হোম / কসম ও মান্নত / “যত বিবাহ করবে সব বিবাহই তালাক” শব্দে কসমকারী কিভাবে বিবাহ করবে?
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

“যত বিবাহ করবে সব বিবাহই তালাক” শব্দে কসমকারী কিভাবে বিবাহ করবে?

প্রশ্ন

From: মোঃ আব্দুল্লাহ
বিষয়ঃ তালাক
প্রশ্নঃ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রহীম
নামঃ- আব্দুল্লাহ  হাটহাজারী চট্রগ্রাম,
* জিজ্ঞাসা—
আমি মাদ্রাসার ছাত্র এবং একটি মসজিদে ইমাম হিসাবে আছি,
আমার এক মুসল্লী আমাকে একটি মাসালা জিজ্ঞাসা করেন, মুসল্লী বলেন যে- আমি যখন ছাত্র ছিলাম আমার এক সাথীর একটি মোবাইল ছুরী করি, আমরা রুমে পাঁছ জন সাথী ছিলাম মোবাইল মালিক সবাইকে জিজ্ঞাসা করল এবং কেহ সিকার হয়নাই, কাহকে সন্দেহ করাও যাচ্ছেনা, তখন মোবাইল এর মালিক বল তোমরা যখন কেহ সিকার হচ্ছনা তাহলে আমি একটি কসম বলব সবাই আমাকে বলতে হবে, কসম টি হল যদি কেহ মোবাইল টা ছুরি করে থাক বা ছুরীতে সহযোগীতা কর তাহলে যত বিবাহ করবে  সব বিবাহ তালাক, এবং আমিও কসমটি বল্লাম,
এখন আমার প্রশ্ন হল আমি কি কখন বিবাহ করতে পারব না? বা বিবাহ করলে কত তালাক পতিত হবে, বা আমার জন্য করণীয় কি??

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

যেহেতু লোকটি ভবিষ্যত বিয়ের সাথে তালাকের নিসবত করেছে তাই, যতবারই বিবাহ করবে, ততবারই তার স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে।

এ সমস্যা থেকে বাঁচার একটি কৌশলী পদ্ধতি রয়েছে। তাহল-

“কসমকারী ব্যক্তির কোন পরিচিত জন তাকে না জানিয়ে তার বিয়ে নির্দিষ্ট মহরের বিনিময়ে দুজন স্বাক্ষের সামনে কোন মেয়ের সাথে দিয়ে দিবে। আর কসমকারীর পক্ষ থেকে নিজে কবুলও বলে দিবে। তারপর কসমকারীর কাছে এসে বলবে যে, “আমি তোমার বিয়ে ওমুক মেয়ের সাথে এত টাকা মহরের বিনিময়ে দিয়ে দিলাম, সুতরাং তুমি মহর হিসেবে কিছু টাকা/গহনা দাও”। তারপর কসমকারী কোন কথা না বলে কমপক্ষে দু’জন স্বাক্ষীর সামনে চুপচাপ মহর বাবত টাকা/গহনা দিয়ে দিবে। তখন উক্ত মহর বাবত প্রাপ্ত টাকা/গহনা সদ্য বিবাহিত স্ত্রীর কাছে পৌছিয়ে বলবে যে, এটা তোমার স্বামী মহর বাবত দিয়েছে। এভাবে বিয়ে করলে কসমকারী কসম ভঙ্গকারী হবে না। সুতরাং তার বিবাহও ভাঙ্গবে না।

দলিল:

فى المجمع الانهر– إن وجد الشرط المذكور انتهت اليمين إلا في كلمة كلما لأنها تقتضي عموم الأفعال فإذا وجد فعل فقد وجد المحلوف عليه وانحلت اليمين في حقه ويبقى في حق غيره فيحنث إذا وجد غير أن المحلوف عليه طلقات هذا الملك وهي متناهية فتنتهي اليمين بانتهائها ما لم تدخل تلك الكلمة على صيغة التزوج لدخولها على سبب الملك فلو قال تفريع لما قبله كلما تزوجت امرأة فهي طالق تطلق بكل تزوج ولو وصلية بعد زوج آخر لأن صحة هذا اليمين باعتبار ما سيحدث من الملك وهو غير متناه

 وعن أبي يوسف أنه لو دخل على المنكر فهو بمنزلة كل وتمامه في المطولات والحيلة فيه عقد الفضولي أو فسخ القاضي الشافعي وكيفية عقد الفضولي أن يزوجه فضولي فأجاز بالفعل بأن ساق المهر ونحوه لا بالقول فلا تطلق (المجمع الانهر فى شرح ملتقى الأبحر، ك فصل في شبه الطلاق ووصفه ذكره بعد أصله وتنويعه لكونه تابعا–  2/42

প্রামান্য গ্রন্থাবলী:

১. ফাতওয়ায়ে শামী-৫/৬৭২

২. মুলতাকাল আবহুর-২/৪২

৩. ফাতওয়ায়ে মাহমুদিয়া-১৯/১৯৭-২০৬

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল- ahlehaqmedia2014@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email
বিস্তারিত জানতে ছবির উপর টাচ করুন

এটাও পড়ে দেখতে পারেন!

আজানে মুয়াজ্জিন যখন “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ” বলে তখন দরূদ পড়া যাবে কী?

প্রশ্ন From: Md. Abu Abdullah Aumi বিষয়ঃ Azaner somoy Muhammad (Sm) er proti dorud pora …