হোম / খাব ও তাবীর/স্বপ্ন ও ব্যাখ্যা / রাসূল সাঃ কে স্বপ্নে দেখা এবং কারো বিপদে কাঁদতে দেখার ব্যাখ্যা কি?

রাসূল সাঃ কে স্বপ্নে দেখা এবং কারো বিপদে কাঁদতে দেখার ব্যাখ্যা কি?

প্রশ্ন

স্বপ্ন নং-০১ ঃ

সাদা দাড়িওয়ালা এবং লম্বা এক ব্যক্তি আমাকে বললো-সোহেল ঘুম থেকে ওঠো । আমি উঠেই সালাম দিলাম এবং তিনি বললেন -আমার সাথে চলো । দুজনই একসাথে হাটতে থাকলাম । একসময় তিনি আমাকে নিয়ে অন্য ব্যক্তির নিকট দাড়ালেন এবং বললেন তুমি কি ইনাকে চেনো ? আমি বললাম -আমি কখনো কনোদিন ইনাকে দেখিনি । আপনি আমাকে বলে দিন ইনি কে! তিনি বললেন ইনিই হলেন আমাদের রাসুল (সা:) । তখনই আমি রাসুল (সা:) কে সালাম দিলাম এবং দরুদ শরীফ পাঠ করলাম । তখন সাদা দাড়িওয়ালা ব্যক্তিটি এখান থেকে চলে গেলেন। তারপর রাসুল (সা:) আমাকে এক পাহাড়ের কাছে নিয়ে গিয়ে আঙ্গুলী দিয়ে দেখিয়ে বললেন ঐ পশ্চিম আকাশে দেখো এবং পড় । আমি দেখলাম – এক উজ্জলময় আলোর মধ্যে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ লিখিত আছে তা আমি উচ্চস্বরে পাঠ করলাম । কিছুক্ষণ পর এক আওয়াজ শুনতে পেলাম দুইটি আয়াত কে যেন তেলাওয়াত করছেন। যিনি তেলাওয়াত করছেন তাহাকে দেখতে না পেয়ে রাসুল (সা:) কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন তিনিই আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ । তখন ঐ আকাশ আলোকিত হয়ে ঐ দুই আয়াত ভেসে উঠল এবং আল্লাহ্ বললেন – এই আয়াতদ্বয় পাঠ করবে। ঘুম থেকে উঠে হাজার চেষ্টা করেও আয়াত দুইটি মনে করতে পারিনি।

স্বপ্ন নং-০২ ঃ

রাসুল (সা:) আমাকে ডেকে বললেন-সোহেল এখানে অনেক গভীর গর্ত করতে হবে । আমি এবং অনেক বা ৮/১০ মিলে গর্ত করলাম । পরে রাসুল (সা:) বললেন- এখানে আমরা সবাই ৪০ দিন থাকব । কিন্তু ২০ দিন পর রাসুল  (সা:) আমাকে ঐ গর্তেই সুরঙ্গভাবে আরেকটি গর্ত করতে বললেন এবং আমি তাই করলাম ও জিজ্ঞাসা করলাম-এখানে কে থাকবে! রাসুল (সা:) বললেন-এখানে তুমি একাই ৪১ দিন থাকবে। আমি থাকলাম কিন্তু ২১ দিন পর চিৎকার করে উঠলে রাসুল (সা:) বললেন-তোমার কি হয়েছে। আমি বললাম ভয় লাগছে, আর থাকতে পারব না । তখন রাসুল (সা:) আমাাকে নিয়ে চলে আসলেন। তবে মনে হচ্ছিল আমি যেন বহুবছর ধরে রাসুল (সা:)  এর সঙ্গেই আছি ।

স্বপ্ন নং-০৩ ঃ

একদিন এক গাছের নিচে ৫/৭জন লোক বসে গল্প করছিল। আমি ঐ পথ দিয়েই যাচ্ছিলাম এবং তাদের কথা শুনতে পেলাম। তাহারা বলছিলেন- রাসূল (সাঃ) যে পথ দিয়েই যাক না কেন আজই মারতে হবে। আমি তা শুনেই অস্থির হয়ে রাসূল (সাঃ) কে খুঁজতে থাকি। এক সময় ঐ সাদা দাড়িওয়ালা ব্যাক্তিটি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন- তুমি কাকে খুঁজছো ? তখন রাসূল (সাঃ) কে মারার কথা বললাম। তিনি বললেন- রাসূল (সাঃ) কে খুঁজতে থাকো পেয়ে যাবে।

স্বপ্ন নং-০৪ ঃ

এক ব্যক্তি একটি জিনিস দিলেন ( যা লম্বা এবং গোলাকার ) এবং বললেন- একই জিনিস অন্য আর একজনকে দিয়েছি। তবে তোরটা ফেটে গেলে তিনি মারা যাবেন আর তাঁরটা ফেটে গেলে তুমি মারা যাবে। শোনার পর থেকেই শুধু দরূদ শরীফ ও সূরা ইয়াসিন বেশী বেশী পাঠ করতে থাকলাম এবং হাঁটতে থাকলাম। এক সময় দেখলাম একটি মসজিদে মাগরীবের সালাতের জামাত হচ্ছে। তাঁর পাশে অনেক লোকের ভীড় এবং কন্নার আওয়াজ কানে ভেসে আসায় এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনÑ তোমার হাতের জিনিসটা ফেটে যাওয়ায় তিনি মারা গেছেন। তখন আমি কাঁদছিলাম এবং বেশী বেশী দরূদ শরীফ পরতে খাকলাম।

