা প্রশস্ত আলো দেখা যায় তখন ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়। আর সূর্যাস্তের পর এই সাদা প্রশস্ত আলোটি যখন শেষ হয়ে যায় তখন এশার ওয়াক্ত শুরু হয়। আর সুবহে কাযিবের মত শাফাকে কাযিবও একটি আছে। উভয়টির আলোর ধরন একই। উপরের দিকে লম্বা।

তবে সুবহে কাযিব সুবহে সাদিকের আগে প্রকাশ হয়। আর শাফাকে কাযিব শাফাকে আবয়াযের পরে দেখা যায়। যদিও শাফাকে কাযিব বলতে ফিকহের কোনো পরিভাষা নেই। পারিভাষিকভাবে শাফাক বলতে শাফাকে আহমার ও শাফাকে আবয়াযকেই বোঝানো হয়ে থাকে।

অতএব ফযর ও এশার সময়ের ব্যাপারটি যেহেতু মৌলিকভাবে একই তাই ফজরের সময় কখন হয়- এই মাসআলার আলোচনায় এশা কখন শুরু- এই মাসআলাও চলে আসে।

এখন মূল প্রশ্ন, সূর্য দিগন্তের কত ডিগ্রি নিচে থাকলে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়?

আমাদের দেশে প্রচলিত ক্যালেন্ডারে ফজর ও এশা উভয়টির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সূর্য যখন দিগন্তের ১৮º নিচে থাকে তখন থেকে। কিন্তু কারো দাবি, ১৮ ডিগ্রিতে সুবহে সাদিক হয় না। আরো তিন ডিগ্রি পরে অর্থাৎ দিগন্তের আরো তিন ডিগ্রি কাছে আসার পর  সূর্য যখন ১৫º নিচে চলে আসে তখন সুবহে সাদিক হয়। যখন ১৮º নিচে থাকে তখন নাকি সুবহে কাযিবের সময়।

তাদের এই দাবি সম্পূর্ণই ভুল। যুগপরম্পরায় চলে আসা মুসলিম উম্মাহর আমল, মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ, বিভিন্ন ফতোয়া বিভাগ ও মুফতী বোর্ডের সিদ্ধান্ত এবং বর্তমান যুগের অনেক দেশে বিজ্ঞ মুফতী ও উলামায়ে কেরামের চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণ (observetion)  দ্বারা এটি প্রমাণিত যে সুবহে সাদিক ১৮º বা তার কিছু আগেই হয়ে যায়।

তাদের কিছু বক্তব্য ধারাবাহিকভাবে এখানে উল্লেখ করা হল।

 

মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বক্তব্য

ইলমুল ফালাক তথা জ্যোতির্বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা হল, علم التوقيت (science of timekeeping)। যাতে বছর ও মাসের হিসাব, রাত-দিনের বিভিন্ন সময়, কেবলার দিক ইত্যাদি নির্ধারণ করা হয়।

এই শাস্ত্রটি অনেক পুরোনো হলেও মুসলিম বিজ্ঞানীদের হাতেই তা পূর্ণতা লাভ করে। এসব মুসলিম বিজ্ঞানী তাদের শাস্ত্রের কাজের পাশাপাশি দ্বীনী দায়িত্ববোধ থেকেও যে খেদমতটি বিশেষভাবে আঞ্জাম দিয়ে গেছেন তা হল, মুসলমানদের ইবাদত সংক্রান্ত বিভিন্ন সময়গুলো নির্ণয় করে দেওয়া। এরই অংশ হিসেবে নামাযের ওয়াক্ত সংক্রান্ত যত হিসাব-নিকাশ আছে এগুলো তারা নির্ণয় করে তাদের কিতাবে লিপিবদ্ধ করে গেছেন।

হাদীস শরীফে সুবহে সাদিকের যে পরিচয় দেওয়া হয়েছে এটিকে সামনে রেখে শীর্ষ মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণ দীর্ঘদিন মুশাহাদা করার পর হিসাব করে নির্ধারণ করে দিয়েছেন- কত ডিগ্রিতে সুবহে সাদিক হয়। আপনি জ্যোতির্বিজ্ঞান ও ইলমুত তাওকীদের নির্ভরযোগ্য ও মৌলিক কিতাব পড়ে ফেলুন এবং এই শাস্ত্রের সকল বিশেষজ্ঞের বক্তব্য অধ্যয়ন করে নিন, কোথাও পাবেন না যে, কেউ বলেছেন, ১৮ ডিগ্রিতে সুবহে কাযিব ও ১৫ ডিগ্রিতে সুবহে সাদিক হয়। এই বিচ্ছিন্ন ও বাস্তবতা পরিপন্থী কথা তো বলেছেন সর্বপ্রথম বিরজন্দী। আর তার তাকলীদ করা হয়েছে আহসানুল ফাতোয়ায়।

এখানে আমরা মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কিছু বক্তব্য তুলে ধরছি। এইসব উদ্ধৃতির মূল বক্তব্য যেহেতু একইরকম তাই সংক্ষিপ্ততার প্রতি লক্ষ্য রেখে সব উদ্ধৃতির অনুবাদ করা হয়নি।

আবদুর রহমান আসসূফী রাহ.

আবুল হুসাইন আবদুর রহমান ইবনে উমর (২৯১-৩৭৬ হি./৯০৩-৯৮৬ ঈ.)। শ্রেষ্ঠ মুসলিম বিজ্ঞানীদের একজন। জ্যোতির্বিজ্ঞানে তার অবদান আধুনিক বিজ্ঞানীরাও স্বীকার করে থাকে। তার রচিত الكواكب الثابتة ও كتاب العمل بالأسطرلابজ্যোতির্বিজ্ঞানে তার অনন্য কীর্তি।

এর মধ্যে দ্বিতীয় কিতাবটি এ্যাস্ট্রল্যাব বিষয়ে এক হাজার সাত শ ষাট অধ্যায়ে রচিত তার সুবিশাল একটি গ্রন্থ। এই কিতাবটি যেহেতু অনেক বড় হয়ে যায় তাই এর অতি প্রয়োজনীয় অধ্যায়গুলো রেখে এক শ সত্তর অধ্যায়ে উক্ত কিতাবের একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ তৈরি করেন। এই সংক্ষিপ্ত কিতাবটির ৩২ তম অধ্যায় হল-

الباب الثاني والثلاثون في معرفة أول وقت الظهر وأول وقت العصر.

এতে তিনি যোহর ও আসরের সময় কখন শুরু- এ নিয়ে আলোচনা করেন। পরবর্তী অধ্যায়-

الباب الثالث والثلاثون في معرفة وقت آخر العصر

এখানে তিনি আসরের ওয়াক্ত কখন শেষ হয় এর বর্ণনা দেন। এরপর ৩৫ নম্বর অধ্যায়ে ফজরের উদয় এবং শাফাক শেষ কখন হয়- এ্যাস্ট্রল্যাবের মাধ্যমে এর নির্ণয় পদ্ধতি বর্ণনা করেন এবং ফজর ও শাফাক উভয়টির সময় তিনি ১৮º -এর ভিত্তিতে নির্ধারণ করেন। শাস্ত্রীয় ভাষায় তিনি বিষয়টি এভাবে ব্যক্ত করেন-

الباب الخامس والثلاثون في معرفة وقت طلوع الفجر ووقت مغيب الشفق في أي ليلة أردنا إذا لم يكن القوسان معمولتين على الأسطرلاب إذا أردنا ذلك: أما معرفة طلوع الفجر فإنا نضع نظير جزء الشمس على ثمانية عشر جزءا من أجزاء الارتفاع في ناحية المغرب وننظر إلى مري أي كوكب شئنا من الكواكب المرسومة في العنكبوت على أي جزء وقع من أجزاء الارتفاع نرصد الكواكب حتى يصير ارتفاع ذلك القدر فيكون ذلك وقت طلوع الفجر. وإن أردنا وقت مغيب الشفق وضعنا نظير جزء الشمس على ثمانية عشر جزءا من أجزاء الارتفاع في ناحية المشرق ونظرنا إلى مري أي كوكب أردنا على أي جزء وقع من أجزاء الارتفاع في المقنطرات، وفعلنا به مثلما فعلنا بقوس طلوع الفجر.

দেখুন-

العمل بالأسطرلاب، مخطوط آياصوفيا، الرقم ২৬৪২، ق৯৫.

আলবেরুনি রাহ.

আবু রায়হান মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আলবেরুনি (৩৬২-৪৪০ হি./৯৭৩-১০৪৮ ঈ.)। প্রখ্যাত মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানী। ‘আলকানূনুল মাসউদি’ জ্যোতির্বিজ্ঞান, ভূগোল ও ইলমুত তাওকীত বিষয়ে লেখা তার অনবদ্য একটি গ্রন্থ। এতে তিনি বলেন-

الباب الثالث عشر في أوقات طلوع الفجر ومغيب الشفق:… وذلك هو الفجر وله ثلاثة أنواع: أولها مستدق مستطيل منتصب يعرف بالصبح الكاذب ويلقب بذنب السرحان ولا يتعلق به شيء من الأحكام الشرعية ولا من العادات الرسمية. والنوع الثاني منبسط في عرض الأفق مستدير كنصف دائرة يضيء به العالم فينتشر له الحيوانات والناس للعادات وتنعقد به شروط العبادات. والنوع الثالث حمرة تتبعها وتسبق الشمس وهو كالأول في باب الشرع. وعلى مثله حال الشفق؛ فإن سببهما واحد وكونهما واحد، وهو أيضا ثلاثة أنواع مخالفة الترتيب لما ذكرنا، وذلك أن الحمرة بعد غروب الشمس أول أنواعه، والبياض المنتشر ثانيها، واختلاف الأئمة في اسم الشفق على أيهما يقع أوجب أن يتنبه لهما معا، والثالث المستطيل المنتصب الموازي لذنب السرحان، وإنما لا يتنبه الناس له لأن وقته عند اختتام الأعمال واشتغالهم بالاكتنان، وأما وقت الصبح فالعادة فيه جارية في الانتشار، فلذلك ظهر لهم هذا وخفي ذلك. وبحسب الحاجة إلى الفجر والشفق رصد أصحاب هذه الصناعة أمره فحصلوا من قوانين وقته أن انحطاط الشمس تحت الأفق متى كان ثمانية عشر جزءا كان ذلك وقت طلوع الفجر في المشرق ووقت مغيب الشفق في المغرب، ولما لم يكن شيئا معينا بل بالأول مختلطا اختلف في هذا القانون فرآه بعضهم سبعة عشر جزءا.

এখানে তিনি ‘ফজরের উদয় ও শাফাক অস্ত যাওয়ার সময়’ শীর্ষক শিরোনামের অধীনে বলেন, ফজর তিন প্রকার : প্রথমটি উপরের দিকে লম্বা চিকন আলো। যেটির নাম সুবহে কাযিব। এর সাথে শরীয়তের কোন বিধানের সম্পর্ক নেই। দ্বিতীয়টি হল, দিগন্তের উভয় পাশে প্রশস্ত আলো, যা গোল অর্ধ বৃত্তের মত দেখায়। তখন থেকে প্রাণি ও মানুষ যার যার দৈনন্দিন কাজ শুরু করে এবং ইবাদাতের সম্পর্ক এরই সাথে। তৃতীয়টি হল, এরপর সূর্য উদয়ের আগ পর্যন্ত আকাশে যে লালিমা দেখা যায়। প্রথমটির মত এর সাথেও শরীয়তের কোনো বিধি-বিধানের সম্পর্ক নেই।

এরপর তিনি শাফাক নিয়ে আলোচনা করেন। শাফাকের বিষয়টি ফজরের মতই। কেননা উভয়টির প্রকাশের মূল কারণ একই। তাই শাফাকও তিন প্রকার। তবে এর তারতিবটি হবে ফজরের উল্টো। সূর্যাস্তের পর প্রথমে লালিমা তথা শাফাকে আহমার। তারপর দিগন্তে প্রশস্ত আলো। তারপরের আলোটি হল উপরের দিকে লম্বা।

ফজর ও শাফাকের প্রকার এবং প্রত্যেকটির বিবরণ দেওয়ার পর তিনি বলেন, মানুষের যেহেতু ফজর ও শাফাকের প্রয়োজন তাই এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ এ দুটি পর্যবেক্ষণ করেছেন। এবং তাদের সময় নির্ণয়ের কানুন অনুযায়ী নির্ধারণ করেন যে, সূর্য যখন দিগন্তের ১৮º নিচে থাকে তখন পূর্ব দিকে ফজর উদয়ের সময় হয় এবং পশ্চিম দিকে শাফাক ডোবার সময় হয়।

কিন্তু ফজর (অর্থাৎ সুবহে সাদিক) যেহেতু প্রথমটি (তথা সুবহে কাযিব) এর সাথে মিলিতই থাকে। তাই কেউ তা ১৭ ডিগ্রিতে দেখেছে। অর্থাৎ সে সুবহে সাহিক শুরু হওয়ার কিছু পরে তা দেখতে পেরেছে। শুরুতেই ধরতে পারেনি।

দেখুন-

القانون المسعودي ৯৪৯-৯৪৮/২، دائرة المعارف العثمانية بحيدرآباد الدكن سنة ১৩৭৪هـ ১৯৫৫م .

আযযারকালী রাহ.

