হোম / আহলে হাদীস / হযরত বিলাল রাঃ এর সিরিয়া থেকে রাসূল সাঃ এর রওযা যিয়ারতের উদ্দেশ্য মদীনা সফরের বর্ণনাটি কি ভিত্তিহীন?
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

হযরত বিলাল রাঃ এর সিরিয়া থেকে রাসূল সাঃ এর রওযা যিয়ারতের উদ্দেশ্য মদীনা সফরের বর্ণনাটি কি ভিত্তিহীন?

প্রশ্ন
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ।

কয়েকদিন আগে শায়েখ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ সাহেবের একটি জুমআর খুতবা দেখছিলাম। তাতে তিনি বলেছেন হযরত বেলাল রাঃ স্বপ্ন দেখে রাসূল সাঃ এর কবর যিয়ারত করতে ছুটে এসেছিলেন মর্মে যে হাদীসটি রয়েছে এর নাকি কোন ভিত্তিই নেই।

এ ব্যাপারে আপনাদের মতামত জানতে চাচ্ছি। আসলেই কি ঘটনাটি ভিত্তিহীন? অথচ এটা আমরা ছোটকাল থেকে শুনে আসছি।

প্রশ্নকর্তা- নূরুল আমীন। ঢাকা।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ সাহেবসহ বেশ কিছু শায়েখের প্রাদুর্ভাব আমরা ইদানিং লক্ষ্য করছি। যাদের কুরআন তিলাওয়াত মারাত্মক আকারে গলদ। কিন্তু সেজে বসেছেন শায়েখ। আর আমাদের সমাজের কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে অনভিজ্ঞ কিছু যুবক এসব অজ্ঞ ব্যক্তিদের বানিয়ে নিয়েছে শায়েখ।

আর এসব শায়েখরা কোন কিছুকে জাল বানোয়াট বলতে খুবই মজা পান। জাল বানোয়াট বলাটা একটা ফ্যাশন হয়ে গেছে।

আসলে পড়াশোনার অগভীরতা, আর কোন বিষয়ের সম্পর্কে পূর্ণ পড়াশোনা না থাকা এ অজ্ঞতার কারণ। কোন কথা বলার আগে, কোন বিষয়কে জাল বানোয়াট বলার আগে যদি উক্ত বিষয়টি সম্পর্কে ভাল করে পড়াশোনা করতো, কিংবা যারা জানে সেসব বিজ্ঞ আলেম থেকে এসব অর্বাচিনরা জেনে নিত তাহলে এসব ফিতনার শিকার তারা হতেন না।

আমরা তাদের জন্য হেদায়াতের দুআ করি। এসব শায়েখের বক্তব্য শুনা থেকে বিরত থাকা প্রতিটি ঈমানদের জন্য জরুরী। নতুবা এসব শায়েখরূপী ব্যক্তিরা আমাদের সরলপ্রাণ মুসলমানদের ঈমান আমল সবই ধ্বংস করে দিবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের অজ্ঞ ব্যক্তিদের ধোঁকা থেকে হিফাযত করুন। আমীন।

প্রশ্নটির জবাব

উক্ত ঘটনাটির সারমর্ম হল, হযরত আবু দারদা রাঃ বলেন, হযরত বেলাল রাঃ একদা স্বপ্নে দেখলেন, রাসূল সাঃ বলছেন, হে বেলাল!তোমার কি হল? তোমার কি আমার যিয়ারত করতে মন চায় না? ঘুম থেকে তিনি ভীত সন্ত্রস্ত ও চিন্তিত অবস্থায় জাগলেন। তারপরই সওয়ারীর পিঠে আরোহন করে ছুটলেন মদীনার দিকে। তারপর নবীজী সাঃ এর কবরের পাশে এসে ক্রন্দন শুরু করে দিলেন। এবং কষ্ট ব্যাথায় স্বীয় মাথাকে কবরের উপর মারতে লাগলেন। সে সময় হযরত হাসান হুসাইন রাঃ আসলেন। হযরত বেলালের সাথে কুলাকুলি করলেন। তারপর বললেন, আমরা আবেদন করছি আপনার সেই আজান শুনাতেন যা আপনি রাসূল সাঃ এর সময়ে দিতেন। তারপর হযরত বেলাল রাঃ নবীজী সাঃ এর জমানায় যেখানে দাঁড়িয়ে আজান দিতেন, সেখানে দাঁড়িয়ে আজান দিতে যখন শুরু করলেন। তখন তিনি আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবর ধ্বনী শুরু করতেই মদীনা শহরে আলোড়ন শুরু হয়ে যায়। তিনি যখন আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ বলতে আর পারেননি। অঝর ধারায় কান্না শুরু করে। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূল সাঃ এর ইন্তেকালের পর থেকে আর কখনো তাকে এভাবে কাঁধতে দেখিনি।