স্বপ্ন নং-০৫ ঃ

এক ব্যক্তি এসে বললো- সোহেল তোমার বাড়িতে রাসূল (সাঃ) আসছেন এগিয়ে নিয়ে আসো। তখন থেকেই দরূদ শরীফ পাঠ করতে থাকলাম এবং এগিয়ে গিয়ে দেখলাম অনেক লোকের সামনে রাসূল (সাঃ) আসছেন এবং আমার সামনে দিয়ে চলে যাচ্ছেন। কিন্তু যাবার সময় আমার দিকে ফিরে তাকালেন। তখন আমি তাহার চেহারা মোবারক ও পায়ের গিড়া মোবারক অংশটুকু দেখতে পেলাম। কিন্তু রাসূল (সাঃ) আমার বাড়িতে আসলেন না, তিনি চলে গেলেন।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

আপনার সব ক’টি স্বপ্নই খুবই মুবারক স্বপ্ন। রাসূল সাঃ কে দেখেছেন মানে আপনার আমল সুন্দর। আপনি আরো বেশি বেশি সুন্নতের পাবন্দ হতে চেষ্টা করুন। বেশি বেশি দরূদ শরীফ পাঠ করুন। আল্লাহ তাআলা আপনাকে রাসূল সাঃ এর একজন সাচ্চা উম্মত ও প্রিয়ভাজনদের কাতারে শামিল করেই ইনশাআল্লাহ হাশর করাবেন।

ব্যক্তি রাসূল সাঃ যে হালাতে দেখতে পায়, তার আমলের হালাতও তেমনি হয়ে থাকে। ভাল অবস্থায় দেখলে আমল ভাল হবার দলীল বহন করে। আর খারাপ অবস্থায় দেখলে সেটি খারাপ আমল হবার দলীল বহন করে।

যেমন দেওয়ানবাগীর পীর রাসূল সাঃ কে ডাষ্টবিনে নিক্ষিপ্ত অবস্থায় দেখেছে [মাআজাল্লাহ]। যা তার নোংরা আমলের দলীল বহন করে।

ভাল অবস্থায় দেখলে ভাল আমলের দলীল বহন করতো। আপনি যেহেতু ভাল অবস্থায় দেখেছেন। তা ভাল আমলের প্রতিই ইংগিত করছে।

অন্যের মুসিবত দেখে মাতম করা ছাড়া এমনিতেই কাঁদতে দেখা সেটি সম্মান ও প্রশান্তি আসবে মর্মে ইংগিত বহন করে।

বেশি বেশি দরূদ পাঠ এবং সুন্নতের পাবন্দি রক্ষা করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যান। কোন সুন্নতের প্রতি যেন অবহেলা না হয়। আল্লাহ তাআলা আপনার মঙ্গল করুন।

أن أبا هريرة قال : سمعت النبي صلى الله عليه و سلم يقول ( من رآني في المنام فسيراني في اليقظة ولا يتمثل الشيطان بي )

হযতর আবূ হুরায়রা রাঃ বলেনঃ রাসূল সাঃ বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নযোগে দেখল, সে যেন আমাকে বাস্তবেই দেখল। কারণ শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারে না। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৬৫৯২, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৬০৫৬, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৬০৫২, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৫০২৫ , সুনানে দারেমী, হাদীস নং-২১৩৯, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৩৯০৫, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-২২৭৬}

فى الفتح البارى- إن الشيطان لا يتصور على صورته أصلا فمن رآه في صورة حسنة فذاك حسن في دين الرائي وان كان في جارحة من جوارحه شين أو نقص فذاك خلل في الرائي من جهة الدين قال وهذا هو الحق وقد جرب ذلك فوجد على هذا الأسلوب وبه تحصل الفائدة الكبرى في رؤياه حتى يتبين للرائي هل عنده خلل أو لا لأنه صلى الله عليه و سلم نوراني مثل المرآة الصقيلة ما كان في الناظر إليها من حسن أو غيره تصور فيها وهي في ذاتها على أحسن حال لا نقص فيها ولا شين وكذلك يقال في كلامه صلى الله عليه و سلم في النوم أنه يعرض على سنته فما وافقها فهو حق وما خالفها فالخلل في سمع الرائي فرؤيا الذات الكريمة حق والخلل انما هو في سمع الرائي أو بصره (فتح الباري شرح صحيح البخاري لإبن حجر، كتاب التعبير، باب من رأى النبي صلى الله عليه و سلم في المنام- 14/415-416)

وفى المرقاة المفتاتيح-  والحق أن ما يراه مثال روحه المقدسة التي هي محل النبوة فما رآه من الشكل ليس هو روح النبي ولا شخصه بل هو مثال له على التحقيق ومعنى فقد رآني ما رآه صار واسطة بيني وبينه في تعريف الحق إياه (مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، كتاب الرؤيا، الفصل الأول-4/537

والله اعلم بالصواب

উত্তর লিখনে

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

ইমেইল- ahlehaqmedia2014@gmail.com

lutforfarazi@yahoo.com

         

Print Friendly, PDF & Email

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

অনির্ধারিত কাযা রোযার ফিদিয়া কিভাবে আদায় করবে?

প্রশ্ন আসসালামু আলাইকুম সম্মানিত শায়খ, আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন।আমার কিছু প্রশ্ন ছিলো। দয়া …