আবূ ইসহাক ইবরাহীম ইবনে ইয়াহইয়া আননাক্কাশ (৪৯৩ হি./১১০০ ঈ.)।

মধ্যযুগে স্পেনে যেসব নামকরা বিজ্ঞানী জন্মলাভ করেন তাদের মাঝে তিনি অন্যতম প্রধান। তিনি মান নির্ণয়ের একটি মহাকাশযন্ত্র আবিষ্কার করেন, যা الصحيفة الزرقالية নামে খ্যাত। এ যন্ত্রটিকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার মনে করা হয়। জামালুদ্দিন কিফতী রাহ. তার সম্পর্কে বলেন-

أبصر أهل زمانه بأرصاد الكواكب وهيئة الأفلاك واستنباط الآلات النجومية وله صحيفة الزرقيال المشهورة فِي أيدي أهل هذا النوع التي جمعت من علم الحركات الفلكية كل بديع مع اختصارها. (إخبار العلماء بأخبار الحكماء ص ৫০)

উক্ত যন্ত্রের ব্যবহার-বিধির উপর তিনি একটি কিতাব লেখেন। এতে তিনি ফজর শুরু ও শাফাকের শেষ উভয়টি ১৮ ডিগ্রিতে  নির্ধারণ করেন। উক্ত কিতাবে শাস্ত্রীয় ভাষায় বিষয়টি এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে-

الباب التاسع والأربعون في معرفة مغيب الشفق وطلوع الفجر : تنظر إلى الشمس فإن كانت شمالية الميل فضع طرف العضادة على مثل ارتفاع الحمل في بلدك في ربع الإرتفاع، ثم أبعد المعترضة عن مركز الصحيفة إلى ناحية العلامة ثمان عشرة… فما بقي فهو قدر ما يدور الفلك من لدن غروب الشمس إلى مغيب الشفق، وكذلك من طلوع الفجر إلى طلوع الشمس.

দেখুন-

كتاب العمل بالصحيفة الزيجية، مخطوط الإسكوريال، الرقم ৯৬২. الورق:৪৫.

নাসীরুদ্দীন তূসী রাহ.

মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাসান [৫৯৭-৬৭২ হি./১২০১-১২৭৪ ঈ.] জ্যোতির্বিজ্ঞানে তারও অবদান অনেক। বেশ কিছু দর্শন আছে- তাকে এর আবিষ্কারক মনে করা হয়।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের উপর তার অনেকগুলো কিতাব আছে। زبدة الإدراك في هيئة الأفلاك،  التبصرة في علم الهيئة, التذكرة في علمالهيئة এই তিন কিতাবেই তিনি ফজরের সময় ও এশার সময় নিয়ে আলোচনা করেছেন। ফজর এবং শাফাক দুটির জন্যই তিনি উক্ত কিতাবগুলোতে ১৮ ডিগ্রির কথাই বলেছেন। আততাযকিরা কিতাবে আছে-

الفصل التاسع في الصبح والشفق من الباب الثالث : … ثم إذا قربت الشمس جدا انبسط النور، فصار الأفق منيرا ويصير الصبح صادقا. والشفق يكون بعكس الصبح. وقد  عرف بالتجربة أن انحطاط الشمس من الأرض عند أول طلوع الصبح و آخر غروب الشفق يكون ثمانية عشر جزءا.

দেখুন-

التذكرة في الهيئة، مخطوط المكتبة البريطانية، الرقم:২৩৩৯৪، ق ৪৯.

এ্যাস্ট্রল্যাবের উপর ফার্সি ভাষায় বিশ অধ্যায়ে লেখা তার আরেকটি কিতাব হল بيست باب در معرفت اسطرلاب। এই কিতাবেও তিনি একই কথা বলেন।

নিযামুদ্দীন ইবনে হাবীব আলহুসাইনী রাহ. ৮৭৩ হিজরীতে مفتاح بيست باب নামে ত‚সীর এই কিতাবের একটি শরহ লেখেন। এই কিতাবে ত‚সীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা তিনি এভাবে পেশ করেন-

و چوں  آفتاب  نزديك  شود  بافق شرقى سفيدى كہ از طرف مشرق  بر  افق  منبسط  باشد  آنرا  صبح  خواند،  وبتجربہ وامتحان بآلاتے كہ  لا‎‎‎ئق است  ايں  اورا  مثل  اسطرلاب معلوم كردہ اند كہ ہر گاه كہ آفتاب ہجده  درجہ از افق منحط  شده  شفق  منفى  گشتہ   وارتفاع  نظير  آفتاب  يعنى  راس مخروط ہر گاه كہ ہجده  درجہ غربى  بوده صبح  پيدا  شده.

এখানে তিনি স্পষ্টই বলেন যে, দিগন্তে আলো যখন প্রশস্ত আকারে প্রকাশ হয় এটিকেই সুবহ বলে এবং তা ১৮ ডিগ্রিতে শুরু হয়। এখানে ‘منبسط’ শব্দটি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এটি ‘معترض’ এবং ‘مستطير’-এর  অর্থে, যা দ্বারা হাদীস শরীফে সুবহে সাদিকের ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ‘منبسط’ শব্দটি ‘مستطيل’-এর বিপরীতে ব্যবহার হয়েছে। ‘فجر مستطيل’ তো হল সুবহে কাযিব। ‘بست باب’-এর প্রাচীন এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে নিযামুদ্দীন হাবীব সুবহে সাদিকের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন যে, মুশাহাদা এবং উপযুক্ত যন্ত্রসমূহের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে জানা যায় যে, এই সুবহ সূর্য দিগন্তের ১৮ ডিগ্রি নিচে থাকতেই প্রকাশ হয়ে যায়।

দেখুন-

مفتاح بيست باب، مخطوط آياصوفيا استنبول، الرقم ২৬৪২، ق২৬.

এই কিতাবের আরেকটি শরহ, যা গ্রন্থাকার উসমানী খলীফা সুলতান বায়যিদ সানি (৮৮৬-৯১৮ হি./১৪৪৭-১৫৫২ ঈ.)-কে উদ্দেশ্য করে লিখেছিলেন। তাতে আরো স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, তূসী এখানে যে সুবহের কথা বলেছেন তা দ্বারা উদ্দেশ্য সুবহে সাদিক এবং শাফাক দ্বারা উদ্দেশ্য শাফাকে আবয়ায। তিনি বলেন-

وساعات صبح  وشفق كہ مصنف بيان كرد ساعات صبح صادق است وشفق شبيہ بذى آں ساعتے باشد.

দেখুন-

شرح بيست باب (معتبر شرح مختصر)، مخطوط آياصوفيا، استنبول الرقم ২৬৪১، ق ৫১-৫০ .

ইবনুন নাজ্জার রাহ.

আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া (মৃত্যু ৭৪৯ হি.)। ইবনে খালদূন রাহ. তার ব্যাপারে বলেন-

كان إماما في علم النجامة وأحكامها وما يتعلّق بها.

(তারীখে ইবনে খালদূন ৭/৫২৭)।

ফযর ও এশা সম্পর্কে তিনি বলেছেন-

مر عمل الموقتين على تساوي فضلي ما بين المغرب والعشاء والفجر والشمس، فيؤذنون بالعشاء لذهاب ثماني عشرة درجة، وبالفجر لبقائها .

অর্থাৎ পূর্ব যুগ থেকে ফজর ও এশা উভয় ক্ষেত্রে মুওয়াক্কিতগণের আমল ১৮º অনুযায়ী চলে আসছে। মুআযযিনগণ সূর্যাস্তের ১৮º পর এশার আযান দেন এবং ফজরের আযান দিয়ে থাকেন সূর্যোদয়ের ১৮º আগে।

দেখুন-

نفح الطيب من غصن الأندلس الرطيب ২৩৭/৫.

শামসুদ্দীন আলমিয্যী রাহ.

মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ (৬৯০-৭৫০ হি./১২৯১-১৩৪৯ ঈ.)। তিনি একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং মুসলিম বিশ্বের প্রসিদ্ধতম ঐতিহ্যবাহী মসজিদ দামেস্কের জামে উমাবীর মুওয়াক্কিত পদে নিযুক্ত ছিলেন। তিনি বলেছেন, সুবহে সাদিক হয় ১৯ ডিগ্রিতে । তার বক্তব্য-

وأما وقت الفجر فهو طلوع البياض المنتشر على الأفق الشرقي والعمل كالعمل في العشاء، إلا أنك تضع درجة النظير على ১৯ من المقنطرات، والدائر لهذا الارتفاع هو الدائر من طلوع الفجر إلى طلوع الشمس ويسمى حصة الفجر.

দেখুন-

الروضات الزاهرات فى العمل بالربع المقنطرات، مخطوط المكتبة الفرنسية رقم ২৫৪৭، ق: ১২৭.

ইবনে শাতির রাহ.

আলাউদ্দীন আবুল হাসান আলী ইবনে ইবরাহীম (৭০৪-৭৭৭ হি./১৩০৪-১৩৭৫ ঈ.)। যুগশ্রেষ্ঠ মুসলিম বিজ্ঞানী। জ্যোতির্বিজ্ঞানে তার অনেক আবিষ্কার আছে। সূর্যঘরি ও মিযওয়ালাসহ ফালাকিয়াতের বিভিন্ন যন্ত্র আবিষ্কার করেছিলেন তিনি। খেলাফাতে উসমানিয়া কর্তৃক দামেস্কের জামে উমাবিতে নিযুক্ত মুয়াক্কিতগণের প্রধান ছিলেন। সাফাদী রাহ. তার সম্পর্কে বলেন-

هو الإمام فريد الزمان المحقق المتقن البارع الرياضي أعجوبة الدهر … رئيس المؤذنين بالجامع الأموي بدمشق … ودخلت إلى منزله في شهر رمضان سنة ثلاث وأربعين وسبعمائة لرؤية الأسطرلاب الذي أبدع وضعه فوجدته قد وضعه في قائم حائط في منزله داخل باب الفراديس في درب الطيار ورأيت هذا الأسطرلاب فأنشأ لي طربا وجدد لي في المعارف أربا وعلمت به أن من تقدمه من الأفاضل عند جبل علمه الراسخ هباء فلو رآه النصير الطوسي لما كانت متوسطاته إلا مبادي أو المؤيد العرضي لخذل عند الحواضر والبوادي أو القطب الشيرازي لما خرج عن دائرته إلى يوم التنادي بل لو رآه أقليدس لما كان إلا نقطة من خطه أرشميدس لتراءى شكله قطاعا في تحريره وضبطه فسبحان من يفيض على بعض النفوس ما يشاء من المواهب ويجدد في كل عصر من يحيي رسوم الفضل الذي عدم في الليالي الذواهب. (الوافي بالوفيات ১৩/২০)

তার আবিষ্কৃত যন্ত্রগুলোর মধ্যে ইলমুত তাওকীত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি আবিষ্কার হল, الربع التام لمواقيت الإسلام। এর সম্পর্কে তিনি নিজেই বলেন-

فإني أمعنت النظر في الآلات الفلكية الموصلة إلى معرفة الأوقات الشرعية، فوجدتها مع كثرتها ليس فيها ما يفي بجميع الأعمال الفلكية في كل عرض، ولا بد أن يدخلها الخلل في غالب الأعمال، وذلك إما من جهة تعسر تحقيق الوضع … وكنت أود لو يسر الله

بوضع آلة يخرج بها جميع الأعمال في جميع الآفاق بسهولة مقصد وقرب مأخذ ووضوح برهان، يستغنى برسومها عن المروي، فإن غالبا ما يقع الخلل من جهته، فوفق الله تعالى وله الحمد والمنة لاستنباط هذه الآلة، وسميتها بـ”الربع التام لمواقيت الإسلام”.

এই যন্ত্রের ব্যবহারবিধির উপর তিনি যে কিতাবটি লিখেছেন তার নাম, النفع العام في العمل بالربع التام এই কিতাবে ফজরের ওয়াক্ত সম্পর্কে তিনি বলেন-

الباب السابع والسبعون من المائة الثانية في معرفة وقت الصبح: ويدخل وقتها بطلوع الفجر الصادق المعترض ضوؤه دون الفجر الكاذب الذي ضوؤه مستطيلًا ثم ينمحي أثره، وقد رصدت ارتفاع النظير وانحطاط الشمس تحت الأفق في سنين متوالية فوجدته لا يزيد أبدًا عن ২০ درجة ولا ينقص عن ১৮ درجة، وأعتمد على ১৯ درجة، وذكروا في الرسائل القديمة على أنه ১৮ درجة، وفيه إسفار. والذي حرره الشيخ أبو علي المراكشي أنه২০، وعليه اعتماد أهل مصر في زماننا هذا قاطبة، وذكر البوزجاني والبيروني والنصير الطوسي والمؤيد العرضي أنهم رصدوا هذا الارتفاع فوجدوه ১৯ درجة، وعليه اعتمدنا.

‘দু’শ সাতাত্তর নম্বর অধ্যায়, সুবহের ওয়াক্তের পরিচয় সম্পর্কে : এর সময় শুরু হয় সুবহে সাদিক উদয়ের দ্বারা। যার আলো ডানে-বামে প্রশস্ত থাকে। সুবহে কাযিবের সময় থেকে নয়; যার আলো উপরের দিকে লম্বা হয়, অতপর তা বিলুপ্ত হয়ে যায়। আমি একাধারে অনেক বছর পর্যবেক্ষণ করেছি যে, সূর্য তখন দিগন্তের কত ডিগ্রি নিচে থাকে? আমি দেখেছি, তা কখনো ২০ ডিগ্রির বেশি হয় না এবং ১৮º থেকে কমও হয় না। আর আমার নিকট গ্রহণযোগ্য হল ১৯º। কিন্তু পুরাতন যুগের জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণ তাদের কিতাবসমূহে ১৮ ডিগ্রির কথা উল্লেখ করেছেন। তখন কিছুটা ইসফার হয়ে যায়। আর শায়েখ আবু আলী আলর্মারাকুশী ২০ ডিগ্রির কথা লিখেছেন। এই যুগে (অষ্টম হিজরী শতাব্দীতে) মিসরবাসীদের কাছে ব্যাপকভাবে এটিই গ্রহণযোগ্য। আর বুযজানী, আলবেরুনি, নসীর আততূসী ও মুআয়্যিদ আলউরযী বলেছেন, তারা পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন যে, তখন ১৯º হয়। আমাদের নিকট এটিই গ্রহণযোগ্য।’

দেখুন-

النفع العام في العمل بالربع التام ص ২৪৭، مطبعة دار الكتب والوثائق القومية، تحقيق ودراسة: أسامة فتحي إمام.