দ্রষ্টব্য

আখবার ওয়া হিকায়াত লিলগাসসানী-৪৬, বর্ণনা নং-৭৫।

শরফুল মুস্তাফা, বর্ণনা নং-৮৯২।

তারীখে দামেশক লিইবনে আসাকীর, বর্ণনা নং-৪৯৩।

উসদুল গাবাহ, বর্ণনা নং-১৫৫।

হাদীসটির আরবী পাঠ এই-

عن أبي الدرداء رضي الله عنه إِنَّ بِلَال رَأَى فِي مَنَامِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَقُولُ مَا هَذِهِ الْجَفْوَةُ يَا بِلَالُ أما آن أَن تزورني فَانْتَبَهَ حَزِينًا وَجِلًا خَائِفًا فَرَكِبَ رَاحِلَتَهُ وَقَصَدَ الْمَدِينَةَ فَأَتَى قَبْرَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَعَلَ يَبْكِي عِنْدَهُ وَجَعَلَ يُمَرِّغُ وَجْهَهُ عَلَيْهِ وَأَقْبَلَ الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ صلوَات الله عَلَيْهِمَا فَجعل يمهما وَيُقَبِّلُهُمَا فَقَالَا لَهُ يَا بِلَالُ نَشْتَهِي نَسْمَعُ أَذَانَكَ الَّذِي كُنْتَ تؤذنه لروس اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي السَّحَرِ فَفَعَلَ فَعَلَا سَطْحَ لمَسْجِد فَوَقَفَ مَوْقِفَهُ الَّذِي كَانَ يَقِفُ فِيهِ فَلَمَّا أَنْ قَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ ارْتَجَّتِ الْمَدِينَةُ فَلَمَّا أَنْ قَالَ أَشْهَدُ أَنَّ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ زَادَ تَعَاجِيجُهَا فَلَمَّا أَنُ قَالَ أَشْهَدُ أمُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ خَرَجَ الْعَوَاتِقُ من خَ دورهن فَقَالُوا أَبُعِثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسلم فَمَا رؤى يَوْمٌ أَكْثَرَ بَاكِيًا وَلَا بَاكِيَةً بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ ذَلِكَ الْيَوْمِ

আল্লামা তাকিউদ্দীন সুবকী রহঃ বলেন, এ হাদীসটির সনদ জায়্যিদ তথা উত্তম।

আল্লামা শাওকানী রহঃ বলেন, এর সনদটি জায়্যিদ তথা উত্তম। {নাইলুল আওতার-৫/১৮০}

আল্লামা যাহাবী রহঃ বলেন, এর সনদে কোন দূর্বলতা নেই। এটির সনদ উত্তম। শুধু ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ মাজহুল। [তারীখুল ইসলাম-১৭/৬৭,  বর্ণনা নং-৩৭}

কুপের ব্যাঙ এর কাছে আকাশটা ততটুকুই যতটুকু সে কুপের মুখ দিয়ে দেখতে পায়। তেমনি পড়াশোনার গভীরতা না থাকলে একটি দু’টি বই পড়ে বা বাংলা বই পড়ে যারা শায়েখের আসনে বসতে চান তাদের মুখ দিয়ে কুপমন্ডকতার কারণে অজ্ঞতাসূচক বক্তব্য বেরিয়ে আসতেই পারে। এজন্য জেনে শুনে ও বুঝে শায়েখ নির্ধারণ করা উচিত। কুরআন শরীফ পর্যন্ত যে ব্যক্তি শুদ্ধ করে পড়তে পারে না এমন ব্যক্তিকে শায়েখের আসনে বসিয়ে দেয়া দ্বীন সম্পর্কে নিজেদের চূড়ান্ত অজ্ঞতার বর্হিপ্রকাশ ছাড়া কি হতে পারে? আল্লাহ তাআলা আমাদের এসব ফিতনাবাজ শায়েখ থেকে হিফাযত করুন। আমীন। ছুম্মা আমীন।

والله اعلم بالصواب

উত্তর লিখনে

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল- ahlehaqmedia2014@gmail.com

lutforfarazi@yahoo.com

Print Friendly, PDF & Email
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

ইউরোপে শীত ও গ্রীষ্মকালে সময়ের তারতম্যের কারণে দুই নামায একত্রে পড়া যাবে?

প্রশ্ন From: এম. আর. করিম বিষয়ঃ নামায প্রশ্নঃ ইউরুপে গ্রীষ্ম কালে সুর্য অস্ত যায় আনুমানিক …