এখানে বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, আলবেরুনী রাহ. ও নাসীরুদ্দীন তূসী রাহ.-এর বক্তব্য উদ্ধৃত করে যে  আহসানুল ফতোয়ায় ১৮ ডিগ্রিকে সুবহে কাযিব বলা হয়েছে- তা একেবারে ভুল। তাদের কিতাবসমূহের প্রতি ইবনে শাতেরের নযর বেশি, না পরবর্তী কারো? এবং তাদের বক্তব্য ইবনে শাতের বেশি বুঝেন, না পরবর্তী কেউ?

ইবনে শাতেরের উক্ত বর্ণনায় আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় যে, তিনি বলছেন, তিনি নিজে লাগাতার কয়েক বছর মুশাহাদা করে দেখেছেন যে, সুবহে সাদিকের সময় কখনো ১৮ ডিগ্রির কম হয় না।

আর তার এই আলোচনায় আরো দু’জন বিজ্ঞানীর নাম নিয়েছেন তিনি, যারা সুবহে সাদিক ১৯ ডিগ্রিতে হওয়ার কথা বলেছেন। একজন হলেন, চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর আবুল ওয়াফা মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আলবুযজানী (৩২৮-৩৮৮ হি./৯৪০-৯৯৮ ঈ.)। সাফাদী রাহ. তার সম্পর্কে বলেছেন-

أحد الأئمة المشاهير في علم الهندسة والحساب وله فيهما استخراجات غريبة لم يسبق إليها.

আরেকজন হলেন, মুআয়্যিদুদ্দিন আলউরযী (মৃত্যু ৬৬৪ হি./১২৬৬ ঈ.)। তিনিও প্রসিদ্ধ মুসলিম বিজ্ঞানী।

ইবনে শাতির রাহ.-এর গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি কিতাব হল, الزيج الكبير। এই কিতাবেও তিনি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। উক্ত কিতাবে আছে-

الباب الثامن والثلاثون في معرفة حصة طلوع الفجر ومغيب الشفق: اعرف الدائر لنظير جزء الشمس على أن الإرتفاع ১৯ درجة في الفجر وفي الشفق ১৭، فما كان فهو الحصة لكل واحد منهما، هذا هو الذي وقع عليه القياس، وعند أبي علي المراكشي ২০ و১৬ وعند غالب الأقدمين ১৮،والأول أصح منهما.

দেখুন-

الزيج الكبير، مخطوط مكتبة الأبحاث الاقتصادية للشرق الأقصى بشركة سكك الحديد منشوريا الجنوبية، الورق ১১৫.

এখানে শেষে তিনি যে কথাটি বলেছেন তা হল, আগের যুগের অধিকাংশ বিজ্ঞানীর মত হল- শাফাক ও সুবহে সাদিক উভয় ক্ষেত্রে ১৮º।

জামালুদ্দীন আলমারদানী রাহ.

আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (মুত্যু ৮০৯ হি./১৪০৬ ঈ.)। মিসরের রাজধানী কায়রোর অধিবাসী। আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রাহ.-এর উসতায। জ্যোতির্বিজ্ঞান ও ইলমুত তাওকীতে বিশেষ পাণ্ডিত্য ছিল তার। ইবনে হাজার রাহ. তার ব্যাপারে বলেছেন-

انتهت إليه رياسة علم الميقات في زمانه وكان عارفاً بالهيئة مع الدين المتين. [إنباء الغمر بأبناء العمر ৩৬৮/২]

তিনি الدر المنثور في العمل بربع الدستور কিতাবে লিখেন-

الثامن والعشرون في معرفة حصتي الشفق والفجر: الشفق هو  الحمرة التي تبقى في أفق المغرب بعد مغيب الشمس وحصته قوس من مدار الجزء ما بين الأفق والمقنطرة المنحطة تحته سبع عشرة درجة. والفجر هو البياض المعترض في أفق المشرق آخر الليل وحصته قوس من مدار الجزء ما بين الأفق والمقنطرة المنحطة تسع عشرة درجة. وهما حادثان من تشبث الأبخرة الصاعدة من الأرض بالأشعة. وقد اختلف فيهما كلام الرصاد، فطائفة من المتقدمين على أنهما متساويان يؤخذان من انحطاط ثمانية عشر ويمنعه تقدم البياض في الظهور وتأخره بعد الحمرة في المغيب. وقال بعض المتأخرين في الشفق ستة عشر وفي الفجر عشرين، وهو ضعيف لقلة من قال به من الرصاد، وقد امتحن ذلك بعض حذاق المتأخرين في سنين متوالية، فوجد الثمانية عشر وقت إسفار والعشرين غلسا. … والذي اعتمد عليه محققو هذا العلم من الرصاد وغيره سبعة عشر في الشفق وتسعة عشر في الفجر.

এখানে তিনি কত স্পষ্টভাবে বলেছেন, মুতাকাদ্দিমীন ফালাকীগণের অনেকের মত হল, সুবহে সাদিক শুরু হয় ১৮ ডিগ্রিতে। তবে তার যুগের মুহাক্কিক মুয়াক্কিতগণের মত ব্যাপকভাবে ছিল ১৯ ডিগ্রি। আর ২০ ডিগ্রির মতটি দুর্বল।

দেখুন-

الدر المنثور في العمل بربع الدستور، مخطوط المكتبة الأزهرية، الرقم:৭৬৬০ ، ق ৫১.

 

সিব্ত আলমারিদীনী রাহ.

মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ (৮২৬-৯১২ হি./১৪২৩-১৫০৬ ঈ.)। মিসরের ঐতিহ্যবাহী মসজিদ জামে আযহারের মুওয়াক্কিত ছিলেন তিনি।  তিনি বলেন-

الباب العشرون في معرفة وقت العشاء ووقت الفجر وحصتهما وحدهما واستخراجهما: … ويعرف وقت الصبح بطلوع الفجر الصادق، وهو المنتشر ضوؤه معترضا بالأفق الشرقي للأحاديث الصحيحة وللإجماع أيضا، … وقال الشيخ جمال الدين المارداني: وقد امتحنهما بعض حُذاق المتأخرين في سنين متوالية –يعني الشيخ علاء الدين ابن الشاطر- فوجد الثمانية عشر وقتَ إسفار، والعشرين وقت غلَس،…

والذي اعتمد عليه محققو هذا العلم من الرصّاد وغيرهم؛ كالنصير الطوسي، والمؤيد العرضي، وأبي الريحان البيروني، وغيرهم من أئمة الرصّاد، وتبعهم ابن الغزولي وأبو طاهر وغيرهما: أن الشمس إذا انحطت عن أفق المغرب ১৭ غرب الشفق، وإذا صارت منحطة عن أفق المشرق ১৯ يطلع الفجر.

قلت: وهذا عليه عامة فضلاء الموقتين وعامة مشايخنا وغيرهم من الطبقة التي أدركناها، والطبقة التي قبلها من مشايخ أشياخنا وغيرهم، ولا عبرة بما يفعله بعض من لا دراية له بالصناعة، ولا إلمام له بالعلم وأهله.

দেখুন-

حاوي المختصرات في العمل بربع المقنطرات، مخطوط المكتبة البريطانية، الورق: ২১. نسخة أخرى: الورق ২৭-২৯.

ইলমুল মীকাতের উপর তার আরেকটি কিতাব المطلب في العمل بالربع المجيب এই কিতাবেও তিনি ১৯ ডিগ্রির কথাই লিখেছেন।

দেখুন-

المطلب في العمل بالربع المجيب، مخطوط، الورق: ২৭.

উমর আততাওযারী রাহ.

উমর ইবনে আবদুর রাহমান ইবনে আবুল কাসেম আলমাখযুমী (৮৫৮ হি./১৪৫৪ ঈ.)। তিনি বলেন-

وأما معرفة حصة الشفق والفجر فإنهما يعرفان بنظير جزء الشمس فإن انحطاط الشمس على الأفق على قدر ارتفاع النظير، وحصة الشفق ما بين مغيب الشمس ومغيب الشفق، وحصة الفجر مدة ما بين طلوع الفجر وطلوع الشمس.

واختلف الفقهاء واللغويون في الشفق، فقيل الحمرة، وهو مذهب مالك والشافعي، وقيل البياض، وهو مذهب أبي حنيفة. أما الفجر فهو البياض المستطير المنتشر بالأفق.

وعمل المتقدمين من أهل هذه الصناعة على تباين بلادهم في المشرق والمغرب على أن ارتفاع النظير مشرقا عند مغيب الشفق ثمانية عشر درجة، ومثل ذلك ارتفاعه مغربا عند طلوع الفجر عملا منهم أن الشفق هو البياض. ولم يزل عملهم على ذلك إلى أن زعم أبو علي المراكشي أنه رصده وقت مغيب الحمرة فوجد ارتفاع النظير ستة عشر ورصد وقت طلوع الفجر فوجد ارتفاع النظير عشرين، فتوسط بعض المتأخرين بين القولين وعملوا على أن الارتفاع للشفق سبعة عشر وللفجر تسعة عشر، وعلى ذلك اقتصر جمال الدين المارداني في رسالته، واختار الشيخ عبد العزيز أن يعمل في الشفق بثمانية عشر وفي الفجر بعشرين احتياطا، ولئن احتاط في الفجر للصوم لقد أخل بالاحتياط للصلاة.

দেখুন-

محصلة المطلوب في العمل بربع الجيوب، الباب الثامن عشر، مخطوط جامعة مشيغان، ق ১১২-১১১.

আলওয়াফায়ী রাহ.

আবদুল আযীয ইবনে মুহাম্মাদ (৮১১-৮৭৬ হি./১৪০৮-১৪৭২ ঈ.)। তিনি বড় জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও মিসরের প্রসিদ্ধ মসজিদ জামে মুআয়্যিদীর মুওয়াক্কিতের দায়িত্বে ছিলেন। তিনিও ১৯ ডিগ্রিতে সুবহে সাদিকের কথা বলেছেন।

وأما وقت الفجر فهو بطلوع أول البياض المعترض في أفق المشرق، وحصته مقدار المدة التي بين طلوعه وطلوع الشمس. وطريق ذلك استخراج كل منهما أن تضع درجة الشمس على قوس أيهما أردت إن كان مقاطعتهما لمدار أكمل على مقنطرة يز (১৭) ويط (১৯) فما قطع الخيط من فهو مقدار الحصة المطلوبة. وإن شئت فعلم على نظير الدرجة وانقل المروي لمقنطرة يز (১৭) للشفق ويط للفجر. … واعلم أن ما ذكرنا في ارتفاع النظير للحصتين هو المتعتمد عند محقق أهل هذا العلم من الرصاد وغيرهم، وهو المعمول به في هذا الزمان.

দেখুন-

النجوم الزاهرات فى العمل بالربع المقنطرات، مخطوط المكتبة الفرنسية رقم ২৫৪৭، ق: ১৫৬.

 

আততিযিনী রাহ.

মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর আলহানাফী (৮২৮-৯১১ হি./১৪২৫-১৫০৫ ঈ.)। দামেস্কের জামে উমাবীতে নিযুক্ত তখনকার মুওয়াক্কিতগণের প্রধান। ফজরের ক্ষেত্রে তার মতও ১৯º। তিনি বলেন-

وأما وقت الفجر فبطلوع الفجر الصادق، وهو البياض المعترض في أفق المشرق لا البياض المستطيل قبله، وقد أفرضوا لذلك ارتفاعا، وذلك أنه متى صار انخفاض الشمس عن أفق المغرب ثم درجة وانخفاض نظير جزء الشمس عن أفق المشرق يط (১৯) درجة.

দেখুন-

الرسالة على ربع الدائرة الموضوعة على المقنطرات، مخطوط المكتبة الفرنسية رقم ২৫৪৭، ق: ১৯৫.

 

আলআখযারী রাহ.

আবদুর রাহমান ইবনে মুহাম্মাদ আলআখযারী (৯১৮-৯৮৩ হি./১৫১২-১৫৭৫ ঈ.)। ছন্দ আকারে জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা তার কিতাব أزهر المطالب في هيئة الأفلاك والكواكب -এ তিনি সুবহে সাদিক ১৮ ডিগ্রিতে শুরু হওয়ার কথা লেখেন। তিনি বলেন-

وإن أردت الوقت للصلاة * فهذه قواعد ستأتي.

… …

وخط للعشاء خط الشفق * ليح (১৮) من مقنطرات المشرق.

وخط للفجر الصدوق الموجب * ليح (১৮) من مقنطرات المغرب.

দেখুন-

أزهر المطالب في هيئة الأفلاك والكواكب، مخطوط جامعة الملك سعود برقم ১৮৪০، ق ৬.

 

ইয়াহইয়া আলহাত্তাব রাহ.

ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ (৯০২-৯৯৫ হি./১৪৯৬-১৫৮৭ ঈ.)। মক্কা মুকাররামার মালেকী মাযহাবের একজন ফকীহ। তিনি ফজরের ক্ষেত্রে ১৯ ডিগ্রির কথা বলেন। তার বক্তব্যটি এই-

فصل في معرفة حصة الفجر، وهي المدة التي من طلوع الفجر الصادق إلى طلوع الشمس. وطريق تحصيلها أن تستخرج الدائر لارتفاع تسعة عشر على أن الشمس في نظير درجتها تحصل حصته.

দেখুন-

وسيلة الطلاب في علم الفلك بطريق الحساب، مخطوط جامعة الملك سعود، الرقم ৪৫৬৮، ق ২৮.

 

শিহাবুদ্দিন আসসুমবাতী রাহ.

আহমাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আবদুল হক (৯৯৫ হি./১৫৮৭)। তিনি বলেন-

(الباب الثاني عشر في معرفة مقدار حصة الشفق) وهي المدة التي بين غروب قرص الشمس وغروب الشفق الأحمر، ومقدار حصة ( الفجر) وهي المدة التي بين طلوع الفجر الصادق وطلوع الشمس، إذا أردت معرفة حصة الشفق …، (وإن فعلت ذلك) الذي لجيب قوس سبعة عشر وتسعة عشر … (حصل) لك (مقدار حصة الفجر) المطلوب، (وهي) أي مقدار حصة الفجر (ما بين طلوع الصادق وطلوع الشمس) وخرج بالصادق وهو المنتشر ضوؤه معترضا بنواحي السماء الكاذب، وهو يطلع قبل الصادق مستتطيلا ثم يذهب ويعقبه ظلمة.

দেখুন-

شرح رسالة المارديني في العمل بالربع المجيب، مخطوط جامعة الملك سعود، الرقم ২৬৮২، ق ১০.

 

আবু যায়েদ আসসুসী রাহ.

আবদুর রাহমান ইবনে আমর আলজাররাদী (১০০৮ হি./১৬০০ ঈ.)। হুযাইকি রাহ. তার সম্পর্কে লেখেন-

الفقيه اللغوي النحوي العروضي الحيسوبي الموقت المحقق، وحيد دهره وفريد عصره. .. وقال صاحب الفوائد: .. ولبراعته في علم التنجيم نقله المنصور لمدينة مراكش للتوقيت بها وتعليم علمه.  .. وهو الذي نصب في كل من منارات تردنت والقصبة والجامع الكبير رخامات نقش عليها الساعات الزمانية والأصابع المبسوطة والسموت وخط الزوال و خط الظهر وخط العصر، وخط آخر للعصر لمدينة تردنت ولكل بلد يوافقها في العرض، وركز في وسطها مسمارا يعتبر ظله مع كل خط من تلك الخطوط، فإذا وقف الظل على خط الزوال علم، ثم كذلك إلى آخره بحيث لا يحتاج المؤذن في شيء من ذلك لكلفة. (طبقات الحضيكي ৪০৪/২)

ইলমুত তাওকীত বিশেষজ্ঞ এই মহান বিজ্ঞানী ফজরের ক্ষেত্রে ১৮ ও ১৯ উভয় মতই উল্লেখ করেন। তবে প্রধান্য দিয়েছেন ১৮ ডিগ্রীর বক্তব্যকে। তিনি বলেন-

ساعات مغيب الشفق وطلوع الفجر وما في مدتيهما من أدراج: اعلم أن مغيب الشفق كطلوع الفجر، وذلك عند ما يكون انخفاض الشمس تحت الأفق ثماني عشرة درجة من الدايرة الشمسية المارة بقطبي الأفق، وعلى مثل ذلك يكون ارتفاع النظير من تلك الدايرة فوق الأفق من الجهة المقابلة، فلزم على هذا أن تكون مدة الشفق مساوية لمدة الفجر، وهو الداير من الفلك من حين الغروب إلى حين كون الانخفاض يح(১৮) أو من حين كون الانخفاض يح (১৮) إلى حين الشروق، وهذا على أن انخفاض الشمس للوقتين يح (১৮). ومنهم من جعل للشفق يز(১৭) وللفجر يط (১৯)، فتكون على هذا مدة الفجر أوسع من مدة الشفق، وذلك أن الشفق هو الحمرة كما علمت، والحمرة قبل الشروق كالحمرة بعد الغروب والفجر ضياء يبدو قبل الحمرة، فكانت المدة أوسع من المدة.

ولكن الاحتياط لدخول الوقت وتبيينه هو على رأي من جعل لهما يح (১৮) وهو الذي عليه العمل كثيرا، ولا يخفى وجه كون ذلك احتياطا.

দেখুন-

قطف الأنوار شرح روضة الأزهار، مخطوط مؤسسة الملك عبد العزيز الدار البيضاء، ق ৯১.

আলী আননাবতীতি রাহ.

আলী ইবনে আবদুল কাদির (মৃত্যু: ১০৬৫ হি./১৬৫৫ ঈ. প্রায়)। মিসরের ঐতিহ্যবাহী প্রচীন মসজিদ জামে আযহারের মুওয়াক্কিত ছিলেন তিনি। তিনি বলেছেন-

الباب الثاني عشر في معرفة حصة الشفق والفجر، أي في بيان إخراج مقدار حصة الشفق ومقدار حصة الفجر الصادق أو المدة التي بين مغيب الشفق ومغيب الشمس والمدة التي بين طلوع الفجر الصادق وطلوع الشمس كما سيأتي. ثم اعلم أن الفجر الصادق باتفاق الأئمة هو البياض  المنتشر ضوؤه في أفق المشرق لإقبال الشمس إليه، وأما الشفق فاختلف فيه، فذهب الإمام الشافعي والإمام مالك والإمام أحمد في أصح قوليه وكذا صاحب أبي حنيفة إلى أنه الحمرة التي بعد غيبوبة الشمس، وقال الإمام الأعظم أبو حنيفة وكذا الإمام أحمد في القول الثاني أنه البياض الذي بعد الحمرة.

وعند الرصاد أئمة هذا الفن على ما اعتمده المحققون منهم أن الشفق يغيب بانحطاط الشمس تحت الأفق سبع عشرة درجة، وأن الفجر يطلع إذا كان بين الأفق والشمس تسع عشرة درجة.

দেখুন-

الفتوحات الوهبية لشرح الرسالة الفتحية، مخطوط مكتبة الملك عبد العزيز العامة، ق ১২.

 

রমযান আসসাফতী রাহ.

রমযান ইবনে সালেহ ইবনে উমর (১১৫৮ হি./১৭৪৫ ঈ.)। তিনি ১৯ ডিগ্রিতে সুবহে সাদিকের কথা বলেছেন। তিনি বলেন-

الباب التاسع في معرفة حصتي الشفق

والفجر: أما حصة الشفق هي المدة التي بين غروب الشمس ومغيبه عن الأفق الغربي، وهي …

والفجر هو البياض المعترض في أفق المشرق آخر الليل، وفي تحقيق بيان الحصتين والبرهنة عليهما تفصيل طويل ومباحث رياضية لا يحتملها هذا المؤلف؛ إذ في إيرادها هنا فوات المقصود. وهي مبسوطة في كتب الهيئة وغيرها ككتاب المناظر لابن الهيثم وغيره من الكتب المعتبرة. ومن طرق حساب الحصتين طريقتان، هما أحسن الطرق. الأولى: أن تقسم جيب يز درجة أو يط درجة على الجيب الأوسط المحسوب للعرض المفروض منحطا، وتزيد على خارج القسمة جيب نصف التعديل للعرض المفروض في الموافقة وتطرحه منه في المخالفة أعني تطرح جيب نصف التعديل من خارج القسمة في المخالفة، فما اجتمع أو بقي فهو الجيب المستعمل، وقوسه هو المطلوب، ثم زد نصف التعديل في الخالفة على قوس الجيب المستعمل واطرح نصف التعديل في الموافقة من قوس الجيب المستعمل فما اجتمع أو بقي يكون حصة الشفق إن كنت إن كنت استعملت جيب يز (১৭) وإلا فحصة الفجر إن كنت استعملت جيب يط (১৯).

দেখুন-

كفاية الطالب لعلم الوقت وبغية الراغب في معرفة الداير وفضله والسمت، الباب التاسع في معرفة حصتي الشفق والفجر. (ق: ২০، مخطوط جامعة ميشيغان، الرقم ৭৫৯)

আলকালবুনী রাহ.

আবুল ফাতহ ইসমাঈল ইবনে মুসতাফা আররুমী (১২০৫ হি./১৭৯১ ঈ.)। তিনিও ফজরের ক্ষেত্রে ১৯ ডিগ্রির কথা বলেছেন। তিনি বলেন-

الفصل الثاني في حصتي الفجر والشفق الأحمر: قد وقع بين القوم اختلاف كثير في وقت طلوع الفجر الصادق ومغيب الشفق الأحمر، والمعتمد عند المحققين أن الأول عند انحطاط الشمس عن أفق المشرق يط أي تسع عشرة درجة والثاني عند انحطاطها عن أفق المغرب يز أي سبع عشرة درجة.

দেখুন-

العمل بالربع المجيب، ق: ১৪، مخطوط جامعة الملك سعود.

 

আবুর রাবী আলফিশতালী রাহ.

সুলাইমান ইবনে আহমাদ (১২০৮ হি./১৭৯৪ ঈ.)। মরক্কোর মালেকী মাযহাবের একজন ফকীহ। ইলমুল ফালাক ও তাওকীতেরও আলেম ছিলেন তিনি। তিনি বলেন-

الباب الثاني عشر في معرفة حصة الشفق ومقدار حصة الفجر. حصة الشفق مدة ما بين مغيب الشمس ومغيب الشفق وحصة الفجر مدة ما بين طلوع الفجر وطلوع الشمس، واختلف الفقهاء واللغويون في الشفق، فقيل الحمرة، وهو مذهب مالك والشافعي، وقيل البياض وهو مذهب أبي حنيفة. أما الفجر فهو البياص المستطير أي المنتشر بالأفق، وهما حادثان من تشبث الأبخرة الصاعدة من الأرض بالأشعة.

وعمل المتقدمين وأهل هذه الصناعة على تبياين بلادهم في المشرق والمغرب على أن ارتفاع النظير مشرقا عند مغيب

الشفق ثمانية عشر، ومثل ذلك ارتفاعه مغربا عند طلوع الفجر عملا منهم على أن الشفق هو البياض. قال التوزري: ولم يزل عملهم على ذلك إلى أن زعم أبو علي المراكشي أنه رصد وقت مغيب الحمرة فوجد ارتفاع النظير ستة عشر، ورصد وقت طلوع الفجر فوجد ارتفاع النظير عشرين. فتوسط بعض المتأخرين بين القولين وعملوا على الارتفاع للشفق سبعة عشر وللفجر تسعة عشر. وعلى هذا القول اكتفى هذا الشيخ في الرسالة ورآه أقرب إلى التحقيق.

দেখুন-

بغية ذوي الرغبات بشرح عويص رسالة المارديني في الربع الجيبي من الميقات، مخطوط مكتبة الملك عبد العزيز العامة، ق ৩১-৩০.

 

ইদরিস ইবনে ইসমাঈল রাগিব রাহ. (১২৭৯-১৩৪৭ হি.-এর পর)। তিনিও ১৯ ডিগ্রিতে সুবহে সাদিকের কথা বলেছেন। তার বক্তব্য-

في بيان حساب حصة الفجر: تقدم أن وقت الفجر يبتدئ من ظهور الفجر الصادق، وهو الشفق الأبيض، وقد قدروا انحطاط مركز الشمس عن الأفق الشرقي المقابل لظهور الشفق الأبيض بمقدار ১৯.

দেখুন-

طيب النفس لمعرفة الأوقات الخمس، مطبعة المقتطف بمصر، ص:ظ.

 

মুখতার পাশা রাহ.

আহমাদ মুখতার গাজী পাশা (১৩৩৭ হি./১৯১৯ ঈ.)। তুর্কির একজন প্রসিদ্ধ আলেম ও খেলাফতে উসমানিয়ার একজন বড় নেতা ছিলেন। তিনি লেখেন-

في معرفة حصة الشفق وحصة الفجر: الشفق هو الحمرة المعترضة في أفق المغرب بعد الغروب، ومن بعد غروبه يدخل وقت العشاء، والفجر هو البياض المعترض في أفق المشرق،… (إلى أن قال:) قال الشيخ جمال الدين المارديني: وقد امتحنها بعض حذاق المتأخرين في سنين متوالية فوجد الثمان عشر وقت إسفار والعشرين وقت غلس، قال والحق فيها الزيادة والنقص بحسب العوارض الحادثة، مثل صفاء الهواء وكدورته وقوة البخار وخفته وشدة الهواء ورقته وجود القمر وغيبوبته وضعف نظر الراصد وحدته، والذي اعتمد عليه محققوا هذا العمل من الرصاد وغيرهم أن الشمس إذا انحطت عن أفق المغرب يز (১৭) غرب الشفق وإذا صار بينها وبين أفق المشرق يط (১৯) طلع الفجر وانتهى الليل، وهذا عليه عامة الموقتين في هذا الزمان، والفجر فجران: صادق وكاذب، فالكاذب يسبق الصادق في الطلوع، ويطلع مستطيلا فوق العصابة السوداء التي تكون في آخر الليل، وهذه العصابة قيل أنها الخيط الأسود الذي يتبين من تحته الخيط الأبيض، وقيل أن الكاذب يتقدم على الصادق بقدر درجة تقريبا عن عرض ل (৩০) إلى عرض م (৪০) وليس بشيء، واعلم أن الكلام الذي تقدم إنما هو على الفجر الصادق، فعلى هذا يكون لكل صبح فجر وليس لكل فجر صبح.

দেখুন-

رياض المختار مرآة الميقات والأدوار، المطبعة الكبرى الأميرية ببولاق، الطبعة الأولى سنة ১৩০৬هـ، ص ৩০২.

আবদুল হামীদ মুরসী গাইস

তিনি বলেন-

تتمة في استخراج الأوقات الشرعية لأي عرض فرض: … وأما حصة العشاء فحصل دائر ارتفاع ১৭ درجة لنظير درجة الشمس، وأما حصة الفجر فحصل دائر ارتفاع ১৯ درجة لنظير درجة الشمس.

দেখুন-

المناهج الحميدية في حسابات النتائج السنوية تأليف:العلامة الفلكي عبد الحميد مرسي غيث [ت بعد ১৯৪৫م] ص: ৬০، ط. مطبعة السعادة১৯২৩م.

 

ড. হুসাইন কামালুদ্দিন রাহ. (১৯১৩-১৯৮৭ঈ.)

ফজর ও এশা উভয় ক্ষেত্রে তিনি ১৮ ডিগ্রির কথা বলেছেন। তার বক্তব্যটি এই-

ثالثا وقت الفجر والعشاء: سبق أن علمنا أن بداية وقت الفجر -وهو صلاة الصبح- يبدأ عندما تكون الشمس تحت الأفق الشرقي بمقدار ১৮، وأن وقت العشاء يبدأ عندما تصير الشمس تحت الأفق الغربي بمقدار ১৮ كذلك.

দেখুন-

تعيين مواقيت الصلاة في أي زمان ومكان على سطح الأرض، الأستاذ الدكتور حسين كمال الدين أحمد إبراهيم العالم الفلكي  المساح المهندس – مجلة البحوث الإسلامية ৩২২/৩.

 

ইয়াসীন আলফাদানী রাহ.

আলামুদ্দিন মুহাম্মাদ ইয়াসীন ইবনে ঈসা আলমাক্কী (১৩৩৫-১৪১০ হি./১৯১৬-১৯৯০ ঈ.)। তিনি বলেন-

وقت الفجر: يدخل وقت الفجر (الصبح) ببلوغ الشمس تحت الأفق الشرقي قدر ১৯ درجة، وينتهي بطلوع جزء من الشمس؛ لما رواه مسلم مرفوعا: ووقت الصبحِ ما لم تطلع الشمس.

দেখুন-

المختصر المهذب، في معرفة التواريخ الثلاثة والأوقات والقبلة بالربع المجيب، ص ৫৬، ط. محمد صالح الباز الكتبي، مكة المكرمة.

 

মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব আলফাসী আলর্মারাকুশী রাহ. (১৩২৪- ১৪৩২ হি./১৯০৬-২০১১ ঈ.)

মরক্কোর একজন বড় ফকীহ। জ্যোতির্বিজ্ঞান ও ইলমুত তাওকীতেরও বড় আলেম ছিলেন।

তার যুগে এক ব্যক্তি দাবি উঠায় যে, সুবহে সাদিক ১৬.৫ ডিগ্রিতে হয়। প্রচলিত ক্যালেন্ডারে ফজরের যে সময় দেওয়া আছে তা সহীহ নয়। এর উপর ওই ব্যক্তি একটি কিতাবও লেখে। তখন তিনি এর জবাবে একটি প্রামাণ্য গ্রন্থ রচনা করেন। যার নাম,  إيضاح القول الحق في مقدار انحطاط الشمس وقت طلوع الفجر وغروب الشفق। উক্ত কিতাবে তিনি সবিস্তারে দলীল-প্রমাণ উল্লেখ করে ওই ব্যক্তির দাবি খণ্ডন করেন। শেষে তিনি বলেন-

وقد اتضح مما ذكرناه من كلام هؤلاء العلماء الفلكيين المقتدى بهم سلفًا وخلفًا أمور:

منها: أن الخلاف الواقع بينهم في قدر انحطاط الشمس تحت الأفق وقت ابتداء طلوع الفجر هو ما بين ১৮ درجة و২০ درجة ليس إلا، وعليه: فمن قال بأن طلوع الفجر إنما يكون وقت انحطاط الشمس تحت الأفق ১৬ درجة و৩০ دقيقة فقد خالف إجماع الفلكيين المسلمين والأوربيين، كما خالف إجماع العلماء الشرعيين القائلين إن المعتبر في حِلِّيّة الصلاة وحرمة الأكل في رمضان هو ابتداء طلوع الفجر لا عموم انتشار الضياء.

ومنها: أن هؤلاء العلماء الفلكيين الشرعيين قالوا: إن المقول بعشرين درجة ضعيف؛ لقلة من قال به من الرّصّاد، وقالوا: إنهم امتحنوا وقت ابتداء طلوع الفجر، بأرصادهم المتوالية، في سنين عديدة، فوجدوا انحطاط الشمس إذ ذاك ১৯ درجة ليس إلا، وقالوا: إن هذا هو المعتمد والصحيح، وهو الذي وقع عليه الاتفاق.

وعليه: فمن بنى صومه أو صلاته على أن انحطاط الشمس تحت الأفق وقت ابتداء طلوع الفجر ১৯ درجة فقد فعل ما هو واجب عليه وصح صومه وصلاته؛ لأنه اقتدى بعلماء فلكيين شرعيين ثقات مخلصين، وهم المؤسسون للعلوم الفلكية والمخترعون للآلات الرصدية القطعية، وبأفكارهم وتحقيقاتهم يتمشى العالم اليوم.

এখানে তিনি খুবই স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন,  ১৬.৫ ডিগ্রিতে সুবহে সাদিক শুরু হওয়ার দাবি ইজমাপরিপন্থী। মুসলিম-অমুসলিম সকল জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ইজমার খেলাফ এই কথা। এর দ্বারা অনুমান করা যায় যে, ১৫ ডিগ্রিতে সুবহে সাদিক শুরু হওয়ার দাবির কী হুকুম হবে!? তিনি একথাও বলেছেন যে, ২০ ডিগ্রির মতটি দুর্বল।

দেখুন-

إيضاح القول الحق في مقدار انحطاط الشمس وقت طلوع الفجر وغروب الشفق، ص৩২.

 

আলহামদু লিল্লাহ, এ পর্যন্ত ইলমুল ফালাক ও ইলমুত তাওকীতের নতুন-পুরাতন অনেক কিতাবের উদ্ধৃতি উল্লেখ করা হল। এছাড়াও আরো অনেক কিতাবের উদ্ধৃতি আমাদের কাছে রয়েছে। সংক্ষেপণের প্রতি লক্ষ্য রেখে সেগুলো উল্লেখ করা হল না। বাস্তব বিষয়টি অনুধাবনের জন্য এতটুকুই অনেক বেশি। সামনে নমুনাস্বরূপ ফকীহগণের কিছু বক্তব্যও উল্লেখ করা হল :

 

ফকীহগণের কিছু বক্তব্য

ইবরাহীম আলহালাবী রাহ.-এর বক্তব্য

ইবরাহীম ইবনে মুসতাফা ইবনে ইবরাহীম আলহালাবী আলমাদারী (১১৯০ হি./১৭৭৬ ঈ.)। শামের প্রসিদ্ধ হানাফী ফকীহ। আদ্দুররুল মুখতার কিতাবের উপর তার টীকাগ্রন্থ تحفة الأخيار على الدر المختار এই কিতাবে তিনি বলেন-

ثم إن من الفجر إلى الزوال في أقصر أيام السنة في مصر وما ساواها في العرض سبع ساعات إلا ربعا.

দেখুন-

تحفة الأخيار على الدر المختار، مخطوط الظاهرية برقم: ৮১৭৯৫، ق ১৪৮.

এখানে তিনি বলেছেন, মিসর ও এর বরাবর অক্ষাংশে অবস্থিত এলাকায় বছরের সবচে ছোট দিনে ফজরের শুরু থেকে যাওয়াল পর্যন্ত মোট সময় হয় পৌনে সাত ঘণ্টা। আর মিসরের অক্ষ রেখা সর্বনি¤œ ২২ ডিগ্রি। বছরের সবচে ছোট দিন ২২ ডিসেম্বর ১৮º অনুযায়ী সেখানে ফজরের শুরু থেকে যাওয়াল পর্যন্ত সময় হয় মোট ৬ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট। যা ২ মিনিট কম পৌনে সাত ঘণ্টা। কিন্তু ১৫ ডিগ্রি অনুযায়ী এই সময় হয় মোট সাড়ে ছয় ঘণ্টা।

আল্লামা তাহতাবী রাহ.

আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আততাহতাবী (১২৩১ হি./১৮১৬ ঈ.)। প্রসিদ্ধ হানাফী ফকীহ। আদ্দুররুল মুখতার ও মারাকিল ফালাহ কিতাবের উপর তার উভয় টীকাগ্রন্থেই তিনি ইবরাহীম হালাবী রাহ. থেকে পূর্বোক্ত কথাটি উদ্ধৃত করেছেন। দেখুন-

حاشية الطحطاوي على الدر المختار ৩৩১/১؛ حاشية الطحطاوي على مراقي الفلاح ص ৪২১

আল্লামা ইবনে আবিদীন শামী রাহ.-এর বক্তব্য

মুহাম্মাদ আমীন ইবনে উমর আবেদীন রাহ. (১১৯৮-১২৫২ হি./১৭৮৪-১৮৩৬ ঈ.) শামের প্রসিদ্ধ শহর দামেস্কের বাসিন্দা। ফিকহে হানাফীর উপর তার কিতাব রদ্দুল মুহতার (ফতোয়া শামী)তে তিনি বলেন-

[تنبيه] قد علمت أن النهار الشرعي من طلوع الفجر إلى الغروب، واعلم أن كل قطر نصف نهاره قبل زواله بنصف حصة فجره، فمتى كان الباقي للزوال أكثر من هذا النصف صح وإلا فلا، فتصح النية في مصر والشام قبل الزوال بخمس عشرة درجة لوجود النية في أكثر النهار؛ لأن نصف حصة الفجر لا تزيد على ثلاث عشرة درجة في مصر وأربع عشرة ونصف في الشام، فإذا كان الباقي إلى الزوال أكثر من نصف هذه الحصة ولو بنصف درجة صح الصوم، كذا حرره شيخ مشايخنا السائحاني رحمه الله تعالى. [رد المحتار ২০৪-২০৩/৬ طبعة دار الثقافة والتراث، تحقيق : الدكتور حسام الدين فرفور]

তিনি এখানে বলেছেন, শরীয়তের দৃষ্টিতে দিনের হিসাব হয় ফজর তথা সুবহে সাদেক থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। এরপর তিনি অর্ধদিন নির্ধারণের একটি মূলনীতি উল্লেখ করেন। সেটি হল, প্রত্যেক এলাকায় ফজরের পুরো সময়টিকে অর্ধেক করলে যে পরিমাণ সময় হয়, ওই দিন যাওয়ালের আগে এ পরিমাণ সময় যোগ করলে যে সময় বের হয় সেটিই ওই দিনের অর্ধদিন। এর আগ পর্যন্ত (নফল ও রমযানের) রোযার নিয়ত করা সহীহ আছে। সুতরাং মিসর ও শামে যাওয়ালের এক ঘণ্টা আগে রোযার নিয়ত করা সহীহ হবে। কেননা ফজরের পুরো সময়ের অর্ধেক মিসরে ৫২ মিনিট এবং শামে ৫৮ মিনিট-এর বেশি হয় না।

ইবনে আবেদিন রাহ.-এর এ কথার অর্থ দাঁড়ায়, মিসরে ফজরের সর্বোচ্চ সময় হয় মোট ১ ঘণ্টা ৪৪ মিনিট এবং শামে ১ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট। ফজরের এই হিসাব ১৫ ডিগ্রি সুবহে সাদিকের সাথে কোনোভাবেই মেলে না। বরং তা প্রায়  ১৮.৫º অনুযায়ী হয়ে থাকে। হযরত মাওলানা মুফতী রশীদ আহমদ রাহ. নিজেও এ কথা স্বীকার করেছেন। তিনি লিখেছেন-

بظاہر اس عبارت سے معلوم ہوتا ہے کہ مصر میں صبح صادق کا زیادہ سے زیادہ  وقت ایک گھنٹہ ৪৪ منٹ  اور شام میں زیادہ سے زیادہ  ایک گھنٹہ ৫৬ منٹ ہے، حالانکہ یہ حساب ১৫ زیر افق کے بجائے  ১৮ زیر افق پر منطبق ہوتا ہے۔ … بہرکیف اشکال یہ ہے کہ اس عبارت میں ১৮ زیر افق کوصبح صادق قرار  دیاگیا ہے۔

(আহসানুল ফতোয়া, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৮৫) এই বাস্তবতা স্বীকার করে নিয়ে ‘ফাতাওয়া শামী’-এর উক্ত এবারতের যে তাবীল করেছেন তা স্পষ্ট ভুল। প্রবন্ধের তৃতীয় অংশে বিস্তারিত আলোচনা হবে, ইনশাআল্লাহ।

এখানে উল্লেখ্য যে, ইবনে আবিদীন রাহ. মিসর ও শামের সময়ের যে হিসাব এখানে উল্লেখ করেছেন তার বক্তব্য অনুযায়ী এটি মূলত সাইহানী রাহ.-এর কথা। আর তিনি হলেন হানাফী ফকীহ দামেস্কের আমীনুল ফাতাওয়া আল্লামা ইবরাহীম ইবনে খলীল ইবনে ইবরাহীম আসসাইহানী (১১৩৩-১১৯৭ হি.)। তিনি যেমন ফকীহ ছিলেন তেমনি ফালাকী ও মুওয়াক্কিতও ছিলেন। তার জীবনীর জন্য দেখুন : সিলকুদ দুরার ১/৬।

আল্লামা ইবনে আবিদীন রাহ.-এর আরেকটি বক্তব্য :

ثم إن من الفجر إلى الزوال في أقصر أيام السنة في مصر وما ساواها في العرض سبع ساعات إلا ربعا فمجموع الثلاثة الأيام عشرون ساعة وربع، ويختلف بحسب اختلاف البلدان في العرض، ح.

قلت: ومجموع الثلاثة الأيام في دمشق عشرون ساعة إلا ثلث ساعة تقريبا، لأن من الفجر إلى الزوال في أقصر الأيام عندنا ست ساعات وثلثا ساعة إلا درجة ونصفا، وإن اعتبرت ذلك بالأيام المعتدلة كان مجموع الثلاثة أيام اثنين وعشرين ساعة ونصف ساعة تقريبا، لأن من الفجر إلى الزوال سبع ساعات ونصفا تقريبا. [رد المحتار ৬২১/৪]

এখানে তিনি প্রথমে মিসরের সময় সম্পর্কিত ইবরাহীম হালাবী রাহ.-এর পূর্বোক্ত বক্তব্যটি উল্লেখ করেন। এরপর তিনি বলেছেন, বছরের সবচে ছোট দিনে আমাদের এলাকায় (অর্থাৎ দামেস্কে) ফজর থেকে যাওয়াল পর্যন্ত সময় মোট ৬ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট হয়।

দামেস্কের ব্যাপারে ইবনে আবিদীন রাহ.  এই হিসাবও ১৫ ডিগ্রিতে সুবহে সাদিকের সাথে কোনোভাবেই মিলে না। বরং দামেস্কে বছরের সবচে ছোট দিন ২২ ডিসেম্বর ফজর থেকে যাওয়াল পর্যন্ত সময় ৬ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট প্রায় ১৯º অনুযায়ী হয়ে থাকে।

আর ইবনে আবেদীন রাহ. মিসর ও শামের  ফজরের যে হিসাব দিয়েছেন উভয় এলাকার মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণ থেকেও এমন বক্তব্যই পাওয়া যায়। শামের শীর্ষ ফালাকী ইবনে শাতের রাহ. ও শামসুদ্দিন মিযযী রাহ. এবং মিসরের জামালুদ্দীন মারদানী ও সিবত আলমারিদীনী রাহ. প্রমুখ মুসলিম বিজ্ঞানী ও মুয়াক্কিতগণের বক্তব্য পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সুবহে সাদিকের ক্ষেত্রে তাদের মত ছিল ১৯º এবং উভয় দেশে ফজরের সময় ১৯º থেকেই হিসাব করা হত।

আল্লামা মাহমূদ আলূসী রাহ.-এর বক্তব্য

শিহাবুদ্দীন মাহমুদ আলূসী আলবাগদাদী (১২১৭-১২৭০ হি.) প্রখ্যাত মুফাসসিরে কুরআন। তার তাফসীর গ্রন্থ রুহুল মাআনীতে وَالصُّبْحِ إِذَا تَنَفَّسَ আয়াতের তাফসীরে সুবহে সাদিকের পরিচয় উল্লেখ করার পর তিনি বলেন যে, প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী তা শুরু হয় ১৮ ডিগ্রিতে।

তিনি লিখেছেন-

والظاهر أن التنفس في الآية إشارة إلى الفجر الثاني الصادق…

ثم الظاهر أن تنفس الصبح وضياءه بواسطة قرب الشمس إلى الأفق الشرقي بمقدار معين وهو في المشهور ثمانية عشر جزءا. [روح المعاني ২৬৩/১৫]

বিভিন্ন দারুল ইফতা ও ফতোয়া বোর্ডের সিদ্ধান্ত

আলমাজমাউল ফিকহী আলইসলামী

রাবেতাতুল আলামিল ইসলামী (Muslim World League)-এর অধীনস্ত আন্তর্জাতিক ফিকহ বোর্ড ‘আলমাজমাউল ফিকহী আলইসলামী’-এর নবম অধিবেশনে ১৮ ডিগ্রিতে সুবহে সাদিকের সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়। তাতে বলা হয়-

أولا: دفعا للاضطرابات والاختلافات الناتجة عن تعدد طرق الحساب، يحدد لكل وقت من أوقات الصلاة العلامات الفلكية التي تتفق مع ما أشارت الشريعة إليه، ومع ما أوضحه علماء الميقات الشرعيون في تحويل هذه العلامات إلى حسابات فلكية متصلة بموقع الشمس في السماء فوق الأفق أو تحته كما يلي:

الفجر: ويوافق بزوغ أول خيط من النور الأبيض وانتشاره عرضا في الأفق >الفجر الصادق<، ويوافق الزاوية (১৮) درجة تحت الأفق الشرقي.

দেখুন-

قرارات المجمع الفقهي الإسلامي بمكة المكرمة، ص২০০.

আলমাজলিসুল আওরুব্বী লিলইফতা ওয়াল বুহুস

European Council for Fatwa and Research । এটিও  একটি ফিকহ একাডেমি। বিভিন্ন মুসলিম দেশের আলেমগণ এর সদস্য। এর বারতম অধিবেশনে এ ব্যাপারে একটি قرار সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তাতে রাবেতার ফিকহ একাডেমির সিদ্ধান্তকে তারা সমর্থন জানায় এবং এই সিদ্ধান্তটিকেই তাদের সিদ্ধান্ত হিসাবে প্রকাশ করে।

দেখুন-

القرارات والفتاوى الصادرة عن المجلس الأوربي للإفتاء والبحوث، ص১১১.

নাদওয়াতু উলামাইশ শারীআতি ওয়াল ফালাক

শাবান ১৪০৪ হি. মোতাবেক এপ্রিল-মে ১৯৮৪ ঈ. তারিখে লন্ডন ইসলামিক কালচারাল সেন্টারে উলামায়ে শরীয়াহ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে “ندوة علماء الشريعة والفلك” শিরোনামে একটি সেমিনার হয়। তাতেও ফজরের নামাযের জন্য ১৮ ডিগ্রির সিদ্ধান্তই গৃহিত হয়। তাদের সিদ্ধান্তটি এই-

فقد تدارس المجتمعون النصوص الشرعية التي أوردها الباحثون في خلال دراساتهم المقدمة للمؤتمر، وبعد الاطلاع على القواعد الفلكية العلمية التي عرضها علماء الميقات الفلكيون، وتمشيًا مع روح الشريعة الإسلامية التي تدعو إلى الوحدة ورفع الحرج والمشقة والتيسير على الناس وفعل الأرفق بهم؛ فقد تم الاتفاق على ما يلي:

أولًا: اتفق على القواعد التي يتم بموجبها تحديد أوقات الصلاة بتحديد زوايا انحطاط الشمس تحت الأفق الموافقة لوقتي الفجر والعشاء، وشروق الشمس وغروبها كما يلي:

-১ لطلوع الفجر الصادق: الزاوية  (°18) درجة تحت الأفق الشرقي.

-২ لمغيب الشفق الأحمر: الزاوية (°17) درجة تحت الأفق الغربي.

দেখুন-

مواقيت الصلاة بين علماء الشريعة والفلك، الأستاذ الدكتور محمد الهواري،ص ৭৯.

মিসর কেন্দ্রীয় ফতোয়া বিভাগ

মিসরে ফজরের ক্ষেত্রে যুগযুগ ধরে ১৯.৫º অনুযায়ী আমল চলে আসছে। কিছু লোক এ ব্যাপারে আপত্তি ওঠালে মিসরের কেন্দ্রীয় ফতোয়া বিভাগ থেকে এ বিষয়ে দলীল-প্রমাণসহ বিস্তারিত একটি ফতোয়া প্রদান করা হয়। যা ৪০২১ নং ও ২০-০৩-২০১৭ তারিখে প্রকাশ হয়। এতে খুব জোরালোভাবে বলা হয়েছে যে, যারা বলেন সুবহে সাদিক ১৫ ডিগ্রিতে শুরু হয় এটি একটি شاذ বিচ্ছিন্ন মত, যা ইজমা পরিপন্থী। বর্তমান ও আগের যুগের কোনো আলেম ও ফকীহ এ কথা বলেননি।

ফতোয়াটি অনেক লম্বা হওয়ায় এর নির্বাচিত কিছু অংশ এখানে তুলে ধরা হল।

الحق الذي يجب المصير إليه والعمل

عليه، ولا يجوز العدول عنه: هو أن توقيت الفجر المعمول به حاليّا في مصر (وهو عند زاوية انخفاض الشمس تحت الأفق الشرقي بمقدار১৯.৫°) هو التوقيت الصحيح قطعًا، وأنه الذي جرى عليه العمل بالديار المصرية منذ القرون الإسلامية الأولى إلى يومنا هذا، وهو الذي استقر عليه عمل دار الإفتاء المصرية في كل عهودها، … وهو ما استقر الموقتون وعلماء الفلك المسلمون عبر الأعصار والأمصار، ودلت عليه الأرصاد الصحيحة المبنية على الفهم الصحيح للفجر الصادق في النصوص الشرعية، وأن ما بين درجتي: °১৮، و°১৯.৫ من انخفاض الشمس تحت الأفق الشرقي هو التوقيت الصحيح للفجر الصادق المتفق على اعتماده والعمل به في كل بلدان العالم العربي والإسلامي بلا استثناء…..

وعلى ذلك أجمع المتخصصون من علماء الفلك والهيئة والموقتين المسلمين عبر القرون المتطاولة من غير خلاف؛ فاتفقوا على حساب زاوية انخفاض الشمس تحت أفقه الشرقي فيه: ما بين درجتي °১৮، و°২০؛ حيث حرروا ذلك بمراصدهم العظيمة؛ جماعات وفرادى، من غير زيادة على هذا المدى أو نقص عنه، وقد استقر راصدوهم، ومحققوهم في القرن الثامن الهجري وما بعده على اعتماد درجة °১৯ ونقلوا الاتفاق على ذلك، ونصوصهم على ذلك أكثر من أن تحصر، ونصوا على أن اعتماد علماء الفلك العرب والمسلمين هذه الدرجة، أما علماء الفلك الأوربيون فقد اعتمدوا درجة °১৮….

وعلى ذلك قام التقويم الفلكي المصري القديم والحديث، والذي قام به في الأصل علماء أجلاء جمعوا بين العلوم الشرعية والفلكية، وكذلك غيره من تقاويم بلاد المسلمين. وهو الذي اعتمده الفلكيون العرب والأوربيون وغيرهم في العصر الحديث، وبه أخذت تقارير الهيئات الفلكية، والمؤسسات الرصدية المتخصصة المعتمدة في علوم الفلك؛ في البلاد العربية والإسلامية، بل وفي دول العالم كله. …

وكل الطرق التي سلكها فقهاء المسلمين في تعيين وقت الفجر الصادق تبين بجلاء أنه يدور حول الدرجة °১৯ ونحوها، وأن توقيته بالدرجة °১৫ قولٌ شاذٌّ مخالف للإجماع لم يُسبَق إليه أصحابُه أو مروجوه، ولم يقل به أحد من علماء المسلمين أو فقهائهم في القديم ولا في الحديث… .

দারুল ইফতা আলমিসরিয়্যা থেকে এর আগেও এ ব্যাপারে ফতোয়া প্রদান করা হয়েছে। দেখুন : আলফাতাওয়াল ইসলামিয়্যাহ ৮/২৭৩৩; বুহুস ওয়া ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ, শায়েখ জাদুল হক ১/২৪৪-২৫৩।

কুয়েত কেন্দ্রীয় ফতোয়া বিভাগ

কুয়েতের কেন্দ্রীয় ফতোয়া বিভাগ, যা ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। তাদের ফতোয়া হল, সুবহে সাদিক শুরু হয় ১৮ ডিগ্রিতে এবং কোনো কোনো মুসলিম বিজ্ঞানীর মতে যেহেতু ১৯ ডিগ্রিতেই সুবহে সাদিক শুরু হয়ে যায় তাই রোযার দিকে খেয়াল করে সতর্কতা হল, ১৮º থেকে দেরি না করা। উক্ত ফতোয়ার পাঠ এই-

طلوع الفجر الصادق يتحقق عندما يصل قرص الشمس تحت الأفق الشرقي ১৮ درجة، وهو المعبر به بالشفق الفلكي، وهو المستعمل في دخول وقت الفجر في دولة كويت. …

وإذا علمنا بأن بعض علماء المسلمين يرون أن درجة الشفق نحو ১৯ فالأحوط أن لا يؤخر وقت الفجر إلى أدنى من ১৮ درجة، وأهمية ذلك تكمن بتعلقه بموعد الإمساك في الصوم. والله أعلم.

দেখুন-

مجموعة الفتاوى الشرعية، ১৯৩/১.

জর্দান কেন্দ্রীয় ফতোয়া বিভাগ

জর্দানে সুবহে সাদিকের সময় হিসাব করা হয়ে থাকে ১৮º থেকে। ২০১২ সালে ওই দেশের কেন্দ্রীয় ফতোয়া বিভাগে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে সেখান থেকে সুবহে সাদিকের এই সময় সঠিক বলে ফতোয়া প্রদান করা হয়। ২০০২ নভেম্বরের উক্ত ফতোয়াটিতে বলা হয়েছে যে-

ومواقيت الصلاة المعمول بها في بلدنا وضعت بناء على لجان شرعية متخصصة استطلعت الأوقات واستعانت بالحسابات الفلكية، دونت نتائجها في كتاب طبعته وزارة الأوقاف في العام ১৯৮২.

فلا حرج على المسلم الالتزام بها والعمل بمقتضاها، ومن كانت لديه بعض الملاحظات على التقويم المعمول به فليُبلغها إلى وزارة الأوقاف المعنية بهذا الشأن، ولا يُلْزِمُ جميعَ المسلمين الأخذ باجتهاده، وإنما يعمل به لنفسه إن كان من أهل الاختصاص، والله عز وجل يتقبل منا ومنكم. والله أعلم.

উলামায়ে দেওবন্দের ফতোয়া ও মা‘মূল

হাকীমুল উম্মত থানবী রাহ.-এর বক্তব্য

হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রাহ. বলেছেন-

صبح صادق اور طلوع شمس میں فرق کم سے کم بماہ فروری ومارچ و دسمبر واکتوبر ایک گھنٹہ ২০منٹ اور زیادہ سے زیادہ بماہ شروع جولائی ایک گھنٹہ ৩৭ منٹ ہوتا ہے۔  اور یہی فرق غروب شمس سے غروب شفق ابیض تک بہت قلیل تفاوت سے جو دو تین منٹ سے نہیں بڑھتا ہوتا ہے۔ [بوادر النوادر ص৪২৯]

এখানে তিনি সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত ফজরের সময় মোট কত মিনিট হয় এর হিসাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই সময়টি সর্বনিম্ন ফেব্রুয়ারি, মার্চ, ডিসেম্বর ও অক্টোবর মাসে মোট ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট এবং সর্বোচ্চ জুলাইয়ের শুরুতে ১ ঘণ্টা ৩৭ মিনিট হয়। দুই-তিন মিনিট ব্যবধানের সাথে একই সময় সূর্যাস্ত থেকে শাফাকে আবয়ায শেষ হওয়ার মাঝেও হয়ে থাকে।

থানবী রাহ.-এর প্রদত্ত এই হিসাব ১৮º  সুবহে সাদিকের সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেননা থানাভবনে ১৮º অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে ফজরের সর্বনিম্ন সময় হয় মোট ১ ঘণ্টা ২১ মিনিট এবং জুনে সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট। কিন্তু ১৫º অনুযায়ী এই হিসাব হয় যথাক্রমে ১ ঘণ্টা ৬ মিনিট ও ১ ঘণ্টা ১৭ মিনিট। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, থানবী রাহ.-এর এখানে ১৮º সুবহে সাদিকের উপরই আমল ছিল।

কেফায়াতুল মুফতী

হযরত থানবী রাহ.-এর মতো প্রায় একই কথা মুফতীয়ে আ‘যম হযরত মাওলানা কেফায়াতুল্লাহ রাহ.ও বলে গেছেন। তিনি বলেছেন, ফজরের পুরো সময় কখনো ১ ঘণ্টা ৩৮ মিনিট থেকে বেশি হয় না এবং ১ ঘণ্টা ২১ মিনিট থেকে কম হয় না। তার ফতোয়ার কিতাবে আছ-

(سوال)  غروب آفتاب کے بعد کتنی دیر تک شفق باقی رہتی ہے یعنی کب غائب ہوکر عشاء کا وقت شروع ہوجاتا ہے؟

( جواب)  یہ وقفہ ہمیشہ یکساں نہیں رہتا ماہ بماہ یعنی تھوڑے تھوڑے دن میں اس میں کمی بیشی ہوتی رہتی ہے مگر یہ وقفہ ایک گھنٹہ اڑتیس منٹ سے کبھی زائد نہیں ہوتا اور ایک گھنٹہ اکیس منٹ سے کبھی کم نہیں ہوتا جون کے مہينے میں وہ سب سے زائد یعنی  ایک گھنٹہ اڑتیس منٹ کا ہوتا ہے اور ستمبر میں سب سے کم یعنی ایک گھنٹہ اکیس منٹ کا ہوتا ہے ۔  محمد کفایت اللہ کان اللہ لہ۔ [کفایت المفتی ৪৮৩/৩]

ফাতোয়া রহীমিয়া

মুফতী আবদুর রহীম লাজপুরী রাহ. এশার ওয়াক্ত সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের উত্তরে কেফায়াতুল্লাহ রাহ.-এর পূর্বোক্ত ফতোয়াটি হুবহু উল্লেখ করেন। এরপর তিনি বলেছেন, যে মাসের যে তারিখ সূর্যাস্ত ও শাফাক শেষ হওয়ার মাঝে সর্বমোট যতটুকু পরিমাণ সময় হয়ে থাকে অল্প কিছু ব্যবধানের সাথে একই পরিমাণ সময় ওই দিন সুবহে সাদিক ও সূর্যোদয়ের মাঝেও হয়ে থাকে। তার বক্তব্যটি এই-

نوٹ: جس ماہ کی جس تاریخ میں  غروب آفتاب اور غروب شفق میں  جس قدر فاصلہ رہتا ہے تقریباً اتنا ہی فاصلہ صبح صادق اور طلوع آفتاب میں بھی ہوتا ہے ۔ [فتاوی رحیمیہ ৮০-৭৯/৪]

ফাতোয়া দারুল উলূম দেওবন্দ

দারুল উলূম দেওবন্দের প্রথম ছদরে মুফতী হযরত মাওলানা আযীযুর রহমান রাহ.। তার ফতোয়াতেও আছে যে, ১৯-২০ জুন সূর্যাস্ত থেকে শাফাকে আবয়াযের শেষ পর্যন্ত মোট সময় ১ ঘণ্টা ৩৭ মিনিট হয়। তিনি বলেন-

১৯ و ২০ جون کو مثلاً غروب آفتاب ৭ بج کر ২৭ منٹ پر ہے اور وقت عشاء موافق قول امام ابو حنیفہ رحمۃ اﷲ ৯ بج کر ৪ منٹ پر ہے ۔ پس تفاوت مابین غروب آفتاب و غروب شفق ابیض یعنی وقت عشاء امام ابو حنیفہ کے نزدیک ایک گھنٹہ ৩৭ منٹ کا ہے۔ [فتاوی دار العلوم دیوبند ৩৯/২ ]

কাছাকাছি কথার আরো কয়েকটি ফতোয়া তার থেকে পাওয়া যায়।

উমদাতুল ফিকহ

উর্দু ভাষায় রচিত ফিকহের একটি প্রসিদ্ধ কিতাব عمدة الفقه। এর গ্রন্থাকার মাওলানা যাওয়ার হুসাইন শাহ নাকশেবন্দী রাহ.-ও তাতে প্রায় একই কথা বলেন। এই কিতাবে আছে-

فائده: آج کل گھنٹے گھڑیاں عام ہیں اوقات بتانے والی جنتریاں اور نقش اکثر مسجدوں میں موجود ہیں، ان کے مطابق نمازوں کے وقت کی پابندی کرنا جائز بلکہ مستحسن ہے گھڑیاں صحیح رکھنی چاہئیں، ہمارے ملک میں طلوع صبح صادق سے طلوع آفتاب تک کم از کم ایک گھنٹہ اٹھارہ منٹ کا وقفہ ہے اور زیادہ سے زیادہ ایک گھنٹہ پینتیس (৩৫) منٹ کا ہے، اور غروب آفتاب سے غروب شفق ابیض (سفیدی) تک بھی یہی وقفہ ہے۔ عمدة الفقه  ৩৪৬/১.

দারুল উলূম দেওবন্দের বর্তমান ফতোয়া

দারুল উলূম দেওবন্দের ফতোয়া বিভাগ থেকে স্পষ্ট ভাষায় ফতোয়া প্রদান করা হয় যে, কাদীম ও জাদীদ ফালাকিয়াত এবং অনেক মুশাহাদার আলোকে সঠিক মত হল, ১৮ ডিগ্রিতে সুবহে সাদিকের সময় শুরু হয়। অনলাইনে প্রকাশিত এই ফতোয়াটির মূল বক্তব্য এই-

حضرت مولانا مفتی رشید احمد لدھیانوی (صاحب احسن الفتاوی) کی تحقیق یہ ہے کہ صبح صادق ১৫ ڈگری پر ہوتی ہے، ১৮ڈگری پر نہیں؛ لیکن اکابر علمائے دیوبند کے نزدیک قدیم وجدید فلکیات اور کثیر مشاہدات کی روشنی میں یہ قول مرجوح ہے اورصحیح یہ ہے کہ صبح صادق ১৮ ڈگری پر ہوتی ہے؛ اس لئے صاحب احسن الفتاوی نے ১৮ڈگری کے حساب پر تیار کی جانے والی قدیم وجدید جنتریوں کی جو تغلیط وتردید فرمائی ہے اور ان جنتریوں میں مذکور صبح صادق کے اوقات کو صبح کاذب پر محمول کیا ہے، یہ صحیح نہیں ہے۔

(Fatwa:977-848/N=9/1439)

দারুল উলূম করাচির ফতোয়া

দারুল উলূম করাচির ফতোয়া বিভাগ থেকে ১৮º সুবহে সাদিকের স্বপক্ষে একাধিকবার ফতোয়া প্রদান করা হয়। ১০ রমযান ১৪৩৮ হিজরীতে মুফতী তকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুমের সত্যায়নসহ ১৮º সুবহে সাদিকের স্বপক্ষে মাওলানা হুসাইন আহমাদ সাহেবের অনেক দলীল-প্রমাণসহ একটি বিস্তারিত ফতোয়া প্রকাশ হয়।

ফাতোয়া দারুল উলূম যাকারিয়া

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রসিদ্ধ দ্বীনী প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম যাকারিয়ার ফতোয়া বিভাগ থেকে ফতোয়া প্রদান করা হয় যে, ১৫ ডিগ্রিতে সুবহে সাদিক হওয়ার কথা রশীদ আহমাদ ছাহেবের বিচ্ছিন্ন একটি মত। অন্যান্য উলামায়ে কেরামের মতে ১৮ ডিগ্রিতে সুবহে সাদিক হয়ে যায়। উক্ত ফতোয়ার প্রথম অংশটি এই-

سوال: صبح صادق اور طلوع شمس  كے درميان نيز غروب اور ابتدائے عشاء كے درميان ايك گھنٹہ كا فاصلہ ہوتا ہے يا زياده؟ بعض لوگ ১৮ درجہ كے قائل ہىں اور بعض ১৫ كے، كونسا قول درست ہے؟

الجواب: ان دونوں اوقات كے ما بين فاصلہ كى مقدار اكثر حضرات نے ايك گھنٹہ بيس منٹ سے اڑتيس منٹ كے درميان تك بتلائى ہے، البتہ حضرت مفتى رشيد احمد صاحب، صاحب احسن الفتاوى نے ৫৮ منٹ بتلائى ہے، ليكن يہ ان كا تفرد ہے اكثر حضرات كى رائے اس كے خلاف ہے،  اور ১৮ درجہ والے قول كو اكثر حضرات نے اختيار كيا ہے۔[فتاوى دار العلوم زكريا ৫২/২]

 

জমিয়তে উলামা কর্নাটকের সিদ্ধান্ত

ভারতের একটি প্রদেশ হল কর্নাটক। সেখানের উলমায়ে কেরামের সংগঠন ‘জমিয়তে উলামা কর্নাটক’-এর সিদ্ধান্ত হল, সুবহে সাদিক ও এশা উভয়টির সময় ১৮ ডিগ্রি থেকে শুরু হয়। বিভিন্ন মুশাহাদা ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের কিতাবসমূহের স্পষ্ট বক্তব্যের ভিত্তিতে তারা এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এবং এ অনুযায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্যালেন্ডার তৈরি করে প্রকাশ করা হয়। ১২-০৬-১৪২৯ হি. তারিখে সংগঠনটির প্যাডে প্রদত্ত উলামায়ে কেরামের স্বাক্ষরসহ তাদের পুরো বক্তব্যটি এই-

نقشہ اوقات نماز برائے شہر بنگلور و دیگر اضلاع صوبہ کرنا ٹک جسے جمعیۃ علماء کرناٹک نے شائع کیا ہے مطلوبہ ضروری معلومات کو کمپیوٹر میں ڈال کر نہایت صحیح طریقہ پر نکالا گیا ہے۔ صبح صادق اور نماز عشاء کا وقت افق سے ১৮ درجہ آفتاب کے نیچے ہونے پر روشنی کی پہلی کرن نظر آنے اورشفق کی سفیدی غائب ہونے کو مانا گیا ہے ۔ جو بحری وفلکیاتی ماہرین کا بھی مشاہدہ ہے۔ اور علم ہیئت کی قدیم و متداول کتب میں بھی اس کا بین اور قطعی ثبوت موجود ہے۔ ہندوستان کے دیگر صوبوں سے بھی اسی کی تصدیق حاصل ہوئی ہے۔ دائمی نقشہ اوقات الصلوة جوکمپیوٹر سے مستخرج ہے ۔ استاذ ہیئت حضرت مولانا نصیر احمد خان صاحب، شیخ الحدیث دارالعلوم دیوبند؛ حضرت مولانا انظر شاہ صاحب، شخ الحدیث دارالعلوم وقف دیوبند؛ حضرت مولانا محمد سالم صاحب قاسمی مدظلہ العالی، مہتم دار العلوم وقف دیوبند؛ شخ الادب حضرت مولانا وحید الزماں صاحب کیرانوی، مفتی محمد تقی عثمانی مدظلہ العالی وغیرہ نے تحریری دستخط سے اسکی تصدیق کی ہے۔

اس لئے بغیر کسی شک و شبہ کے اس نقشہ کے مطابق ہدایات کی روشنی میں اوقات نماز ، سحری و افطار کی ادائیگی میں کسی ادنی تامل کی ضرورت نہیں ہے۔

আকাবির উলামায়ে হিন্দের অভিমত

১৩১৩ হি. মোতাবেক ১৮৯৬ ঈ. সালে ভারতের রামপুর রাজ্যের মুফতী মাওলানা লুতফুল্লাহ রাহ. حل الدقائق في تحقيق الصبحالصادق নামে একটি কিতাব সংকলন করেন। এই কিতাবে তিনি সুবহে সাদিক ও শাফাকে আবয়ায উভয়টির ক্ষেত্রে ১৮ ডিগ্রির কথা লিখেছেন।

একই সময়ে মিরাঠের প্রধান মুনশি মুহাম্মাদ আ‘লা صبح صادق নামে একটি পুস্তিকা সংকলন করেন। সেটিতেও তিনি সুবহে সাদিক ১৮ ডিগ্রিতে হওয়ার কথা লিখেছেন।

তখনকার আকাবির উলামায়ে দেওবন্দ শাইখুল হিন্দ হযরত মাওলানা মাহমুদ হাসান রাহ., মাওলানা খলীল আহমাদ সাহারানপুরী রাহ., মুফতী আযীযুর রহমান রাহ., মাওলানা হাবীবুর রহমান উসমানী রাহ., ও মাওলানা আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ কাসেম নানুতুবি রাহ. এই উভয় পুস্তিকার সত্যায়ন করেন এবং নিজেদের অভিমতও তাতে লিখে দেন। (ফাতাওয়া দারুল উলূম যাকারিয়া ২/৫৩)

পাকিস্তানের শীর্ষ আলেমগণের অভিমত

চতুর্দশ হিজরী শতাব্দীর শেষ দিকে প্রফেসর আবদুল লতীফ সাহেব উলামায়ে কেরামের তত্ত¡াবধানে বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেন। তখন উলামায়ে কেরামসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে যেমন সুবহে সাদিক মুশাহাদা করা হয় তেমনি জ্যোতির্বিজ্ঞানের কিতাবাদির আলোকেও বিষয়টির তাহকীক হয়। উলামায়ে কেরামের তত্ত¡াবধানে সম্পাদিত তার এই গবেষণা صبح صادقوصبح كاذب নামে একটি পুস্তিকা আকারে ছাপে। সেটিতে তখনকার শীর্ষ উলামায়ে কেরামের স্বাক্ষর ও তাদের অভিমত রয়েছে। আল্লামা ইউসুফ বিন্নুরী রাহ. মাওলানা আবদুর রশীদ নুমানী রাহ. ও মুফতী অলি হাসান টুনকি রাহ.-এর যৌথ স্বাক্ষরসহ একটি অভিমতে আছে-

جناب محترم عبد اللطيف صاحب صدر شعبہ جغرافيا گورنمنٹ كالج ناظم آباد كراچى كا رسالہ”صبح صادق وصبح كاذب” سنا ، ماشاء الله خوب محنت سے مرتب كيا ہے اور تحقيق كا حق ادا كيا ہے، يہ مسئلہ كے تمام پہلووں پر تفصيل سے روشنی ڈالى ہے، جس سے يہ امر پورى طرح واضح ہوگيا  كہ طلوع سحر كے بارےميں قديم نقشے جو پرانے زمانہ سے بر صغير ميں مستعمل چلے آئے ہيں بالكل صحيح ہيں، اور بعض لوگوں نے جو حال ميں نيا نقشہ صبح صادق كا پيش  كيا ہے وه قطعا غلط ہے۔ مسلمانوں كو چاہئے كہ اطمينان كے ساتھ قديم مروجہ نقشوں پر عمل درآمد كرتے رہيں اور نئے نقشہ پراعتماد كركے اپنى نماز روزه خراب نہ كرىں، جناب حاجي وجيہ الدين صاحب مرحوم نے كراچى كا جو نقشہ اوقات نماز شائع كيا ہے وه بھی بالكل صحيح ہے۔

তাছাড়া মুফতী মুহাম্মাদ শফী রাহ. মাওলানা ইউসুফ লুধিয়ানবী রাহ. মাওলানা সালীমুল্লাহ খান রাহ., মাওলানা সামীউল হক রাহ.-সহ তখনকার বড় বড় আলেমগণের অভিমত ও স্বাক্ষর তাতে রয়েছে।

বর্তমানে পুরো মুসলিম বিশ্বের আমল

مركز الفلك الدولي (International Astronomical Center)। মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের আন্তর্জাতিক একটি প্রতিষ্ঠান। প্রায় সব মুসলিম দেশের অনেক বিজ্ঞানীই এর সদস্য। বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রফেসর, আঞ্চলিক বিভিন্ন এস্ট্রোনমি সেন্টার ও অবজারভেটরির সদস্য ও প্রধানগণ তাতে রয়েছেন।

ফজরের সময় নিয়ে কোনো কোনো দিক থেকে তাদের কাছে আপত্তি আসলে এর উত্তরে এই প্রতিষ্ঠান থেকে মুসলিম বিশে^র ১৭ জন বিজ্ঞানীর সত্যায়নসহ একটি বক্তব্য প্রদান করা হয়। এর শিরোনাম হল-

باتفاق المتخصصين: لا صحة للقول بأن موعد الفجر المبين في التقاويم متقدم عن الوقت الحقيقي لطلوع الفجر الصادق.

অর্থাৎ, ‘বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত : ক্যালেন্ডারে প্রদত্ত ফজরের সময় সুবহে সাদেক হওয়ার আগে- এ কথা ভুল।’

এতে খুব স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করা হয় যে, বর্তমানে পুরো মুসলিম বিশে^ ১৮º থেকে ১৯.৫º অনুযায়ী আমল চলছে। কোথাও সুবহে সাদিক ১৮º-এর কম ধরা হয় না। এবং মুসলিম বিজ্ঞানীদের বক্তব্য অনুযায়ী তা পুরোই সঠিক। বিভিন্ন দেশে হয়ে যাওয়া মুশাহাদার মাধ্যমেও তা সঠিক বলে প্রমাণিত হয়। আর মুসলিম বিজ্ঞানীদের যারা ১৮ ও ১৯ ডিগ্রিতে ফজর উদয়ের কথা বলেছেন এর দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য সুবহে সাদিক। সুবহে কাযিব প্রকাশ হয় ১৯ ডিগ্রির আগে এবং এটিও অনেক মুশাহাদার দ্বারা প্রমাণিত একটি বিষয়। সুতরাং এ ধারণা করা যে, যারা ১৮ বা ১৯ ডিগ্রিতে ফজরের সময় হওয়ার কথা বলেছেন তারা সুবহে সাদিক ও সুবহে কাযিব এ দুটির পার্থক্য না বোঝার কারণে এ কথা বলেছেন- এ কথা সম্পূর্ণ ভুল।

মারকাযুল ফালাকের এ বক্তব্যে আরো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। বক্তব্যটি অনেক বড় হওয়ায় এখানে পুরো উল্লেখ করা গেল না। আগ্রহী পাঠক তাদের ওয়েবসাইট (http://www.icoproject.org/fajer.html)  থেকে পুরোটা পড়ে নিতে পারেন। এর গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ এখানে তুলে ধরা হল-

يكثر بين الفينة والأخرى حديث البعض عن عدم صحة موعد صلاة الفجر الموجود في تقاويم الدول الإسلامية، وأنه متقدم على الوقت الحقيقي، وأن الأذان يرفع قبل وقته والسماء ما زالت مظلمة. وهذا كلام غير صحيح! فموعد صلاة الفجر الموجود في معظم تقاويم الدول الإسلامية صحيح. وعلى سبيل المثال لا الحصر، فإن موعد صلاة الفجر المبين في تقاويم الدول التالية صحيح: السعودية، ومصر، والأردن، وفلسطين، وقطر، والكويت، والبحرين، وسلطنة عمان، والعراق، واليمن، والسودان، وتونس، والجزائر، والمغرب وغيرها. وحجة المشككين أنهم رصدوا الفجر من مكان مظلم ولم يتبين لهم الفجر الصادق إلا بعد الأذان بفترة من الوقت، والخطأ الذي وقع به هؤلاء –بحسن نية- أنهم رصدوا الفجر من أماكن غير مناسبة إما بسبب وجود إضاءة مدن قريبة أو بسبب الرصد من مكان غير صافي، وبالتالي لم يشاهدوا الفجر على الرغم من طلوعه، ولو رصدوا الفجر من مكان مظلم تماما وصاف تماما، لشاهدوا الفجر مع الأذان. وقد أثبتت عدة أرصاد حديثة تمت من أماكن مناسبة توافق موعد الأذان الموجود في التقويم مع طلوع الفجر الصادق، ومن هذه الأرصاد ما تم في الأردن، واليمن، وليبيا، والسعودية، ومصر، وإيران وغيرها. كما أن الوقت المحسوب بالتقاويم هو ما نص عليه كبار علماء الفلك المسلمين، ومنهم على سبيل المثال لا الحصر: الصوفي، والبتاني، والبيروني، والخوارزمي، والطوسي، وابن الشاطر، وهو كان الموقت في الجامع الأموي فضلا عن كونه من علماء الفلك! وهؤلاء علماء فلك عظام منهم أخذ الغرب الكثير من المعارف الفلكية، وتكريما لجهودهم فقد أطلق الغرب أسماءهم على فوهات على القمر في الوقت الذي يقلل البعض من شأنهم ويتهمهم بالخطأ وعدم المعرفة! …

وتجدر الإشارة إلى أن الفلكيين العاملين في شؤون مواقيت الصلاة يعرفون الفجر الكاذب جيدا، وأن تأكيدهم بأن الفجر يطلع ما بين الزاوية ১৮ و ১৯ إنما هو للفجر الصادق، فالفجر الكاذب ظاهرة فلكية معروفة عند المسلمين وعند غيرهم وهو يظهر قبل الزاوية ১৯ بكثير وقد علم ذلك بالرصد المستفيض سواء من قبل المسلمين أو غير المسلمين المهتمين بالظواهر الفلكية بشكل عام. وبالتالي إن توهم البعض أن قول الفلكيين الموقتين بأن الفجر يطلع على الزاوية ১৯ أو ১৮ لالتباس الفجر الكاذب عليهم هو قول لا يصح.

وبالنظر إلى ما هو معمول به في جميع (ونركز على كلمة جميع) الدول الإسلامية في وقتنا الحاضر، نجد أن جميع تقاويم الدول الإسلامية تجعل صلاة الفجر على زاوية ما بين ১৯.৫ و ১৮، ولا توجد ولا دولة إسلامية واحدة تعتمد للفجر زاوية أقل من ১৮، بل حتى جمعية “إسنا” في الولايات المتحدة التي شاع أنها تعتمد الزاوية ১৫، فقد تمت مخاطبتهم رسميا وتم الاجتماع مع المدير التنفيذي للجمعية الدكتور ذو الفقار شاه، والذي أكد أن المعتمد في “إسنا” لصلاة الفجر هو الزاوية ১৮، إلى أن تم تعديلها مؤخرا عام ২০১১م لتصبح ১৭.৫. فمصر تعتمد الزاوية ১৯.৫، والمغرب تعتمد الزاوية ১৯، والسعودية تعتمد الزاوية ১৮.৫، في حين تعتمد الزاوية ১৮ كلا من: الأردن، وفلسطين، والكويت، وسلطنة عمان، والبحرين، وقطر، والعراق، واليمن، والسودان، وتونس والجزائر، وتركيا وغيرها من الدول الإسلامية.

الموقعون على البيان :

১.         الدكتور سليمان محمد بركة، حامل كرسي اليونسكو في علوم الفلك والفضاء والفيزياء الفلكية في فلسطين، ومدير مركز أبحاث الفلك والفضاء في جامعة الأقصى.

২.         الأستاذ الدكتور مشهور الوردات، أستاذ في علم الفلك، وعميد كلية العلوم السابق في جامعة الحسين بن طلال، الأردن.

৩.        الأستاذ الدكتور شرف القضاة، أستاذ الشريعة في الجامعة الأردنية، ورئيس قسم أصول الدين السابق في الجامعة الأردنية.

৪.         الأستاذ الدكتور عبد السلام غيث، أستاذ في علم الفلك ورئيس الجمعية الفلكية الأردنية.

৫.         الأستاذ الدكتور عبد القادر عابد، خبير في الفلك الشرعي، الجامعة الأردنية، الأردن.

৬.        الأستاذ الدكتور جلال الدين خانجي، خبير في الفلك الشرعي، والمدير السابق لجامعة إيبلا في حلب، سوريا.

৭.         الأستاذ الدكتور هيمن زين العابدين متولي، أستاذ علوم الفلك والفضاء، جامعة القاهرة، مصر.

৮.        الدكتور معاوية شداد، أستاذ الفيزياء والفلك في جامعة الخرطوم، السودان.

৯.         الدكتور شرف السفياني، المشرف العام على مرصد السفياني الفلكي، السعودية.

১০.       الدكتور علي بن محمد الشكري، قسم الفيزياء، جامعة الملك فهد للبترول والمعادن، الظهران، المملكة العربية السعودية.

১১.       الأستاذ الدكتور حميد النعيمي، رئيس الاتحاد العربي لعلوم الفضاء والفلك ومدير جامعة الشارقة، الإمارات.

১২.       الشيخ حمد بن محمد صالح، باحث أول معد تقويم في دائرة الشؤون الإسلامية والعمل الخيري في دبي.

১৩.      المهندس محمد شوكت عودة، مدير مركز الفلك الدولي، الإمارات.

১৪.       الدكتور مجيد جراد، أستاذ الفلك في جامعة الأنبار، والمستشار العلمي الفلكي للأوقاف، العراق.

১৫.       الأستاذ الدكتور وهيب عيسى الناصر، أستاذ الفيزياء التطبيقية في جامعة البحرين ورئيس الجمعية الفلكية البحرينية.

১৬.      الدكتور جمال ميموني، أستاذ الفلك في جامعة قسنطينة، الجزائر.

১৭.       الدكتور نسيم سيغواني، مدير قسم علم الفلك في مرصد الجزائر.

আধুনিক বিজ্ঞানীদের এত বড় একটি জামাতের সম্মিলিত ঘোষণা একথার স্পষ্ট প্রমাণ যে, বিজ্ঞানের উন্নতির এ যুগেও ঐ কথাই স্বীকৃত, যা আগের যুগের বিজ্ঞানীগণ বলে গেছেন এবং যে অনুযায়ী ফকীহগণের ফতোয়া ও উম্মতের আমল ছিল। যেহেতু এই মাসআলার সম্পর্ক মূলত মুশাহাদার সাথে তাই এ বিষয়ে এমন কোনো নতুন তাহকীক উদ্ভাবনের কোনো সম্ভাবনাই নেই, যা পূর্ববর্তী ধারাবাহিক ও মুতাওয়াতির মুশাহাদাকে ভুল প্রমাণিত করতে পারে। এতে কেবল তাদেরই বিভ্রান্তি হতে পারে, যাদের মুশাহাদা অসম্পূর্ণ এবং যারা শায তথা বিচ্ছিন্ন কোনো কথার উপর নির্ভর করেছেন।

আলহামদু লিল্লাহ, প্রবন্ধটির প্রথম অংশ শেষ হল।

هذا، وصلى الله تعالى وبارك وسلم على سيدنا ومولانا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، والحمد لله رب العالمين.

ফয়যুল্লাহ

১-৭-১৪৪০ হিজরী


[1] অবশ্য চান্দ্রমাসের হিসাব পুরোপুরি দাঁদদেখার উপর নির্ভরশীল। সুন্নতে মুতাওয়াতিরা …لا تصوموا حتى تروه ইজমা এবং আমলে মুতাওয়ারাছের কারণে এতে এস্ট্রানমিক্যাল নিউমুন বা শাস্ত্রীয় বিচারে চাঁদদেখার সম্ভাবনা থাকা বিবেচ্য নয়। দ্রষ্টব্য : আল ফুরূক, কারাফী, ফরক নং ১০২, খণ্ড ২ পৃষ্ঠা ৩২২-৩২৮

[2] মুফতী ছাহেব রাহ. যদি বিরজান্দী রাহ.-এর এ বক্তব্য জানতেন তবে এ মাসআলায় তার অনুসরণ করতেন না। কেননা যে বিষয়ে বিরজন্দীর তাহকীকই নেই সে বিষয়ে তার তাকলীদ কীভাবে জায়েয হতে পারে?

Print Friendly, PDF & Email
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

স্রষ্টা ও তাঁর অস্তিত্ব

আল্লামা মনজূর নোমানী রহঃ আমাদের এবং সমগ্র বিশ্বজগতের মহান কোনো সৃষ্টিকর্তা আছেন এবং তিনিই আপন …